The light of Islam.

The light of Islam. An attempt to highlight the light of Islam.

জীবন কলমের কালি দিয়ে লেখা এক আত্মত্যাগের ইতিহাসের নাম __ সাইয়েদ কুতুব✍️ তথ্য সংগ্রহ আশফাকুর রহমান আসিউত, মিশর। ১৯০৬ সাল...
27/07/2025

জীবন কলমের কালি দিয়ে লেখা এক আত্মত্যাগের ইতিহাসের নাম __ সাইয়েদ কুতুব

✍️ তথ্য সংগ্রহ
আশফাকুর রহমান

আসিউত, মিশর। ১৯০৬ সালের এক বসন্তের দিনে, একটি গ্রামে জন্ম নিল একটি শিশু। বাবা-মা নাম রাখলেন—সাইয়েদ কুতুব। সে জন্মেছিল নীরব নিঃসঙ্গ গ্রামে, কিন্তু তার চিন্তা পৌঁছে গিয়েছিল বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তে। ইতিহাস তাকে মনে রাখে—একজন শহীদ চিন্তাবিদ হিসেবে, যার কলমে ছিল বিদ্রোহ, হৃদয়ে ছিল ঈমান, আর জীবন ছিল কুরআনের ব্যাখ্যা।
🧒 শৈশব ও প্রাথমিক শিক্ষা: একটি কুরআনপ্রেমী পরিবার
সাইয়েদ কুতুবের পরিবার ছিল ধর্মপ্রাণ এবং শিক্ষানুরাগী। বাবা ছিলেন কৃষক ও সমাজসেবক, মা ছিলেন শিক্ষিত ও প্রেরণাদাত্রী। মাত্র ১০ বছর বয়সে কুতুব কুরআন হিফজ করেন। তার কণ্ঠে ছিল কুরআনের গুঞ্জন, আর মনে ছিল শব্দের প্রতি অসম্ভব ভালোবাসা।
শৈশবেই গ্রামীণ সমাজে অন্যায়, শোষণ ও দারিদ্র্য দেখে তার ভেতরে এক নতুন চিন্তার বীজ রোপিত হয়—এই পৃথিবী কি এমনই থাকবে? নাকি বদলাতে হবে?
📖 তারুণ্যে আত্মপ্রকাশ: সাহিত্য, জাতীয়তাবাদ ও নতুন পথের সন্ধান
তিনি কায়রোর ‘Dar al-ʿUlum’ কলেজে পড়ালেখা করেন এবং শিক্ষক হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন। এ সময় তিনি সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। কবিতা লিখতেন, প্রবন্ধ লিখতেন, আর লিখতেন সমাজের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে।
প্রথম জীবনে তিনি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। মিশরের স্বাধীনতা, সংস্কৃতি, শিক্ষা—এসব নিয়েই লিখতেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন মিশরের প্রধান লেখক ও সমালোচকদের একজন।
তবে তার চিন্তার মৌলিক পরিবর্তন ঘটে আমেরিকা সফরে।
🌎 আমেরিকা সফর: বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া
১৯৪৮ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৃত্তি নিয়ে কুতুব যান আমেরিকায়। প্রথমে বিস্মিত হন প্রযুক্তি ও আধুনিকতায়, পরে ধাক্কা খান এর পেছনের আত্মিক শূন্যতায়।
নিউ ইয়র্ক, কলোরাডো, ওয়াশিংটন ডিসিতে দেখেন—
• নারী-পুরুষের অনিয়ন্ত্রিত সম্পর্ক
• চার্চে অশ্লীলতা
• বস্তুবাদে আচ্ছন্ন মানুষ
• ইসলাম সম্পর্কে কটুক্তি
এই অভিজ্ঞতা তার ভেতরে আঘাত হানে। তিনি বুঝলেন—পশ্চিমা সভ্যতা প্রযুক্তিতে উন্নত হলেও, মূল্যবোধে শূন্য। তিনি ফিরলেন মিশরে, কিন্তু বদলে গিয়েছিলেন। ফিরলেন এক নতুন কুতুব হয়ে।
🕌 মুসলিম ব্রাদারহুডে যোগদান: কলম থেকে আন্দোলনে উত্তরণ
মিশরে ফিরে কুতুব যুক্ত হন আল ইখওয়ানুল মুসলিমুন বা মুসলিম ব্রাদারহুড-এর সঙ্গে। তার চিন্তা, কলম ও বক্তৃতা সংগঠনটিকে আরও আদর্শিক ও গভীর দার্শনিক ভিত্তি দেয়।
তিনি মনে করতেন—ইসলামের মূল শিক্ষা শুধু মসজিদে নয়, সমাজ, রাজনীতি ও সংস্কৃতি-তেও বাস্তবায়ন জরুরি। তার দৃষ্টিতে, একটি রাষ্ট্র তখনই ইসলামী হবে, যখন শাসন, আইন, অর্থনীতি—সবকিছু কুরআনের আলোকে পরিচালিত হবে।
📚 সাহিত্য ও দর্শন: জাহিলি সমাজে কুরআনের আলো
সাইয়েদ কুতুবের সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা—“ফি জিলালিল কুরআন” (কুরআনের ছায়ায়)। এটি একটি তাফসীর, কিন্তু সাধারণ তাফসীর নয়। এটি ছিল তার হৃদয় থেকে লেখা, কুরআনের আয়াতের সঙ্গে মানুষের বাস্তব জীবনের সংযোগ স্থাপনকারী ব্যাখ্যা।
তিনি লিখেছিলেন—
“কুরআন কেবল পঠনের জন্য নয়—এটি একটি জীবন ব্যবস্থা। এটি বিপ্লবের নির্দেশনা। এটি সমাজের গাইডলাইন।”
তার গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ:
• “ফি জিলালিল কুরআন” – কুরআনের ভাবনাভিত্তিক বিশ্লেষণ
• “মা আল ইসলাম” – ইসলামের সামাজিক ব্যাখ্যা
• “আল-আদালাহ আল-ইজতিমাইয়্যাহ ফিল ইসলাম” – ইসলামে সামাজিক ন্যায়বিচার
• “মা আলা তরীক” – ইসলামী আন্দোলনের পথ
• “আল-ইসলাম ওয়াল হাদারাহ” – ইসলাম ও সভ্যতা নিয়ে বিশ্লেষণ
🔥 সংগ্রাম ও কারাবরণ: সত্য বলার শাস্তি
জামাল আবদুল নাসেরের শাসনামলে কুতুবকে প্রথম গ্রেফতার করা হয় ১৯৫৪ সালে। তাকে বন্দি করে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। তবু তিনি লিখতে থাকেন, চিন্তা ছড়াতে থাকেন। কারাগারের ভেতর থেকেই লেখেন তাঁর অনেক বিখ্যাত বই।
তাকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—
“তুমি কীভাবে এত দৃঢ়?”
তিনি বলেছিলেন,
“আমার হাতে যদি কেবল একটি খেজুর থাকে, তবুও আমি তা রোপণ করব।”
⚖️ মৃত্যুদণ্ড ও শহীদ হওয়া
১৯৬৬ সালে সাইয়েদ কুতুবের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধিতার অভিযোগ আনা হয়। যদিও তার অপরাধ ছিল—একটি বই লেখা (মা আলা তরীক) এবং কিছু আদর্শ প্রচার।
তিনি জানতেন, তিনি বাঁচবেন না। তবু তার মুখে ছিল প্রশান্তি। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল মৃত্যুর আগে শেষ কথা কী?
তিনি বলেছিলেন:
“আমার আঙ্গুল যেটি আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দেয়, সেই আঙ্গুল দিয়ে অন্যায় শাসকের শাসনকে স্বীকৃতি দিতে পারি না।”
১৯৬৬ সালের ২৯ আগস্ট, তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
🌱 উত্তরাধিকার: একটি জীবন্ত দর্শনের নাম সাইয়েদ কুতুব
কুতুবের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু তার চিন্তা এখনো জীবিত। বিশ্বজুড়ে দাওয়াহ আন্দোলন, ইসলামী রাজনীতি, যুবকদের আত্মশুদ্ধি কার্যক্রম—সবখানে কুতুবের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
তার চিন্তার মূল কথাগুলি হলো:
• ইসলামের পূর্ণাঙ্গতা
• শাসনব্যবস্থার কুরআনভিত্তিক রূপ
• পশ্চিমা বস্তুবাদ ও জাহিলি সভ্যতার সমালোচনা
• আত্মশুদ্ধি, তাওহীদ ও তাকওয়ার উপর জোর
উপসংহার: শহীদের রক্তে লেখা দিকনির্দেশনা
সাইয়েদ কুতুব ছিলেন না কোনো অস্ত্রধারী বিদ্রোহী। তিনি ছিলেন একজন চিন্তাবিদ, একজন দার্শনিক, একজন আল্লাহভীরু লেখক—যিনি কলম দিয়ে সমাজ বদলাতে চেয়েছিলেন।
তার জীবন আমাদের শেখায়—সত্যের জন্য জীবন উৎসর্গ করা সম্ভব, যদি হৃদয়ে থাকে ঈমান।
তিনি ছিলেন এক নিঃসঙ্গ ভাবুক, এক অধ্যয়নরত কারাবন্দী, এক দৃঢ়দর্শী শহীদ। কিন্তু তার কলম জাগিয়েছে প্রজন্মকে—তার চিন্তা আলো দিয়েছে অন্ধকারে।

বিশ্বাসের বীজ থেকে বিপ্লবের বৃক্ষের নাম হাসান আল বান্নাতথ্য:সংগ্রহ✍️ আশফাকুর রহমান নীল নদীর ছোট শহর মাহমুদিয়া। মিশরের এ...
27/07/2025

বিশ্বাসের বীজ থেকে বিপ্লবের বৃক্ষের নাম
হাসান আল বান্না

তথ্য:সংগ্রহ
✍️ আশফাকুর রহমান

নীল নদীর ছোট শহর মাহমুদিয়া। মিশরের এই জনপদে ১৯০৬ সালের ১৪ অক্টোবর জন্ম নিল এক শিশু—নাম রাখা হলো হাসান আহমদ আব্দুর রহমান আল বান্না। কারো কল্পনাতেও ছিল না, এই শান্ত শিশুটি একদিন গোটা মুসলিম দুনিয়ার চিন্তা ও আন্দোলনের কেন্দ্রে উঠে আসবে। সে শুধু একজন মানুষ ছিল না—একটি চিন্তা, একটি দৃষ্টিভঙ্গি, একটি অভ্যুত্থান।
শৈশবের ছায়া: পিতার কাছে প্রথম পাঠ
হাসান বড় হন হাদীসবিশারদ পিতা শেখ আহমদ আবদুর রহমানের স্নেহে। পিতা ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং একজন ঘড়ি মেরামতকারক, কিন্তু ছেলে গড়ে তুলছিলেন সময়ের চেয়েও বড় কিছু। শিশুকালেই তিনি মক্তবে কুরআন তেলাওয়াত, হাদীস চর্চা ও আখলাক শেখেন। অল্প বয়সেই সংগঠন পরিচালনার ঝোঁক ছিল—স্কুলে "নৈতিকতা সংঘ" (Jam‘iyat al-Akhlaq al-Adabiyya) নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন, যেটি ছিল ভবিষ্যতের এক মহা-আন্দোলনের প্রস্তুতি।
তারুণ্যে জাগা প্রশ্ন: ইসলাম কেবল নামাজের ধর্ম?
কায়রো শহরের ‘Dar al-ʿUlūm’ কলেজে পড়ার সময়, হাসান মুসলিম সমাজের অবক্ষয় খুব কাছ থেকে দেখেন। পশ্চিমা সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, ইসলামী মূল্যবোধের বিলুপ্তি, রাজনৈতিক দাসত্ব—সব মিলিয়ে তার ভেতরে প্রশ্নের জন্ম হয়।
তিনি ভাবেন, "ইসলাম কি কেবল আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ? সমাজ, রাজনীতি, শিক্ষা—সবখানেই কি ইসলামের আলোর প্রয়োজন নেই?"
এই প্রশ্নই তাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তিনি বুঝলেন, দরকার একটি নবজাগরণ—যা কেবল মিম্বর নয়, মাটিতেও গড়ে উঠবে।
মুসলিম ব্রাদারহুড: একটি স্বপ্নের কাঠামো
১৯২৮ সাল। ইসমাইলিয়ার কয়েকজন শ্রমিক এসে বললেন, “আমরা ইসলামি আদর্শে জীবন গড়তে চাই। কিন্তু কোথায় সেই পথ?” হাসান তাদের চোখে বিশ্বাস খুঁজে পান, হাতে তুলে নেন দায়িত্ব। গড়ে তোলেন এক ঐতিহাসিক সংগঠন—“আল-ইখওয়ানুল মুসলিমুন”।
এই সংগঠন ছিল না কেবল ধর্মীয় দল। এটি ছিল একটি আদর্শিক সমাজ আন্দোলন, যার ভিত্তি ছিল—আত্মশুদ্ধি, শিক্ষা, সমাজসেবা ও রাজনৈতিক সচেতনতা। সংগঠনের মূল নীতিবাক্য ছিল:
“আল্লাহ আমাদের লক্ষ্য, রাসূল আমাদের নেতা, কুরআন আমাদের আইন, জিহাদ আমাদের পথ এবং শাহাদাত আমাদের সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষা।”
ব্রাদারহুডের সদস্যরা স্কুল তৈরি করত, হাসপাতালে কাজ করত, দুঃস্থদের সাহায্য করত—সবকিছু ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে। সংগঠনের মাধ্যমে হাজারো যুবক কেবল ধার্মিক নয়, সমাজ সচেতন মানুষে পরিণত হয়।
জীবনদর্শন: ধর্মকে কর্মে রূপ দেওয়া
হাসান আল বান্নার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ইসলামকে কেবল বিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার বানানো। তার মতে ইসলাম তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে:
• ইমান (আস্থা): আত্মিক পরিশুদ্ধি ও আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক
• ইলম (জ্ঞান): কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক জ্ঞান এবং আধুনিক বিজ্ঞানের একত্র চর্চা
• আমল (কর্ম): কেবল তত্ত্বে নয়, বাস্তবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা
তিনি বিশ্বাস করতেন, মুসলিম সমাজ তখনই উন্নত হবে যখন একজন মুসলমান শুধু নামাজি নয়—একজন চিন্তাশীল নাগরিক, ন্যায়পরায়ণ নেতা এবং সমাজসেবক হয়ে উঠবে।
ব্যক্তিগত জীবন: শক্ত ভিতের উপর কোমল হৃদয়
ব্যক্তি হাসান ছিলেন এক নম্র, সাদাসিধে, মানবিক মানুষ। নিজের জন্য কখনো বিলাসিতা করেননি। সংগঠনের প্রধান হলেও হেঁটে যেতেন, সাধারণ কর্মীদের সাথে একই খাবার খেতেন।
তিনি স্ত্রী-সন্তানদের সময় দিতেন, পারিবারিক বন্ধনে বিশ্বাস করতেন। সংগঠনের কাজে রাত জেগে কাজ করলেও সূর্যাস্তের পর কিছু সময় তিনি পরিবারের জন্য রাখতেন। প্রতিবেশীদের খোঁজ রাখতেন, অসহায়দের পাশে দাঁড়াতেন।
সাহিত্য ও চিন্তাসম্পদ: কলমে ছিল বিপ্লবের আগুন
হাসান আল বান্না শুধু বক্তা বা সংগঠক ছিলেন না, ছিলেন এক বিশাল সাহিত্যিক ও চিন্তাশীল লেখক। তার রচনায় ইসলামী সমাজ গঠনের দিকনির্দেশনা, আত্মিক জাগরণ ও রাষ্ট্রনৈতিক ব্যাখ্যা ছিল একত্রে মিশ্রিত।
তার বিখ্যাত রচনাসমূহ:
• মজমুআ রসাইল – মুসলিম ব্রাদারহুডের দর্শন ও গাইডলাইন
• রিসালাতুল তাআলিম – ইসলামী জীবন গঠনের ২০ দফা নীতিমালা
• ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামো (প্রবন্ধসমূহ)
• চিঠিপত্র ও ভাষণ – সাধারণ মুসলিমদের প্রতি আহ্বান, ইসলামী আন্দোলনের দিকনির্দেশনা
তার রচনাগুলো সরল, হৃদয়গ্রাহী এবং যুগোপযোগী। কলম ছিল তার অস্ত্র, হৃদয় ছিল তার কাগজ।
শাহাদাত ও চিরস্থায়ী উপস্থিতি
১৯৪৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে কায়রোর রাস্তায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হাসপাতালে নেওয়া হলে কোনো চিকিৎসক সাহস পাননি তাকে বাঁচাতে। সরকার মরদেহ হস্তান্তরের সময় বলেছিল—"জানাজায় ২০ জনের বেশি আসতে পারবে না।"
কিন্তু সেই মৃত্যু ছিল না কোনো সমাপ্তি, ছিল এক অধ্যায়ের সূচনা। আজও তার চিন্তা, দর্শন ও সংগঠনের ছায়া ছড়িয়ে আছে গোটা মুসলিম বিশ্বে।
উত্তরাধিকার: এক অনুপ্রেরণার নাম
হাসান আল বান্নার দেখানো পথ ধরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইসলামী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও চিন্তাবিদ। সাইয়েদ কুতুব, মাওলানা মওদুদী, ইউসুফ কারজাভি সহ বহু ইসলামিক নেতার উপর তার প্রভাব পড়েছে।
আজ যখন মুসলিম যুবকরা আত্মপরিচয় সংকটে ভোগে, তখন হাসানের কণ্ঠে যেন ধ্বনিত হয় এক অমোঘ প্রশ্ন:
“তুমি কেবল ধর্ম পালনকারী, না কি সমাজের বদলকারীও?”
উপসংহার: তিনি আগুন জ্বালাতে আসেননি, তিনি আলো জ্বালিয়েছেন
হাসান আল বান্না ছিলেন না কোনো তলোয়ারধারী নেতা। তিনি ছিলেন আদর্শের সৈনিক, কলমের জয়ধ্বনি, সমাজের মুখে এক নতুন ভাষা।
তিনি জানতেন, একটি সভ্যতা ভেঙে পড়ে শুধু বাইরের আঘাতে নয়—ভেঙে পড়ে ভিতরের শূন্যতায়। সেই শূন্যতাকে পূরণ করতে তিনি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
তাকে ভুলে যাওয়া মানে, সেই আলোকে অস্বীকার করা—যা ঘরের দেয়ালে আজও মৃদু জ্বলে।

Address

Dubai
0000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The light of Islam. posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category