20/05/2026
কাস্টমস কর্মকর্তাকে ফিল্মি কায়দায় অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ নওগাঁ-সান্তাহার-রাণীনগর হাইওয়েতে।
পুলিশ প্রশাসন ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের সহায়তায় উদ্ধার।
সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬ খ্রিঃ
নওগাঁ ও বগুড়া জেলাস্থ নওগাঁ-সান্তাহার-রাণীনগর হাইওয়েতে দিন-দুপুরে সারওয়ার হোসেন নয়ন নামে জনৈক কাস্টমস কর্মকর্তাকে বহনকারী গাড়ির গতিরোধ করে ফিল্মি কায়দায় অপরণ ও হত্যাচেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত গং এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক আতংক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বগুড়া জেলা পুলিশ এর অধীনস্ত আদমদীঘি সার্কেলের চৌকস অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আসিফ হোসেন বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হলে দ্রুত আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা এবং তৎসংলগ্ন এলাকার বিএনপির নেতা-কর্মী এবং প্রশাসনের সমন্বয় ও সহযোগিতায় ভুক্তভোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী কাস্টমস কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন নয়ন জানান, তার জমির ধান জোরপূর্বক কর্তন সংক্রান্ত একটি মামলার বিষয়ে নওগাঁ আদালতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন শেষে অদ্য আনুমানিক দুপুর ১২.৪০ ঘটিকায় তার গন্তব্যস্থলে রওনা হওয়ার উদ্দেশ্যে নওগাঁ শহর ত্যাগ করেন। তার গন্তব্যস্থলে ফেরার পথে নওগাঁ-সান্তাহার-রাণীনগর মহাসড়কে পৌঁছালে স্থানীয় অস্ত্রে সজ্জিত ১০/১১ জন সঙ্গবদ্ধ গং একটি মাইক্রোবাস নিয়ে ভুক্তভোগী ও তার সঙ্গীদের বহনকারী সিএনজি অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে উঠলে ভুক্তভোগী কে বহনকারী চালক তার গাড়ির গতি বাড়িয়ে নিকটবর্তী একটি বাড়ির পাশে গেলে ভুক্তভোগীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলন্ত সিএনজি হতে লাফ দিয়ে নেমে সংশ্লিষ্ট বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে বিষয়টি আত্মীয়-স্বজন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের অবহিত করলে সকলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের সঙ্গবদ্ধ গং এর মাধ্যমে পথরোধ করেন টি এম রাসেল, পিতা- মৃত টি এম কায়কোবাদ, রিয়াদ সোনার, পিতা- মহসিন সোনার, আলম সোনার,পিতা- মৃত আনোয়ার সোনার, আব্দুস সাত্তার সরদার, পিতা- মৃত জসমতুল্লাহ এবং আব্দুল আলিম, পিতা- আফজালুর রহমান।
এহেন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অভিযুক্তদের সকলের বাড়ি নওগাঁ জেলাস্থ আত্রাই উপজেলাধীন মনিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত হিঙ্গুলকান্দী গ্রামে মর্মে জানা যায়।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তরা তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। বর্ণিত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন (আদমদিঘী এএসপি সার্কেল) ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের অবহিত করা হলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
কাস্টমস কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন নয়ন আরও জানান, বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হলে তিনি ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।
বর্ণিত ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তাঁর আত্মীয়-স্বজন।