03/10/2022
স্যোসাল মিডিয়া : হতাশা, উদ্বেগ এবং একাকীত্ব বাড়াচ্ছে নাকি কমাচ্ছে?
জীবনের সব আঘাত থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে— যৌনতা, মাদক, অ্যালকোহল, বস্তুবাদ এবং ভোগবাদের মতো অনেক জিনিস গ্রহণ করে থাকি। আমাদের অনেকে বাড়তি উপশমকারী বহু ওষুধও গ্রহণ করে থাকে। কেউ কেউ আবার কাজ এবং ক্যারিয়ারের দুনিয়ায় নিজেকে হারিয়ে ফেলার চেষ্টায় নিমজ্জিত থাকে রাত-দিন। কিছু লোক ‘ভার্চুয়াল দুনিয়া’য় বসবাস করার মাধ্যমে নিজেদের শূন্যতা দূর করা চেষ্টা করে। একাকীত্ব কাটাতে মিথ্যা সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে বা বস্তুবাদী ডিভাইস ও প্রযুক্তির মাঝে নিজেকে লুকাতে গিয়ে বাস্তব জীবন ও বাস্তব সম্পর্কগুলি থেকে বিছিন্ন হয়ে পড়ি আমরা। আমরা নির্ভরশীল হয়ে পড়ি— সামাজিক অনুমোদনের তাৎক্ষণিক এবং অস্থায়ী খুশি ও তৃপ্তির ওপর। লাইক ও ফ্যান-ফলোয়ারের জন্য লালায়িত হতে শুরু করি আমরা এবং জনসমুক্ষে নিজেদের জীবনের অন্তরঙ্গ অনুসঙ্গগুলি শেয়ার করে কমেন্ট ও প্রশংসা লাভের অপেক্ষায় থাকি। অন্যদের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য সেই অপেক্ষা হয় তীর্থের কাকের মতো— চাই তা হোক পরিচিত কিংবা কোনো অপরিচিত কারো। এতো কিছুর পরও, আমরা কেবলই শূন্য থেকে আরও শূন্যগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছি এবং আরও বেশি বিছিন্ন হয়ে পড়ছি— কিন্তু কেন?
আমেরিকান জার্নাল অব প্রিভেনটিভ মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে— যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিন সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করে তাদের বিষণ্নতা তৈরির ঝুঁকি তিন গুণ বেশি।
জার্নাল অব সোশ্যাল অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় সোস্যাল মিডিয়াতে আসক্ত একটি দলকে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় কমিয়ে মাত্র ৩০ মিনিট (১০ মিনিট ফেসবুক, ১০ মিনিট ইনস্টাগ্রাম, ১০ মিনিট স্ন্যাপচ্যাট) নির্ধারণ করে দেয়া হয়। সমীক্ষায় দেখা যায়— সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় কমিয়ে দেওয়ার ফলে হতাশা, উদ্বেগ এবং একাকীত্ব হ্রাস পেয়েছে।
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্রের সহ-লেখক জর্ডিন ইয়াং লিখেছেন, একটি গাবেষণায় আমরা সামগ্রিকভাবে যা পেয়েছি; তার সারসংক্ষেপ— আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়া কম ব্যবহার করেন; তবে আপনি আসলে কম হতাশাগ্রস্ত এবং কম একাকীত্ব বোধ করবেন। এ গবেষণার ফলাফল হচ্ছে— আপনি যত কম সময় সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার করবেন, ততবেশি সুস্থ ও প্রফুল্ল থাকবেন। সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার এবং হতাশা, উদ্বেগ ও একাকীত্ব কার্যকারণ নির্ণয় শীর্ষক প্রথম গবেষণা এটি।
হিলিং দ্য এম্টিনেস
মূল— ইয়াসমিন মুজাহিদ
ভাষান্তর— হামিদ সিরাজী
সুলতানস ও গ্লোবাল বুকসেল্ফ ইন্টারন্যানশনালের যৌথ প্রকাশনায় আসছে শীঘ্রই