Tunan-Tanvir

Tunan-Tanvir জীবনকে খুব সাধারণভাবে দেখার চেষ্টা করি

30/12/2023

আমি ততটাও গুরুত্বপূর্ণ না
যতটা আমি ভাবতাম😟🤔

16/06/2018

ভাইয়া,ভাইয়া,
আমাকে এই অংক টা বুঝিয়ে দিবি??
~না,এখন সময় নাই,,,
~দে,,না,,ভাইয়া,,,প্লিজ,,,,
~বললাম না,সময় নাই,,,যা ফোট,,,আর কোচিং থেকে কি বুঝে আসিস যে পারিস না!
~এই অংকটা কোচিং এ যেদিন করাইছিলো আমি সেদিন যাই নি,,
~কেন??জাসনি কেন??
~তোর মনে নাই,,সেদিন বৃষ্টি হইছিলো,,,,,
~ছাতা ছিল না??
~ছিলো,,,কিন্তু আম্মু যেতে মানা করছিলো,,,,,
~ওওও,,,,যা,,, পরে এসে বুঝাই দিবানি,,,,
~এখন দে,,না ভাইয়া,,,,কাল কোচিং এ আমার পরিক্ষা,,,,,
~বললাম না,,,,পরে,,,যা ফোট,,,,,
:
বোনটাকে অংকটা না বুঝিয়ে দিয়েই বাইরে চলে গেলাম,,,,
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে,,,আবার বাসায় ফিরে আসলাম।
:
এসেই দেখি বোনটা অংক করতেছে,,,,
~ভাইয়া,,বুঝাই দিবি না??
~কি??
~আরে তোর দেখি কিছুই মনে থাকে না,,সেই অংক টা,,,,
~ওওও,,,আচ্ছা,,পরে,,,এখন মাথা ব্যথা করছে,,,,
~আমি যখন কিছু বুঝাই দিতে বলি তখন'ই তোর না বুঝাই দেওয়ার বাহানা শুরু হয়ে যায়,,,
~নারে বোন সত্যিই মাথা ব্যথা করছে,,,,
~তুই সিগারেট খাইছিস তাই না!!
~মারবানি কিন্তু!সিগারেট আবার কি জিনিষ?
~ইস,,,ঢং কতো,,,আমি জানি,তুই সিগারেট খাইছিস,,,কারণ, যতবার'ই তুই সিগারেট খাস,ততবার'ই তোর মাথা ব্যথা হয়,,,,
~মারবানি কিন্তু!চুপ,,
বোনটাকে একটা ঝাড়ি দিয়ে রুমে গিয়ে ঘুমোতে লাগলাম,,,,,
:
ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে,,,ফ্রিজ খুলে দেখতে পেলাম,আমার সেই কিনে রাখা টাইগার নেই,,,,,
নিশ্চই ফাহমিদা খাইছে,,,,
~ওই ফাহমিদা,,,,
~কি??
~আমার টাইগার কোথায়??
~ফেলাই দিছি,,,
~কেন??ফেলাইছিস কেন???
~ছিঃ তুই ওইগুলো খাস কিভাবে,,,ঔষধ এর গন্ধ,,,,তাই ফেলাই দিছি,,,,
~তোরে তো আজকে মেরেই ফেলবো,,,,
এই বলেই বোনটাকে ঠাস করে একটা চর দিলাম,,,,,,
বোনটা কাঁদতে কাঁদতে বললো,"যেদিন আমি চলে যাব সেদিন বুঝবি,বোন কাকে বলে!!"
~হ,,,তুই যা তো,,,, এক্ষুনি ফোট,,,
:
রাগ হয়ে বোনটা কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো,,,,
:
সন্ধ্যার সময় বোনটাকে দেখলাম,সকালের সেই অংকটা একা একা বুঝতে চেষ্টা করছে,,,কিন্তু কিছুতেই বুঝতে পারছে,,,না,,,,
তাই আমি বললাম,
~কিরে এখনো বুঝিস নাই??
~তুই কি বুঝাই দিছিস নাকি যে বুঝবো!
~এদিকে আয়,,আমি বুঝাই দিচ্ছি,,,,
~প্রথমবার না বুঝলে মারবি নাতো!
~না,মারবো না,,,,
~সত্যি তো?
~আরে বললাম তো মারবো না,,,
আসলে আমার মাথাটা একটু সহজেই গরম হয়ে যায়,,,,একবার বুঝানোর পর যদি না বোঝে,তাহলে ওমনি দিই এক চর,,
:
অতঃপর বোনটাকে অংকটা বুঝিয়ে দিলাম,,,কিন্তু অবাক কান্ড,যাকে দুই-তিন বার বুঝিয়ে দিতে হয়,আজ তাকে একবার বুঝিয়ে দিতেই বুঝে গেলো,,,,,
তাই জিজ্ঞেস করলাম,
~তুই একবারেই এই অংকটা পারলি কিভাবে? তুই তো দুই-তিন বার বুঝানোর পরও বুঝতে পারিস না,,,
~আসলে এই অংকটা আমি আগেই পারতাম,,,
(একটা হাসি দিয়ে)
~তাহলে আবার বুঝাই দিতে বলছিস কেন??
~আসলে আমি দেখছিলাম,আমার ভাইটা আমাকে কতোটা ভালোবাসে,,,,
:
বোনটাকে ঠুনা দিয়েই বাইরে চলে গেলাম,,,
যাওয়ার আগে বোনটা বললো,"ভাইয়া,তুই আসার সময় চিপস নিয়ে আসবি কিন্তু!"
~ইস,,,আমার কাছে টাকা নাই,,,,
~আমি জানি না,,,,আনতেই হবে কিন্তু!!
:
কি আর করার বোনের অর্ডার তাই আনতেই হবে,,,,না হলে তো আবার আমাকে মেরে ভূত বানিয়ে দেবে,,,,
:
চিপস নিয়ে আসার পর,,,,
~আমাকে চিপস দিবি না??
~ইন্না,,দেবো না,,,,
~আমার টাকার তা আমাকেই দিবি না!
~তোর টাকার তো কি হইছে,,,আনছিস তো শুধু আমার জন্যই,,,,
~যাহ্,তোর সাথে আর কথা নাই,,,
এই বলেই মুখটা দুঃখী ভাব করে নিলাম,,,
আমাকে এইভাবে দেখতে পেয়ে বোনটা চিপস দিলো,,,,তাও মাত্র গুনে গুনে ১০ টা আর দেওয়ার আগে বললো,"এই ১০ টার বদলে কালকে আরোও এক প্যাকেট চিপস আনবি কিন্তু!"
:
হুম,,,এই হলো আমার ছোট বোন ফাহমিদা।এইবার ক্লাস থ্রি তে উঠলো,,,,
পাগলিটা চিপস অনেক পছন্দ করে,,,তাই টাকা থাকলে প্রতিদিন'ই চিপস নিয়ে আসি,,,,
এভাবেই চলছিলো, আমাদের ভাই-বোনের দুষ্টু-মিষ্টি ঝগড়া,,,,,,
:
১৩ বছর পর,,,,
আজ আমার পাগলি বোনটা অনেক বড় হয়ে গেছে,,,আজ ওর বিয়ে,,,,,
চারিদিকে প্রচুর হৈচৈ,,,,।সকলে অনেক আনন্দ,,করছে,,,।কিন্তু এতো আনন্দের মাঝেও তিনজনের মুখে হাসি নেই,,,
এক,আব্বু
দুই,আম্মু
আর এক, "আমি"
হ্যা,আজ আমার চিপস পাগলী বোনটা আমাদের ছেড়ে চলে যাবে,,,,চলে যাবে তার এই "ভাই"টাকে ছেড়ে,,,
:
পাগলীটার যাওয়ার সময় হয়ে গেছে,,,,
আম্মু ও চিপস পাগলীটা কাঁদছে,,,,
আব্বুকে দেখলাম,শত ব্যাথা বুকে নিয়েও হাসি মুখে বেয়াই এর সাথে কথা বলছে,,
আমি পাগলীটার কানের কাছে এসে বললাম,
~তোর মেকআপ কিন্তু এইবার নষ্ট হয়ে যাবে!!
~ভাইয়া,,এইবার অন্তত ফাজলামি বন্ধ কর,,,এই বলেই পাগলিটা আরোও জোরে কাঁদতে লাগলো,,,,,,
আমিও এইবার চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না,,,,তবুও কান্না মাখা চোখে বোনটাকে বিদায় জানালাম,,,,
:
আজও আমি প্রতিদিন আসার সময়, পাগলিটার জন্য চিপস নিয়ে আসি,,,,
কিন্তু,চিপস থাকলেও খাওয়ার মানুষটি যে তার এই ভাইয়ের কাছে এখন নেই,,,,
বোনটাকে শুধু এটুকুই বলতে চাই,
"বোন,আজও তোর শয়তান ভাইটা চিপস নিয়ে তোর জন্য অপেক্ষায় আছে"।
""""তানভীর আলম"""""

15/06/2018

"""বাবা""""
জহুরা:আব্বা আমারে ঈদে কিছু কিনা দিবা না?
কথাটা শুনেই শুকনো ভাতের দলা আটকে গেল জামালের গলায়।জামালের মেয়ে তাড়াতাড়ি পানি এগিয়ে দেয়। জামাল পানি পান করে একটু দম নিয়ে বলে,
দিমু না কে?অবশ্যই দিমু,একটু ধৈর্য ধর মা।
জহুরা:আর কত আব্বা?সব্বাই কিনছে।পাশের বাড়ির জুলি কিনছে,আমার বান্ধবিরা কিনছে।আমারে কবে কিনা দিবা কও?
জামাল:কাইল দেই ?
জহুরা:কাইল!
কথাটা শুনতেই চোখমুখ আনন্দে চকচক করে ওঠে জহুরার। খুশিমনে বাবাকে আরো একটু ভাত বেশি তুলে দেয়।
অপরদিকে জামালের বৌ টা একটু দূরে বসে বাপ-বেটির কথাশুনে আঁচলে চোখ মোছেন।
জামাল:জামিলের মা,জামিল কোনে গেছে? ওরে দেখছিনা যে।
জামালের বৌ:তোমার পোলা জামাকাপড় কেনার টেহা চাইছিল।আমি দিতি পারি নাই তাই না খাইয়াই শুয়ে পরছে।।
জামাল:দেও নাই কেন?
জামালের বৌ:তোমার পোলা ৪,০০০ টেহা চায়।
কথাটা শুনতেই আরো একটা ধাক্কা খায় জামাল।তবুও চুপচাপ বাকি খাবার টুকু খেয়ে নেয়।
জামাল:আইচ্ছা এহন আমি গেলাম।তুমি জামিলরে একটু সবুর করতে কইয়ো আর রাগ করতে মানা কইরো, কাইল ই আমি টেহা দিমুনে।
জামালের বৌ স্বামীর চোখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন।তারপর আসতে করে বলেন,
-সাবধানে যাইয়ো।
জামাল দ্রুত পায়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায় আর ভাবে, ৮,০০০ টাকা বেতনের চাকরি তার।এর ভিতর সংসার খরচ,পরিবারের ভরণ-পোষন,ছেলেমেয়ের পড়ার খরচ আর বাড়ি ভাড়া। এত কিছু করতে জামাল খুবই হিমসিম খেয়ে যায়।তার উপর এ মাসে মেয়ের জ্বর হওয়ায় অনেক টাকা খরচ হয়েছে।
এদিকে আজ সাতাশ রোজা, তবুও ছেলেমেয়ের জন্য কিছুই কেনা হলোনা।বৌ টা তার বড্ড ভালো।জামিল গত বছর একটা শাড়ি কিনে দিয়েছিল সেটাই রেখে দিয়েছে,বাড়তি একটু আবদার ও করেনা।
জামাল মনে মনে হিসেব কষে,
তিন মাসের ঘর ভাড়া এখনো বাকি, ঈদ ও সামনে, এবার না দিলে কেমন হয়? ছেলেমেয়ের জন্য কম হলেও চার, পাঁচ হাজার টাকা দিতেই হবে।সারাবছর কিছুই দেয়া হয়নি,এবার না দিলে কি চলে ?
বৌটাকেও কিছু দেয়ার দরকার আর আমার কথা না হয় বাদ ই দিলাম।
রাত ১ টার বেশি বাজে।জামাল ঘুম ঘুম চোখ নিয়েই জেগে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।গত কয়েকটা সপ্তাহ ধরে একাই রাত-দিন ডিউটি দিচ্ছে যদি এতে বাড়তি কিছু টাকা পাওয়া যায় সেই আশায়।কিন্তু সারারাত না ঘুমিয়ে আর কত দিন? তাইতো চোখদুটো ভেঙে ভেঙে আসছে জামালের।
সকাল ১০ টা।
বাড়ির মালিক আমিন সাহেব গাড়ি নিয়ে বের হতেই জামাল গেট টা খুলে দিয়ে বলল,
-- আস্সালামু আলাইকুম,
স্যার একখান কতা ছিল।
আমিন সাহেব:জলদি বল।
জামাল:স্যার রোজা তো শ্যেষ হয়ে হেল।ছেলেমেয়ের জন্য এহনো কিছুই কিনবার পারি নাই।এবারের বেতন ডা যদি এহন দিতেন তয় উপকার পাইতাম।
আমিন সাহেব:এখন এত টাকা কই পাবো? আর দু'একদিন পর নে।
জামাল:স্যার ঈদ তো চলেই এলো।আজ কালের ভিতর দিলে খুউবব ভালো হইতো।
আমিন সাহেব:আচ্ছা, আবার আসলে একবার মনে করে দিস।
জামাল হাসিমুখে বলল,
-আইচ্ছা স্যার।
জামাল গেটের কাছে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে ভাবছে,
স্যার বেতন দিলেই পোলারে জামাকাপড় কেনার টেহা দিমু,মাইয়ারে একখান ভালো জামা কিইন্না দিমু আর বৌয়ের জন্য একটা শাড়ি কিনমু।
এরপর ঈদের দিন যদি পারি তো সেমাই ও খাওয়ামু সবাইরে।
ইফতার পর জামাল অনেক বলে কয়েয়ে আমিন সাহেবের থেকে বেতনটা নেয়। তবে যতটুকু আশা করেছিল তার'চে ঢের কম।ওভারটাইম ডিউটি আর দু'জনের কাজ একা করা। জামাল ভেবেছিল কম হলেও ১২ কি ১৪ হাজার টাকা পাবে।কিন্তু আমিন সাহেব জামালের হাতে সেই আট হাজার টাকাই দিয়ে বললেন,
হাতে টাকা খুব কম,বাকিটা ঈদের পর নিস।
জামালের খারাপ লাগলেও কিছু বলার থাকেনা।টাকাটা নিয়ে ভাবে,
যা দিছে এই ঢের। এটাটা দিয়েই কোন রকমে ঈদটা পার করে দেব।
জামাল টাকাটা নিয়ে চার ঘন্টার জন্য ছুটি চেয়ে মার্কেট এ চলে আসে।তারপর মেয়ের জন্য একটা থ্রি-পিচ এক জোড়া দামি সেন্ডেল আরবছেলের জন্য একটা ভালো শার্ট প্যান্ট আর জুতা সাথে বৌয়ের জন্য কমদামি একটা শাড়ি কিনে খুশি মনে বাড়ি ফেরে।
- কৈ গো জামিলের মা? ঘরে ঢুকতে ঢুকতে ডাকে জামাল।
জহুরা:আব্বা তুমি আইছো! আমারে জামা কিনা দিবা না?
জামালের বৌ:আসলো কেবল।একটু গা টা জিরাইতেও দিবি না?
জামাল:আরে থাক থাক।
জামাল হাতের ব্যাগটা জহুরার হাতে দিয়েয়ে বলল,
--এটা তোরর জন্য দেখ পছন্দ হয় কি না।
জহুরা তাড়াতাড়ি ব্যাগটা নিয়ে বলে,
--আব্বা তুমি যা আনছো ওতেই আমি খুশি।
জামাল:জামিল কই গো?
জামালের বৌ :ঐ ঘরে শুয়ে আছে রাগ করে।
জামাল:ওরে ডাক দেও।
জামালের বৌ জামিল কে জোরে জোরে ডাকে। জামিল মলিন মুখ নিয়ে বাপের পাশে এসে বসে।
জামাল ব্যাগ থেকে জামা,প্যান্ট আর জুতা বের করে দিয়ে বলে,
--এগুলো তোর জন্য বাপ।
জামিল একটু জোরেই বলে,
এই সময়ে এসব জামা কেউ পরে? তুমি ভালো জামা আনবার পারো নাই? আমি এসব পরমু না।
ছেলের এমন কথা শুনে হাসিখুশি মুখটা মলিন হয়ে যায় জামালের।
জামাল:বাপরে এবারের মত এটা পর।পরের বার তোর যেমনটা মন চায়য় কিনিস।
জামিল কোন কথা না বলে রাগ করে ঘরে চলে যায়।
জামাল ওর বৌ রেহানার পাশে গিয়ে বসে।তারপর ব্যাগ থেকে কেনা শাড়িটা বের করে হাতে দিয়ে বলে,
--বিয়ার পর থেইক্কা তোমারে তেমন কিছুই দিবার পারি নাই এটা রাখো।
রেহানা:আমার কি কাপড়ের অভাব?শুধুশুধু টাকা খরচ করবার দরকার কি?এটা দিয়া ছেলেরে কিছু দিতে।
জামাল চেয়ে দেখে রেহানার চোখে জল টলমল টলমল করছে। এ জল যে বড় একটা প্রাপ্তির জল তা জামাল বোঝে।
জামাল রেহানার চোখটা মুছে দিয়ে বলে,
খুদা লাগছে খাইতে দেও।
রেহানা:দিতাছি।তা তোমার জন্য কি কিনলা দেখাও।
জামাল যেন বৌয়ের কথায় ধরা খেয়ে যায়।তবুও আমতা আমতা করে মুচকি হেসে মিথ্যা বলে,
-না মানে মনে ছিলোনা তয় কিনমু কালই কিনমু।
জামালের কথার মানে বোঝেন রেহানা।
শুধু অশ্রুসজল চোখে জামালের দিকে চেয়ে থাকেন আর ভাবেন,
সবার খুশির মাঝে কত সহজেই নিজের ইচ্ছাকে মাটিচাপা দিলেন।
পৃথিবীর সব বাবাই এমন স্বার্থপর হয়।সব বাবারাই নিজের মনের ইচ্ছা গুলোকে খুব সহজেই চেপে যেতে পটু।সব বাবারাই দিনরাত পরিশ্রম করে শুধু আমাদের ভালো রাখতে।আমাদের খুশির জন্য এই বাবারা নিজেদের শেষ রক্তবিন্দু টুকুও দিতে প্রস্তুত।
আমরা একটা বার ও ভাবিনা তাদের ও শখ আছে,কিছু চাওয়া আছে।
সব বাবারাই খারাপ হয়।কারণ এরা নিজেদের কথা কখনো ভাবেই না।সব বাবারাই স্বার্থপর কারণ এরা আমাদের চাওয়া মেটাতে চাইলেও পারেনা।
বাবারা এমন ই।
,,,,, ,স্বার্থপর,,,,,,,
আচ্ছা যারা আমাদের জন্য এততকিছু করে আমরা কি পারিনা এই ঈদে নিজেদের শপিংয়ের থেকে কিছুটাকা বাঁচিয়ে তাকে একটা পান্জাবি কিনে দিতে?
একটা বার দিয়েই দেখুন খুশিতে তিনি কান্না করবেন না তবে বকা দিয়ে বলবেন,
আমার জন্য এসব কেনার কি দরকার?
তবে তিনি যে কতটা খুশি সেটা আপনি বাবা না হলে বুঝবেন না।
ঈদের খুশিটা না হয় এবার সেই স্বার্থপর সব বাবাদের সাথেই ভাগ করে নেই।
লেখাটা আমার বাবার মতো এমন লক্ষাধিক স্বার্থপর বাবাকে উপহার দিলাম।

11/06/2018

ঈদের আর মাত্র ছয় দিন বাকি।এখনও বউয়ের জন্য কিছু কেনা হয়নি।তাই রোজ ঘরে ঢুকতেই বউয়ের ঘ্যানঘ্যানানি শুনতে হয়।কোনরকম ইফতারি করতে পারলেই হয়।মাথা ব্যাথার অযু হাত দেখিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার ভান করে শুয়ে থাকি।ভাগ্যিস বাম আর ডান হাতের পাশাপাশি অদৃশ্য একটা অযুহাত রয়েছে।না হয় আমার মত স্বামী বেচারাদের এই ঈদে কি যে হাল হত!আল্লাহ মালুম!
রোজ রোজ মাথা ব্যাথার কথা বললে বউ বিশ্বাস করবেনা।তাই আজকে পেট ব্যাথার কথা বলেই শুয়ে পড়ি।বউ পেট ব্যাথার কারণ জানতে চাইলে বলি পুরাদিন রোজা রাখছি বউ ক্ষুধার ছোটে ইফতারির পরিমাণ বেশি হয়ে গেছে তাই আর কি!
রাত আট টার দিকে পাশের বাড়ির ভাবির আগমন আমার বাড়ি।এই পাশের বাড়ির ভাবী গুলোয় ঈদের বাজারের নষ্টের মূল।এলাকার যে ভাবী গুলার স্বামীরে আমি নিজেই চিনিনা সেগুলার বউরে আমার বউ ঈদ মৌসুমে ঠিকই চিনে।কার শাড়ীর দাম কত সেগুলা আমার বউ খাতায় লিখে রাখতে হয়না।মেধার জোরেই সব মুখস্থ। যাইহোক পাশের বাড়ির লতা ভাবীর কথায় বলছিলাম।ঘরেই ঢুকে বলল,'ভাবী অবশেষে আজ শপিং করে ফেললাম।দেখেন শাড়ি দেখেন।লাল শাড়ি নিছি।আপনার ভাইজান তো বলেই দিছে,এই শাড়ি পড়লে আমারে একদম নতুন বউয়ের মত লাগবে।'আমার বউ আমতা আমতা করে বললো,'শাড়িতো ভাই অনেক সুন্দর।তা দাম কত নিছে?'
লতা 'ভাবী হাসি হাসি মুখ করে বললো,'বেশি না ভাবী মাত্র আটহাজার পাঁচশো টাকা।আরো দামী নিতে পারতাম ভাবী দুইটা থ্রি-পিচ ও নিছিলাম তো তাই আর বেশি দামী শাড়ি নিনাই।'
লতা ভাবীর এর পরের কথা গুলো আমার আর মনে নেই মাথায় শুধু মাত্র আটহাজার পাঁচশো টাকা বাক্য টাই ঘুরছে। লতা ভাবী কে বিদায় দিয়ে আমার বউ দরজা আটকানোর পর মুখ ভেংচি কেটে বললো,'মাত্র আটহাজার পাঁচশো টাকা!ঢং!এরচে বেশি দামী শাড়ি আমি কিনে দেখাবো ।প্রয়োজনে তোমার শাড়ির দ্বিগুণ দাম দিয়ে কিনবো। '
বউয়ের শুধু লতা ভাবীরে দেওয়া ভেংচি টাই আমার ভালো লাগছে।এর পরের শব্দ গুলো কানে আসতেই গলা শুকিয়ে গেছে।এই মুহূর্তে এক গ্লাস পানি খুব প্রয়োজন আমার।কিন্তু বিছানা থেকে উঠলেই মুশকিল। বউ যে বলল দ্বিগুণ দামে শাড়ি নিবে।মাত্র আটহাজার পাঁচশো টাকাকে দ্বিগুণ করলে মাত্র সতেরো হাজার টাকা!আর আমার অফিসের বেতন বোনাস মিলাই যা পাবো তা থেকে ঘর ভাড়া, গাড়ি ভাড়া,মাসের বাজার খরচ কেটে রাখার পর থাকবে দশ হাজার পাঁচশো টাকা(এই টাকায় মাত্র যোগ করাটা বোকামি তাই করলাম না।)।
বউরে যে কি দিয়া বুজাবো নিজেই জানিনা।
অবশেষে বেতন বোনাস হাতে পেলাম।আগে হিসেব করে রেখেছি দুজনের যা কেনা লাগবে তা দশ হাজার পাঁচশো টাকার মধ্যেই হতে হবে।বউকে বললাম,'সব খরচ বাদ দিয়ে আর দশ হাজার পাঁচশো টাকা আছে।এটা দিয়ে দুজনের শপিং করতে হবে।তোমার পোষাবে তো বউ?'
বউ চোখে মুখে হাসির রেখা টেনে সহজ ভাবে উত্তর দিলো,'আরে আমার তো দশ হাজার টাকায় হয়ে যাবে।তোমার জন্য নতুন কাপড় তোলা আছে অনেক।তবু ঈদের নামাজ পড়ার জন্য একটা পাঞ্জাবী পাঁচশো টাকার মধ্যে পাবেতো?'
আমি বেচারা অনেক ভাগ্য করেই এমন বউ পেয়েছি যে অন্তত আমা র জন্য এটুকু ভাবে।তাই মুচকি হেসে বউ কে উত্তর দিলাম,'হবে হবে ঢের হবে।ঈদ তো বউদের জন্য।স্বামী জাতি ঈদের কি বুঝে!চলো মার্কেটে যায়।'
বেশ কয়েকটা দোকান ঘুরে দেখার পর আমার বউয়ে জলপাই রঙের একটা শাড়ি পছন্দ হয়।একবার চোখ বন্ধ করে বউকে জলপাই রঙের শাড়িতে দেখে নিলাম।না বেশ ভালোই মানাবে দেখছি।তাই মত দিলাম শাড়িটা নিতে।বউ দোকানদারের সাথে দামাদামি করছে।আমি নিজের জন্য একটা পাঞ্জাবি দেখতে অন্য আরেকটা দোকানে গেলাম।আমি জানি পাঁচশো টাকা দামের পাঞ্জাবি পাবো শপিং মলের নিছে টলি তে করে কাপড় বিক্রি করা মামাদের কাছে তবু দেখছি।
হঠাৎ আমার কাছে বউয়ের আগমণ।
-'এই শুনছো!অনেক দরদাম সাব্যস্তে দোকানি ভাইটা কে দশ হাজার পাঁচশো টাকার বেশি এক টাকাও দিতে পারবোনা বলে রাজি করছি।
-'হুম।তো দিবে বলছে?'
-'হুম দিবে।আচ্ছা বলছিলাম, তোমার তো আলমারিতে বেশ কটা পাঞ্জাবি ও আছে। ওগুলো না হয় ইস্ত্রি করে দিবো।শুধুশুধু পাঁচশো টাকার পাঞ্জাবি কিনে বাড়তি টাকা খরচের কি প্রয়োজন!'
বুঝতে পারছি বউয়ের নজর এবার আমার পকেটের পাঁচশো টাকার উপর।তাই দেরি না করে বের করে দিয়ে দিলাম।
বউ খুশি মনে শাড়ির দাম চুকিয়ে আসলো।আমি একটা মুচকি হেসে বললাম,'বউ তুমি আসলেই একটা বুদ্ধির ডিব্বা। আরেকটু দেরি করলেই আমি পাঁচশো টাকা অপচয় করে ফেলতাম

09/06/2018

৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳ #৳ #"ঈদ৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳৳ # #"
রোজার মাসটা ডাবল ডিউটি দেয় রহিমা ম্যাডামের বাসায়।
সামনে ঈদ,বেতন আর বোনাস এর লোভে... ভোর রাতে কোন রকম পানি ভাত খেয়ে চোখটা না লাগতেই ৬ টা বেজে যায়..
রায়েরবাজার বস্তিতে থাকে রহিমা, ঘরে পঙ্গু স্বামী আর দুই মেয়ে এক ছেলে নিয়ে সংসার।
অভাব যেন কাটতেই চায়না, তবুও আশায় বুক বাধে.. ছেলেটা বড় হলে আর এই কষ্ট থাকবে না তখন..।ধানমন্ডিতে ম্যাডাম দের বাসায় ঢুকতে হয় ৭ টার মধ্যে তাদের সকালের নাস্তা, দুপুরেরর খাবার.. রোজা না থাকলেও তাদের ইফতার পার্টি দুইদিন পর পর চলে। আবার ভোর রাতের রান্না করে বাসায় ফিরতে রোজ ১০ টা বেজে যায় রহিমার, তিন বাচ্চা আর রহিমার স্বামী পথের পানে চেয়ে থাকে কখন রহিমা আসবে..। রোজার মাসে কত কি নিজের হাতে ইফতার বানায় টেবিলে কত প্রকার ফল কেটে দেয়.., ম্যাডামের মর্জি হলে বাসার জন্য কিছু খাবার দিয়ে দেয় রহিমাকে, সেদিন বাসায় এসে তাড়াতাড়ি খাবার পেল্টে সাজিয়ে দেয় স্বামি সন্তানের জন্য.. তাদের তৃপ্তি মাখা মুখ গুলো দেখতে খুব ভাল লাগে...। ছোট মেয়েটার বয়স ছয় বছর সারাদিন মাকে কাছে পায়না রাতে মায়ের বুকে শুয়ে মার কাছে আবদার করে, মাগো ঈদে লালজামা কিনা দিবা না?? ছেলেট আট বছরের, ও আবাদার করে মাগো আমারটা?? শুধু বড় মেয়ে ওর বয়স বার বছর ও শুধু আবদার করেনা...। রহিমা কাজে গেলে ওই বাবা, দুই ভাই বোনের জন্য রান্না করে..রান্না বলতে ভাত ফোটান, আলুভর্তা করে বাবা ভাই বোনদের খাওয়ায়... ওই মেয়ের জন্যই রহিমা সকাল সাত টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত ডিউটি দিতে পারে..। রহিমা বড় মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলে মাগো শেফালি তোর কিছু লাগব না?? শেফালি রহিমার বড় মেয়ের নাম। শেফালি রহিমাকে বলে নাগো মা, তুমি বাবার একটা পান্জাবি কিনা দিও.. আর বাজানের লুঙ্গিটা ছিইড়া গেছে মা, সেলাই এর আর জায়গাও নাই....। রহিমা একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে মনে মনে বলে এই মাইয়াটার এত মায়া কেন??
দেখতে দেখতে ঈদ এর আর দুই দিন আছে। ম্যাডাম এখনও বেতনের কথা বলছে না, রহিমার চাইতেও লজ্জা লাগছে, ম্যাডাম সকালেধ বের হয়ে যায় ইফতারের আগে ফিরে তখন সাহেব থাকে সাথে, রান্নাঘরে প্রায় উঁকি দেয় ম্যাডামের মেয়ে, রহিমার ছোট মেয়েরি বয়সি সে হবে, প্রায় কিচেনে ঢুকে রহিমার সাথে গল্প করে.. রহিমার খুব ছুঁতে ইচ্ছে করে ম্যাডামের মেয়ে সোহা কে,
রহিমা কে খালা করে ডাকে খালি প্রশ্ন করে এটা কি রান্না করছ খালা! ওটা কি? ম্যাডামের ডাক পরলেই চলে যায়...। কাল ঈদ রহিমা এখন ও বাচ্চা গুলোর কাপড় কিনেনি.. ম্যাডাম শুধুই বেতনটা দিয়েছে আর একটা শাড়ি আর জাকাতের দুটো লুঙ্গি..। ঈদের বোনাস এখন দেয়নি চাইতে লজ্জা লাগল রহিমার।বেতন পেয়ে আগে ঘর ভাড়া দিয়ে পরে ঘরে চাল,ডাল, তেল আলু, কিনে ফেলল,স্বামির ঔষধ লাগে প্রতি মাসে সেটাও কিনল।
ছেলের বায়না থামেনা, ছেলের প্যান্ট গেন্জি কিনে দিলে হাতে কিছুই থাকেনা।
আজ ঈদ অনেক ভোরে উঠেছে রহিমা, নিজের সংসারের জন্য সেমাই রান্না করল গত রাতে মুড়ি এনে রেখেছিল।। ছেলেটার জন্য নতুন কাপড়ও কিনেছে, মেয়ে দুইটার কিছুই কিনতে পারিনি..। গোসল করে নতুন শাড়ি পরতে খুব কষ্ট হচ্ছে.. ম্যাডামের অর্ডার নতুন শাড়ি পরে আসতে হবে..। ছোট মেয়েটাও জিদ সাধল, ও আজ রহিমার সাথে যাবেই....।।
ম্যাডামদের বাড়ি সকাল থেকে পরিচর্চা করে দুই গৃহকর্মি.. রহিমার কাজ কিচেনে রান্না করা.. ছোট মেয়ে কলমী কে বসিয়ে রেখে চালু করে কাজে হাত দিল..। ম্যাডাম কিচেনে ঢুকে ঈদের বিশেষ রান্নার ম্যানু বলে গেল,..রহিমার মেয়েকে দেখে ভুরু কুচকিয়ে বিরক্ত হয়েই বললো কাজের দিনে মেয়ে এনেছ কেন আজ..!! রহিমা লজ্জা পেয়ে গেল, কলমী ভয়ে এক কোনে সরে গেল..।।
সোহা নতুন জামা পড়ে কিচেনে এলো রহিমা দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল খালা দেখ তো আমাকে কেমন লাগছে?? রহিমার খুব ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করে সোহার হাতটা.. রহিমা তাকিয়ে বলে মনে হইতাছে যেন আসমান থাইকা পরী মাটিতে নাইমা আইল মা জান.. তোমারে এত সুন্দর লাগতাছে..।। সোহা রহিমা কে বলে সুন্দর করে কথা বল খালা লাগতাছে কি?? বল লাগছে...।।
কলমী অবাক হয়ে তাকিয়ে সোহাকে দেখছে, এত সুন্দর মানুষ হয়!! টিভিতে ও এত সুন্দর মানুষ দেখেছিল..।।
সোহা দেখে ওরই বয়সি একজন কিচেনে বসে আছে পরনে পুরোতন একটা জামা পড়ে..। আজ তো ঈদের দিন, ওর পড়নে পুরতন কাপড় কেন?? সোহা রহিমা কে প্রশ্ন করে, খালা ও কে রহিমা উত্তর দেবার আগেই কলমী বলে উঠে আমি কলমী..।।। তোমার ঈদের জামা কই সোহা প্রশ্ন করে?? কলমী বলে মা বোনাস পাইনি পাইলে লাল জামা কিনা দিব..।। সোহা আবার প্রশ্ন করে বোনাস কি কলমী বলে আমিও জানিনা মার কাছে হুনছি...।।
রায়হান সাহেব নামায পড়ে এসে বেড রুমে শুয়ে আছে, মিসেস রায়হান ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে সাজছে.. কিছুক্ষণের মধ্যেই রায়হান সাহেবের বন্ধু আর মিসেস রায়হানের বন্ধবীরা সব চলে আসবে..। সোহা বেড রুমে এসেই মিসেস রায়হান কে প্রশ্ন করে মাম্মা বোনাস কি?? মিসেস রায়হান ভুরু কুচকে বললো কেন?? আজ ঈদের দিন রহিমা খালার মেয়ে কলমীর নতুন জামা কিনেনি খালা বোনাস পায়নি তাই..!! রায়হান সাহেব মিসেস রায়হানের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে তুমি রহিমাকে ঈদের বোনাস দেওনি?? মিসেস রায়হান আমতা আমতা করে বলে আজকে দিব, আমি ভয়ে আগে দেইনি, আজ ঈদের দিনে যদি কাজে না আসে.. রায়হান সাহেব একটু রাগ করেই বললেন, ছিঃ কি মানসিকতা তোমার..।। সোহা রায়হান সাহেবকে বলে পাপা আমার তো অনেক জামা, আমি কলমী কে একটা জামা দিতে চাই.. রায়হান সাহেবের চোখ ভিজে গেল, গর্বে বুকটা ভরে গেল তার ছয় বছরের মেয়ের আচরণে...।।
লাল টকটকে জামা পড়েছে কলমী, এই হাসি কোটি টাকাতেও মিলে না... রায়হান সাহেব দেখল কলমীর সেই হাসি.. রহিমা ভয়েই শেষ.. কলমীরে বলে যা নতুন জামা পইড়া সালাম করতে হয় সালাম করে আয় সাহেব ম্যাডামরে.. কলমী রায়হান সাহেবের পা ছুঁতেই রায়হান সাহেব ছোট হাতদুটো ধরে বলে একি করছ তুমি, পকেট থেকে দুটো পাচঁশো টাকার নোট দিয়ে বলে এই নেও তোমার ঈদি...।।
বাসার সমস্ত গেস্ট বিদায় দিয়ে মিসেস রায়হান নিজ হাতে বক্সে সব খাবার গুছিয়ে দিল রহিমার জন্য বোনাসের টাকা সহ আর কিছু টাকা বেশী দিল। লজ্জিত ভংগিতে রহিমা কে বললো আমার ভুল হয়ে গেছে রহিমা..।। রহিমা ম্যাডামের দিকে ভয়ে তাকিয়ে বলে কি কন ম্যাডাম, আপনার আবার কিসের ভুল!! আমার সোহা আজ যা পারলো, আমি তা পারিনি, ও আমার চোখ খুলে দিল..।। তুমি তিনদিন ছুটি কাটাও, পরিবার কে সময় দেও, আনন্দ কর, ভয় নেই এই তিনদিন তোমার বেতন কাটবো না..।।
রহিমা কলমীকে নিয়ে বের হয়েই একটা মেশিন রিক্সা পেয়ে গেল। খুশিতে ঝলমল করছে কলমী, কখন বস্তিতে গিয়ে এই জামা সবাইকে দেখাবে...।।রহিম
া ভাবছে কখন স্বামী বাচ্চাদের মুখে এই খাবার তুলে দিবে
কাল বড় মেয়েটার একটা জামা আর স্বামীর একটা পান্জাবি কিনবে ছোট বেলায় শুনছিল তিন দিন ঈদ।
রহিমার চোখ দিয়ে পানি পরছে.. খালি রাস্তায় রিক্সা হু হু করে ছুটে চলছে কলমীর চোখে মুখে আনন্দের বন্যা বইছে..
# ঈদ.

08/06/2018

_আজ_তার_বিয়ে
যদিও এই কাটপোড়া রৌদে হাঁটতে ভাল লাগে না,একটুতেই ঘেমে যাওয়ার অভ্যাস কালো শরীরটার।
ফোনে ব্যালেন্স ছিল না তাই রিচার্জ করতে যেতেই হবে।
-ভাইয়া একটা নাম্বার লিখুন তো?
-হ্যাঁ বলুন।
-01720.....
-কত টাকা?
-৩৯টাকা দিন।
তাহলে অফার চালু থাকবে, এমবিও ফ্রি অাসবে।
বেকাররা একটু বেশীই সুবিধা খোজায় অভ্যস্ত।
-অাচ্ছা।
রিচার্জের কাটপোড়া রোদেই রাস্তা দিয়ে অানমনে হেটে বাসায় ফিরছিলাম।
তখনই ফোনে একটা মেসেজ অাসল।
ফোনের মেসেজের রিংটোন টা হচ্ছে Pixie Dust নামের রিংটোনটা।
খুব ভাল লাগে এই রিংটোনটা। এই টিউনের শব্দটা যখন হয় তখনই খুব ভাল লাগা কাজ করে।
যাইহোক মেসেজটা চেক করলাম।
ভাবেছিলাম হয়ত রিচার্জ করছি সেই মেসেজটাই এসেছে।
কিন্তু,মেসেজটা ছিল,অামার সবচেয়ে কাছের মানুষটার।
-আজ ছেলে পক্ষ আমাকে দেখতে আসবে। আচ্ছা,তুমিই বলো দেখতে আসলেই কি বিয়ে হয়ে যায়?
আমি কি তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবো নাকি..!
এখন ফোন বা মেসেজ করো না,বাড়িতে লোকজনে পূর্ণ। পরে কথা হবে..
যেই মেসেজের শব্দটা সবসময় খুব ভাল ভাল খবর দিত।সেই শব্দটাই অাজ সবচেয়ে খারাপ খবরটাও দিল..!
কিছুক্ষন ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকলাম।
হয়ত ঠোঁটে মুচকি হাসি ফোটেছে..!
এখন আর রোদটাকে কাটপোড়া মনে হচ্ছে না।
ঘামগুলো শুষে নিচ্ছে কালো শরীরটা।
মনে মনে বললাম..
বিয়ে তো পরের কথা।অাজ দেখতে অাসবে,এখনই কথা বলার নিষেধাজ্ঞা।জানি না পরে কি হবে।
বাসায় চলে অাসলাম।কেন জানি কিছুই ভাল লাগছে না।
ফোনের সাউন ও নোটিফিকেশন অপশনে গিয়ে Pixie dust টিউনটা বারবার শুনছিলাম।ওকে বেশি মিস করলেই এমনটা করি।
অার ভাবি,এই বুঝি মেসেজ দিল।
তখনও এক প্রকার ভাল লাগা কাজ করে।কিন্তু অাজ অার ভাল লাগছে না,একদমই ভাল লাগছে না।
দম বন্ধ হয়ে অাসছে।
কি দরকার এই বাচ্চা মেয়েটাকে এখনই বিয়ে দেয়ার?যদিও ও অার বাচ্চা নেই।বড় হয়ে গেছে অনেক।
কিন্তু বিয়ে দেয়ার জন্য এত তাড়া কিসের?
ওর অাম্মুর সাথে দেখা হলে বলতাম..
অান্টি অাপনার মেয়ে কি অাপনাদের খুব চাউল নষ্ট করতেছে?
যে,ওকে খাওয়াতে পারছেন না।তাই এখনই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন?
অাচ্ছা,চাউলের টাকাগুলো অামি দিব।
ওকে এখন বিয়ে দিয়েন না প্লিজ।
কিন্ত এটা তো সম্ভব নয়।
তবুও মনকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা অার কি।
রাত্রে নয়টার দিকে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছি।
অাবার Pixie Dust টোনটা বেজে উঠলো।
-এই খেয়েছো?
-না খাইনি।
তুমি?
-হুম খেয়েছি,না খেলে খেয়ে নিও।নয়ত শরীর খারাপ করবে।
-কি বললো ছেলে পক্ষ?
-আমাকে পছন্দ হয়েছে।
আচ্ছা,শুভ রাত্রি..
অার কোন মেসেজ দিলাম না।সেও অার কোন মেসেজ দিল না।
হয়ত ঘুমিয়ে গেছে।না, না ঘুমায়নি ও এখন সবার অাড়ালে কান্না করতেছে।
অার এটাও ভাল করে জানি এখন থেকে অামায় খুব এভয়েড করবে।যেন অামার পরে কষ্ট কম হয়।
অার এর জন্যই তো ও অামার কাছে সবার থেকে অালাদা।
একদম অামার মনের মত একটা মেয়ে।অাগেও শুনছিলাম,এটা নাকি খুব ভাল ঘরের একটা ফ্যামিলী (ছেলেপক্ষ)।
যেহেতু মেয়ে পছন্দ হয়েছে।অার পছন্দ না হওয়ার তো কোন কারণই নেই।এত ভাল একটা মেয়ে। পছন্দ করবেই। হয়ত বিয়েটাও এখানে হয়ে যাবে।
অার অামিও তো কোন চাকরি করি না যে ওকে বিয়ে করব।
অার ফ্যামিলির কাউকে কষ্ট দিয়ে কখনও অামরা পালিয়ে যাব না,এটা অনেক অাগেই দুজন প্রতিজ্ঞা করে রেখেছি।
অাচ্ছা,ওকে ইনিয়ে বিনিয়ে অনেক কিছু বুঝিয়ে পালিয়ে নিয়ে গেলাম।কি হবে?
প্রথমাবস্থায় হয়তো অামার সাথে পান্তাভাত দিয়ে মরিচ দিয়ে খেতেও রাজি হবে।কিন্তু একসময় মাংস দিয়েও ভাত খেতে চাইবে না।
পরদিন সকালে ও ফোন দিল..
-কেমন অাছ?
-হ্যাঁ ভাল তুমি কেমন অাছ?
-কাল রাত চারটায় তোমাকে অনলাইনে দেখলাম,কি করছিলে এত রাত্রে।ঘুমাওনি একটুও?
-না ঘুমায়নি। অামাদের অাগের কার মেসেজগুলো পড়ছিলাম ।তুমি দেখলে কি করে?
-অামিও তখন অনলাইনে ছিলাম।
অার অামিও তখন অাগের মেসেজগুলো পড়ছিলাম।
-দেখছো অামাদের দুজনের কত মিল?
প্রায় সব কিছুই কেমন করে মিলে যায়।
-হ্যাঁ কিন্তু এবার হয়ত অামাদের সব কিছু শেষ হয়ে যাবে।
-বিয়েটা না করলে হয় না?
-অামি কি করব বল?
অাব্বু-অাম্মু'র বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস যে অামার নেই।
-পারবা মাঝপথ থেকে অারেকজনের হাত ধরে নতুন জীবন শুরু করতে?
-হয়ত পারব,হয়ত পারব না..!
মেয়েদের জীবনটা এত অদ্ভুত কেন বলতে পারো? অামি ভালবাসি তোমাকে,তোমাকে নিয়েই অামার কত স্বপ্ন।
অথচ,দেখ সব ভুলে,সব সব স্বপ্ন ভেঙে,অপরিচিত একটা লোকের সাথে সংসার করতে হবে।
-(এই কথাগুলোর কোন উত্তর আমার জানা নেই)
তাই চুপ করে থাকলাম।
-শুনলাম, এই মাসেই নাকি অামার বিয়ে।
-স্বাগতম..
-তোমার কণ্ঠটা এমন শুনাচ্ছে কেন?কান্না করতেছ ?
-অারে ধুর,না সর্দি লাগছে।
-সর্দি কি এখন হঠাৎ করেই লাগল?
-বাদ দাওনা এসব।
জানো,অামি কখনও রিলেশন করতে চায়নি।
রিলেশনে খুব কষ্ট তাই না?
কিন্তু তোমাকে প্রথমবার দেখার পর থেকেই কি যে হয়েছিল নিজেও জানি না।
কেমন অদ্ভুত ভাল লাগত তোমাকে। রাস্তায় বের হলে অনেক মেয়েই তো চোখের সামনে পড়ত।
কিন্তু যখন তোমার সাথে দেখা করতাম। তখনই কেমন জানি খুব ভাল লাগত।
নি:শ্বাস নিতে কষ্ট হত।কিন্তু এটাই সবচেয়ে ভাল লাগত অামার কাছে।
কেন জানো? কারণ,কোন মেয়েকে দেখে এরকম লাগত না।কিন্তু তোমাকে দেখলেই অামার এমন হত।
তখন বুঝতাম অামি হয়ত সত্যিই ভালবাসি তোমাকে। অামি এই জীবনে কোন স্বপ্নই দেখিনি তোমাকে ছাড়া। শুধু তোমাকে নিয়েই সব স্বপ্ন দেখেছিলাম।
কিন্তু দেখ,সব কেমন শেষ হয়ে গেল।
-( বাচ্চাদের মত করে কাঁদছে পাগলীটা)
-ভাল থেকো..
ফোনটা কেটে দিলাম।
ফোনটা অফও করে দিলাম।হয়ত ও অনেকবার ট্রাই করবে।
রুমে দরজা বন্ধ করে ফেসবুকে ওকে ব্লক করে অাগের মেসেজগুলো পড়ছিলাম।এখন অার মায়া বাড়িয়ে লাভ নেই।তাহলে ওর অারো বেশি কষ্ট হবে।তাইতো ব্লক করে দিয়েছি।
ইশ..!!
কত সুন্দর ছিল সেই দিনগুলো। সেই দিনগুলো কি! দুইদিন অাগের দিনগুলোও।
সারারাত জেগে অামরা চ্যাট করতাম।
কত স্বপ্ন দেখতাম..!
ও অামাকে একদিন খাইয়ে দিবে,একদিন অামি ওকে খাইয়ে দিব।
ওহ হো..!অামাদের বাচ্চার নামও তো ঠিক করে ফেলছিলাম।
ফেসবুকে অনেককেই দেখি নিকনেমে।
সুন্দর করে লিখে রাখে। ছেলে হলে লিখে, ওর(বাচ্চার নাম) অাব্বু। অার মেয়ে হলে লিখে, ওর(বাচ্চার) অাম্মু। অথচ তাদের কিন্তু বিয়েও হয়নি।
এর মানে অামার মত প্রায় সবাই ওদের বাচ্চার নামটা পর্যন্ত ঠিক করে রাখে।
যারা তাদের মনের মানুষটাকে সারা জীবনের জন্য পায়।তারা হয়ত তাদের বাচ্চার নামটা অাকিকা দিয়ে সুন্দর করে অনুষ্ঠান করে রাখতে পারে। কিন্তু যারা তাদের মনের মানুষটাকে পায় না। তখন এই বাচ্চাটা এতিম হয়ে যায়,তাই না?
বাচ্চাটাকে নিয়েও তো কত প্ল্যান থাকে। কিন্তু একটা সময় বাচ্চার মা-বাবাই থাকে না।
বাচ্চা তো এতিম হবেই।
দুইদিন যাবত কোন কিছুতেই মন বসছে না। সারাক্ষণ শুধু চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। অনেক চেষ্টা করছিলাম যেন চোখ দিয়ে পানি না অাসে।
কিন্তু সব চেষ্টাই তো ব্যর্থ।শুনছি ছেলেদের নাকি কাদতে হয় লুকিয়ে।তা না হলে তো চিৎকার করেই কাদতাম..!
এভাবেই অার দুইদিন চলে গেল।পরে শুনলাম ওর নাকি পরশু'ই বিয়ে..!
এত তারাতারি বিয়ে হয়ে যাবে? ছেলের নাকি অাবার চাকরিতে চলে যেতে হবে।
তাই তো এত দ্রুত সব কিছু..!
সকালেই দোকান থেকে কাপরটা ইস্ত্রি করে এনেছি। বিয়েতে যাব একটু পরিপাটি হয়ে তো যেতে হবে নাকি..!
অাম্মুর কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিলাম। অার একটা মাটির ব্যাংক ছিল।
অামি এই ব্যাংকে টাকা জমিয়ে রাখতাম শুধুই অামাদের ফিউচারের জন্য। ভাবতাম বিয়ের সময় কাজে লাগবে। তবে খুবই অল্প অল্প করে টাকা জমাইতাম।
প্রবলেম কি? এখনও তো অনেক সময় বাকী।
ততদিনে অনেক টাকা হয়ে যাবে। কিন্তু এই ব্যাংকটাই অাজ ভাঙতে হল। প্রায় ২৫০০ টাকার মত হয়ে গেছে। এখানে ২৫০০ অার অাম্মুর দেয়া ৫০০।
সব মিলিয়ে ৩০০০..!
পরিচিত একটা কাপরের দোকানে গেলাম।
দেখি একটা সুন্দরী অাপু বসে রইছে দোকানের দেয়া চেয়ারে। হয়ত তিনিও কেনাকাটা করতে এসেছেন।
-অাপু একটু হেল্প করবেন?
-কি হেল্প?
-অামি একটা শাড়ী কিনব।অাপনি একটু পছন্দ করে দিবেন?
-হ্যাঁ নিশ্চয়ই।
অনেক খুজে একটা নীল রংয়ের শাড়ী পছন্দ করলাম।যদিও অাপু কয়েকটা শাড়ী পছন্দ করে দিছিল। কিন্তু ভাল লাগেনি..!
-এইটাই নিব।
-এটা খুব সুন্দর।কার জন্য নিচ্ছেন?
-অামার ভালবাসার মানুষটার জন্য।
-গার্লফ্রেন্ড?
-হাহা হুমম।
-পছন্দ করবে খুব।
-অামি ১ টাকার জিনিস দিলেও খুব পছন্দ করবে।অার এটা তো অবশ্যই পছন্দ করবে।
(একবার কমদামী একটা শো পিছ দিয়েছিলাম।
মাঝখানে একটা মেয়ে একটা ছেলের কাছে মাথা রেখে পরম নিশ্চিতে চোখ বুঝে আছে।
এটা দেখে বলেছিলো..
এভাবে নিশ্চিতে সারা জীবন আমার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাতে পারবে।সেই আধিকারটুকু কবে দিবো?)
চল্লিশ টাকা রিক্সা ভাড়া লাগবে ওদের ওখানে যেতে।অন্যদিন হলে ভ্যান বা অটো দিয়ে যাইতাম।
পনেরো টাকা লাগত।কিন্তু অাজ রিক্সা দিয়েই যাচ্ছি।
কিছুক্ষন পর..
-মামা তুমি কি বিয়ে করছ?
-হ মামা।
-বউরে ভালবাস খুব?
-হাহাহাহাহ কি যে কও মামা..!
(লজ্জায় নববধূর মত গারো লাল রং ধারণ করেছে রিক্সাওলা মামার মুখ।)
-অাচ্ছা দাড়াও এসে পড়ছি। এই নাও চল্লিশ টাকা তোমার ভাড়া।
অার তোমায় অামি একশ টাকা দিলাম।ষাট টাকা থাকবে। এটা দিয়া কিন্তু অন্য কিছু করবা না।
বউয়ের জন্য কিছু কিনে নিয়ে যাবা।
তিনি যে হা করছেন..!
মনেহয় এরকম অবাক অাগে অার হননি।
বিয়ে বাড়িতে চলে গেলাম। চারদিকে খুব অায়োজন। বুঝতে হবে খুব খরচ করছেন বিয়েতে।
অামি একটা দেরী করেই মনে হয় এসেছি।
ততক্ষণে বিয়ের পর্ব শেষ।
ভিতরে গিয়ে দেখি..
ছেলে অার মেয়ের একসাথে ছবি তুলা হচ্ছে।
অামি কি মনে করে দৌড়ে ওখানে চলে গেলাম।
-ভাইয়া ভাল অাছেন? অামি অাপনার বউয়ের বেষ্ট ফ্রেন্ড ছিলাম।
-ওহ অাচ্ছা, হ্যাঁ ভাল। তুমি ভাল অাছ?
-অামি?হ্যাঁ হ্যাঁ ভাল অাছি।
ও শুনেন অাপনাদের সাথে একটা সেলফি তুলার খুব ইচ্ছে ছিল।
-হ্যাঁ তুলো।
পরপর কয়েকটা সেলফি তুললাম।
ভাল থেকো ( ভালবাসা )
ভালবাসা শব্দটা খুব অাস্তে করে বলছিলাম।
হয়ত শুনতে পেয়েছিল হয়ত না।
ও হয়ত খুব অবাক হয়ে গেছিল অামার এরকম কর্মকান্ড দেখে।
কারণ,যখন সেলফি গুলো দেখছিলাম তখন দেখি ক্যামেরার দিকে নয় অামার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে অাছে।
অাসার সময় খুব কান্না করতেছিল।
অামি তো জানি ও কেন এত কান্না করতেছে।
যদি সমাজের নিয়মের বেড়াজালে ও অাটকে না থাকত। তাহলে হয়ত চিৎকার করে বলত..
-এই ছেলেটাকে অামি ভালবাসি।অার বিয়ে করলে ওকেই করব।
কিন্তু তা অার সম্ভব না।
অসহায় দৃষ্টিতে মেয়েটা সবকিছু দেখে যাচ্ছে।
অামি বলছিলাম সবাইকে..যে, ও তো ওর অাম্মু-অাব্বু কে ছাড়া কোথাও যায় না।এখন একবারে চলে যাচ্ছে। হয়ত তাই এত কাদছে।
কিন্তু অামি জানি ও শুধু অামার জন্যই কাদছে।
হয়ত কান্না অাটকে রাখতে পারেনি। পারবেই বা কি ভাবে?
ও হ্যাঁ অাসার সময় ওর হাজবেন্ড অামায় একলা করে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাস করেছিল..
-তোমার ফ্রেন্ড কি কি পছন্দ করে একটু বল?
-ভাইয়া,ও অন্ধকার খুব ভয় পায়। অার বৃষ্টিতে ভিজতে ভালবাসে।অামাকে বলত বিয়ের পর নাকি ওর হাজবেন্ডের সাথে বৃষ্টিতে খুব ভিজবে।অার শীতের সকালে দুজন খালি পায়ে শিশিরের উপর দিয়ে হাটবে। অাপনি ওর এই ইচ্ছাগুলো পূরণ করলেই হবে? প্লিজ করবেন?
-চেষ্টা করব।
-অার একটা কথা রাখবেন?
ওয়াদা করেন?
-কি কথা বল?
-ও খুব ভাল সহজসরল একটা মেয়ে। প্লিজ ওকে কখনও কষ্ট দিয়েন না?
বলেন খুব ভাল রাখবেন ওকে?
-চেষ্টা করব।
-থ্যাংকস। ভাল থাকবেন দুজনই।
শুভ বিবাহিত জীবন।
বাড়ি থেকে চলে যাচ্ছিলাম। তখন পিছন থেকে একটা মেয়ে ডাকছিল।
-ভাইয়া?
-জ্বী, বলুন।
-অারে অাপনার গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা হয়েছে?
তখন দেখি সেই কাপড়ের দোকানে যে মেয়েটাকে নিয়ে শাড়ীটা কিনেছিলাম,এই মেয়েটাই ও।
চোখ তো পানিতে ঝাপসা ছিল।তাই অাগে স্পষ্ট দেখিনি।
-অাপনি এখানে কেন?
-বিয়ে খেতে এসেছি,মানে বিয়ের দাওয়াত।
-ও অাচ্ছা,হ্যাঁ দেখা হয়েছে। ওই যে,দেখছেন দাড়িয়ে বরের সাথে (হাত দিয়ে ইশারা করে) ছবি তুলছে? ও ই অামার ভালবাসার মানুষ।
অার কিছু না বলে চলে অাসলাম।
এই মেয়েটাও খুব অবাক হয়ে গেছে।
কাউকে চমকে দিতে ভালই লাগে।
অার এই মেয়েটা কাউকে বলবে না। যে,অামি অাজ যার বিয়ে হচ্ছে তার বয়ফ্রেন্ড ছিলাম।
ওর চোখ দেখেই তা বুঝেছি।
বাসায় চলে যাচ্ছি। হঠাৎ একটু ফেসবুকে ডুকলাম। দেখি হোমপেইজে প্রথম ষ্ট্যাটাসটায় একটা ফ্রেন্ডের।
তিন শব্দে একটা কষ্টের গল্প লিখুন..
সবাই অনেক কিছুই লিখছে।
অামিও লিখলাম..
অাজ তার বিয়ে..
নিজেকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করতে হবে। কারণ,এখন রোজ সকালে কেউ তো অার বলবে না।
"শুভ সকাল, উঠো,আর কত ঘুমাবা?
বা রাত্রে ''শুভ রাত্রি,এখনই ঘুমিয়ে পড়ো,ফেসবুকে যেন না দেখি"
না খাইলেও বলবে না "ওই হাদারাম,এখনই খেয়ে নাও।না খেলে শরীর খারাপ করবে"
কোথাও গেলে কেউ বলবে না "সাবধানে যেও"
এরকম মেসেজগুলো অার অাসবে না।
সব রুটিন পরিবর্তন হয়ে যাবে। সব কিছু নিজেকেই সময় মত করতে হবে।
হয়ত অাজ রাতে খুব কাঁদবো,অবশ্যই কাঁদবো? কেনই বা কাঁদব না? অামি তো এমন একটা দিন চায়নি।
ও কোন ছেলের সাথে কথা বললেও অামার খুব কষ্ট হত। বলতে দিতাম না।
ভাবতাম যদি কেউ কেড়ে নেয় অামার কাছ থেকে? অথচ অাজ,ও অপরিচিত একটা মানুষের হয়ে গেল সারা জীবনের জন্য।
অার অামিও হাসি মুখে তা দেখে অাসলাম। বড্ড মানিয়েছে ওদের দুজনকে।
এখন দুজন সারা জীবন সুখে থাকলেই হয়। ভালবাসলেই পেতে হবে এমন তো কোন কথা নেই। ভালবেসে,ভালবাসার মানুষটাকে সুখে দেখার নামই হল ভালবাসা।সুখে থাকুক ওরা।
একদিন ওর মেমরিটা নিছিলাম।ওর পিক নেয়ার জন্য।
তখন পি.সি. থেকে কয়েকটা মুভি,নাটক লোড করে দিছিলাম।
এর মাঝে কাছে অাসার গল্প,নিলয় অার শখের ( পেন্সিলে অাকা ভালবাসা) । অার,তাহসানের নাটকও দিছিলাম।
সব গুলো নাটকের গল্পই কি চমৎকার..!
কি ভালবাসা!কিন্তু রিয়েল লাইফে নিলয় ভাইয়া অার শখ অাপুর নাকি ডিবোর্স হয়ে গেছে..!
তাহসান-মিথিলার কথা তো সবাই জানি।
তবে কি অামি ধরে নিব?
এসব এত প্রেম-ভালবাসা,ভ
ালবাসার মানুষটার সাথে ক্যান্ডেললাইট ডিনার,কুয়াশার মাঝে দুজন হারিয়ে যাওয়া,সব কল্পনাতেই সুন্দর?
তাহলে ঠিকাছে অামি ওকে এখন থেকে অারও বেশি ভালবাসব হোক না সেটা কল্পনায়।
ওর সাথে অার কখনও কথা হলে এই কথাটাই বলতাম।
অাগে কোন স্বপ্নই দেখতাম না তোমাকে ছাড়া।
অার এখন সব স্বপ্ন দেখতে হবে শুধু তোমাকে ছাড়া..!
(T+S)

08/06/2018

সামনের মাসেই বুশরার বিয়ে ৷ (কিছুটা গম্ভীর ভাবেই বলল ভাইয়া)
শাওয়ার থেকে বের হয়ে সবে নিজের রুমের পথে পা বাড়িয়েছি আর ভাইয়া এমন একটা খবর শোনালো ৷ আরো কিছু শোনার জন্য সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকলাম ৷
- অনেক তো হলো,এবার তোর একবার দেশে যাওয়া উচিত ৷
- কোন বুশরা?
- আমার সাথে এসব ন্যাকামো করতে আসবি না ৷ যা বললাম সেটা কর ৷
- ভেবে দেখব ৷
তোয়ালে টা গায়ে জড়িয়ে ব্যালকনির দিকে হাঁটা দিলাম ৷ ভাইয়া একটু আগে যে চমকটা দিলো সেটার ঝাঁঝ কমতে একটু সময় লাগবে ৷
বুশরা,
এই একটা নামের মধ্যে আমার হাজারো স্মৃতি লুকিয়ে আছে ৷ অনেক কষ্টে সেইসব স্মৃতি ভুলতে পেরেছি,নতুন করে আর মনে করতে চাই না ৷
ঝাঁঝটা মনে হয় একটু কমেছে ৷ এবার অফিসে যেতে হবে ৷
অন্য দিনের তুলনায় একটু লেট হলো ৷ নাহ,দ্রুত কাজ শুরু করতে হবে ৷ কিন্তু আজ সব কিছু এলোমেলো লাগছে ৷ ফাইল একটু ঘাঁটাঘাঁটি করলাম কিন্তু কাজে মন বসছে না ৷
বারবার শুধু মাথায় একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে বুশরার বিয়ে, আমার যাওয়া উচিত ৷
হ্যাঁ আমাকে যেতেই হবে ৷
- হ্যালো ভাইয়া ৷
- হুম বল
- আমি দেশে ফিরতে চাচ্ছি ৷
- গুড ডিসিশন,আমি ব্যাবস্থা করছি ৷
ফ্লাইটে বসে আছি ৷ ৬ বছর পর দেশে ফিরছি ৷ বাবা-মার সাথেও দেখা হয়নি অনেকদিন ৷ যদিও ওনারা মাঝে মাঝে এসে দেখা করে যেতেন ৷ এখানে ভাইয়া ভাবীর সাথে থাকতে খারাপ লাগে না,এক প্রকার অভ্যাস হয়ে গেছে ৷ ছয় বছর আগে যখন এই মাটিতে পা দিয়েছিলাম তখন ভাবি নি এতদিন এখানে থাকতে পারবো ৷ হয়তো কোনো একজনের থেকে দূরে থাকার জন্যই থাকতে পেরেছিলাম আর আজ তার বিয়েতেই যেতে হচ্ছে ৷
ছোট বেলা থেকেই বাংলার মাটিতে বড় হয়েছি ৷ ভাইয়া যদিও লেখাপরা শেষ করেই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায় ৷ কিন্তু আমি সবাইকে গর্ব করে বলতাম আমার এই মাতৃভুমি ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না ৷ আর সেই আমি ছয় বছর দেশের বাইরে ছিলাম ৷ লোকে হয়ত এটা নিয়ে অনেক হাসি তামাশা করছে,করবেই তো ৷ কিছু মানুষের কাজই এটা ৷ নিন্দা না করলে তাদের পেটের ভাত হজম হতেই চায় না ৷
স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে যখন কলেজে উঠলাম তখন বুশরার সাথে কাটানো মুহূর্ত গুলো আমার কাছে রোজগার রুটিন হয়ে গেছিলো ৷ অন্যকেউ হয়ত তার কাজিন এর সাথে এতটা ঘনিষ্ঠ হয়নি,অন্তত আমি তো হতে দেখিনি ৷ তবে কখনো ওর প্রতি আলাদা ফিলিংস কাজ করত না ৷ ওর সাথেই বাকি জীবনটা কাটাতে হবে এরকম কোন চিন্তুা আমার মাথাতেই আসেনি ৷
সেই একটা দিন আমার জীবনের মোর ঘুরিয়ে দিয়েছিলো ৷ দিনটা ছিলো ছোটকুর বার্থডে ৷ পরিবারের সব থেকে ছোট ছেলে হওয়ায় ওর আদরের কমতি ছিলো নি ৷ আর বড় ভাইয়ার অবর্তমানে আমি ছিলাম পরিবারের বড় ছেলে ৷ আমার উপর পাহাড় সমান কাজের দায়িত্ব ছেরে দিয়ে বুশরা ডেং ডেং করে ঘুরে বেরাচ্ছিল ওর বান্ধবীদের সাথে ৷ মাঝে মধ্যে আমার কাছে এসে এটা ওটা হুকুম করে যাচ্ছিল ৷ বুশরার রুমের পাশের রুমটা ছিল স্টোর রুম ৷ ওখানে থেকে কিছু জিনিসপত্র আনতে গিয়ে আমি মেয়েদের হাসির শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম ৷ স্বাভাবিক, বুশরা ওর বান্ধবীদের সাথে কিছু একটা নিয়ে আলোচনা করছিলো কিন্তু স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছিল না ৷ অন্যের ঘরে আঁড়ি পাতা অন্যায় যেনেও ওই কৌতুহল বসত হয়ে আঁড়ি পেতেছিলাম,
- ওর সাথে কাটানো মুহূর্ত আমি কখনোই ভুলতে পারবো না ৷ বাকিটা জীবন ওর সাথেই কাটাতে চাই ৷ ওকে হয়ত ভালবেসে ফেলেছি ৷ (বুশরা)
- তাহলে বলছিস না কেনো? (ওর একটা ফ্রেন্ড)
- বাবা মানবে না রে ৷ আমার পরিবারে এসব এলাউ না ৷
- কোন পরিবারে এসব এলাউ বলবি আমায়? শুরুতে একটু রাগারাগি করবে পরে এমনিতেই সবাই মেনে নেবে ৷
- নাহ রে,এই সম্পর্কের কোন ভবিষ্যৎ নেই ৷ তাই আমি এগোতে চাই না ৷
মাথা চক্কর খাচ্ছিল এসব শুনে ৷ বুশরা আমাকে ভালোবাসে, কিন্তু ওর বাবার জন্য এগোতে পারছে না ৷ ওর বাবা অর্থাৎ চাচ্চু তো আমাকে ভালোই আদর করে তাহলে ভয় পাচ্ছে কেনো ৷ নাহ,ওর ভয় কাটাতে হবে ৷ তেমন হলে আমিই ওকে বুঝিয়ে বলব ৷ মনে মনে কেন যেনো খুব খুশি হলাম ৷
এরপর থেকেই বুশরাকে আরো বেশি সময় দিতে থাকলাম ৷ কলেজে দুইজন একসাথেই যাওয়া আসা করতাম ৷ আমি শুধু একটা সঠিক মোমেন্টের অপেক্ষায় ছিলাম ৷ যদিও বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি ৷
ওর মামার বিয়েতে আমাদের সকলকে ইনভাইট করা হয় ৷ ও এই ট্রেন সফরে খুব এক্সাইটেড ছিলো আর আমি এই সুযোগ এরই অপেক্ষায় ছিলাম ৷
সকাল থেকেই ওকে বেশ খুশি খুশি লাগছিলো ৷ কয়েক বার তো আমার পাশে ঘুরঘুর করতেও দেখলাম ৷ আমার কেনো যেনো মনে হচ্ছিল ও আমাকে কিছু বলতে চায় কিন্তু তাতে কি, একই কথা তো আমিই ওকে বলছি ৷ ব্যাপারটা তো একই দাঁড়ালো ৷
ট্রেনের মধ্যে অনেকবার চেষ্টা করলাম ওকে বলার কিন্তু আমার মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছিল না ৷ একটা অজানা আতংক আমার ভেতরে কাজ করছিলো ৷ কিন্তু কেনো এরকম হচ্ছিলো ৷ আমি তো জানি ও আমাকে ভালবাসে ৷ তবুও বার বার নার্ভাস ফিল করছিলাম ৷ মনকে এই বুঝ দিলাম যে বিয়ে বাড়িতে গিয়ে বলব ৷
কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল সময় যেনো খুব দ্রুত গতিতে ছুটছে ৷
বিয়ে বাড়িতে সবার মুখেই হাসি-হাসি ৷ কিন্তু আমার মাথায় বিভিন্ন চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে ৷ তাই আর দেরী না করে ওকে বলতে যাই ৷
- বুশরা,শোন একটু ৷
- হ্যাঁ বল ৷
- কিছু কথা ছিলে ৷
- বাসায় গিয়ে বলিস ৷
- নাহ এখনই বলতে চাই ৷
- আচ্ছা বল ৷
- এখানে না,বাইরে চল ৷
- ঠিক আছে চল ৷
- দেখ যা বলছি মন দিয়ে শুনবি আর একটা প্রশ্ন ও করবি না ৷
- ঠিক আছে ৷
- দেখ, আমরা ছোট্ট বেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছি কিন্তু সবসময় তোকে আমার কাজিন না বরং একটা বন্ধু ভেবে এসেছি ৷ কখনও অন্য ভাবে তোকে নিয়ে ভাবি নি ৷ (ওকে দেখলাম বেশ মনযোগী হয়ে আমার কথাগুলো শুনছে )
তুই জানিস তোর সাথে আমি সব থেকে বেশি সময় কাটিয়েছি ৷ বন্ধু বান্ধব আমার খুব কম ছিলো ৷ তোকেই সবসময় বন্ধু ভেবে এসেছি ৷ আর আজ তোকেই আমি আমার পাশে চাচ্ছি ৷ এক দুই বছরের জন্য না, সারা জীবনের জন্য ৷ আমি জানি না প্রোপোজ কিভাবে করতে হয় ৷ আমার সব মেয়ে ফ্রেন্ড গুলো তোর কারণে ভেগেছে ৷ তাই মেয়েদের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় আমি জানিনা ৷ এতদিন তো তোর সাথে ছেলেদের মতোই ব্যাবহার করছি ৷ কিন্তু আজ কেনো যেনো সব এলোমেলো লাগছে ৷ (একটু দম নিয়ে,)
আমি তোকে ভালবাসি রে ৷ তোকে হয়ত রাণীর মতো করে রাখতে পরবো না কিন্তু জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত তোর সাথে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে পারি ৷ পাঁচ তারা হোটেলে নিয়ে গিয়ে হয়ত কেন্ডেল লাইট ডিনার করাতে পারবো না কিন্তু পারার ফুসকার দোকানে বসে ঝালে লাল হয়ে যাওয়া তোর মুখটার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারব ৷ সেই অধিকারটা দিবি??
- আমাকে প্রশ্ন করতে বারণ করেছিলি তাই করিনি কিন্তু এসব কি? যদি জানতাম এরকম কিছু করবি আসতামই না ৷ আমি তোকে ফ্রেন্ড ছাড়া বেশি কিছু ভাবি না ৷
- দেখ মিথ্যা বলবি না,আমি জানি তুই আমাকে ভালোবাসিস ৷
- ভুল জানিস তুই ৷ আমার কখনো মনেই হয়নি তোকে ছাড়া বাঁচবোনা ৷
- ঠিক আছে কিন্তু আমরা বিয়ে করলে তো দুইজনই খুশিতে থাকবো না? বাবা-মা কে বললেই আমাদের বিয়ে ঠিক করবে ৷
- আমরা না,তুই খুশিতে থাকবি ৷ আমি না ৷
- কিন্তু তোর সমস্যাটা কোথায়?
- তুই আমার সমস্যা ৷ এতক্ষণ যেগুলো বললি সেগুলো আমার সমস্যা ৷
এটা বলেই হনহন করে ভেতরে চলে গেলো ৷ আমি কিছুই বুঝলাম না ৷ হাজারটা প্রশ্ন আমার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল ৷ সেদিন কি তাহলে সব ভুল শুনলাম? সেটা কিভাবে সম্ভব ৷
এরপর দুইদিন আমার সাথে আর ওর কোন কথা হয়নি ৷ যতবারই কথা বলতে গেছি এরিয়ে গেছে ৷
তৃতীয় দিন সকালে পুকুর পারে বসে ব্রাশ করছিলাম ৷ হঠাৎই ও কোথায় থেকে যেনো হন্ত দন্ত হয়ে এসে ঝারি গলায় বলতে শুরু করল,
- এবার তো তুই খুব খুশি তাই না? এসব তোরই কাজ তাই তো? আমার জীবনটাকে শেষ করে না দিলে তোর চলছিলো না?
- মানে কিছু বুঝলাম না ৷
- সাধু সাজার চেষ্টা করবি না ৷
- আমি সত্যই তোর কথার মাথা মুন্ডু কিছুই বুঝতাছি না ৷
- বাবা তোর সাথে আমার বিয়ে ঠিক করছে ৷
- কিহহ তাই নাকি? জীবনে প্রথম বার তোর বাবা একটা ঠিক কাজ করলো ৷
- জুবায়ের, যদি ভেবে থাকিস আমি তোকে বিয়ে করলে সুখি হব তাহলে বড্ড বড় ভুল করছিস ৷
(গম্ভীরভাবে কথাটা বলে ওর বাসায় ঢুকে গেলো)
- মা তোমরা কি শুরু করেছো বলোতো ৷
- কেনো কি হয়েছে? (মা)
- আমাকে না জানিয়ে আমার বিয়ে ঠিক করে দিলে? এই স্বাধীন দেশে ভোটের সময় একজন ভিখারীর মতামতও নেয়া হয় আর আমার বিয়ে নিয়ে আমার কোন মতামত শুনতে চাইলে না???
- কেনো,বুশরা কে তোর পছন্দ না?
- কে বলেছে পছন্দ না কিন্তু,
- কোন কিন্তু নেই ৷ আর তোদের বিয়ে তো আজই হচ্ছেনা ৷ শুধুমাত্র ঠিক করে রাখলাম ৷ লেখাপড়া শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়া তারপর ৷
- সেটা নয়ত দাঁড়াবো কিন্তু
- আবার কিন্তু কিন্তু করে, যা তো এখান থেকে ৷
কেউ আমার কথা শুনলোই না ৷ তবে না শুনে ভালোই হয়েছে ৷ বুশরার সাথে বিয়েটা তো হচ্ছে ৷ বিয়ের পর ঠিক ম্যানেজ করে নেবো ৷
ভাবছি বুশরাকে একটা শাড়ি দিলে কেমন হয়? যেই ভাবা সেই কাজ ৷
শহরে এসেছিলাম অন্য একটা কারণে,এই সুযোগে শাড়ি চাও কেনা যাবে ৷ বেশ ভালো মানের একটা শাড়ি কিনে বের হতে হতে মনে হলো বুশরা কে যেতে দেখলাম ৷ এটা কিভাবে সম্ভব,ও এখানে আসবে কিভাবে ৷ নাহ,ওটাতো বুশরাই ৷ সাথে একটা ছেলেও আছে আর ও ছেলেটার হাত ধরে রেখেছে ৷
আমার কেনো যেনো সহ্য হল না ৷
- বুশরা এই ছেলেটা কে?
আমাকে দেখে কিছুটা হকচকিয়ে গেছে,
- জুবায়ের শোন,শান্ত হো আমি বলছি ৷
- তুই তোর হাত ধরে আছিস কেনো?
ছাড় বলছি
- আমার কথা শোন ৷
- তোকে ছারতে বলছি না?
ছাড় ওকে (বেশ উচ্চ স্বরেই বললাম কথাটা)
- ঠাসসসসসসস
ছাড়বো না ৷ কেনো ছাড়ব,আমি ওকে ভালবাসি ৷ আর তুই আমাদের মধ্যে কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছিস ৷ কে বলেছিলো বিয়েতে হ্যাঁ করতে? আমি বলেছিলাম? কতবার বলবো তোকে আমি ভালবাসিনা ৷ কুকুরের মতো আমার পিছে পরে আছিস কেনো?
কথাটা শুনে কিছুটা স্তব্ধ হয়ে গেলাম,
- ঠিকই বলছিস ৷ কুকুরের মতোই পরে ছিলাম আর একদিন এই কুকুরের জন্যই তোকে আপসোস করা লাগবে ৷
- আমি আসলে সেভাবে বলতে চাই নি,,,,,,
শোন, যাস না
কিছুক্ষণ এর জন্য চারপাশটা অন্ধকার লাগছিলো ৷ কিছুদিন আগেও এই মেয়েটা সারাদিন আমাকে নিয়েই মেতে থাকতো আর আজকে একটা ভরা শপিং মলে এতগুলো লোকের সামনে কুকুর বলতেও ওর গলা কাঁপলো না ৷ ওইদিনের ঘটনার পর বাসায় ফোন দিয়ে সব জানাই আর পাসপোর্ট রেডি করতে বলি ৷
ভাইয়া অনেকবার ওর ওখানে গিয়ে থাকতে বলেছে ৷ দুইভাই বিদেশে থাকলে পরিবার এরই লাভ ৷ কিন্তু আমিই যাইনি,কিছু একটার টানে এখানেই থেকে গেছি ৷ কিন্তু এখন যাবো বলে ঠিক করলাম ৷ মাঝের সময়টা ঢাকার এক বন্ধুর বাসায় ছিলাম ৷ তারপর উরাল দেই অন্য দেশে ৷ ওখানে ভাইয়ার কাছে থেকেই লেখাপরা টা শেষ করেছি ৷ আর সবে একটা চাকরিতে ঢুকেছি ৷
আজ এতগুলো বছর পর দেশের মাটিতে পা রেখে অসম্ভব একটা ভাললাগা কাজ করছে ৷ বাসায় ফিরছি সবাই জানতো ৷ বাস স্টান্ডে ছোট চাচা নিতে এসেছিলে ৷ খুব খুশি খুশি দেখচ্ছিল ওনাকে ৷ খুশি হবারই কথা ৷ বাসায় ঢোকার সাথেই সাথেই আত্মীয় স্বজনদের ঝামেলায় পরলাম ৷ হাজারটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে অতি কষ্টে শয়নের একটা জায়গা পেলাম ৷ তারপর লম্বা একটা ঘুম ৷ সন্ধায় ঘুম ভাঙ্গল বাচ্চাদের চেঁচামেচিতে ৷ চোখ খুলেই দেখি একদল বিচ্চু বাহিনী আমার খাটে অবস্থান করছে ৷ তাদের দলনেতা আমার বুকের উপর বসে এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে ৷
কিছু কিছু বিষয় আমার কাছে রহস্যময় লাগছে ৷ সত্যই বুশরার বিয়ে হচ্ছে তো ৷ হয়ত হচ্ছে,কিন্তু বিয়ের আগেরদিন আমার সব আত্মীয় স্বজনরা এখানে কি করছে ৷ মামা,মামী,খালা,খালু সবাই এসেছে ৷ এমনকি আমার বন্ধুগুলোও,এত দিন পর ফিরলাম এজন্য হয়তবা কিন্তু তাও খটকা আমার মন থেকে যাচ্ছেনা ৷
- মা এসব এর মানে কি? (আমি)
- কোন সব? (মা)
- বাসায় এত ভিড় কেনো? সবাইকে এক সাথে আসা লাগে?
- আরে তোর বিয়ে আর ওনারা আসবে না?
- আমার বিয়ে? এসব কি বলছ?
- ঠিকই বলছি ৷ কাল তোর বিয়ে,বুশরার সাথে ৷
- তাহলে আমাকে তোমরা মিথ্যা কথা বলে নিয়ে এসেছে?
- এছাড়া তো আর কোন উপায় ছিলো না ৷ (বাবা)
- তোমরা সবাই মিলে ধোকা দিলা আমায় ৷ আগেও এই ভুলটা করছিলা যার দরুণ তোমাদের ছেলে এতগুলো দিন তোমাদের থেকে দূরে থেকেছে আবার সেই ভুলটা করো না ৷ তাছাড়া ওর অন্য চক্কর আছে ৷
- দেখ,মেয়েটা অনেকবার ক্ষমা চেয়েছে ৷ তোর সাথেও তো যোগাযোগ করার অনেক চেষ্টা করেছে, তুই নিজেই করিস নি ৷ ওকে বিয়ের কথা বললে একটা কথাই বলছে তোকে ছাড়া অন্য কাউকে করবে না ৷ (মা)
- কেনো? সেই ছেলেটা গেলো কই ৷ এতো ভালোবাসা কি জানালা দিয়ে পালালো?
- আমি অত সব জানি না ৷ তোর ইতিমধ্যেই একবার বিয়ে ভেঙ্গেছে আবার উল্টো পাল্টা কিছু হলে তোর বাবার কিছু একটা হয়ে যেতে পারে ৷
মা কে বলা না বলা সমান,ইমোশনাল ব্লাকমেইল শুরু করে দিছে ৷ তবে এখনো পর্যন্ত বিয়ের কণেকে দেখলাম না ৷
আজ আমার বিয়ে,যা জানতেই পারলাম কিছু ঘন্টা আগে ৷ সকালে ঘুম থেকে উঠে কিছুটা অবাক হলাম ভাইয়ার গলা শুনে ৷ পাশের ঘর থেকেই তো আসছে ৷ একি,ভাইয়া ভাবিও চলে আসছে ৷
- তারমানে সব প্লান করা ছিলো আগে থেকে? (আমি)
- হুম দেবরজি ৷ সারপ্রাইজ দিলাম আরকি ৷ (ভাবী)
- বিয়েটা হোক,বাসর রাতেই কেটে পরব (বিরবির করে বললাম)
- ওটি হচ্ছে না,তোমার পাসপোর্ট তো আমার কাছে ৷ (ভাইয়া)
নিরুপায় হয়ে খাটে বসে পরলাম ৷
সন্ধ্যায় বিয়েটা হয়ে গেলো ৷ এখনো পর্যন্ত বুশরার দিকে তাকাইনি ৷ ওকে দেখানো দরকার আমার রাগ এখনো পরে নি ৷
বেশ ভালো মানের একটা চেয়ারে বসে এদিক ওদিক তাকাচ্ছি ৷ বরদের নাকি মুখে রুমাল দিয়ে লজ্জা করা লাগে,আমার বাবা অতো লজ্জা সরম নাই ৷ অন্যদের উপর নজর রাখার কাজটা চালিয়ে গেলাম ৷ একটা ছেলের কাছে গিয়ে চোখ আটকে উঠলো ৷ এটা তো সেই ছেলেটি, যার সাথে বুশরাকে দেখেছিলাম ৷ পাশে একটা মেয়েকেও দেখলাম ৷ মেয়েটাকে আমি চিনি, বুশরার ফ্রেন্ড ছিলো ৷ ছেলেটার হাত ধরে আছে ৷ এই আপদটার জন্যই আজ আমার লাইফের এই অবস্থা, আর আমার বিয়েতেই অন্য একটা মেয়েকে নিয়ে আসা হয়েছে,দেখাচ্ছি মজা ৷ চেয়ার থেকে উঠতে যাবো তখনি ছোটকু এসে বাধা দিলো,ওর নামটাই এখনো বলা হয়নি,নিলয় ৷
- সর উঠতে দে,ওই বেটাকে দেখাতে হবে আমি কে ৷
- বরকে এসব করতে নেই ভাইয়া ৷ তাছাড়া উনি তো দোলা আপুর হাসবেন্ড ৷
- সাহস কত দেখেছিস,প্রেম করলো বুশরার সাথে আর বিয়ে করছে ওর ফ্রেন্ডকে ৷
- ধেৎ বুশরা আপুর সাথে কেনো প্রেম করবে ৷ ওইটা তো দোলা আপুরই বয়ফ্রেন্ড ছিলো ৷ আট বছর প্রেম করার পর বিয়ে করেছে ৷
- তাহলে ওই দিন শপিং মলে যে বুশরা বলল,
- হ্যাঁ তুই চলে যাওয়ার কিছুদিন পর সবার সামনে আপু সব খুলে বলেছিলো ৷ বিয়েটা আপু তখন করতে চায়নি তাই দোলা আপুর বয়ফ্রেন্ডকে নিজের বয়ফ্রেন্ড সাজিয়ে তোকে দেখাতে চেয়েছিল আর এ বিষয়ে কথা বলার জন্যই ওইদিন শপিং মলে ওনারা মিট করে, সাথে তো দোলা আপুও ছিলো ৷ তুই খেয়াল করিস নি?
- বিয়েতো শুধুমাত্র ঠিক হয়েছিল ৷ হওয়ার কথা ছিলো অনেক দেরীতে ৷
- সেটা আপু জানত না ৷
এসব শুনে তো রাগ আরো একধাপ এগিয়ে গেল ৷ তবুও দাঁতে দাঁত চেপে সব সহ্য করছি ৷
মানুষের জীবনের অন্তত গুরুত্বপূর্ণ রাত নাকি বাসর রাত ৷ এখন আমি দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে আছি ৷ অনেকক্ষণ হলোই দাঁড়িয়ে আছি তাই এবার ভেতরে ঢোকা দরকার ৷
খাঁটের উপর আটোসাটো মেরে বসে আছে বিয়ের কণে ৷ আমার ওতে বিন্দু মাত্র আগ্রহ নেই ৷ জানালার পাশে গ্রিলটা ধরে দাঁড়িয়ে থাকলাম ৷ একটু পরই আমার হাতের উপর আরেকটা হাত অনুভব করলাম ৷ পাশে বুশরার উপস্থিতি ও টের পেলাম কিন্তু এখনো পর্যন্ত ওর দিকে একবারও তাকাইনি ৷
- কথা বলবে না আমার সাথে (বুশরা)
- নিরববববববব
- তোমার রাগ করাটা স্বাভাবিক ছিলো তাই বলে এতগুলো বছর সবাইকে ছেরে দূরে থাকবে?
- নিরববববববব
- আমি জানি আমি ভুল করেছি তোমার ফিলিংসকে এভাবে অপমান করা আমার ঠিক হয়নি ৷ এখন বল আমি কি করতে পারি? পায়ে ধোরে মাফ চাবো?
- এসব করার দরকার নেই ৷
- তাহলে মন থেকে মাফ করে দাও আমায় ৷
- এতটা সহজ না ৷ আমার সময় লাগবে ৷
- এতগুলো বছর তোমার কাছে কম লাগে?
আমি তোমার থেকে আর দূরে থাকতে পারবো না,প্লিজ আমায় আপন করে নাও ৷
পিছন দিক দিয়ে জরিয়ে ধরেছে,নাহ নিজেকে কন্ট্রোল করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে ৷ আমিও আর পারব না দূরে থাকতে,
- এই পাগলি কাঁদছো কেনো?
- কই কাঁদছি,এটা তো খুশির কান্না ৷
- তাই? কেন্ডেল লাইট ডিনারে নিয়ে যেতে পারব না কিন্তু ৷ পারার ফুসকার দোকান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে ৷ রাজি?
- রাজি রাজি রাজি ৷ আমার কিছু চাইনা শুধু তোমাকে চাই ৷
পাগলিটাকে আমার বুকে আশ্রয় দিলাম,
- কিন্তু আমার যে চাই,তোমার বাবা মানে আমার চাচা মানে শ্বশুর আব্বার এত সম্পত্তি গুলো তো জলে ফেলে দিতে পারি না,কি বলো? হাহাহা
- তবে রে,
কিছু কিল ঘুসি বুকে অনুভব করলাম ৷ মারুক না,মারুক
ভালবাসায় মোরানো কিল ঘুসি থেকে যদি ভালো কিছু হয়, ক্ষতি কি??

Address

Bhola
Barisal

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Tunan-Tanvir posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share