26/04/2023
ডিপ্রেশন
ডিপ্রেশন বা হতাশা বা দুশ্চিন্তা বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় একটি মানসিক রোগ। যা কিশোর কিশোরী থেকে মধ্য বয়ষ্কদের মাঝে বেশি দেখা যায়। ডিপ্রেশন কানে হেডফোন, প্রিয় কিছু গান, সিগারেটে টান। আমরা যখন হতাশাগ্রস্থ থাকি তখন এই কাজগুলোই করি।
আমাদের মাঝে কখন হতাশা আসে???
যখন আমরা কোনো কাজে সফলতা অর্জন করতে পারিনা, পারিবারিক মতের অমিল, সম্পর্কের মাঝে বিচ্ছেদ, আর্থিকভাবে অসচ্ছলতা, আর নানাবিধ কারণে যখন চিন্তিত হয়ে পরি তখনই। আমার দ্বারা কোনো কিছু হবে না,এই ভেবে ভেবে সিগারেট পুড়িয়েছি কত শতশত। পায়ের জুতো অনেক করেছি ক্ষয় তবু্ও চাকরি নামক সোনার হরিন যেনো অধরাই রয়ে গেলো। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমাজে তার ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। অনেকে আমার চেয়ে কম যোগ্যতাসম্পন্ন সে আমার চেয়ে ভালো আছে, ভালো কোনো চাকরি করছে। এইগুলো যখন ভাবনার মাঝে চলে আসে তখনই আমরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পরি।মানুষের স্বভাবদোষ যেনো অন্যের কোনো কিছুতে হিংসা করা। কোনো না কোনো কেউ পারিবারিক, সাংসারিক, রিলেশন বা প্রেম, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হতাশায় নিমজ্জিত আছে। কোনো ছোটো ছোটো বা বড় কোনো বিষয় নিয়ে দিন দিন চিন্তা করে যখন তার কোনো সমাধান খুজে বের করতে পারিনা তখন সেই চিন্তা দুশ্চিন্তায় পরিনত হয়। আমারা যখন জীবনের প্রতি হতাশ তখন ধৈর্য্য ধারণ করতে পারি না। বিপদে ধৈর্য্য ধারণ করা উত্তম পরিচয় বহন করে। হতাশা বা দুশ্চিন্তায় নিমজ্জিত হয়ে জীবনের মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমাতে দ্বিধা করেন না অনেকে। আর এই কাজগুলো যারাই করেন তারা তাদের বিবেকহীনতার পরিচয় দেন। কিন্তু আমরা কি কখনো এর সমাধানের পথ খুজার চেষ্টা করি?? কিভাবে মুক্তি পাবো এই হতাশা থেকে। একবারের জন্যও আল্লাহ তাআলার কাছে পানাহ চাই না। হতাশা অশান্তি থেকে আল্লাহর প্রতি তাওয়াককুলের কোনো বিকল্প নেই। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন "যে মহান আল্লাহর প্রতি তাওয়াককুল বা ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট"
[(১)সুরা তালাকঃ আয়াত ০৩]
জীবনে চলার পথে বাধাবিপত্তি আসবেই। মানবজীবনের সাথে এটি ওতোপ্রোত ভাবে জড়িত। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন " নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি কষ্ট ক্লেশের মধ্যে "
[(২)সুরা বালাদঃ আয়াত ০২]
তাই বলে বিষন্নতাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। আল্লাহর কাছে তার কাছ থেকে পানাহ চেতে হবে। আল্লাহর উপর ভরসা ও ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে। পৃথিবীতে আমাদের উপর যেসব দুঃখ আসে তা আবশ্যই আগে থেকে লিপিবদ্ধ। আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন " পৃথিবীতে অথবা ব্যাক্তিগত ভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আসে ইহা সংগঠিত করার আগেই ইহা লিপিবদ্ধ থাকে, আল্লাহর পক্ষে ইহা সহজ"
[৩] সুরা হাদিদঃ আয়াত ২২]
এ থেকে বোঝা যায় যে এসব আমাদের সাথে হবেই। কেউ চাইলেই তা পরিবর্তন করতে পারবে না। হতাশা বা দুশ্চিন্তায় আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠ ভাবে ভরসা করতে হবে। নামাজে মনোযোগী হতে। যারা নামাজে মনোযোগী তাদের উপর দূঃখ, হতাশা ভর করতে পারে না। এছাড়াও আল্লাহর জিকির মুমিনের অন্তরে প্রশান্তি তৈরি করে। সকল বিপদে আপদে আমাদের ধৈর্য্য ধারণ করতে করতে হবে। খুব বেশি দুঃখ দুর্দশায় থাকলেও জীবনের প্রতি হতাশ হওয়া যাবে না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন " নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সঙ্গে আছেন"
[(৪) সুরা বাকারাঃ আয়াত ১৫৩]
জীবনে প্রতিটা কাজে ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে এবং সফলতা পেতে হলে কষ্ট করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা পরিত্র কুরআনে আরো বলেন যে " নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে"
[(৫) সুরা ইনশিরাহঃ আয়াত ৬ঃ৭]
এ থেকে বোঝা যায় যে জীবনে যত দুঃখ হতাশা আসুক পথভ্রষ্ট হওয়া যাবে না। জীবনে চলার পথে ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে। এবং সকল সময় আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে।
রেফারেন্সঃ
[১] সুরা তালাকঃ আয়াত ০৩
[২] সুরা বালাদঃ আয়াত ০২
[৩] সুরা হাদিদঃ আয়াত ২২
[৪] সুরা বাকারাঃ আয়াত ১৫৩
[৫] সুরা ইনশিরাহঃ আয়াত ৬ঃ৭