02/04/2023
দেশটা মগের মুল্লুক, তাই এদেশে সব চলে, কারো কাছে কোন জবাবদিহি করতে হয় না, চর্তুদিকে সর্বক্ষেত্রে যেমন দেদারসে চলে দূর্নীতি তেমন তার সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে খাদ্যসামগ্রীসহ ভোগ্যপন্যের উচ্চমূল্যের প্রতিযোগীতা আর সর্বত্র ভেজালের মচ্ছব। আর ১০০% মুসলমানের দেশে এক রমজানের সময় যে পরিমাণ খাদ্যসমাগ্রীর অতি উচ্চমূল্য ভেজাল ও নকলের মহাসমারোহ চলে তা বছরের অন্য কোনো সময় চলে না।
রমজানের সময় দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষজন সৌদি আরবের খেজুর খুব পছন্দ করে, তাই বছরের অন্য সময়ের চেয়ে রোজার সময় খেজুরের চাহিদা ও দাম অনেকটাই বৃদ্ধি পায়, আর এই সময় খেজুরের এই চাহিদাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে বিশাল সিন্ডিকেট।
দেখা গেছে রোজার সময় আমদানিকারকরা যে একটিমাত্র hs কোডে খেজুর আমদানি করে তাতে আমদানি খরচ উল্লেখ করে কেজিতে ৯০ টাকা। তারপর এই ৯০ টাকা কেজি দরের খেজুর সর্টিং করে দেশের বাজারে মানভেদে ১৫০ টকা থেকে ১৮০০টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হয়!😮💨 অর্থাৎ পঁচা ভেজাল মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভাল খেজুর একই hs কোডে আমদানি করে under invoicing এর মাধ্যমে একদিকে যেমন অসাধু ব্যবসায়ীরা সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাকঁি দেয় তেমনি জনগণও ৯০ টাকার খেজুর ১৮০০ টাকায় ক্রয় করে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত, কিন্তু দেখার কেউ নেই।
এর সাথে আছে খাদ্যে ভেজাল, পঁচাবাসি খাবার কয়েকমাসের নোংরা কালো তেলে ভেজে ইফতারের সময় পরিবেশন। অসচেতনতা আর ব্যস্ততার কারণে আমরা অনেকেই খাবার নামক এসব মারাত্মক বিষ উচ্চমূল্যে কিনে খাই। এর মধ্যে মুড়ি একটি জনপ্রিয় ইফতারের উপাদান, যা ছাড়া ইফতারি জমে না, অথচ এই মুড়ি আজ সবচেয়ে দূষিত বিষাক্ত। মুড়িকে ফোলানো আর ঝকঝকে করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ইউরিয়া সার হাইড্রোজেন সালফাইড ও আরো অনেক বিষাক্ত রাসায়নিক, যা খেয়ে আমরা ধীরে ধীরে মারাত্মক অসুস্থতার দিকে ধেয়ে চলছি। অথচ দেখার কেউ নেই, প্রতিবাদ করার কেউ নেই। পুরো দেশটাই যেন অন্যায় অনাচারে ডুবে গেছে, দেশের সব মানুষই যেন কোন না কোন অন্যায়ের সাথে জড়িত। তাই বলেই কি ১০০% মুসলমানের দেশে আজ ১% ও ভাল মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না?