Antora Ghosh

Antora Ghosh ভালোবাসা উপন্যাসেই সুন্দর 🥰❤️‍🩹
বাস্তবে নয়....

রোমান্টিক গল্প? অবশ্যই। তবে সিনেমার মতো অতিপ্রাকৃত কিছু নয়, বরং এক কাপ চা আর বৃষ্টির মতো স্নিগ্ধ এক অনুভূতির গল্প শোনাই।...
17/04/2026

রোমান্টিক গল্প? অবশ্যই। তবে সিনেমার মতো অতিপ্রাকৃত কিছু নয়, বরং এক কাপ চা আর বৃষ্টির মতো স্নিগ্ধ এক অনুভূতির গল্প শোনাই।

​নাম দিলাম— 'কালো কফি ও এক চিলতে রোদ'।
​বৃষ্টিভেজা মোড়
​শহরের ব্যস্ত সিগন্যালে যখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামল, অবনী তখন আশ্রয়ের জন্য পাশের ছোট ক্যাফেটাতে ঢুকল। পরনে নীল শাড়ি, আর হাতে একরাশ ভেজা ফাইল। ঠিক তখনই দরজার কাছে ধাক্কা লাগল একজনের সাথে।
​"আই অ্যাম সো স্যরি!"—ছেলেটি ব্যস্ত হয়ে বলল।
অবনী তাকিয়ে দেখল, ছেলেটির হাতে একটা স্কেচবুক। বৃষ্টির ঝাপটায় তার চশমাটা ঝাপসা হয়ে গেছে। অবনী শুধু একটু হেসে মাথা নাড়ল। সে জানত না, এই সামান্য এক পলকের দেখাই তার জীবনের দীর্ঘতম এক গল্পের ভূমিকা হতে যাচ্ছে।
​কফির কাপে আলাপ
​ক্যাফেতে জায়গা কম ছিল, তাই বাধ্য হয়েই ছেলেটির টেবিলের উল্টো পাশে বসতে হলো অবনীকে। ছেলেটির নাম আরিয়ান। সে একজন ফ্রিল্যান্স ইলাস্ট্রেটর।
​আরিয়ান কফিতে চুমুক দিয়ে হঠাৎ বলল, "জানেন, বৃষ্টির দিনে নীল রঙটা বড্ড বেশি জীবন্ত লাগে। আপনার শাড়িটা ঠিক যেন ওই মেঘলা আকাশের একটা টুকরো।"
​কথাটা শুনে অবনী একটু থমকে গেল, তারপর হেসে ফেলল। শুরু হলো কথা। বৃষ্টির শব্দ ছাপিয়ে তাদের আলাপ জমে উঠল। তারা জানল—আরিয়ান রঙের নেশায় ঘোরে, আর অবনী কর্পোরেট অফিসের ফাইলে নিজের স্বপ্ন খোঁজে।
​না বলা কথা
​পরের কয়েক মাস ছিল শুধু আকস্মিক দেখা হওয়ার। কোনোদিন লাইব্রেরিতে, কোনোদিন লেকের পাড়ে। তারা একে অপরের খুব কাছে এল, অথচ 'ভালোবাসি' শব্দটা কোনোদিন উচ্চারিত হলো না।
​আরিয়ান একদিন অবনীকে বলল, "আমার সবচেয়ে সেরা ছবিটা আমি এখনো আঁকতে পারিনি। আলো-ছায়ার এমন এক খেলা খুঁজছি যা শুধু হৃদয়ে অনুভব করা যায়।"
​অবনী আলতো করে বলল, "হয়তো সেই আলো আপনার খুব কাছেই আছে, শুধু চোখ খুলে দেখার অপেক্ষা।"
​পূর্ণতা
​একদিন সন্ধ্যায় আরিয়ান অবনীকে তার স্টুডিওতে ডাকল। ঘরে আলো খুব কম, কেবল একটা ক্যানভাসের ওপর সাদা কাপড় ঢাকা।
​আরিয়ান কাঁপা হাতে কাপড়টা সরালো। অবনী দেখল, ক্যানভাসে আর কেউ নয়—সে নিজে। নীল শাড়ি পরে বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে হাসছে, আর তার চোখেমুখে যেন এক হাজার বিকেলের রোদ্দুর খেলা করছে।
​নিচে ছোট করে লেখা— 'আমার অসম্পূর্ণ গল্পের সম্পূর্ণ আলো।'
​অবনী তাকিয়ে দেখল আরিয়ান তার দিকে তাকিয়ে আছে, যেন কোনো উত্তরের অপেক্ষায়। অবনী কিছু না বলে শুধু আরিয়ানের হাতটা শক্ত করে ধরল। বাইরের বৃষ্টি তখন থেমে গেছে, আর জানলা দিয়ে উঁকি দিচ্ছে এক ফালি রুপোলি চাঁদ।
​শেষ কথা
​ভালোবাসা মানে সবসময় বড় বড় প্রতিশ্রুতি নয়; কখনো কখনো ভালোবাসা মানে স্রেফ একজনের চোখের দিকে তাকিয়ে নিজের পুরো পৃথিবীটাকে খুঁজে পাওয়া।
​গল্পটি কেমন লাগল? আপনার মনে কি এমন কোনো বিশেষ মুহূর্ত আছে যা অনেকটা সিনেমার মতো মনে হয়?

চিলেকোঠার পুরনো ট্রাঙ্ক'।​রহস্যময় সেই বাড়ি​পুরনো ঢাকার এক ঘিঞ্জি গলির ভেতর তিনতলা এক বিশাল বাড়ি। সেই বাড়ির এক কোণে ছোট এ...
17/04/2026

চিলেকোঠার পুরনো ট্রাঙ্ক'।
​রহস্যময় সেই বাড়ি
​পুরনো ঢাকার এক ঘিঞ্জি গলির ভেতর তিনতলা এক বিশাল বাড়ি। সেই বাড়ির এক কোণে ছোট একটা চিলেকোঠা। আরিয়ান তার বাবার বদলির চাকরির সুবাদে এই বাড়িতে থাকতে এসেছে। বাড়িটা সুন্দর, কিন্তু কেন জানি বাড়ির লোকজন এই চিলেকোঠার ঘরটা সবসময় তালাবদ্ধ রাখে।
​একদিন কৌতূহল সামলাতে না পেরে আরিয়ান পুরনো এক চাবির গোছা দিয়ে তালাটা খুলেই ফেলল। ভেতরে একরাশ ধুলো আর মাকড়সার জাল। ঠিক ঘরের মাঝখানে রাখা একটা মরচে ধরা লোহার ট্রাঙ্ক।
​ডায়েরির পাতায় অতীত
​ট্রাঙ্কটা খোলার পর আরিয়ান সেখানে কিছু পুরনো কাপড় আর একটা ডায়েরি খুঁজে পেল। ডায়েরিটা ১৯৫২ সালের। প্রতিটি পাতায় কার যেন হাতের লেখা—একদম মুক্তোর মতো। ডায়েরিটি ছিল আয়েশা নামে এক তরুণীর।
​আয়েশা সেই ডায়েরিতে লিখেছিলেন এক বিশেষ মানুষের কথা, যিনি তার জন্য প্রতিদিন একটা করে নতুন ফুল রেখে যেতেন এই চিলেকোঠার জানালার পাশে। মানুষটি ছিলেন ভাষা আন্দোলনের এক সক্রিয় কর্মী। ডায়েরির শেষ পাতাটা ছিল অদ্ভুত। সেখানে লেখা ছিল:
​"আজ মিছিলে যাচ্ছি। যদি ফিরি, তবে ট্রাঙ্কের ওপর একটা নতুন বকুল ফুল পাবে। আর যদি না ফিরি, তবে জানবে—আমার ভালোবাসা কোনো এক লাল শিমুল হয়ে ঝরে গেছে রাস্তায়।"
​সত্যের উন্মোচন
​আরিয়ান ডায়েরিটা নিয়ে বাড়ির নিচে নামল। তার দাদুকে সে ডায়েরিটা দেখাল। দাদু ডায়েরিটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন। তাঁর চোখের কোণে জল চিকচিক করে উঠল।
​দাদু মৃদুস্বরে বললেন, "আয়েশা ছিলেন আমার বড় বোন। সেই যে ৫২-র ২১শে ফেব্রুয়ারি তিনি মিছিলে গেলেন, আর ফিরে এলেন না। ওই ট্রাঙ্কটা আমরা কেউ কখনো খুলিনি, কারণ মা বিশ্বাস করতেন—আয়েশা একদিন ঠিকই ফিরে এসে নিজের ডায়েরিটা নিয়ে যাবে।"
​নতুন এক সকাল
​আরিয়ান পরের দিন সকালে উঠে চিলেকোঠার সেই জানালার পাশে গেল। সে একমুঠো তাজা বকুল ফুল নিয়ে ট্রাঙ্কটার ওপর রেখে দিল। সে ভাবল, আয়েশা হয়তো সশরীরে ফেরেননি, কিন্তু তার দেশপ্রেম আর ত্যাগের গল্পটা এই ডায়েরির মাধ্যমে তার কাছে ফিরে এসেছে।
​পুরনো সেই বাড়িটি আজ আর শুধু একাকীত্বের প্রতীক নয়, বরং তা এক মহৎ ত্যাগের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
​গল্পের সারকথা
​স্মৃতি কখনো পুরনো হয় না; যদি কেউ তা আগলে রাখার মতো থাকে, তবে ধুলোবালিমাখা ডায়েরিও এক জীবনযুদ্ধের দলিল হয়ে উঠতে পারে।
​এই গল্পটি আপনার কেমন লেগেছে? আপনি কি কখনো পুরনো কোনো জিনিসের ভেতরে এমন কোনো অজানা ইতিহাস খুঁজে পেয়েছেন?

 #তোমার_ছোঁয়ায়_ভালোবাসা পর্ব.৪পরদিন সকালটা রিমির কাছে অন্যরকম লাগছিল।ঘুম থেকে উঠেই তার মনে পড়লো—গতকালের সেই বৃষ্টি, সেই ...
17/04/2026

#তোমার_ছোঁয়ায়_ভালোবাসা


পর্ব.৪

পরদিন সকালটা রিমির কাছে অন্যরকম লাগছিল।
ঘুম থেকে উঠেই তার মনে পড়লো—গতকালের সেই বৃষ্টি, সেই ছাতা, আর আয়নের সেই দৃষ্টি।
সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চুল ঠিক করতে করতে হালকা হাসলো।
নিজেকেই বললো,
“আমি কি ওর জন্যই এত সাজছি?”
মায়ের ডাকে আজ আর বিরক্তি লাগলো না।
বরং তাড়াতাড়ি করে সব গুছিয়ে নিলো—মনে একটাই চিন্তা, আজ আবার দেখা হবে।
বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়াতেই তার বুকটা আবার ধড়ফড় করতে লাগলো।
চোখ দুটো নিজে থেকেই খুঁজতে লাগলো সেই পরিচিত মুখটা।
কিন্তু আজ…
আয়ন নেই।
রিমি প্রথমে ভাবলো—হয়তো একটু দেরি হচ্ছে।
সে দাঁড়িয়ে রইলো… মিনিট পেরিয়ে গেলো, তারপর আরও কিছু সময়।
চারপাশে ভিড় বাড়ছে, গাড়ির শব্দ বাড়ছে, রোদও তীব্র হচ্ছে—
কিন্তু যার জন্য সে অপেক্ষা করছে, সে আর এলো না।
রিমির মনে অদ্ভুত একটা শূন্যতা তৈরি হলো।
সে নিজেই অবাক হলো—মাত্র দু’দিনের পরিচয়ে একজন মানুষ তার এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেলো কিভাবে?
হালকা মন খারাপ নিয়েই বাসে উঠে পড়লো সে।
সেদিন কলেজে কিছুই ভালো লাগলো না।
বন্ধুরা গল্প করছে, কেউ হাসছে—কিন্তু রিমি যেন সবকিছু থেকে আলাদা হয়ে গেছে।
একটা সময় তার বান্ধবী নীলা জিজ্ঞেস করলো,
“কিরে, তোর কী হয়েছে? এত চুপচাপ কেন?”
রিমি হেসে বললো,
“কিছু না… একটু মাথা ধরেছে।”
কিন্তু সে জানতো—তার মাথা না, মনটাই কেমন যেন ভারী হয়ে আছে।
কলেজ ছুটি হওয়ার পর আবার সেই বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়ালো সে।
মনে মনে একটা ছোট্ট আশা—হয়তো এবার দেখা হবে।
কিন্তু না…
আজও আয়ন নেই।
দুই দিন না দেখে রিমির ভেতরটা কেমন যেন ভেঙে পড়তে লাগলো।
সে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করলো—
“এই তো, একটা অচেনা মানুষ… এত ভাবার কি আছে?”
তবুও মন মানলো না।
পরের দিন…
আরেকদিন…
আয়ন আর এলো না।
এভাবে প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেলো।
রিমি ধীরে ধীরে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলো।
সে ভাবলো—হয়তো এটা শুধুই একটা ছোট্ট অনুভূতি ছিল, যেটা সময়ের সাথে মিলিয়ে যাবে।
কিন্তু সত্যিটা হলো—
প্রতিদিন বাসস্ট্যান্ডে এসে সে এখনও একবার করে চারপাশে তাকায়।
হয়তো… যদি একবার দেখা হয়ে যায়।
একদিন বিকেলে, আকাশে হালকা মেঘ জমেছে।
রিমি বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিল—আজ আর কোনো আশা নিয়ে না, শুধু অভ্যাসবশত।
হঠাৎই তার চোখ পড়লো সামনে একটা পরিচিত সাদা শার্টে।
তার বুকটা ধক করে উঠলো।
সে ভালো করে তাকালো…
হ্যাঁ—
আয়ন!
কিন্তু আজকের আয়নটা একটু আলাদা লাগছিল।
চোখে আগের মতো সেই শান্ত ভাব থাকলেও, কোথাও যেন একটা ক্লান্তি, একটা চাপা দুঃখ লুকিয়ে আছে।
রিমি এক মুহূর্তও দেরি না করে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।
“আপনি… এতদিন কোথায় ছিলেন?”
তার কণ্ঠে ছিল অভিমান, ছিল একটু রাগও।
আয়ন কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো।
তারপর ধীরে বললো,
“হঠাৎ একটু কাজ পড়েছিল…”
রিমি সাথে সাথে বললো,
“এক সপ্তাহের কাজ?”
আয়ন চোখ নামিয়ে নিলো।
মনে হলো—সে কিছু লুকাচ্ছে।
রিমির মনটা কেমন যেন কেঁপে উঠলো।
সে আস্তে করে বললো,
“আপনি ঠিক আছেন তো?”
আয়ন এবার তাকালো তার দিকে।
হালকা একটা হাসি দিলো, কিন্তু সেই হাসিটা আগের মতো ছিল না।
“সব ঠিক আছে…”
কথাটা খুব সাধারণ ছিল, কিন্তু তাতে বিশ্বাস খুঁজে পাওয়া কঠিন।
ঠিক তখনই হালকা বাতাস বইলো।
রিমির ওড়না উড়ে গিয়ে আয়নের হাতে ছুঁয়ে গেলো।
দু’জনেই থমকে গেলো।
একটা অদ্ভুত নীরবতা নেমে এলো—
যেখানে হাজার কথা ছিল, কিন্তু কেউ কিছু বলছিল না।
আয়ন আস্তে করে ওড়নাটা ঠিক করে দিলো।
তার হাতের সেই হালকা ছোঁয়ায় রিমির বুকটা আবার ধক করে উঠলো।
এই ছোঁয়াটা যেন শুধু কাপড় না… তার মনকেও ছুঁয়ে গেলো।
রিমি বুঝতে পারলো—
এই কয়েকদিনের দূরত্ব শুধু তাকে দূরে সরায়নি…
বরং আরও কাছে এনে দিয়েছে।
কিন্তু একটা প্রশ্ন এখনও রয়ে গেলো—
আয়ন আসলে কী লুকাচ্ছে?
আর সেই লুকানো সত্যিটা…
তাদের সম্পর্ককে কোথায় নিয়ে যাবে?
চলবে…

 #তোমার_ছোঁয়ায়_ভালোবাসা  পর্ব.৩বৃষ্টিটা ধীরে ধীরে ঝিরঝির করে নামছিল।চারপাশে এক ধরনের শান্ত, নরম পরিবেশ তৈরি হয়েছে—যেন পু...
17/04/2026

#তোমার_ছোঁয়ায়_ভালোবাসা


পর্ব.৩

বৃষ্টিটা ধীরে ধীরে ঝিরঝির করে নামছিল।
চারপাশে এক ধরনের শান্ত, নরম পরিবেশ তৈরি হয়েছে—যেন পুরো শহরটা একটু থেমে গেছে।
রিমি ছাতাটা ধরে দাঁড়িয়ে আছে, আর তার পাশেই দাঁড়িয়ে সেই ছেলেটা—আয়ন।
দু’জনের মাঝখানে খুব বেশি দূরত্ব না থাকলেও, তবুও একটা অদৃশ্য লাজুকতা তাদের আলাদা করে রেখেছে।
রিমি একবার তাকিয়ে আবার চোখ সরিয়ে নিলো।
তার নিজেরই একটু অস্বস্তি লাগছিল—কিন্তু সেই অস্বস্তিটাও যেন ভালো লাগার মতো।
আস্তে করে বললো,
“আপনি ভিজে যাচ্ছেন…”
আয়ন আকাশের দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে বললো,
“ভিজতে খারাপ লাগছে না… বরং ভালোই লাগছে।”
রিমি একটু অবাক হয়ে বললো,
“বৃষ্টি তো সবাই এড়াতে চায়…”
আয়ন এবার তার দিকে তাকালো।
চোখে সেই শান্ত, গভীর দৃষ্টি—
“সবাই এড়াতে চায়, কারণ তারা ভিজলে ঠান্ডা লাগবে… কিন্তু কেউ ভাবে না, কিছু ভেজা হয়তো মনে থেকে যায়।”
কথাটা শুনে রিমি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো।
তার মনে হলো—এই ছেলেটা একটু আলাদা। তার কথাগুলোও আলাদা, ভাবনাগুলোও।
বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ছাতার ওপর পড়ছে, টুপটাপ শব্দ করছে।
এই শব্দের মাঝেই দু’জনের নীরবতা যেন আরও গভীর হয়ে উঠলো।
কিছুক্ষণ পর রিমি সাহস করে বললো,
“আপনার নামটা তো এখনও জানলাম না…”
আয়ন একটু হেসে বললো,
“নাম জানলে কি সব জানা হয়ে যায়?”
রিমি হালকা হেসে উত্তর দিলো,
“না… কিন্তু গল্পটা শুরু করতে সুবিধা হয়।”
আয়ন কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলো। যেন কিছু ভাবছে।
তারপর আস্তে করে বললো,
“আয়ন।”
রিমি নামটা নিজের মনে কয়েকবার বললো—
“আয়ন…”
শব্দটা যেন তার কানে একটা আলাদা সুর তুললো।
আয়ন এবার জিজ্ঞেস করলো,
“আপনার নাম?”
“রিমি।”
“রিমি…”
আয়ন নামটা ধীরে ধীরে উচ্চারণ করলো।
“নামটা শুনতেই শান্ত লাগে।”
রিমির গাল হালকা লাল হয়ে গেলো।
সে কিছু বললো না, শুধু মুচকি হাসলো।
বৃষ্টি একটু বাড়লো।
রাস্তায় ছোট ছোট পানির ধারা বয়ে যাচ্ছে। লোকজন ছুটছে, কেউ দোকানের ছাউনির নিচে দাঁড়াচ্ছে, কেউ আবার ভিজতেই ভিজছে।
এই সবকিছুর মাঝেও রিমির মনে হচ্ছিল—সময়টা যেন শুধু তাদের দু’জনের জন্যই থেমে আছে।
হঠাৎ আয়ন বললো,
“আপনি কি প্রতিদিন এই সময়েই আসেন?”
রিমি একটু অবাক হয়ে তাকালো,
“কেন জানতে চান?”
আয়ন হালকা করে হাসলো,
“তাহলে… দেখা হওয়ার একটা কারণ থাকে।”
রিমির বুকের ভেতরটা আবার ধক করে উঠলো।
এই কথাগুলো খুব সাধারণ হলেও, তার কাছে যেন অন্যরকম লাগছিল।
সে একটু মজা করে বললো,
“মানে আপনি ইচ্ছা করে আসেন?”
আয়ন চোখ নামিয়ে হেসে বললো,
“হয়তো…”
এই ‘হয়তো’ শব্দটার মধ্যেই যেন অনেক কিছু লুকানো ছিল।
ঠিক তখনই বাসের হর্ন শোনা গেলো।
বাসটা এসে দাঁড়ালো তাদের সামনে।
চারপাশে হঠাৎ আবার ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেলো।
লোকজন উঠার জন্য ভিড় করছে, সবাই তাড়াহুড়ো করছে।
রিমি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো।
তার মনে হচ্ছিল—এই মুহূর্তটা একটু আর থাকলে ভালো হতো।
আয়নও যেন কিছু বলতে চাচ্ছিল, কিন্তু বললো না।
রিমি বাসে উঠতে গেলো।
হঠাৎ পেছন থেকে আয়নের কণ্ঠ ভেসে এলো—
“রিমি…”
সে ফিরে তাকালো।
আয়ন বললো,
“কাল আসবেন তো?”
রিমির ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটে উঠলো।
সে কিছু বললো না… শুধু মাথা নাড়িয়ে বাসে উঠে গেলো।
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে সে আবার একবার বাইরে তাকালো।
আয়ন তখনও দাঁড়িয়ে… বৃষ্টির ভেতরেই।
আজ আর তার হাতে ছাতা নেই।
তবুও সে নড়ছে না।
রিমির মনে হলো—
এই মানুষটা শুধু বৃষ্টিতে ভিজছে না…
সে যেন ধীরে ধীরে তার জীবনের ভেতরেও ঢুকে পড়ছে।
বাসটা ধীরে ধীরে দূরে চলে গেলো।
আর রিমি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগলো—
এই গল্পটা কোথায় গিয়ে থামবে…
না কি থামবেই না?
চলবে…

 #তোমার_ছোঁয়ায়_ভালোবাসা পর্ব. ২পরদিন সকালটা অদ্ভুত এক অনুভূতি নিয়ে শুরু হলো রিমির।কারণটা সে নিজেও ঠিক বুঝতে পারছিল না… ত...
17/04/2026

#তোমার_ছোঁয়ায়_ভালোবাসা



পর্ব. ২

পরদিন সকালটা অদ্ভুত এক অনুভূতি নিয়ে শুরু হলো রিমির।
কারণটা সে নিজেও ঠিক বুঝতে পারছিল না… তবে বারবার সেই ছেলেটার মুখটাই ভেসে উঠছিল চোখের সামনে।
কলেজে যাওয়ার জন্য তৈরি হতে গিয়েও আজ সে একটু বেশি সময় নিলো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করলো—
“আমি কি ওকে আবার দেখবো?”
বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়াতেই বুকটা ধড়ফড় করতে লাগলো।
চোখ দুটো যেন নিজে থেকেই খুঁজতে লাগলো সেই পরিচিত অচেনা মুখটা।
কিন্তু আজ… সে নেই।
চারপাশে আগের মতোই ভিড়, শব্দ, ব্যস্ততা—সবকিছুই ঠিক আগের মতো, শুধু সেই ছেলেটার অনুপস্থিতিটা যেন সবকিছু ফাঁকা করে দিলো।
রিমির মনটা একটু খারাপ হয়ে গেলো। সে নিজেই অবাক হলো—একটা অচেনা মানুষকে না দেখেই তার এমন লাগছে কেন?
হালকা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাসে উঠে পড়লো সে।
সেদিনটা পুরোই কেমন যেন কাটলো। ক্লাসে মন বসলো না, বন্ধুদের আড্ডাও ভালো লাগলো না।
মাঝে মাঝেই জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকলো—যেন কোথাও থেকে হঠাৎ সেই ছেলেটা এসে দাঁড়াবে।
কলেজ ছুটির পর মন খারাপ নিয়েই বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়ালো রিমি।
আকাশে তখন হালকা মেঘ, বাতাসেও একটা ঠাণ্ডা ছোঁয়া।
হঠাৎই…
“আপনি কি কাউকে খুঁজছেন?”
পেছন থেকে ভেসে এলো সেই কণ্ঠস্বর।
রিমির বুকটা ধক করে উঠলো। ধীরে ধীরে পেছনে ফিরে তাকাতেই—
সেই ছেলেটা!
একই শান্ত চোখ, একই হালকা হাসি… যেন কালকের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে।
রিমি কিছু বলার আগেই ছেলেটা আবার বললো,
“কালকে তো খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলেন…”
রিমি একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলো। কী বলবে বুঝতে পারছিল না।
তারপর আস্তে করে বললো,
“বাস এসে গিয়েছিল…”
ছেলেটা হেসে বললো,
“আজ কিন্তু আমি আগে থেকেই দাঁড়িয়ে আছি।”
কথাটা শুনে রিমির মনে অদ্ভুত এক উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়লো।
মনে হলো—সে একাই শুধু না, কেউ একজন তাকে লক্ষ্য করছিল… মনে রাখছিল।
ঠিক তখনই হালকা বৃষ্টি নামতে শুরু করলো।
চারপাশে সবাই ছুটোছুটি করছে, কেউ ছাতা খুলছে, কেউ আশ্রয় খুঁজছে।
রিমি একটু অপ্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
হঠাৎই ছেলেটা তার দিকে একটা ছাতা বাড়িয়ে দিলো।
“ধরুন… ভিজে যাবেন।”
রিমি ছাতাটা নিলো, কিন্তু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“আপনি?”
ছেলেটা হালকা হাসলো—
“আমি একটু ভিজলেই সমস্যা নেই।”
বৃষ্টির ফোঁটার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটার সেই হাসিটা দেখে রিমির মনে হলো—
এই গল্পটা হয়তো সত্যিই অন্যরকম কিছু হতে চলেছে…
চলবে…

 #তোমার_ছোঁয়ায়_ভালোবাসা পর্ব: ১ রিমির দিনটা অন্যদিনের মতোই শুরু হয়েছিল।সকালে ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়ো করে কলেজে যাওয়ার প্রস...
17/04/2026

#তোমার_ছোঁয়ায়_ভালোবাসা
পর্ব: ১


রিমির দিনটা অন্যদিনের মতোই শুরু হয়েছিল।
সকালে ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়ো করে কলেজে যাওয়ার প্রস্তুতি, মায়ের ডাকে হালকা বিরক্তি, আর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মতো করে সাজগোজ—সবই ছিল একেবারে স্বাভাবিক।
কিন্তু সে জানতো না, এই সাধারণ দিনের মধ্যেই তার জীবনে অসাধারণ কিছু ঘটতে চলেছে।
প্রতিদিনের মতোই সে বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়ালো। চারপাশে মানুষের ভিড়, গাড়ির হর্ন, রোদের তাপ—সব মিলিয়ে এক ব্যস্ত, ক্লান্ত পরিবেশ।
রিমি নিজের ওড়নাটা ঠিক করতে করতে দাঁড়িয়ে ছিল।
হঠাৎ তার পাশেই এসে দাঁড়ালো এক অচেনা ছেলে।
ছেলেটা লম্বা, পরনে সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট। তার চোখে ছিল এক অদ্ভুত শান্ত ভাব—যেটা সহজেই কারও নজর কাড়তে পারে।
রিমি প্রথমে তাকাতে চায়নি… কিন্তু না তাকিয়েও যেন সে বুঝতে পারছিল—ছেলেটা তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
হালকা বাতাসে রিমির চুল উড়ে এসে মুখের সামনে পড়লো।
সে যখন চুল সরাতে গেল—
ঠিক তখনই চোখে চোখ পড়ে গেল।
কয়েক সেকেন্ড… সময় যেন থেমে গেল।
চারপাশের শব্দ, ভিড়—সব কিছু মিলিয়ে যেন এক অদ্ভুত নীরবতা।
ছেলেটা হালকা করে হাসলো।
সেই হাসিতে ছিল না কোনো বাড়াবাড়ি, না কোনো অস্বস্তি—বরং ছিল এক অদ্ভুত শান্তি।
রিমির বুকটা ধক করে উঠলো।
সে তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে নিলো, কিন্তু তার মনটা যেন আটকে রইলো সেই মুহূর্তেই।
মনে মনে সে বুঝে গেল—এই দেখা হয়তো শুধুই কাকতালীয় না।
ঠিক তখনই বাস এসে গেল।
সবাই উঠার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করলো।
রিমি বাসে উঠে জানালার পাশে বসলো।
বাসটা চলতে শুরু করতেই সে একবার বাইরে তাকালো…
আর দেখলো—
ছেলেটা এখনও দাঁড়িয়ে আছে।
আর এখনও… তার দিকেই তাকিয়ে।
সেদিন কলেজে পুরো সময়টাই রিমির মাথায় ঘুরতে থাকলো সেই মুখটা… সেই হাসিটা।
সে জানতো না ছেলেটার নাম।
জানতো না সে কে।
তবুও কেন যেন মনে হচ্ছিল—
এই গল্পটা এখানেই শেষ না…
বরং এখান থেকেই শুরু।
চলবে…

01/05/2025

শূন্যতায় ভাসি🙃কখনো হাসি 🙂💚 আবার কাঁদি !/😅বেলা শেষে শূন্যতায় জড়িয়ে ও পূর্ণতা খুঁজি😊❤

সবাই বলে মন দিয়ে শুনোতাইলে কান দিয়া কিতা করতাম🙄😐
01/05/2025

সবাই বলে মন দিয়ে শুনো
তাইলে কান দিয়া কিতা করতাম🙄😐

এটা একটু বেশিই সুন্দর 🫶
01/05/2025

এটা একটু বেশিই সুন্দর 🫶

Address

Barishal
Barishal

Telephone

+8801726060221

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Antora Ghosh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share