07/04/2026
আমরা শেষ জামানার শেষ ভাগে পৌঁছে গিয়েছি , শেষ জামানার নবী মুহাম্মদ সা. আখেরি পয়গম্বর হাদিস থেকে প্রমাণিত তার জন্ম / মৃত্যু থেকেই শেষ জামানার শুরু এর মানে হলো শেষ জামানা শুরু হয়েছে আজ থেকে ১৪০০ বছর আগেই , রাসূল সাঃ বলেছেন তার উম্মতের হায়াত ১৫০০ বছর বা এর একটু বেশি
- ( নুআইম বিন হাম্মাদ কিতাবুল ফিতান , জালালউদ্দিন সুয়ূতী আল হাভি লিল ফাতাওয়া )
উম্মতের হায়াত আর কিয়ামত কিন্তু এক জিনিস নাহ বিষয়টি আগে বুঝতে হবে , উম্মতের কিয়ামত কাকে বলে জানতে আমার অন্য একটি পোস্ট আছে সেটি দেখুন লিংক কমেন্ট দেওয়া থাকবে ...
অথচ অসংখ্য আলেম ও মুসলমান দাবিদার ভাইয়েরা বলেন শেষ জামানা এখনও অনেক দূর , দেরি আছে কিন্তু বাস্তব এটাই যে আমরা একদম শেষ দরজায় দাঁড়িয়ে আছি....
উম্মতের এক অংশ মানুষের কৃষিকাজ শিখে লাভ আছে আবার আরেক অংশের নাইও । হাদিসে শেষ জামানার দুর্ভিক্ষের বিষয়ে বলা আছে সেই সময় মানুষের খাদ্য হবে আল্লাহর জিকীর ।
দাজ্জালের এক হাতে থাকবে রুটির পাহাড় আরেক হাতে থাকবে পাণির নহর ।
দুর্ভিক্ষ তেলের কারনে আসন্ন । এভাবেও হতে পারে যে সে হাতে রুটির পাহাড় নিয়ে রিজিকের মালিক হিসেবে , এক্ষেত্রে কৃষিকাজ শিখে লাভ আছে ।
তবে সবচে খারাপ কেইস হতে পারে নিউক্লিয়ার উইন্টারে । যেসব যায়গায় পারমানবিক বোমা পড়বে সেগুলা আউট অফ সিলেবাস। বাকি সারা দুনিয়ার উপর ধুলার স্তর জমবে। ফলে সূর্যের আলো ঢুকবেনা । ফসল ফলবেনা । এইখেত্রে কৃষিকাজ শেখা কোন কাজে আসবেনা । হাদিস দেখলে দেখবেন সেই সময় মানুষের খাদ্য হবে আল্লাহর জিকীর । এমন একটা টাইম যখন খাদ্যই থাকবেনা ।
চাইলেও ফসল ফলবেনা । এটা নিউক্লিয়ার উইনটারে আরও বেশি মানানসই । তবে এটা জাস্ট একটা থিওরি । দুর্ভিক্ষ তেলের মাধ্যমেও হতে পারে , পারানবিক বোমার মাধ্যমেও হতে পারে , আবার দুটা একসাথে মিলিয়ে হতে পারে । আল্লাহই ভাল জানেন।
আমার প্যারা নাই । আমি বহুকাল আগেই মরছি । আনুষ্ঠানিক জানাজা বাদ আছে খালি । জানাজা ছাড়া বোমা খাইয়া ভ্যানিস হইলেও কিছু যায় আসেনা । এই হিউজ ইউনিভারসাল টাইমলাইনে আমি কেবল সময়ের হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি মাত্র , যেমন ধুলাবালি হঠাত ঝড় বাতাসে হারিয়ে যায় । এটা যখন থেকে বুঝছি , সুখ দুঃখের ফিলিংস ম্যাটার করেনা ।
এই প্রকৃতির কাছে কে রাজা কে ফকির , কে ভালো কে মন্দ , কে পেলো কে হারাল কিছুই ম্যাটার করেনা । সে সব্বাইকে গিলে খায় । যেই তেলের কারনে দুর্ভিক্ষ সেই তেল তৈরি হতে লাগে জীবাশ্ম , জীব জন্তুর উদ্ভিদের মৃতদেহ পচে গলে ৫/১০ কোটি কিংবা শতকোটি বছরে তৈরি হয় এই তেল । কোথায় সেই সব জন্তুরা , তাদের ভালো লাগা বিষাদ লাগা ফিলিংস ?
মহাবিশ্বের নিউট্রন স্টারের সংঘর্ষে তৈরি হওয়া ইউরেনিয়াম ধুলার মেঘ আঁকারে ছিল যেখান থেকে গ্রহরা তৈরির সময় কিছু ইউরেনিয়াম পৃথিবীতেও ঢুকে যায় । েই ইউরেনিয়াম যার পকেটে সে নিজেকে মহাশক্তিধর ভাবতে থাকে । মহাবিশ্বে বিলিয়ন বছরে কত সৃষ্টি প্রাণী জাতি ভালোবাসা আবেগ ক্রোধ প্রতিশোধের খেলায় লিপ্ত ছিল আজ সেগুলি কেবলি অতিত কেবলি শূন্যতা । অথচ এই তুচ্ছ সময়ে একটু প্রতারণা করতে পারলে , একটু জয় পরাজয়ের খেলায় জড়ালে কতই না তৃপ্তি ।
জীবনের প্রকৃত বোধ আসলে কি ? আমরা কেউই কিছুনা রিয়েলাইজ করা । সবাই রিয়েলাইজ করে ভাবে , কিন্তু রিয়েলাইজ ডিপ্লি করেনা । কেঁউ রিয়েলাইজ করলে সে অনাসক্ত হয়ে যেত , জীবন তার কাছে ফালতু হয়ে যেত । পদবান হবার , মানুষের চোখে কিছু একটা হবার , লোক দেখানো হিপোক্রেসিগুলো থাকতনা । ভয়ানক ব্যধিগ্রস্থ মানুষরা দরবেশ সেজে বসে থাকতনা , তারচে বেশি ব্যধিগ্রস্থরা তাদের সমর্থক হতনা । প্রকৃত সফলতা আল্লাহর সন্তুষ্টির ভেতর কিংবা আল্লাহর কাছে ফিরে যাবার ভেতর । সে ম্রিত্যুর জন্য অপেক্ষা করত । তার অন্তর সাক্ষী দিত আমি কেঁউনা , আমি কিছুনা ।
তবে কোন শিক্ষাই অমূলক না , কৃষিশিক্ষা হতে পারে বা যেকোন শিক্ষাই , যেকোন সময় কাজে লাগে । তবে সবচে ইম্পরট্যান্ট হল অন্তরের শুদ্ধতা । একে আল্লাহপাক সাহায্য করেন ।
শেষ জামানা নিয়ে মানুষ কত কথাই বলে । বহু প্রস্তুতি নিয়ে ফেলতেছে । এটা মন্দ নয় । তবে কাজে কর্মে অন্তরের অসত্যতা আয়নার মত প্রতিফলিত হয় । অন্তর যার শুদ্ধ তার জিকির তার দুয়া কাজে লাগবে । তাঁকে আল্লাহ ব্যবহার করবেন । বাইরের লেবাস বাইরের দরবেশি বেকুব মানুষরে ধোঁকা দিতে পারে । কিন্তু অন্তরের খবর অনুযায়ী ফয়সালা আসমান থেকে হয় ।
হাশরের ময়দানে ফেরেশতাদের লেখা বহু আমলনামা পাল্লায় রাখা হবে । মানুষের চোখে দ্যাখা পাহাড়সমান সেই আমলনামার দরবেশের পাল্লা নড়বেনা , কোন ওজন নাই । মানুষের সামনে বিখ্যাত বুজুর্গ দরবেশ পদবান বনতে চাওয়া লোকটা সেদিন জনসম্মুখে লাঞ্ছিত হবে , সবাই জেনে ফেলবে তার উদ্দেশ্য কি , আজ যা কেউ জানেনা ।
আজকের এই বিপদ , দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া এগুলা কোন বিপদ না । আসল বিপদ আখিরাতে । অনেক সাইকোলজিস্ট এভাবে কনফিউশন ঢুকায় যে পূর্বেকার মানুষ আখিরাতের কথা মানুষরে ভাল বানানর জন্য বলত । আসলে আখিরাত বলতে কিছুনাই । বাস্তবতা হল আল্লাহ সত্য আখিরাত সত্য , এটা নিছক বিশ্বাস নয় । আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দেখিয়ে দিবেন ।
এটা কোন কঠিন বিষয়না । যাদের কাছে প্রকাশিত হবে তাদের অন্তরের ভেতরে ভয় থাকবে , যে আমি আমন করলে খতিগ্রস্থ হব , বিপদে আল্লাহকে পাবনা । সঠিক কাজ করলে আল্লাহ সাহায্য করলে আনন্দ হবে । এইভাবে আল্লাহর সাথে সম্পর্কের ভেতর দিতে চলা যা অন্তয়ালের জগতে চলতে থাকবে । যত প্রক্রিয়া আছে যত প্রস্তুতি আছে সবকিছুর মুলে সবার আগে হল আল্লাহর সাথে সম্পর্ক । '
আমার অন্তর আল্লাহ দেখতেছে , এটা হল তাকওয়া । আমি যদি চালাকি করি মানুষ নাদেখলেও আল্লাহ দেখতেছে । ফয়সালা তাই হবে যা আল্লাহ চায় , আমার কোন চালাকি আর মানুষের কোন সমত্রথন কাজে আসবেনা । শয়তান সাত আসমানের উপরে এক দরবেশ । ফেরেশতাদের সমর্থন পাওয়া লোক ।
একদিন আরশের নিচে এই লেখা ভেসে উঠল অচিরেই খুব উচ্চস্তরের বান্দার পতন হবে । ফেরেশতারা জানেনা , শয়তানও জানেনা সে কে । ওইদিকে শয়তানের মনের খবর আল্লাহ জানে । ফয়সালা করে ফেলছে ।
এই ধ্বংস , আখিরাতে নাকাম হওয়া পারমানবিক বোমার চাইতে বড় ধ্বংস । পারমানবিক বোমার মরলে তো ভ্যানিশ , ধরার কেঁউ থাকবেনা । আর আখিরাতে ধরবে , পালানর রাস্তা থাকবেনা ।
শেষ জামানা নিয়ে কথা বলতে বলতে হয়ত শেষ সময়ে চলে আসছি । একসময় ইন্টারনেট থাকবেনা । পৃথিবীর কোন প্রান্তে অচেনা একাকী নিঃস্ব অবস্থায় আমারও হায়াত শেষ হয়ে যাবে । শেষ জামানা , প্রথম জামানা যত জামানা আছে শুরুর কথা শেষের কথা সর্বাবস্থার কথা হল তাকওয়া । আল্লাহ্র ভয় । এটা না থাকলে কোন আমল কাউকে আখিরাতে বাঁচাতে পারবেনা । দুনিয়াতেওনা , শেষ জামানায়ও না , হাশরেও নাহ .....!