19/05/2026
অস্ট্রেলিয়াতে আসার প্রথম দেড় বছর আমি শুধুই হাউজওয়াইফ ছিলাম।
আমার নিজেরও বাইরে কাজ করার তেমন ইচ্ছে ছিল না, আর আমার হাসব্যান্ডও চাইতো না আমি কষ্ট করি।
ওর স্বল্প ইনকামেই আমরা সুন্দরভাবে চলেছি।
কিন্তু সত্যি বলতে, নিজের পুরো জীবনে নিজেকে কোনোদিন এতটা বেকার আর একা ফিল করিনি...
অস্ট্রেলিয়ার ওই প্রথম দেড় বছর যতটা কাটিয়েছি।
একাকিত্ব দূর করতে আমার সারাদিনের কাজই ছিল—বাসার কাজ গোছানো, দেশের রিলেটিভদের সাথে যোগাযোগ রাখা, পুরনো বন্ধুদের প্রবাসে এসেও আগলে রাখা, আর সেই সাথে এখানকার দেশি কমিউনিটিতে একটু সময় দেওয়া।
ভেবেছিলাম সবার সাথে মিশলে প্রবাসের একাকী জীবনটা সহজ হবে।
কিন্তু ঠিক ওই সময়ই আমার লাইফে চরম কিছু ভুল মানুষের সাথে পরিচয় হয়! দেশের কিছু চেনা রিলেটিভ আর বন্ধুদেরও একদম নতুন চেহারা সামনে আসে।
দেশে পড়াশোনা ও সব জায়গায় সারাজীবন আমি যতটা সম্মান আর গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলাম, কিছু ভুল মানুষের সাথে মিশে মনে হচ্ছিলো সব যেন ধুলোয় মিশে গেছে।
আমি ঠিক তখনই বুঝেছিলাম, নিজের অবস্থান বুঝে চলাটা কতটা জরুরি।
নিজের শিক্ষা, ফ্যামিলি স্ট্যাটাস আর মানসিকতা মেইনটেইন করেই দেশে-বিদেশে চলতে হয়—
এমনকি রিলেটিভদের ক্ষেত্রেও।
আপনি হয়তো একাকিত্ব থেকে সরল মনে সবার সাথে মিশবেন, কিন্তু সবাই আপনার জন্য সঠিক হবে না।
কিছু মানুষ আপনাকে এমন কিছু তেতো অভিজ্ঞতা দিয়ে যাবে, যার পর আর মানুষ চিনতে ভুল হবে না!
মানুষ এক জীবনে ভুল করেই শেখে।
কিন্তু মানুষ চিনতে বারবার ভুল করলে খেসারত নিজেকেই দিতে হয়।
ওই দেড় বছরের অভিজ্ঞতার পর আমি নিজেকে একদম গুটিয়ে নিই, নিজেকে নতুনভাবে গড়ি।
আগে মানুষের সাথে মিশতে কোনো ভেদাভেদ করতাম না, কিন্তু এখন নিজের মানসিকতার বাইরে আর কারও সাথে সময় কাটাতে পারি না।
আমি শিখেছি—বন্ধু কম থাকুক,
কিন্তু লাইফে শান্তি থাকুক।
রিলেটিভ বা পরিবারের কারও সাথে মতে না মিললে সেখানে একটা সুন্দর সীমারেখা টেনে দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সবাইকে সময় দেওয়ার দরকার নেই।
আপনি অতি মিষ্টি হলে মানুষ আপনাকে ব্যবহার করতে চাইবে, আর ঝামেলাটাও সেখানেই শুরু হয়।
এখন আমি নিজের কাজ আর বাসার কাজেই সময় দিই। ভুল মানুষগুলোকে আমার লাইফের বাইরে রেখে দিয়েছি।
অল্প কিছু ভালো মানুষের সাথে নিজের একটা সুন্দর কমফোর্ট জোন খুঁজে পেয়েছি, যেখানে অন্তত আমার মানসিক অশান্তি হয় না।
আর সবচেয়ে শান্তির বিষয় হচ্ছে—
প্রবাসে দেশি কমিউনিটি থেকে নিজেকে একদম দূরে সরিয়ে এনেছি!
বাঙালিদের আশেপাশে বেশি থাকলেও যে কী পরিমাণ সমস্যা, তা ভুক্তভোগীরাই জানেন।
দুদিন ধরে জাপানের 'ভ্লগার ভাবি গ্রুপের' ঝগ*ড়াঝাটির ভিডিও/খবর চোখে পড়তেই নিজের ফেলে আসা সেই দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ে গেল।
দিনশেষে, যাদের সাথে মানসিকতা মিলে না...
তাদের থেকে দূরে থাকাটাই সুন্দর।