Adnan Karim's Insights

  • Home
  • Adnan Karim's Insights
Directions

Adnan Karim's Insights Barrister (UK), Advocate (Bangladesh), Writer, Political Commentator

বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও জুলাই সনদ আদেশের বৈধতা:৫ই আগস্ট, ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশে এক গভীর সাংবি...
20/03/2026

বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও জুলাই সনদ আদেশের বৈধতা:

৫ই আগস্ট, ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশে এক গভীর সাংবিধানিক ব্যত্যয় ঘটে। ৫ই আগস্টের ঘটনা প্রবাহ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ঐদিনের পর থেকে বাংলাদেশের সংবিধানের একাধিক গুরুতর লঙ্ঘন হয়েছে। সাংবিধানিক আইনের অনুশীলন-কারী, আইনজীবী কিংবা রাজনীতি ও আইনের ছাত্রদের কাছে এই ঘটনাবলীগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হয়েছে, আইনগত ভাবে আরও বহুদিন এর রেশ থাকবে বলে ধারণা করি। যেহেতু, অন্তর্বর্তী সরকার আরেকটা নির্বাচন দিয়ে বিদায় নিয়েছে, সেই সরকারের সম্পূর্ণ কাঠামো এখন পরিষ্কার, তাই এই আলোচনা এখন করা সম্ভব। যেহেতু, ৫ই আগস্ট কোন বিপ্লবী সরকার গঠন হয়নি, বিদ্যমান সংবিধান স্থগিত বা বাতিল হয়নি কিংবা কোন সামরিক আইন বা ফরমান জারি হয়নি, তাই এই সংক্রান্ত সকল আলোচনা অবশ্যই সংবিধান কেন্দ্রিক হতে হবে, এর বাইরে আইনি কোন রক্ষাকবচ নাই।

১। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক দ্বাদশ সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া:

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছেন। তিনি একাধারে নির্বাহী বিভাগের প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান ও সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রীপরিষদ রাষ্ট্রপতির নামে সরকার পরিচালনা করেন এবং রাষ্ট্রপতিকে সকল বিষয়ে অভিহিত করেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি সিস্টেমে রাষ্ট্রপতি আসলে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ব্যবস্থায় রাজা যেমন, অনেকটাই তেমন ভূমিকা পালন করেন।
সংবিধানের ধারা ৪৮ (৩) অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির নিয়োগ ছাড়া, অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী করবেন। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে কি পরামর্শ দিয়েছেন কিনা, দিয়ে থাকলে কি দিয়েছেন, সেই ব্যাপারে আদালতে কোন তদন্ত না তোলার ব্যাপারে শর্ত আরোপ করা আছে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীকে ছাড়া রাষ্ট্রপতি একার ক্ষমতা সীমিত। ৫ই আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ত্যাগে বাধ্য হলে একটা সংকট দেখা যায়, যদিও সংবিধানের দৃষ্টিতে কোন সাংবিধানিক সংকট আসলে তৈরি হয়নি। তার কারণ হলও বিদ্যমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে কোন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয় না।

যদিও প্রধানমন্ত্রী ৫ তারিখ দেশ ত্যাগ করেছেন এবং উনি রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিত পদত্যাগ পত্র পেশ করতে পারে নাই, তথাপি রাষ্ট্রপতি ধরে নিতে পারেন যে প্রধানমন্ত্রী তার স্বীয় পদে বহাল নাই। যেমন ৫৮ (৩) ধারা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করিলে বা স্বীয় পদে বহাল না থাকিলে (পদত্যাগ ব্যতীত) মন্ত্রীদের প্রত্যেকে পদত্যাগ করিয়াছেন বলে গণ্য হবেন। কাজেই সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী স্বীয় পদে বহাল না থাকার অবস্থা বিবেচনা করা হয়েছে। এমতাবস্থায় খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলও পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া সংবিধানের নিয়ম মেনে। সেই ব্যাপারে সংবিধানেই স্পষ্ট বিধান আছে।

সংবিধানের ধারা ৫৬ (৩) মতে, যে সংসদ-সদস্য, সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবে, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন। অর্থাৎ তৎকালীন সংসদ-সদস্যদের বেশীরভাগ যাকে সমর্থন করবে, তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ ছাড়া সংসদ ভেঙে দেওয়ার কোন উপায় নাই, দরকারও নাই। কারণ একেবারে যদি সংসদ ভেঙ্গে দিতেই হয়, তাহলে উপরের নিয়মে একজন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দিয়ে তার পরামর্শ নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া যেত। সেই কাজটাই সাংবিধানিক ভাবে না করে, প্রধানমন্ত্রী ছাড়া, তার পরামর্শ ছাড়া রাষ্ট্রপতি ৬ই আগস্ট সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার গেজেট প্রকাশ করলেন, তাও ৪৮ (৩) ধারার উদ্ধৃতি দিয়ে, যা সম্পূর্ণ ভুল। ৪৮ (৩) ধারা উলটা বলছে রাষ্ট্রপতি এই কাজটা করতে পারেন না, অথচ গেজেট বলছে এই ধারার অধীন রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙ্গে দিলেন! কাজেই ৬ তারিখ সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া ছিলও সংবিধানের পরিপন্থী। তার উপর সংসদ ভেঙ্গে দিলে অবশ্যই নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন দেওয়া বাধ্যতামূলক।

২। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নতুন এটর্নি জেনারেল/ প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ:

সংবিধানের ধারা ৪৮ (৩) অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির নিয়োগ ছাড়া, অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী করবেন। এটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিলেও সেটাও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে দিতে হবে, ৮ই আগস্ট যখন নতুন এটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তখনতো কোন প্রধানমন্ত্রীই নাই, তাহলে এটর্নি জেনারেলও তো নিয়োগ দেওয়ার কোন উপায় নাই। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া রাষ্ট্রপতি এটর্নি জেনারেল নিয়োগ দিতে পারেন না। অথচ এটর্নি জেনারেল একটা গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ। একই কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও নিয়োগ দিতে পারেন না। দুইটাই সাংবিধানিক পদ।

৩। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:
মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ ৮ই আগস্ট ,২০২৪ তারিখে প্রজ্ঞাপন জারি করে, যাতে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দান করেছেন। সংবিধানের প্রথম ধারা ১ অনুযায়ী, বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র, যাহা “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ” নামে পরিচিত হইবে ৷ “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে” প্রধান উপদেষ্টা বলে কোন পদ নাই। অন্তর্বর্তী সরকার বলেও সংবিধানে কোন শব্দ নাই। এটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারও না, যা আগে সংবিধানে ছিলও, বরঞ্চ উল্লেখিত হয়েছে “অন্তর্বর্তী সরকার” হিসাবে। ডিসেম্বর মাসে আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবার ফিরে আসে কিন্তু ঐ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হবেন সদ্য বিদায়ী প্রধান বিচারপতি (আরও নিয়ম আছে)। কাজেই অন্তর্বর্তী সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারও না।

অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগ দান সরাসরি সংবিধানের ৫৫ (২) ধারার পরিপন্থী যেখানে বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে । এই ধারায় প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা কে প্রয়োগ করবে সেটা স্পষ্টত বলা আছে। রাষ্ট্রের তিনটা মৌলিক বিভাগের একটা হলও নির্বাহী বিভাগ, অন্যান্যগুলো হলও আইন বিভাগ এবং বিচারবিভাগ। রাষ্ট্রপতি চাইলেই কি যে কাউকে বিচার বিভাগের দায়িত্ব দিতে পারেন? অবশ্যই পারেন না। রাষ্ট্রপতির তো সেই ক্ষমতা নাই। রাষ্ট্রপতি নিজেই সংবিধানের অধীনস্থ সৃষ্ট একটা পদ। সেই ক্ষমতা আছে শুধুমাত্র সংবিধানের এবং সংবিধানে সেই ক্ষমতা স্পষ্টত ৫৫(২) ধারা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীকে সেই কর্তৃত্ব দেওয়া আছে। রাষ্ট্রপতির “অন্তর্বর্তী সরকার” এবং সেই সরকারে পদ “প্রধান উপদেষ্টা” হিসাবে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার কোন ক্ষমতা, ভিত্তি বা উপায়ই নাই। সংবিধান বলবত থাকা অবস্থায় এটা অসম্ভব।

৪। সংবিধানের ১০৬ ধারার সুপ্রিম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার:

এই ঘটনা প্রবাহে, ৮ই আগস্ট সংবিধানের ১০৬ ধারায় সুপ্রিম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার প্রয়োগের একটি বিশেষ রেফারেন্সের আবির্ভাব হয়। বলা হয়েছে পদত্যাগ করার পূর্বে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারপতিগণ এই বিশেষ রেফারেন্সে সই করেন (১৪ তারিখ পদত্যাগ করেন), এর মূল কপি পাওয়া যায় নাই। সংবিধানের ১০৬ ধারার সুপ্রিম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার রয়েছে। এর আগে ১০৬ ধারার ব্যবহারও হয়েছে। এই ধারায় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের বিবেচনা করার জন্য জন গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় পাঠাতে পারেন মতামতের জন্য। এই মতামত কোন রায় বা অবশ্য পালনীয় কিছু না, আপীল বিভাগ চাইলে মতামত নাও দিতে পারেন, রাষ্ট্রপতি চাইলে মতামত নাও মানতে পারেন, বাধ্যবাধকতার কিছু নাই (১৯৯৫ সালের বিশেষ রেফারেন্সে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এই ব্যাপারে বিশদ দিক নির্দেশনা দিয়েছেন)। এটা শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টের একটা মতামত, যা যথেষ্ট ওজন বহন করে, আবার রায়ের সমান ওজন বহন করে না। ভারত,পাকিস্তান, কানাডা সহ বিভিন্ন দেশের আদালতের এই এখতিয়ার রয়েছে এবং এর প্রয়োগ যথেষ্ট পরিষ্কার, এটা নিয়ে কোন বিভ্রান্তি নাই।
৮ই আগস্টের বিশেষ রেফারেন্সে সুপ্রিম কোর্ট মতামত দিলেন যে, সংবিধানে অন্তর্বর্তী সরকারের কোন বিধান না থাকায় রাষ্ট্রের সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার নিমিত্তে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসাবে প্রধান উপদেষ্টা সহ অন্যান্য উপদেষ্টা নিয়োগ দিতে পারে।

এটা তো অসম্ভব! কারণ সুপ্রিম কোর্টের নিজের-ইতো রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা কাউকে দেওয়ার কোন ক্ষমতা নাই। সুপ্রিম কোর্ট তার সর্বস্ব শক্তি প্রয়োগ করেও সংবিধানের নির্বাহী ক্ষমতা যার কাছে আছে (প্রধানমন্ত্রী) তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে প্রদান করতে পারেন না। এটা সংবিধানের মৌলিক আইনের পরিপন্থী যাকে বলে Separation of Powers। এটা করা মানে সংবিধানের সংশোধন করা। যেটা সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ারে নাই, শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সংসদ করতে পারে । রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা কার, সেটা সু-স্পট ভাবে সংবিধানে উল্লেখ আছে, যা ভঙ্গ করা মানে সংবিধানের সম্পূর্ণ চতুর্থ ভাগের লঙ্ঘন করা। এই রেফারেন্সের উপর ভিত্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সংবিধানের পরিপন্থী। রাষ্ট্রপতির এবং সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার বহির্ভূত । রাষ্ট্রপতি বা সুপ্রিম কোর্টের নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী কে সেটা ঠিক করার কোন এখতিয়ার নাই, সংবিধানের কেবল সেই এখতিয়ার রয়েছে। সংবিধানের অধিন্যস্ত রাষ্ট্রে কোন বিভাগই অসীম ক্ষমতার অধিকারী নয়।
তার উপর বিশেষ রেফারেন্স শুনানি করার যেই নিয়ম আছে সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্ট রুলসে, তাও পালন করা হয় নি। কোন পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়নি, শুধু এটর্নি জেনারেল শুনানিতে উপস্থিত থাকার কথা উল্লেখ আছে, যেটাও রীতিগত ভাবে ঠিক না। সাধারণত এমিকাস কিউরি নিয়োগ দেওয়া হয় তাদের মত নেওয়ার জন্য (কোর্টের ইচ্ছা অনুযায়ী শুনানি হবে, নির্দিষ্ট কোন নিয়ম নাই) । আর এটর্নি জেনারেলের নিয়োগ যে সম্ভব না তা আগেই উল্লেখ করেছি। শুধুমাত্র সেই এটর্নি জেনারেল শুনানিতে উপস্থিত থাকার কথা উল্লেখ আছে। কোর্ট কখন শুনানি করলো সেটাও স্পষ্ট নয়। সেই নিয়মগুলো পালিত হয়নি।

৫। মহসিন রশিদ বনাম রাষ্ট্র মামলাঃ
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র এডভোকেট মহসিন রশিদ সাহেব অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ গ্রহণকে চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন। হাইকোর্ট সেই রিট প্রত্যাখ্যান করেন। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ, হাইকোর্ট ধারা ১০৬ এর রেফারেন্সের উল্লেখ করেন। আপীলেট ডিভিশনও আপীল বাতিল করেন। কোন কোর্টের রায়ই সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে এখনো পাওয়া যায়নি।

৬। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫:

১৩ই নভেম্বর, ২০২৫ সালে রাষ্ট্রপতির নামে এই আদেশটি জারি করা হয়। সংবিধানের তৃতীয় পরিচ্ছেদের ধারা ৯৩ ও পরবর্তী ধারা সমূহ অনুযায়ী সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অথবা অধিবেশন ব্যতীত অন্যকোন সময়ে রাষ্ট্রপতি আশু প্রয়োজনে শর্ত সাপেক্ষে শুধুমাত্র অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। অধ্যাদেশ ছাড়া রাষ্ট্রপতির অন্যকোন আদেশ বা আইন বা নির্দেশ জারি করার কোন ক্ষমতা নাই। সেই অধ্যাদেশও শর্ত সাপেক্ষ, যার অন্যতম শর্ত হলও সেই অধ্যাদেশে এমন কোন বিধান করা যাবে না, যা সংবিধানের অধীন সংসদে আইন-দ্বারা আইন সংগতভাবে করা যায় না [ধারা ৯৩ (১) (ক)] এবং যাতে সংবিধানের কোন বিধান পরিবর্তিত বা রহিত হয়ে যায় [ধারা ৯৩(১)(খ)]। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ সম্পূর্ণ সংবিধান পরিপন্থী। রাষ্ট্রপতি এরকম আদেশ দিতে পারেন না। তার উপর এই আদেশে গণভোট, সংবিধানের সংস্কার এবং সেই মর্মে সংস্কার পরিষদ গঠন – সবটাই সংবিধানের পরিপন্থী এবং সাংঘরষিক, সংবিধান পরিবর্তনের শামিল।
এই আদেশে প্রারম্ভে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের প্রকাশ ঘটেছে এবং তার ভিত্তিতে এই আদেশ – এই বক্তব্য সংবিধানের মূলে আঘাত করে। সংবিধানের ধারা ৭ অনুযায়ী এই সংবিধানই কেবল মাত্র জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তি এবং জনগণের পক্ষে শুধুমাত্র এই সংবিধানের অধীনে এবং কর্তৃত্বে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ হবে। একই সাথে সংবিধান এবং জুলাই আদেশ দুইটাই জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের প্রকাশ হতে পারে না। এটা সাংবিধানিক আইনের একটা মৌলিক বিষয়। সংবিধান বহাল থাকা অবস্থায়, এই আদেশ জারি হতে পারে না। এই আদেশ কার্যকর করতে গেলে, সংবিধান থাকে না।
গণ অভ্যুত্থানের অব্যবহিত পরে কোন বিপ্লবী সরকার গঠন হয়নি সংবিধানকে বাতিল করে। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সেনা শাসকদের হাত দিয়ে এরকম হওয়ার অনেক নজির আছে অতীতে। যুগ যুগ পর সেই সেনা শাসন সম্পূর্ণ বাতিল করাও হয়েছে আদালতের রায়ে সাথে সকল সেনা আমলের আইনও বাতিল হয়েছে। জুলাই পরবর্তী সংবিধান সমূন্যত ছিল, কাজেই সকল কার্যকলাপ অবশ্যই সংবিধানের আলোকে এবং মানদণ্ডে হবে, এর কোন বিকল্প আইনে নাই। সেই নিরীখে, কয়েকটা মৌলিক বিষয়ের অবতারনা এখানে করা হয়েছে। সংবিধান বহাল থাকা অবস্থায়, সেটাই জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তি এবং জনগণের ক্ষমতার সর্বচ্চো প্রকাশ এবং কার্যকর করার একমাত্র উপায়। সংবিধান দেশের সর্বচ্চো আইন। সেই আলোকেই জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সকল কার্যকলাপকে দেখতে হবে।

ব্যারিস্টার আদনান করিম
আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
২০ ই মার্চ, ২০২৬


05/03/2026

ইরান যুদ্ধের পরিণতি:

আমার ধারনা এই যুদ্ধে ইরান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে আরেকটা আফগানিস্তান/ইরাক/লিবিয়া/সিরিয়া হবে। আমেরিকার লক্ষ্য ইরানের সামরিক শক্তি নষ্ট করা, যেন সে আর কোনদিন ইসরায়েলের জন্য হুমকি হয়ে না উঠে। ধ্বংস স্তূপের মধ্যে আঞ্চলিক কমান্ডাররা স্বীয় অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিবে, কেউ খন্ড খন্ড আঞ্চলিক লড়াই করবে , কেউ নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে, কেউ তেল-গ্যাস বিক্রির ব্যবসায় নামবে। চীন-রাশিয়া অস্ত্রের বিনিময়ে সে গুলা কিনবে। লড়াইরত অংশ আইসিসের মতো মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া হয়ে থাকবে অনেক বছর। সফট টার্গেটে আক্রমণ, আত্মঘাতী হামলা, সম্পদ আর প্রাণহানি করবে আশেপাশের দেশে। আরব দেশগুলো ইসরায়েল আর আমেরিকার দ্বারস্থ হবে এদের থেকে বাঁচার জন্য।

ইসরাইল শেষ পর্যন্ত তার বহুল আকাঙ্ক্ষিত ফল পেলো। সে হবে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন নেতা, অন্য দেশগুলোর সাথে অফিশিয়াল সম্পর্কের সুচনা হবে। আঞ্চলিক জোট‌ও হতে পারে।

যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় আমেরিকার সাথে ইসরায়েলের সম্পর্ক শীতিল হবে, কিছুটা টানা পোড়োন‌ও হতে পারে সাময়িকভাবে, তবে তাতে ইসরায়েলের সমস্যা নাই। সে মধ্যপ্রাচ্যকে তার পছন্দ মতো সাজাবে।

বাকি বিশ্ব নিজের মতো চলবে।

শুধু ফিরবে না কোন দোষ না করে নিহত হ‌ওয়া সাধারণ জনগন কোনদিন ,আর ফিরবে না নির্বাসিত ইরানীরা তাদের দেশে।

আমেরিকার সংবিধান  অনুচ্ছেদ ২, ধারা ২ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং মিলিশিয়ার সর্বাধিনায়ক। এটি রাষ্ট্রপত...
02/03/2026

আমেরিকার সংবিধান অনুচ্ছেদ ২, ধারা ২ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং মিলিশিয়ার সর্বাধিনায়ক। এটি রাষ্ট্রপতিকে সামরিক অভিযান পরিচালনা, বাহিনী মোতায়েন এবং বিস্তৃত ক্ষমতা প্রদান করে। অন্য দিকে অনুচ্ছেদ ১ , ধারা ৪ অনুযায়ী কংগ্রেসকে "যুদ্ধ ঘোষণা করার" ক্ষমতা দেয়া আছে। এর উদ্দেশ্য ছিল একতরফা নির্বাহী যুদ্ধ প্রতিরোধ করা। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধের ক্ষমতা আইনে প্রেসিডেন্টের কংগ্রেসকে যেকোন লড়াই সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সরাসরি কোন যুদ্ধ ঘোষণা এভাবে কংগ্রেস করেনি,সব যুদ্ধ প্রেসিডেন্টরাই করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প যতদিন প্রয়োজন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে, এখনো পর্যন্ত কংগ্রেসকে জানানো হয় নাই।
তাছাড়াও নি:সন্দেহে জাতিসংঘের সনদের সুস্পষ্ট লংঘন। আমেরিকা এখন খোলাখুলি আর জাতিসংঘকে তোয়াক্কা করে না।

25/02/2026

"আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ বাতিল"





Address


Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Adnan Karim's Insights posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

  • Want your business to be the top-listed media company?

Share