07/05/2026
গতকাল ঠিক সন্ধ্যার আগমুহূর্তে অফিসের এক জরুরি কাজে পুরানা পল্টন থেকে ফকিরাপুলের দিকে যাচ্ছিলাম। আকাশটা আগে থেকেই মেঘলা ছিল; গুমোট ভাব দেখে আঁচ করতে পারছিলাম বৃষ্টি নামবে। কিন্তু কর্মব্যস্ত জীবনে প্রকৃতির সংকেত শোনার ফুরসত কোথায়? কাজ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে আকাশ ভেঙে শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি।
সেই কী বৃষ্টি! থামার কোনো নামগন্ধ নেই। দেখে মনে হচ্ছিল, আকাশের জমাট বাঁধা সব অভিমান আজ অঝোর ধারায় ঝরে পড়ছে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও যখন কোনো রিকশা পেলাম না, তখন বাধ্য হয়েই হাঁটা শুরু করলাম। বৃষ্টির জল আমার শরীরের জন্য বরাবরই খুব সংবেদনশীল; একটু ভিজলেই জ্বর আসে। তাই বার বার থামছিলাম আর একটু আশ্রয়ের খোঁজ করছিলাম।
কিন্তু একসময় উপলব্ধি করলাম, নিয়তির লিখন যখন ভেজা, তখন আর পালিয়ে লাভ কী? জেদ আর ভয় ছেড়ে মনস্থির করলাম—আজ বরং এই ভেজাটাকেই উপভোগ করি। বিশ্বাস করুন, গত কয়েকটা দিন খুব মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, চারপাশের সবকিছুই বড় বিরক্তিকর ঠেকছিল। কিন্তু বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা যখন আমায় স্পর্শ করল, মনে হলো আমার ভেতরের সব ক্লান্তি আর বিষণ্ণতা ধুয়ে মুছে যাচ্ছে। এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে মনটা হালকা হয়ে গেল।
তখনই বুঝতে পারলাম—
জীবনের সব পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। মাঝে মাঝে নিজের ইচ্ছার ঊর্ধ্বে গিয়ে পরিস্থিতিকে মেনে নিতে হয়। প্রতিকূলতাকে যখন আমরা হাসিমুখে বরণ করতে শিখি, জীবন তখন অনেক সহজ আর সুন্দর মনে হয়।
Sagor Ahmed