02/07/2024
যেভাবে হ*ত্যা করা হয় শুভকে। মেহেন্দিগঞ্জে শুভ হ*ত্যায় জড়িত সকল আসামি আট*ক
গত ০২/০৬/২০২৪ খ্রি. তারিখ ওমর ফারুক শুভ (১৫) কে আসামী মাইদুল ইসলাম রাঢ়ী (৩৭) পিতা- মৃত আঃ মজিদ রাঢ়ী, সাং- উলানিয়া, থানা- মেহেন্দিগঞ্জ জেলা- বরিশাল অপহরণ করে নিয়ে যায়।
ওমর ফারুক শুভর পিতা মোঃ ইব্রাহিম খন্দকার অভিযোগ করলে মেহেন্দিগঞ্জ থানা তদন্ত শুরু করে।
তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারে যে, আসামী মাইদুল ইসলাম রাঢ়ী লেংগুটিয়া বাজারে একটি ভাঙ্গারির দোকান দেয়। ভিকটিম ওমর ফারুক শুভ মাঝে মাঝে মাইদুলের দোকানে কাজ করত। দোকানে কাজ করতে গিয়ে ভিকটিম ওমর ফারুক শুভর সাথে আসামীর সু-সম্পর্ক তৈরি হয়।
শুভ আসামী মাইদুলের নিকট হতে বিভিন্ন সময়ে কাজের বিনিময়ে এবং আলাদা হাত খরচের জন্য টাকা-পয়সা নিত। আসামী মাইদুল তার ভাঙ্গারির দোকানের ব্যবসা সহজ করার জন্য অনুমান ০৬ মাস পূর্বে একটি পুরাতন ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ক্রয় করে কিন্তু আসামী মাইদুল নিজে মোটরসাইকেল চালাতে পারে না।
শুভকে দিয়ে আসামী মাইদুল উক্ত মোটরসাইকেলটি চালাত। ওমর ফারুক শুভ আসামী মাইদুল এর ব্যবসার কাজের বাইরেও আলাদাভাবে মাঝে মাঝে উক্ত মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করা শুরু করলে আসামী মাইদুলের সাথে ভিকটিম ওমর ফারুক শুভর সম্পর্কের টানা পোড়েন শুরু হয়।
একদিন তাদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হয়। আসামী মাইদুল ক্ষিপ্ত হয়ে ভিকটিম ওমর ফারুক শুভকে শাস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করে এবং শাস্তি দেওয়ার পন্থা হিসেবে প্রথমে একটি ভাড়া বাসায় আটক রেখে সুযোগ অনুযায়ী হত্যা করবে মর্মে পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী আসামী মাইদুল তার পূর্ব পরিচিত ১। ইসমাইল পালবান (১৮ বছর ০৫ মাস), পিতা- মোঃ বাদল পালবান, মাতা- সামসুন্নাহার, সাং- অম্বিকাপুর, ০৩ নং ওয়ার্ড, মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভা, আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু ২। হাসিবুর রহমান (১৪), পিতা- মোঃ বাছেদ খান, মাতা- আছমা বেগম, সাং- অম্বিকাপুর, ০৩ নং ওয়ার্ড, মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভা, এবং শিশু ৩। মোঃ আহাদ হোসেন (১৪), পিতা- মোঃ জুয়েল হোসেন, মাতা- কুলসুম বেগম, সাং- গাজীরচর, ০৮ নং ওয়ার্ড, সর্ব থানা- মেহেন্দিগঞ্জ জেলা- বরিশালদের সাথে ভিকটিম ওমর ফারুক শুভকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি আলোচনা করে এবং পরিকল্পনা করে।
ঘটনার দিন ০২/০৬/২০২৪ খ্রি. তারিখ সকাল অনুমান ০৮.০০ ঘটিকার সময়ে আসামী মাইদুল ইসলাম রাঢ়ী তার দোকানের সামনে হতে শুভকে মোটরসাইকেল মেরামত করার কথা বলে সু-কৌশলে ভোলা জেলার ভোলা সদর থানাধীন পরানগঞ্জ বিশ্বরোড় মোড়স্থ উজ্জল মেকারের গ্যারেজে নিয়ে যায় এবং একই তারিখ দুপুর অনুমান ১১.৩০ ঘটিকায় মোটরসাইকেল উক্ত গ্যারেজে মেরামতের জন্য রেখে ইসমাইল পালবান, শিশু হাসিবুর রহমান, শিশু মোঃ আহাদ হোসেন দের সাথে যোগাযোগ করে পরানগঞ্জ বাজারে যেতে বলে।
কথানুযায়ী সকলে পরানগঞ্জ বাজারে একত্রিত হয়ে ভোলা সদরে দুপুরের খাবার খায়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মোটরসাইকেল মেরামতের কাজ নিয়ে আসামী মাইদুল, ইসমাইল পালবান, শিশু হাসিবুর রহমান, শিশু মোঃ আহাদ হোসেন সময়ক্ষেপন শুরু করে।
আসামী মাইদুল ইসলাম ভিকটিম শুভকে মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য গ্যারেজে বসিয়ে রাখে। একপর্যায়ে আসামী মাইদুল, ইসমাইল, শিশু আহাদ ও শিশু হাসিবুর সন্ধ্যা হয়ে গেলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিম শুভকে আটক করে হত্যার করার জন্য একটি ভাড়া রুম নেওয়ার চেষ্টা করে।
ভাড়া রুম না পেয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তারা ভিকটিম শুভ সহ প্রথমে মাহিন্দ্রা ও পরে বাস যোগে ভোলা জেলার চরফ্যাশনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে।
রাত অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময়ে তারা চরফ্যাশন পৌছে। সেখানে পৌছে একটি চায়ের দোকানে তারা চা পান করে। চা পান শেষে ০৩/০৬/২০২৪ খ্রি. তারিখ রাত অনুমান ০১.৩০ ঘটিকায় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আসামী মাইদুল সহ অন্যান্যরা ভিকটিম শুভকে নিয়ে অটো রিক্সা যোগে বেতুয়া ফেরীঘাট যায়।
সেখানে আসামী ও আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশুদ্বয় বসে আড্ডা দেওয়ার ফাঁকে ভিকটিম শুভকে হ*ত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে ফেলে। একসময়ে তারা ভিকটিম শুভকে নিয়ে নদীর পাড়ে যায়।
নদীর পাড়ে জনশূন্য স্থানে একই তারিখ রাত অনুমান ০২.৩০ ঘটিকার সময়ে আসামী ইসমাইল পালবান ভিকটিম শুভর একপাশে বসে এবং আসামী মাইদুল অন্য পাশে বসে। আসামী ইসমাইল পালবান পেছন থেকে ভিকটিম ওমর ফারুক শুভর গলা চেপে ধরে, আসামী মাইদুল ইসলাম রাঢ়ী ভিকটিম শুভকে পেছন থেকে ঝাপটে ধরে, শিশু আহাদ হোসেন ও শিশু হাসিবুর রহমান দ্বয় ভিকটিমের দুই হাত ও পা ধরে রাখে।
একপর্যায়ে তারা শ্বাস রোধ করে ভিকটিম ওমর ফারুক শুভর মৃত্যু নিশ্চিত করে। আসামী মাইদুল ইসলাম রাঢ়ী ভিকটিমের মৃতদেহে চড়, লাথি মেরে ক্ষোভ প্রকাশ করে। শিশু আহাদ হোসেন ভিকটিম ওমর ফারুক শুভর পকেটে থাকা তার ব্যবহৃত টাচ মোবাইল ফোনটি বের করে সিম খুলে মেঘনা নদীতে ফেলে দেয় এবং ফোনটি আসামী মাইদুল ইসলামের নিকট দেয়।
পরবর্তীতে সবাই মিলে মৃতদেহটি ধরে পাশের নদীতে ফেলে দেয়। এরপর সেখান হতে সিএনজি যোগে শিশু আহাদ হোসেন ভোলা সদরে তার ফুফু বাড়িতে চলে যায় এবং অন্যরা ভোলা ভেদুরিয়া ফেরীঘাট হয়ে বরিশাল চলে যায়।
পরের দিন গত ০৩/০৬/২০২৪ খ্রি. তারিখ আসামী মাইদুল ইসলাম রাঢ়ী ও ইসমাইল পালবান বরিশাল হয়ে ঢাকাতে চলে যায় এবং শিশু হাসিবুর রহমান নিজ বাড়িতে চলে আসে। পরিস্থিতি অনুধাবন করে আসামী ইসমাইল পালবান ঢাকাতে তিন দিন অবস্থান করে নিজ বাড়িতে চলে আসে এবং আসামী মাইদুল ইসলাম ঢাকা, পটুয়াখালী ও ভোলাসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করতে থাকে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা আমরা প্রথমে আসামী মাইদুল ইসলামকে গ্রেফতার করি ও পরবর্তীতে আসামী মাইদুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অন্যান্যদের গ্রেফতার করি। উক্ত ঘটনার বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। আসামী ও আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশুদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আসামী ইসমাইল পালবান বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃকাঃ বিধি ১৬৪ ধারা অনুযায়ী দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে, আসামী মাইদুল ইসলাম রাঢ়ীকে ০৫ (পাঁচ) দিনের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ মঞ্জুর করা হয়েছে। আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশুদের বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মেহেন্দিগঞ্জ থানায় উক্ত অভিযোগ প্রাপ্তির ১৫ ঘন্টার মধ্যে অফিসার ইনচার্জ এর নির্দেশনায় থানায় কর্মরত অফিসার ফোর্সদের বিভিন্ন টিমে বিভাজনের মাধ্যমে দ্রুততার সাথে পুরো ঘটনাটি উদঘাটন করা হয়েছে এবং জড়িত সকল অপরাধীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
ওসি মেহেন্দিগঞ্জ থানা এলাকায় সকল ধরনের অপরাধীদের শাস্তি প্রদানে মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশ সর্বদা সোচ্চার রয়েছে।