02/11/2025
তোমার চোখেই রহস্য
পর্ব 5
আমেনা রান্নার জন্য জিনিস নামাচ্ছে । তার হয়েছে মহা জালা । অর্ধেক তৈরি বাড়ি বাড়ির রুমা গুলো তেমন বড় না । তবে ,দোতলা বাড়ি । বাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা চলে গেছে । ছোটো খাটো একটা উঠান , তা ও বালি দিয়ে ভর্তি । এই জায়গা প্রথমে মাছ চাষের ঘের ছিলো । বাড়ি বানানোর জন্যই বালি দিয়ে ভর্তি করা হয়েছে প্রতিবার রান্নার আগে সব জিনিস নিয়ে নিচে আসে । আবার রান্না শেষ হলে খাবার নিয়ে দোতলায় যায় , খাওয়ার জন্য।
আমেনা অবশ্য এটা নয় । তাকে সাহায্য করছে রিমি । রিমি পড়াশোনা করতে চায় না , তবে কাজ কাম সব করতে পারে । আর কাজ করতে তার ভালোই লাগে । তার হাতের রান্না ও চমৎকার । পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মতো দেখতে , মাথা ভর্তি কোঁকড়া চুল । কেবল মাত্র বয়সন্ধিকালে পা দিয়েছে । সৌন্দর্য তার উপচে পারে ।
মরিচের কৌটা নিয়ে আয় । আমি আর উঠতে পারবো না,সিঁড়ি দিয়ে । বুক ধরফর করছে ।
আম্মু ,দুইটা কৌটা রাখলেই তো পারো ।একটা উপরে গ্যাসের চুলার কাছে রাখবা , আরেকটা নিচে মাটির চুলার কাছে । কথা গুলো বলতে বলতেই রিমি উপরে চলে গেলো , সিঁড়ি দিয়ে ।
কিছুক্ষণ পর এসে বললো , এই যে মরিচ । আর কিছু আনতে হবে ? একবারে বলে দেও , আমার ও এতো বার উঠা নামা করতে ভালো লাগে না ।
তোর ভালো লাগে না কেন ? এই তো বয়স । এখন লাফিয়ে লাফিয়ে কাজ করবি । আমাদের সময়ে ,, আমরা মায়ের সব কাজ করে দিতাম । পানি আনা থেকে শুরু করে কাপড় পর্যন্ত ধুয়ে দিতাম।
তোমাদের সময় আর আমাদের সময় আলাদা । আমি কী তোমার কাজ করি না ?
হ্যা করিস ,,, তবে ,,,,,,,
সে আর কথা শেষ করতে পারলো না । এর মাঝেই ইলমা ডাক দিলো ,, খালাম্মা ।
তুমি নিচে আসলে কেনো ? শুয়ে থাকো । এতো হাঁটাহাঁটি করো না ।
আর শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করে না ।
আচ্ছা,,এখানে বসো ।
খালাম্মা কালকে স্কুলে যাবো ।
কালকেই হসপিটাল থেকে বাড়ি আসলো । দুই দিন পরে স্কুলে যেও । এখন কয় দিন একটু শুয়ে বসে থাকো ।
না খালাম্মা স্কুলে যেও ।
আচ্ছা যেও । এই বলা ছাড়া আমেনার আর কোনো উপায় ও নেই। আর না বললেও ইলমা শুনবে না । স্কুল তার খুব পছন্দের জায়গা । সে কখনোই স্কুল বন্ধ দিতে চায় না । ক্লাস 2 এর বাচ্চা । ওর বয়সী বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে আসা লাগে , সাথে বসে থাকে গার্ডিয়ান । আলমারি ক্ষেত্রে এমন কিছুর দরকার নেই। সে একাই স্কুলে যায় । অবশ্যই স্কুল খুবই কাছে । খালাম্মা দের বাড়ির ছাদ থেকে ডাক দিলে স্কুলে শোনা যাবে ।
ইলমা নিজের বাড়িতে গিয়েও থাকতে চায় না । বৃহস্পতিবার ক্লাস করে যায় । আর রবিবার ভোরে আবার চলে আসে । তার আব্বু নিয়ে যায় , আবার দিয়ে যায় । 1 ঘন্টা মতো সময় লাগে হয়তো যেতে আসতে ,তার নিজের বাড়িতে । ভালোই দুরত্ব,, ।
ইলমা , রাতুল ভাইয়াকে ডেকে নিয়ে উঠাও তো । 12 টায় বেশি বাজে , এখনো উঠলো না। ওর আব্বু আসার সময় হয়ে গেছে । এসে দেখলে , আবার রাগ করবে ।
মিষ্টি স্বরে ইলমা বললো , আচ্ছা খালাম্মা । তারপর সে বাধ্য মেয়ের মতো উপরে চলে গেলো ।
সিঁড়িতে এখনো রেলিং দেওয়া হয় নাই । আমাকে উঠতে দেখে আয়েশার খানিক ভয় হলো । মনে মনে চিন্তা করলো , এই মাসেই ওর আব্বুকে বলে , রেলিং করে দিতে হবে ।
আম্মু , আমি সুমিদের বাড়িতে যাই । রিমি হঠাৎ বলে উঠলো ।
এই দুপুর বেলা ওদের বাড়িতে কী কাজ ?
না ,, এমনিই ,,,
গোসল করে , পড়তে বসো । কয় দিন পরে পরীক্ষা। সারাদিন এভাবে ঘুরে বেড়ানো যাবে না ।
আমি তো শুধু সুমির কাছেই যাই , আর কোথাও তো যাই না ।
বিকেলে যাবে ।এখন না ।
রিমি আর কিছু বলতে পারলো না ।
এর মধ্যেই ইলমাকে কোলে নিয়ে খালি গায়ে , উস্কো খুস্কো চুল , হাফ প্যান্ট পড়া এক সুদর্শন পুরুষ নিচে নেমে আসলো । পাকিস্তানি নায়কদের মতো মোচ রাখছে সে । তাকে দেখতে অবশ্য খুবই আকর্ষণীয় লাগছে । যেকোনো তরুণী তাকে এ অবস্থায় দেখলে , প্রেমে পরে যাবে । তার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে , ঘুম থেকে উঠানোয় তার মেজাজ কতোটা খারাপ। আর দুই ঘণ্টা ঘুমোতে পারলেন হয়তো , মেজাজ ভালো থাকতো ।
এখন উঠার সময় হলো ?
এখনো সময় হয় নাই , আরেকটু পরে উঠতে পারলে ভালো লাগতো ।
আমি না ডাকলে তো আপনি , সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠতেন ,একটু আল্হাদি সুরে ইলমা বললো ।
রাতুল নাকে নাক চেপে তাকে আদর করে ,হাসতে হাসতে বললো ,তাই নাকি , পাকাবুড়ি ।
যা হাত মুখ ধুয়ে আয় , খাবার দিচ্ছি আমি । খেয়ে দোকানে যা । তোর আব্বু বাড়ি আসবে , । সকালে দোকানে গেছে , এখন তুই গেলে খুশি হবে সে । আমেনা বললো ।
তাকে খুশি করার এতো সহজ না । এটা বলেই সে , ব্যায়াম করার ভঙ্গিতে হাত পা ছুড়তে লাগলো ।
আমেনা আর কিছু বললো না ।
#তোমারচোখেইরহস্য