28/02/2026
একটা মেয়ে কেন সুইসাইডের কথা ভাবে?
ডিপ্রেশন।
পারিবারিক অশান্তি।
একাকিত্ব।
অবহেলা।
আর প্রতিদিনের ছোট ছোট অসম্মান।
একটা মেয়ে যখন ভিতরে ভিতরে ভেঙে পড়ে, তখন সে সবচেয়ে বেশি চায় — একটু বোঝাপড়া, একটু পাশে থাকা, একটু সম্মান। কিন্তু অনেক সময় পরিবারই তখন তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে যায়।
“এতো ভাবার কি আছে?”,
“তুমি কিছুই পারো না”,
“তোমার জন্যই সমস্যা”—
এই কথাগুলো শুধু কথা না, এগুলো ধীরে ধীরে আত্মসম্মানকে ক্ষতবিক্ষত করে।
ডিপ্রেশন কোনো বিলাসিতা না, এটা মানসিক অসুখ। কিন্তু আমাদের সমাজে এখনো এটাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তার কষ্টকে নাটক বলা হয়, তার চুপ থাকাকে অভিমান বলা হয়, তার প্রতিবাদকে বেয়াদবি বলা হয়।
একটা মেয়ে যখন প্রতিদিন নিজের মূল্যহীনতা শুনতে শুনতে বিশ্বাস করতে শুরু করে — তখন সে নিজের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলে।
অসম্মান শুধু বড় অপমান না,
অসম্মান হলো—
তার কথাকে গুরুত্ব না দেওয়া,
তার সিদ্ধানকে অগ্রাহ্য করা,,
তার কষ্টকে হালকা করে দেখা।
যখন সে বারবার নিজের কষ্ট বোঝাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়, যখন তার কান্না কাউকে স্পর্শ করে না, যখন তার নীরবতা কেউ পড়ে না— তখন সে চুপ হয়ে যায়। আর সেই নীরবতার ভেতরেই ধীরে ধীরে জন্ম নেয় এক ভয়ংকর চিন্তা — “হয়তো আমি না থাকলেই ভালো।”
সে জানে এটা ভুল।
সে জানে এটা সমাধান না।
তবুও সে ভাবে — কারণ তাকে ধরে রাখার মতো শক্ত হাতটা পাশে থাকে না। তাকে সম্মান করার মতো মনটা পাশে থাকে না।
একটা মেয়ে কখনো হঠাৎ করে সুইসাইড করে না। তার আগে সে হাজারবার ইঙ্গিত দেয়। তার আচরণ বদলায়, সে চুপ হয়ে যায়, একা থাকতে চায়, বা অকারণে রেগে যায়। এগুলো সাহায্যের সংকেত। কিন্তু আমরা সেগুলো বুঝতে চাই না।
একটা মেয়ে শক্ত — কিন্তু সে মানুষও।
তারও সীমা আছে।
তারও সহ্য করার একটা শেষ আছে।
আমাদের দরকার সমালোচনা না, সহানুভূতি।
উপদেশ না, উপস্থিতি।
বিচার না, বোঝাপড়া।
আর সবচেয়ে বেশি দরকার — সম্মান।
কারণ অনেক সময় একটা মানুষের জীবন বাঁচাতে খুব বেশি কিছু লাগে না — লাগে শুধু একজন মানুষ, যে সত্যি করে বলবে,
“আমি আছি। তোমার কষ্টটা সত্যি। তুমি গুরুত্বপূর্ণ।”
— ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে লেখা।
🦋 তামু 🦋