16/08/2025
১৪৬২ সাল, বসন্তকাল।
বসফরাসের পাড়ে দাঁড়িয়ে সুলতান মেহমেদ ফাতিহ দূরদৃষ্টি মেলে তাকিয়ে আছেন। তাঁর চোখে চিন্তা—এমন এক বিদ্রোহী রাজা যার সাথে তাঁর ছোটবেলায় এক টেবিলে খাবার খাওয়া, একই হাতে তলোয়ার ধরা।
ভ্লাদ ড্রাকুলা—অটোমান প্রাসাদে বড় হয়ে ওঠা সেই ছেলে, আজ হয়ে উঠেছে তাঁর সবচেয়ে ভয়ংকর শত্রু।
“সুলতান হুযুর,” এক উজির ধীরে বলে উঠল, “ভ্লাদ ট্যাক্স দিতে অস্বীকার করেছে এবং আমাদের দূতদের হত্যা করেছে।”
মেহমেদের ঠোঁটে হালকা এক তিক্ত হাসি—“তাহলে এখন আর ভাই নয়, শত্রু।”
ওয়ালাকিয়ার গাঢ় বনভূমি
রাত্রি গভীর। হঠাৎ জঙ্গল কাঁপিয়ে মশাল জ্বলে ওঠে। ভ্লাদের যোদ্ধারা গোপনে অটোমান শিবিরে হামলা চালায়। লক্ষ্য একটাই—মেহমেদকে হত্যা।
তবে ভাগ্যের লেখায় মৃত্যু ছিল না সে রাতে।
মেহমেদ তলোয়ার হাতে জেগে ওঠেন। লড়াই হয়, রক্ত ঝরে, কিন্তু ভ্লাদ ব্যর্থ হয়ে পিছু হটে।
এই হামলাকে ইতিহাস জানে “নাইট অ্যাটাক” নামে।
পরের দিন সকাল
মেহমেদের বাহিনী পৌঁছে যায় টারগোভিশতের দিকে।
কিন্তু তখনই তাঁদের চোখ স্থির হয়ে যায়। সবার মুখে স্তব্ধতা।
একটি জঙ্গল, নামহীন।
হাজার হাজার খুঁটি গাঁথা, প্রতিটিতে মানুষের শরীর—কেউ জীবিত, কেউ মৃত।
সুলতান মেহমেদ চুপচাপ দেখলেন।
একজন জেনারেল ফিসফিস করে বলল, “এ যেন জাহান্নামের দরজা।”
মেহমেদ দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, “সে জানে যুদ্ধ শুধু অস্ত্র দিয়ে হয় না, ভয় দেখিয়েও জয় করা যায়।”
শেষ অধ্যায়
ভ্লাদ শেষ পর্যন্ত রাজার মতো রাজত্ব করেননি।
ভ্রাতৃঘাতী কূটনীতি ও যুদ্ধের শেষে তিনি হারিয়ে যান ইতিহাসের পাতায়—একজন নায়ক বা খলনায়ক।
আর মেহমেদ?
তিনি ফিরে যান কনস্টান্টিনোপলে, জয়ে নয়, উপলব্ধি নিয়ে।
"একজন রক্ত দিয়ে রাজত্ব গড়তে চেয়েছিল, আর একজন ধৈর্য দিয়ে ইতিহাস লিখেছিলেন।"