25/08/2026
তিনি আমাদের মতোই একজন মানুষ, কিন্তু সমগ্র সৃষ্টিজগতের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ ও অনন্য...
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় হাবীব (ﷺ)-কে রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবেই পাঠিয়েছেন।
তিনি আমাদের মতোই মানুষ, কেবল তাঁর ওপর নাজিল হতো রব্বুল আলামীনের পবিত্র ওহি। (রেফারেন্স: আল-কুরআন, সূরা আল-কাহফ: ১১০)
তিনি সাধারণ মানুষ, কেবল স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তাঁর ফেরেশতাদের সাথে নিয়ে তাঁর ওপর প্রতিনিয়ত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করেন এবং মুমিনদেরও তা করার নির্দেশ দেন। (রেফারেন্স: আল-কুরআন, সূরা আল-আহজাব: ৫৬)
তিনি আমাদের মতোই মানুষ, কেবল তাঁর চরিত্র ও মর্যাদার শ্রেষ্ঠত্ব স্বয়ং আল্লাহ তাআলা খোদ কুরআনে বয়ান করেছেন। (রেফারেন্স: আল-কুরআন, সূরা আল-কলম: ৪, সূরা আশ-শারহ: ৪)
তিনি সাধারণ মানুষ, কেবল সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাঁকেই সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ 'রহমত' হিসেবে রূপায়িত করে পাঠিয়েছেন। (রেফারেন্স: আল-কুরআন, সূরা আল-আনবিয়া: ১০৭)
তিনি সাধারণ মানুষ, কেবল তাঁর আঙুলের মোবারক ইশারায় আসমানের চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়ে গিয়েছিল। (রেফারেন্স: আল-কুরআন, সূরা আল-ক্বামার: ১-২; সহিহ বুখারি: ৩৬৩৬)
তিনি সাধারণ মানুষ, কেবল তাঁর ওযুর ব্যবহৃত পানি ও কফ মোবারক নিজের গায়ে মাখার জন্য সাহাবিদের মাঝে প্রতিযোগিতা লেগে যেত। (রেফারেন্স: সহিহ বুখারি: ২৭৩১, ১৮৭)
তিনি সাধারণ মানুষ, কেবল তাঁর শরীরের ঘাম মোবারক সাহাবিগণ শিশিতে ভরে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুগন্ধি হিসেবে সংরক্ষণ করতেন। (রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম: ২৩৩১)
তিনি সাধারণ মানুষ, কেবল তাঁর থুথু ও লালা মোবারকের ছোঁয়ায় অন্ধত্ব ও জটিল রোগ ভালো হয়ে যেত। (রেফারেন্স: সহিহ বুখারি: ৩৭০৬)
তিনি মানবজাতিরই একজন, কেবল কিয়ামতের কঠিন ময়দানে তিনিই হবেন সমস্ত বনি আদমের প্রধান শাফায়াতকারী ও সর্বশ্রেষ্ঠ সরদার। (রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম: ২২৭৮)
তাহলে কি সাহাবিদের বরকত হাসিল (তাবাররুক) কি বেদআত ছিল?
নবীজি (ﷺ)-এর কফ, ওযুর পানি বা চুল মোবারক নিয়ে সাহাবিদের এই বরকত হাসিলের কাজকে কেউ কখনোই বেদআত বলেননি। কারণ:
মৌন সম্মতি (সুন্নাতে তাকরীরি): উম্মে সুলাইম (রা.) ঘাম সংগ্রহ করলে নবীজি (ﷺ) মানা না করে সমর্থন দিয়ে বলেছিলেন, "তুমি ঠিকই করেছ।" (সহিহ মুসলিম: ২৩৩১)
ঈদে মিলাদুন নবী (ﷺ): আপত্তির প্রধান যুক্তি (সংক্ষেপে):
১. সাহাবি ও সালাফদের যুগে নির্দিষ্ট দিন মেপে এই উৎসব উদযাপিত হয়নি।
২. "দ্বীনে নতুন উদ্ভাবিত প্রতিটি বিষয়ই বিদআত" (আবু দাউদ: ৪৬০৭)—এই হাদিসের সাধারণ নিষেধাজ্ঞা।
৩. ইসলামে নির্দিষ্ট ঈদের দিন কেবল দুটি (আবু দাউদ: ১১৩৪)।
কিন্তু কথা হলো 'না করা' মানেই 'হারাম' নয়: উসূলে ফিকাহর মূলনীতি হলো—সালাফগণ কোনো কাজ না করলেই তা সরাসরি হারাম হয়ে যায় না। দ্বীনের মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক নয় এবং কুরআন-সুন্নাহর বিধান লঙ্ঘন করে না এমন কল্যাণকর আমল ইসলামি শরীয়তে গ্রহণযোগ্য।
রহমতে আনন্দ প্রকাশের কুরআনীয় নির্দেশ: আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন— "বলুন, আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর রহমত নিয়ে যেন তারা আনন্দ প্রকাশ করে..." (সূরা ইউনুস: ৫৮)। আর নবীজি (ﷺ) নিজেই সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত (সূরা আল-আনবিয়া: ১০৭)।
কুরআনে আনন্দের দিনকে 'ঈদ' আখ্যা: আসমান থেকে খাদ্য নাজিলের দিনকে ঈসা (আ.) "আমাদের জন্য ঈদ" বলেছিলেন (সূরা আল-মায়িদাহ: ১১৪)। সুতরাং সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর আগমনে দরুদ, শুকরিয়া ও সীরাত আলোচনার মাহফিল আয়োজন করা দ্বীনের মৌলিক নীতি ও সুন্নাহর অনুকূল—তা কোনোভাবেই বেদআত নয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রিয় নবী (ﷺ)-এর সুন্নাহ, মর্যাদা ও ভালোবাসায় জীবন গড়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।