19/07/2025
উত্তরে কাস্পিয়ান সাগর, দক্ষিণে পারস্য উপসাগর ও পারস্য উপত্যকা, পশ্চিমে তুর্কমেনিস্তান ও ইরাক, পূর্বে আফগানিস্তান—এই বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে গড়ে উঠেছিল ইসলামী ইতিহাসের এক শক্তিশালী শিয়া সাম্রাজ্য, যার নাম সাফাভী সাম্রাজ্য।
সাফাভী সাম্রাজ্য (১৫০১–১৭৩৬) প্রতিষ্ঠা করেন শাহ ইসমাইল প্রথম, যিনি ছিলেন পূর্ব তুর্কিস্তানের (আজকের আজারবাইজান ও ইরানের সীমান্তবর্তী অঞ্চল) সাফাভী সন্ন্যাসী ঘরানার নেতা। তাঁর নেতৃত্বে এটি রূপ নেয় এক আধুনিক রাজত্বে, যা তৎকালীন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মানচিত্রে বিপ্লব ঘটায়।
শাহ ইসমাইল ১৫০১ সালে তেহরান থেকে শুরু করে তেহরান, ইসফাহান, তাবরিজ ও কাশানের মতো নগর জয় করে শিয়া ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি পর্তুগিজ, ওসমানীয় এবং উত্তর আফ্রিকার ফাতেমীদের থেকে আলাদা করে শিয়া ইমামতের চেতনা ছড়িয়ে দেন।
সাফাভী সাম্রাজ্য ছিল ঐতিহাসিকভাবে ইরানভিত্তিক, এবং তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল সূন্নি উসমানীয় সাম্রাজ্য , যাদের সঙ্গে শিয়া-সুন্নি মতবাদের দ্বন্দ্ব রাজনৈতিক-সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়।
শাহ আব্বাস মহান (১৫৮৮–১৬২৯) সাফাভী সাম্রাজ্যের সবচেয়ে উজ্জ্বল শাসক ছিলেন। তাঁর আমলে রাজধানী ইসফাহান হয়ে ওঠে শিল্প, স্থাপত্য ও শিক্ষার কেন্দ্রে। বিখ্যাত "ইসফাহান-নামাহ" গ্রন্থ এবং বিশাল মসজিদ ও সেতু নির্মাণের কাজ সেদিনের ঐশ্বর্যের নিদর্শন।
সাফাভী সাম্রাজ্যের সামরিক কৌশল ছিল শক্তিশালী, বিশেষ করে গুলিবর্ষণায় দক্ষ। এছাড়া তাঁরা পারস্য ভাষা ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেন, যা আজও ইরানের জাতীয় সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মূল।
এক কথায়—সাফাভী সাম্রাজ্য ছিল ইসলামী ইতিহাসের সেই অধ্যায়, যেখানে রাজনীতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠে পারস্যের আধুনিক রাষ্ট্র। তাদের শাসনামলে শিয়া ইসলাম বিস্তৃত হয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক রূপান্তর ঘটে।