06/08/2026
পুরুষের চোখে নিজের স্ত্রীকে আগের মতো ভালো লাগে না—কখন? প্রশ্নটা কঠিন, কিন্তু অনেক পুরুষের জীবনের এক নীরব সত্য। তাই এই লেখাটি বিশেষ করে পুরুষদের জন্য।
আমার স্ত্রী দেখতে মোটামুটি সুন্দর। তবুও কেন জানি তাকে এখন আর আগের মতো ভালো লাগত না। আমাদের বিয়ের বয়স আট বছর, আর পাঁচ বছরের একটি মিষ্টি মেয়ে আছে। অফিস শেষে আগে যেখানে দ্রুত বাড়ি ফিরতাম, এখন সেখানে ইচ্ছে করেই দেরি করি, রাত করে বাড়ি ফিরি। কারণ—বাসায় যেতে ইচ্ছে করে না।
কিন্তু এক সময় ছিল, অফিস শেষ হলেই শুধু স্ত্রীর টানে ছুটে যেতাম বাসায়। ছুটি পেলেই তাকে নিয়ে ঘুরতে বের হতাম, ঘণ্টার পর ঘণ্টা তার সাথে গল্প করতাম। সত্যি বলতে—তখন স্ত্রীকে দেখলেই মন ভালো হয়ে যেত। কিন্তু এখন? ওর দিকে তাকাতে ইচ্ছে করে না, কথা বলতে ইচ্ছে করে না। ও আশেপাশে থাকলেও বিরক্ত লাগে। ফোন নিয়ে বাসায় বেশিরভাগ ব্যস্ত থাকি। রাতে যে কথা বলতে চাইলে তার সাথে কথা না বলে বলি আমার এখন ঘুম পাচ্ছে— "জ্বালাতন করো না, সারাদিন অফিস করে ক্লান্ত।" আসলে ক্লান্তি কিছুই না... মূল কথা হলো স্ত্রীকে আর ভালো লাগে না।
কেন এমন হচ্ছে বুঝতে পারছিলাম না। পরকীয়ায় না জড়ালেও মনে হচ্ছিল সেদিকেই এগোচ্ছি। বন্ধুদের জিজ্ঞেস করলে অনেকে হেসে বলল— "এক জিনিস কতদিন ভালো লাগে?" কিন্তু উত্তরটা আমার মন মানতে পারল না। মনে হলো—এটা কি কোনো মানসিক সমস্যা? এই প্রশ্ন নিয়ে গোপনে এক মানসিক ডাক্তারের কাছে গেলাম।
ডাক্তার আমার সব কথা শুনে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কি আল্লাহকে বিশ্বাস করেন?" আমি বললাম, "জি করি।" তিনি বললেন, "তাহলে আল্লাহর একটা নির্দেশ এক মাস মেনে চলুন। দেখবেন সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে, কোনো ওষুধ লাগবে না।"
"হে নবী, মুমিন পুরুষদের বলুন তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য বেশি পবিত্র।" (সূরা আন-নূর: ৩০)
ডাক্তার বললেন— "এক মাস আপনার দৃষ্টি হেফাজত করুন। কোনো পরনারীর দিকে লোভুপ দৃষ্টিতে তাকাবেন না, কোনো অশ্লীল জিনিস দেখবেন না। শর্ত একটাই—ফাঁকি দেওয়া যাবে না।" আমি কথা দিলাম।
চেম্বার থেকে বের হওয়ার সময় এক আকর্ষনীয় যুবতী মেয়ে চোখে পড়ল, কিন্তু হঠাৎ আল্লাহর নির্দেশের কথা মনে পড়তেই সঙ্গে সঙ্গে চোখ সরিয়ে নিলাম। পথে-ঘাটে নারীর দিকে চোখ পড়লেই দৃষ্টি নামিয়ে নিতাম। প্রথম দুদিন খুব অস্থির লাগল, নারী শরীর দেখার প্রবল ইচ্ছা তৈরি হচ্ছিল। একদিন পর্ন দেখার জন্য গুগলে সার্চ করতে গিয়েও ডাক্তারের কথা ও আল্লাহর নির্দেশের কথা মনে পড়ায় মোবাইল বন্ধ করে রেখে দিলাম। এভাবে ১৫ দিন কেটে গেল...
তখন মনে হচ্ছে আর সামলাতে পারছি না। হঠাৎ মনে পড়ল—আমার তো স্ত্রী আছে! আমি চাইলেই তো তার কাছে আমার ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারি। সেদিন অফিস থেকে বেরিয়ে প্রায় দৌড়ে বাড়ি গেলাম। বাসায় ঢুকেই ডেকে উঠলাম— "ইশা... কোথায় তুমি?" স্ত্রী রান্নাঘর থেকে ছুটে এলো, কারণ বহু দিন স্ত্রীর নাম ধরে ডাকি না। সে অবাক হয়ে বলল, "কী হয়েছে তোমার?" কোনো জবাব না দিয়ে ব্যাগ ছুঁড়ে ফেলে তাকে ঝট করে পাঁজা কোলে তুলে নিলাম। সে লজ্জায় লাল হয়ে বলল, "মেয়েটা ঘুমাচ্ছে, ও জেগে যাবে। কী করো, কী করো?" আমি কোনো কথা না বলে ফিসফিস করে বললাম— "ভালোবাসি তোমাকে।"
পরদিন ডাক্তারের কাছে গিয়ে হাসিমুখে বললাম, "ডাক্তার সাহেব, সমস্যা শেষ হয়ে গেছে।" তিনি মুচকি হেসে বললেন— "স্বাগতম। আপনার সংসারের জন্য শুভকামনা।"
💡 মূল শিক্ষা:
মনে রাখবেন—স্ত্রী কখনো বদলে যায় না, বদলে যায় আমাদের চোখ। যখন চোখ হারাম জিনিসে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন হালালকেও আর সুন্দর লাগে না। আর যখন চোখকে সংযত করা হয়, তখন নিজের স্ত্রীকেই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মানুষ মনে হয়। তাই নিজের পরিবার ও সংসার বাঁচাতে চাইলে—প্রথমে নিজের দৃষ্টি হেফাজত করুন।