04/05/2026
নরপিশাচের নাম আমান উল্লাহ সাগর (কওমে লুত বা ওহাবী) । ২০২২ সালে নেত্রকোনার মদনে একটি কওমী মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে সেখানে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই শিক্ষকতা শুরু করে।
১১ বছর বয়সী শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা করেছে এই নরপিশাচ। শিশুটির মা একজন গৃহকর্মী। বাবা নেই। নানীর কাছে থেকেই এই মাদ্রাসায় পড়াশুনা করতো। গত নভেম্বরে এই ঘটনার পর শিশুটিকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেখিয়ে, মিথ্যে অজুহাতে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়।
৫ মাস পর শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে তাঁর মায়ের নজরে পড়ে। মায়ের কাছে শিশুটি ভয় পেয়ে সব বলে দেয়। শিশুটির মা এই ঘটনার বিচার চাইতে গেলে, তাকেও হুমকি দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে এলাকা ছাড়া করে আমানউল্লাহ।
গত ২৪ এপ্রিল এই নিউজটি ইত্তেফাক কাভার করে। নিউজটি তেমন নজরে না এলেও গতকাল Dr. Saima শিশুটির আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টের ভিডিওটি পেজে প্রকাশ করলে আমাদের সবার নজরে পড়ে।
একটি কওমী মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা এবং শিক্ষক। তাঁর স্ত্রীও শিক্ষকতা করে। সবাই হয়ত ভেবেছে, আরেহ! বিবাহিত পুরুষ! তাঁর উপরে বউও শিক্ষিকা। পাঁচ মাসের বাচ্চাও রয়েছে। লেবাসধারী হওয়ায় তাকে এলাকার সবাই হয়তো সমিহ করে। এর কাছে আমাদের মেয়েদেরকে পড়াতে পাঠাই, নিরাপদ।
অথচ এই নর্দমার কীটের জন্য নিষ্পাপ এই ছোট্ট শিশুটিকে জীবনের সাথে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। খেলাধুলা করার বয়সে এই শিশুটি কীনা নিজেই আরেকটি শিশুকে ধারণ করে আছে। তাঁর সামনে থাকা পুরো ভবিষ্যৎটাই নষ্ট করে দিয়েছে।
আমার মেয়ের চেয়ে মাত্র ৮ বছরের বড় আরেকটি শিশু। বাবা হিসেবে এই ঘটনাটা কতটা কষ্ট দিচ্ছে বলে বুঝাতে পারবো না।
আমি গত এক মাসে বাংলাদেশে কওমী বা ওহাবী মাদ্রাসা শিক্ষক দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীদের নিউজ কালেক্ট করেছি। এর মধ্যে অসংখ্য ঘটনা কাভার হয়তো বাদ গিয়েছে। কতটা অনিরাপদ আমাদের সন্তান? এক নজরে দেখুন -
(১) ৩ এপ্রিল ২০২৬ (প্রথম আলো)
নোয়াখালী শহরের একটি (কওমী বা ওহাবী) মাদ্রাসায় ছাত্রকে ধর্ষণ চেষ্টায় গ্রেপ্তার শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ মারুফ।
(২) ৪ এপ্রিল ২০২৬ (প্রথম আলো)
নরসিংদীতে গোসল করতে না চাওয়ায় শিশুশিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটুনি, মাদ্রাসাশিক্ষক আটক। (এটাও কওমী মাদ্রাসা অর্থাৎ তৌহিদি জনতার মাদ্রাস।)
(৩) ৫এপ্রিল ২০২৬ (এশিয়ান টিভি)
কুড়িগ্রামের এস এস দারুল খইর মাদ্রাসারঁসির দাবীতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন। (এটাও কওমী মাদ্রাসা অর্থাৎ তৌহিদি জনতার মাদ্রাসা)
(৪) ৬ এপ্রিল ২০২৬
চাঁদপুরে ছাত্রীকে চেতনানাশক মেডিসিন খাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগ মাদ্রাসা শিক্ষক নাসিরুল্লাহ বাহাদুর পলাতক ও পরবর্তীতে গ্রেফতার। (এটাও কওমী মাদ্রাসা অর্থাৎ তৌহিদি জনতার মাদ্রাসা)
(৫) ৭ এপ্রিল ২০২৬ (যমুনা টিভি)
মেহেরপুরের মুজিবনগর আইডিয়াল আবাসিক মাদ্রাসায় তিন ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা ঘেরাও এবং শিক্ষক গ্রেফতার। (এটাও কওমী মাদ্রাসা অর্থাৎ তৌহিদি জনতার মাদ্রাসা।)
(৬) ১১ এপ্রিল ২০২৬ (Bdnews24)
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রকে ধ *র্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে আসামি করে মামলা। (এটাও কওমী মাদ্রাসা অর্থাৎ তৌহিদি জনতার মাদ্রাসা)
(৭) ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (Bdnews24)
মেহেরপুরের গাংনিতে এক শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা করেন সাব্বির নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক। সালিসে প্রভাব খাটিয়ে ব্যাপারটি ধামাচাপ দেওয়া হয়। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ হলে লজ্জায় আত্মহত্যা করে সাব্বির। (এটাও কওমী মাদ্রাসা অর্থাৎ তৌহিদি জনতার মাদ্রাসা)
(৮) ১৭ এপ্রিল ২০২৬ (সমকাল)
নোয়াখালীর সূবর্ণচরে আবাসিক মাদ্রাসার ছাত্রীকে জ্বীন তাড়ানোর অজুহাতে ধর্ষণচেষ্টা করেন শিক্ষক আবুল খায়ের, থানায় অভিযোগের জন্য ছাত্রীর বাসায় হামলা। (এটাও কওমী মাদ্রাসা অর্থাৎ তৌহিদি জনতার মাদ্রাসা)
(৯) ২১ এপ্রিল ২০২৬ (ইত্তেফাক)
শরীয়তপুরের জাজিরায় ৬ বছরের এক মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় একটি মসজিদের ( ওহাবী হুজুর) ইমাম ও মাদ্রাসা শিক্ষক আবুল বাসারকে (৬০) আটক করেছে পুলিশ।
(১০) ২২ এপ্রিল ২০২৬ (একাত্তর টিভি)
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে শাহ জালাল (২৫) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঁদপুরের মতলব উত্তরে একটি মাদ্রাসাতেও ধর্ষণের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে এক শিক্ষককে। (এগুলোও কওমী মাদ্রাসা অর্থাৎ তৌহিদি জনতার মাদ্রাসা)
(১১) ২৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইত্তেফাক)
নেত্রকোনার মদনে মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ১১বছরের এক শিশু। প্রাণনাশের ভয়ে এলাকা ছাড়া ধর্ষিতার পরিবার। (এটা তো ইতিমধ্যে আপনারা জেনেছেন।)
(১২) ২৪ এপ্রিল ২০২৬ (প্রথম আলো)
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় ১০ বছর বয়সী আবাসিক শিশু ছাত্রীকে রাত দুইটার দিকে ঘুম থেকে উঠিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন মাদ্রাসার শিক্ষক মুহতামিম জুনাঈদ আহমদ। পরদিন সকালে শিশুটি অসুস্থতা বোধ করলে তাকে পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটির শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন। পরবর্তীতে গ্রেফতার করা হয়। (এটাও কওমী মাদ্রাসা অর্থাৎ তৌহিদি জনতার মাদ্রাসা)
... এবার আপনারাই বলুন। এসব কী চলতে দেওয়া যায়? পত্রিকা খুললেই কওমী মাদ্রাসা অর্থাৎ তৌহিদি জনতার মাদ্রাসায় প্রতি সপ্তাহেই অন্তত ৪-৫টি ছাত্র কিংবা ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা ঘটেই চলছে। যার অধিকাংশই অপ্রকাশিত।
যুগের পর যুগ ধরে জঘন্য এসব অপরাধ যেন কওমী মাদ্রাসা অর্থাৎ তৌহিদি জনতার মাদ্রাসার একটি সংস্কৃতি হয়ে উঠেছে। কোনভাবেই বন্ধ হচ্ছে না।
লেবাসধারী আলেম সমাজও এসবের বিরুদ্ধে কখনও মুখ খুলে না। এদেরকে কখনও ওয়াজ মাহফিলে এসব নিয়ে কথা বলতে দেখবেন না।
হয়তো ভাবে আমাদেরকে তো কোটি কোটি অভিভাবক অনুসরণ করে। এসব বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করলে, জানাজানি হয়ে যাবে। যত কম জানাজানি হবে, ততই মঙ্গল। নয়তো পরে আমাদের ব্যবসায় লাল বাতি জ্বলবে। অথচ ব্যবসায় লাল বাতি যেন না জ্বলে, সেজন্য হলেও এদের উচিত ছিলো, এসবের বিরুদ্ধে এক হওয়া।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এইসব কওমী মাদ্রাসা, ওহাবী মাদ্রাসা, তৌহিদি জনতার মাদ্রাসা অতিদ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হোক।
অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধঃ আপনার সন্তানকে আদব ও সঠিক মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত করতে সুন্নী মাদ্রাসায় দিবেন। কওমী মাদ্রাসা, ওহাবী মাদ্রাসা, তৌহিদি জনতার মাদ্রাসা বয়কট করুন।
পলাতক এই নরপিশাচ আমান উল্লাহকে অবিলম্বে গ্রেফতার এবং ফাঁসি চাই।