14/06/2026
শিরোনাম: বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনিয়ম ও হয়রানি: সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?
১৩ জুন, ২০২৬ তারিখে আমার এক পরিচিত ভাই দুর্ঘটনার শিকার হন। তার হাত বেশ গভীরভাবে কেটে যাওয়ায় জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অপারেশন থিয়েটারে (OT) অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা ড্রেসিং করানোর জন্য রেফার করা হয়।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল সকাল ১১টার দিকে। রোগীকে নিয়ে আমরা দুপুর ১টার সময় শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছাই। এরপর ডাক্তার দেখানো, টিকিট কাটা ও প্রয়োজনীয় টেস্ট করাতেই বিকেল ৪টা বেজে যায়। বিকেল ৪টায় আমাদের জানানো হয় যে, সন্ধ্যা ৭টায় ডাক্তার আসবেন এবং তারপর অপারেশন (ড্রেসিং) করা হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে, অর্থাৎ রাত ৮:১৫ মিনিটে ডাক্তারের দেখা মেলে।
সবচেয়ে বড় ভোগান্তি এবং অনৈতিকতার মুখোমুখি হতে হয় রাত ১০টার দিকে, যখন রোগীকে অপারেশনের জন্য ভেতরে নেওয়া হয়। অপারেশন চলাকালীন হঠাৎ রোগীর অভিভাবককে ভেতরে ডেকে বলা হয় যে, ড্রেসিং বা অপারেশনের জন্য বিশেষ কিছু মেডিসিন লাগবে। এর জন্য তারা সরাসরি ৮০০ টাকা দাবি করে। পাশাপাশি বলা হয়, "বাইরে থেকে কিনে আনলেও সমস্যা নেই, নিয়ে আসেন।" অপারেশনের টেবিলে তখন রোগী যন্ত্রণায় ছটফট করছে—এমন একটি স্পর্শকাতর ও জরুরি মুহূর্তে কোনো অভিভাবকের পক্ষে বাইরে গিয়ে ওষুধ খোঁজা সম্ভব নয়। নিরুপায় হয়ে এবং রোগীর সিরিয়াস অবস্থার কথা চিন্তা করে কথা না বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ৫০০ টাকায় রফা করতে হয়।
এখানেই মূল প্রশ্ন জাগে:
১. সরকারি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে সাধারণ ড্রেসিং বা অপারেশনের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম কি সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয় না?
২. যদি সরকারি ওষুধ ও সরঞ্জাম হাসপাতাল থেকে দেওয়াই হয়ে থাকে, তবে ওটির ভেতরে থাকা কর্মচারীরা বা সংশ্লিষ্টরা তা নিয়ে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগে কেন এভাবে ব্যবসা করবে?
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সেখানে অবস্থানকালে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি রোগীর অভিভাবককে ভেতরে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা বা ‘বকশিস’ চাওয়া হচ্ছে। অপারেশন থিয়েটার কি কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান যে সেখানে বকশিস দাবি করা হবে? (অভিযোগের সত্যতা ওখানকার ভিডিও স্পষ্ট বোঝা যাবে)।
সেবামূলক একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে যখন রোগীর জীবন-মৃত্যু বা তীব্র যন্ত্রণার সুযোগ নিয়ে এভাবে প্রকাশ্য বাণিজ্য ও বকশিস-সংস্কৃতি চলে, তখন সাধারণ ও দরিদ্র মানুষ কোথায় যাবে? এই নীরব চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কি কখনোই অবসান হবে না? আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং এর সুনির্দিষ্ট প্রতিকার ও তদন্ত দাবি করছি।
IH Ridoy