04/09/2025
বাসা থেকে বাইরে বের হয়েছিল মেয়েটা। বাসা থেকে খুব বেশি দূর যেতেও পারিনি। হঠাৎই মাইক্রোবাসে করে ৪-৫ জনের মতো হিন্দু ছেলে এসে মুখে রুমাল চাপ দিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে মেয়েটাকে।
তারপর ধ্বস্তাধস্তি করে মাইক্রোবাসে করেই তুলে নিয়ে যায় লক্ষ্মীপুুরের একটা পুরনো বাসায়।
ওই বাসায় নেয়ার পর জ্ঞান ফিরে মেয়েটার। জ্ঞান ফিরার পর দেখতে পায় তার চারপাশে ৪-৫ জনের মতো ছেলে ঘেরাও করে আছে।
মুখটাও বাঁধা ছিল তার যাতে চিৎকার করতে না পারে।
এরপর কিছু বুঝে উঠার আগেই একে একে সবগুলো ছেলে ঝাপিয়ে পড়ে মেয়েটার উপর। মেয়েটার কাপড়চোপড় ছিড়ে অমানবিক নির্যাতন এবং ধ*র্ষণ করতে থাকে অনবরত।
মেয়েটা জোরে জোরে চিৎকার করছিল আর আর্তনাদ করে ছেড়ে দিতে বলেছিল কিন্তু ছেলেগুলো ছাড়েনি।
এমনকি ধ*র্ষণের একপর্যায়ে মেয়েটা ধর্মের দোহাই দিয়েও অনুনয় করে বলেছিল ছেড়ে দিতে কিন্তু হিন্দু ছেলেগুলো ধর্মের কোন তোয়াক্কাই যেন করেনি।
মেয়েটার ভাষ্যমতে- পৈশাচিক হাসি দিয়ে হিন্দু ছেলেগুলো বলেছিল - তোদের মতো মুসলিম মেয়েগুলারে ভোগ করে শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের মনে শান্তি পাব না।
তারপর এভাবেই লক্ষ্মীপুরের ওই পুরনো বাসায় টানা ৭ দিন আটকে রেখে মুসলিম মেয়েটাকে ধ*র্ষণ করে হিন্দু ওই ছেলেগুলো।
মেয়েটার ভাষ্যমতে- মুভিতে ভিলেনরা যেভাবে নিদারুণ কষ্ট দিয়ে দিয়ে মেয়েদেরকে নির্যাতন করে তার চেয়েও জঘন্যভাবে ধ*র্ষণ এবং নির্যাতন করা হয়েছিল তার উপর।
টানা ৭ দিনের অমানবিক নির্যাতন এবং ধ*র্ষণে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে মেয়েটা।
মুখ দিয়ে তখন শুধু চাপা আর্তনাদ করতো মেয়েটা, আর ছেলেগুলোর পা ধরে বলেছিল তাকে ছেড়ে দেয়ার কথা কিন্তু ওরা ছাড়েনি।
এভাবেই ৪-৫ টা হিন্দু ছেলে মিলে টানা ৭ দিন নির্মমভাবে ধ*র্ষণের পর যখন মেয়েটার খোঁজে চারদিকে আলোড়নের সৃষ্টি হয়
তখন ছেলেগুলো লক্ষ্মীপুরের রায়পুর শহরের মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে দিয়ে যায় মেয়েটাকে।
সাথে মেয়েটাকে হুমকি দিয়ে বলে যায় -এ ঘটনার বিন্দুমাত্র কথা যদি কাউকে বলে তাহলে তাকে এবং তার পরিবারের বাকিদেরকেও এভাবে ধ*র্ষণ করা হবে।
মেয়েটাকে নির্জন রাস্তায় ফেলে যাওয়ার পর মেয়েটার গোঙানির শব্দে একজন পথচারী মেয়েটাকে দেখতে পায়।
মেয়েটার করুণ এ অবস্থা দেখে লোকটা তাড়াহুড়ো করে মেয়েটাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
পরে পরিবারের লোকজনও মেয়েটার খোঁজ পেয়ে হাসপাতালে আসার পর যখন জিজ্ঞেস করছিল -কি হয়েছিল? কারা এ অবস্থা করলো?
মেয়েটা বলতে ভয় পাচ্ছিল, সারাক্ষণ ট্রমাটাইজড হয়ে ছিল। তারপর ডাক্তাররা যখন তাকে আইনি ভরসা দেয় তখন মেয়েটা বিস্তারিত ঘটনাগুলো জানায়।
সাথে এটাও জানায় ধ*র্ষণের সময় জয় কুরি নামের একটা ছেলে সবাইকে লিড দিয়েছিল। তার সাথেই বাকিরা মিলে ধ*র্ষণ করেছিল।
ডাক্তারদের ভরসায় পরিবারের লোকজন পরে রায়পুর থানায় একটা মামলা করে। মামলা নিতেও পুলিশ গড়িমসি করছিল।
কারণ যে জয় কুরি ধ*র্ষণ করেছে তার বাবা অনন্ত কুরি নোয়াখালীর লক্ষীপুরের বিশিষ্ট স্বর্ণ ব্যবসায়ী, টাকা পয়সার অভাব নেই।
পুলিশ যখন মামলার তদন্ত করতে জয় কুরির বাসায় গিয়েছিল তখন তার বাবা-মাও পুলিশের সাথে যা তা ব্যবহার করেছে।
মেয়েটাকে তুলে নেয়া হয়েছিল ২৫ আগস্টে। তারপর টানা ৭ দিন ধ*র্ষণ করা হয়েছে। আই রিপিট- ৭ দিন!
আজকে প্রায় ৮ দিন হয়ে গিয়েছে অথচ কোন মিডিয়াতে ঘটনাটা আসে নাই, কোন রাজনৈতিক নেতারা মেয়েটার পাশে দাঁড়ায় নাই।
টাকা আর রাজনৈতিক পাওয়ার দিয়ে যেন সবাইকে কিনে ফেলা হয়েছে!
অথচ আজকে কোন মুসলিম ছেলে হিন্দু মেয়েকে ধ*র্ষণ করলে বিশাল আলোচনা হতো, চারদিকে তোলপাড় হয়ে যেত।
প্রতিবছরই হিন্দু ছেলেদের লাভ জিহাদের শিকার হয় মুসলিম মেয়েরা। তারপর তাদেকরকে বিক্রি করে দেয়া হয় ভারতের পতিতালয়ে। পরিবারের কাছেও আর ফিরা হয়না তাদের।
লক্ষীপুরের এই মেয়েটাও টানা ধ*র্ষণ এবং নির্যাতনের কারণে এখনো ট্রমাটাইজড হয়ে বাসায় পড়ে আছে। সমাজে আর কারো কাছে মুখ দেখাবে কি করে সেসব নিয়ে ভাবছে।
অথচ আসামিরা এখনও ফুর্তি করে ঘুরে বেড়াচ্ছে, পুলিশও ধরতে পারেনি কাউকে।
মেয়েটার পরিবারের লোকজনও সঠিক বিচারের জন্যে বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। একবার পুলিশের কাছে যাচ্ছে, একবার রাজনৈতিক নেতাদের কাছে যাচ্ছে কিন্তু কোন কাজই হচ্ছে না।
সমাজের লাঞ্চনা আর ধিক্কার মাথায় নিয়েই চুপচাপ ৮ টা দিন পার করেছে মেয়েটা। বাকি দিনগুলোও হয়তো কাটবে সমাজের অবহেলায়।
একদিকে আসামি ফুর্তি করে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর অন্যদিকে মেয়েটা শুধু ভাবছে বাকি দিনগুলো সে বাঁচবে কি করে!
তথ্য সংগ্রহ এবং লেখা- Ibrahim Khalil Shawon
(ঘটনাটার সব আপডেট নেয়া হচ্ছে, সামনে বিস্তারিত আরও ইনফো জানাব..)