Barisal Khabar

Barisal Khabar আলোর পথে জনতার ভাষা "বরিশাল খবর" ভিজিট করুন... www.barisalkhabar24.com

Barisal Khabar known as “Barisal khabar” is a 24/7 hour News of Bangladesh and International

Contact Us:
Email: [email protected],
[email protected]

News update visit our website :
https://www.barisalkhabar24.com

google play stor apps link : https://play.google.com/store/apps/details?id=com.barisal.khabar.twentyfour. Like barisal khabar on page : https://www.fa

cebook.com/barisalkhabar24/

Join Barisal Khabar on Facebook group:
https://www.facebook.com/groups/barisalkhabar/

Follow instagram : https://www.instagram.com/barisalkhabar/

Follow Youtube :
https://youtube.com/

খানজাহান আলী মাজারের দিঘির সেই কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে.....বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে...
03/06/2026

খানজাহান আলী মাজারের দিঘির সেই কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে.....

বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে ছাড়ার ২২ বছর পর সেই কুমিরটিকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। দুটি প্রাণঘাতী ঘটনার পর মাজারে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (২ জুন) দিনগত রাত ১০টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) গোলাম মোহাম্মদ বাতেন।

সভা শেষে ডিসি জানান, মাজার এলাকায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপাতত দিঘিতে থাকা কুমিরটিকে গাজীপুর বা কক্সবাজারের সাফারি পার্কে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাজার এলাকায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘মাজারের দিঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৩ জুন খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞ দল বাগেরহাটে আসবে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কুমিরটি ধরার কৌশল, স্থানান্তরের সময় এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় নির্ধারণ করবেন।’

গত ১ জুন রাত ৮টার দিকে মাজারসংলগ্ন দিঘিতে গোসল করতে নামা ৭ বছরের শিশু ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। শিশুটিকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায় কুমিরটি। ২ জুন ভোরে মাজারসংলগ্ন দিঘির ‘মহিলা ঘাট’ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ৮ এপ্রিল একটি অসুস্থ কুকুরকে কুমিরটি ধরে নিয়ে যায় ঘাট থেকে। পরদিন কুকুরটির মরদেহ উদ্ধার হয়।

এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের জরুরি সভায় কুমিরটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী মাজার দিঘিতে অস্তিত্ব সংকটে মিঠাপানির কুমির। প্রায় ৬শ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় দিঘিতে বিচরণ করে আসছিল। কিন্তু সেগুলো বিলুপ্ত হওয়ার পর এ দিঘিতে মিঠাপানির কুমির না থাকায় দর্শনার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।

প্রায় ২শ একর আয়তনের বিশাল এই দিঘিটি। এটি আধ্যাত্মিক সাধক, ধর্মপ্রচারক ও সমর নায়ক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) খনন করার পর যাতে কেউ সুপেয় পানি নষ্ট করতে না পারে সেজন্য দিঘিতে এক জোড়া মিঠাপানির কুমির ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই থেকেই বংশ পরম্পর দিঘিতে এই কুমির বসবাস করে আসছে। বয়সজনিত কারণে শতবর্ষী কালাপাহাড় ও ধলাপাহাড় নামের কুমির দুটি মারা যায়। ২০০৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের মাদরাজের একটি পুরুষ কুমিরের আক্রমণে কালা পাহাড় (পুরুষ) নামে একটি কুমিরের মৃত্যু হয়। আর ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ধলা পাহাড়ের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে হযরত খান জাহান (র:) এর মাজারের দিঘিতে ছয়শ’ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রাকৃতিক পরিবেশে টিকে থাকা মিঠাপানির কুমির যুগল কালা পাহাড় ও ধলা পাহাড়ের ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটে।

২০২১ সালের ১২ জুন পুরুষ বড় কুমিরটি বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তখন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজননকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির ও স্থানীয় খাদেমদের সহায়তায় কুমিরটিকে ওপরে তোলা হয়েছিল। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে কুমিরটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে মোটামুটি সুস্থ ছিল পুরুষ কুমিরটি। স্থানীয় ফকিরদের দাবি, কুমিরের একটি চোখ অন্ধ ছিল। ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর দিঘির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে পুরুষ (বড়) কুমিরটির মারা যায়।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এই দিঘিতে কুমিরের বিচরণ অব্যাহত রাখার জন্য ২০০৪ সালের ২৬ জুন ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাংক থেকে ছয়টি কুমির এনে চারটি এখানে অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে দিঘির পাড়ের অসাধু ব্যক্তিদের অত্যাচারে তিনটি মারা যায়। বেঁচে থাকা কুমিরটি সঙ্গী খুঁজতে লোকালয়ে চলে যায়। একবার নয়, আনুমানিক ৯০ বার দিঘির কুমিরটি লোকালয়ে যায়। সবশেষ ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে আধা কিলোমিটার দূরে খোন্দকার বাড়ির পুকুরে চলে যায়। এরপর খাদেমরা খবর পেয়ে কুমিরটি উদ্ধার করে পুনরায় দিঘিতে ছেড়ে দেন।

এদিকে, প্রাকৃতিকভাবে কুমির হিংস্র প্রজাতির প্রাণী হলেও দরগার আগের কুমির ছিল এর বিপরীত। দর্শনার্থীরা গায়ে হাত বুলিয়ে অনেক সময়ে নিজ হাতে মুখের মধ্যে খাদ্য ঢুকিয়ে দিলেও কুমির কখনও হিংস্রতা দেখায়নি। এ কারণে দেশ-বিদেশের অনেক দর্শনার্থী মাজার জিয়ারত শেষে দিঘির কুমির দেখে ও স্পর্শ করে মুগ্ধ হতেন।

খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার দিঘির খাদেম ফকির জামাল হোসেন বলেন, ‘বংশ পরম্পরায় এখানে কুমির ছিল। পরে ছাড়া হলেও একটিমাত্র কুমির দিঘিতে আছে। সঙ্গী না থাকায় সে লোকালয়ে চলে যেত। দ্রুত নতুন কুমির ছাড়ার দাবি ছিল। কিন্তু কুমিরটি ইতোমধ্যে দুটি প্রাণ হত্যা করেছে। এ অবস্থায় সেটি সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। দিঘির ঐতিহ্য কুমির না থাকলে দর্শনার্থীরা হতাশ হতে পারেন।’

03/06/2026

রাজাপুরে চাঁদা নিতে গেলে যুবককে ধরে থানায় সোপর্দ

রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের কেওতা বাজারে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে অনি সিকদার (৩০) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা|

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের কেওতা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে|

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের শুক্তাগড় ইউনিয়নের ১নং কেওতা ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ও প্লাস্টিক ব্যবসায়ী আবুল হোসেন তালুকদারের (৪৫) কাছে কয়েকদিন ধরে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিলো অনি সিকদার| চাঁদা না দিলে তাকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে দাবিকৃত চাঁদার অংশ হিসেবে ৫০হাজার টাকা নিতে কেওতা বাজারে গেলে স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগী আবুল হোসেন তালুকদার অনিকে আটক করেন।পরে গণপিটুনির পর রাজাপুর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।খবর পেয়ে রাজাপুর থানার এসআই মো. সাইমন আব্দুল্লাহ সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে অনি সিকদারকে পুলিশ হেফাজতে নেন। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন এবং নজররবিহীন লাল-কালো রঙের ১৫০সিসির একটি পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়| পরে পুলিশ আটক ব্যক্তি এবং ভুক্তভোগীকে থানায় নেয়।

রাজাপুর থানার ওসি সুজন বিশ্বাস বলেন, কেওতা এলাকা থেকে এক চাঁদাবাজকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা| ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আবুল হোসেন তালুকদার তালুকদার বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি আইনে মামলা দায়ের করেছেন।আটককৃত অনি সিকদারকে আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে|

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের কেওতা বাজারে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে অনিক সিকদার (৩০) নামে এক যুবকক...
02/06/2026

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের কেওতা বাজারে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে অনিক সিকদার (৩০) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কেওতা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিকেলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আবুল হোসেন তালুকদার রাজাপুর থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। আটক অনিক সিকদার উপজেলার বাঘড়ি এলাকার শাহজাহান সিকদারের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস।

৫৩ ফ্ল্যাট, শতকোটি টাকার ভবন, পূর্বাচলে একের পর এক প্লট, শেয়ারবাজারে ৮০ কোটি টাকার বিনিয়োগ! সম্পদের পাহাড়!৫৩টি ফ্ল্যাট, ...
02/06/2026

৫৩ ফ্ল্যাট, শতকোটি টাকার ভবন, পূর্বাচলে একের পর এক প্লট, শেয়ারবাজারে ৮০ কোটি টাকার বিনিয়োগ! সম্পদের পাহাড়!

৫৩টি ফ্ল্যাট, একাধিক বহুতল ভবন, পূর্বাচলে প্লট, মধুমতি মডেল টাউনে শতকোটি টাকার জমি, শেয়ারবাজারে বিপুল বিনিয়োগ—সব মিলিয়ে ৪০০ কোটিরও বেশি সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে এনবিআরের কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক অনুসন্ধানে।

প্রশ্ন উঠছে—একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে কি এই বিপুল সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য আছে?

অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য বড় পরীক্ষা।

বিস্তারিত পড়ুন প্রতিবেদনে।

#সহিদুল_ইসলাম #এনবিআর #দুদক #দুর্নীতি #অনুসন্ধানী_প্রতিবেদন #বাংলাদেশ #সম্পদের_হিসাব

বরিশালের চন্দ্রমোহনে ৩ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্প। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই উঠছে স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন।বরিশালের চন্দ...
02/06/2026

বরিশালের চন্দ্রমোহনে ৩ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্প। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই উঠছে স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন।

বরিশালের চন্দ্রমোহন-ভেদুরিয়া সড়কে নিম্নমানের কাজ, দুর্বল প্যালাসাইডিং এবং তদারকির ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এলজিইডির এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—সড়কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা কাঠামো দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী নাও হতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় ১৪০ মিটার এলাকায় প্যালাসাইডিং খালের দিকে হেলে পড়েছে। আর বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কোটি কোটি টাকার প্রকল্পে যদি স্থায়িত্ব নিয়েই প্রশ্ন থাকে, তাহলে দায় কার? আর সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে কে?

বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে...

#চন্দ্রমোহন_সড়ক #বরিশাল ির্মাণ #অনিয়ম #দুর্নীতি

মিরপুরের সেই বন্ধ দরজার ওপাশে: এক মায়ের নিঃসঙ্গ মৃত্যু এবং আমাদের সমাজের বিবেকমিরপুরের সেই ফ্ল্যাটে যখন পুলিশ ঢুকল, তখন...
02/06/2026

মিরপুরের সেই বন্ধ দরজার ওপাশে: এক মায়ের নিঃসঙ্গ মৃত্যু এবং আমাদের সমাজের বিবেক

মিরপুরের সেই ফ্ল্যাটে যখন পুলিশ ঢুকল, তখন ঘরজুড়ে শুধু পচনের গন্ধ আর এক ধরনের ভয়াবহ নীরবতা। যে নীরবতা সাধারণ নীরবতা নয়; যে নীরবতা মানুষের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করে, সমাজের মুখোশ খুলে দেয় এবং আমাদের তথাকথিত সভ্যতার সামনে একটি নির্মম আয়না তুলে ধরে।

বিছানায় পড়ে ছিলেন নুরজাহান বেগম। বয়স বাহাত্তর। শরীরে পচন ধরেছে। মৃত্যুর সাত থেকে আট দিন পেরিয়ে গেছে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে কেউ জানতে পারেনি তিনি আর বেঁচে নেই। কেউ তাঁর খোঁজ নেয়নি। কেউ দরজায় কড়া নাড়েনি। কেউ একবারও জানতে চায়নি—“মা, আপনি কেমন আছেন?”

এই দৃশ্য কেবল একটি মৃত্যুর ঘটনা নয়; এটি আমাদের সময়ের সবচেয়ে মর্মান্তিক সামাজিক ট্র্যাজেডিগুলোর একটি। কারণ এখানে শুধু একজন বৃদ্ধা মারা যাননি, এখানে মারা গেছে পারিবারিক মূল্যবোধ, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং সম্পর্কের সেই পবিত্র বন্ধন, যার ওপর দাঁড়িয়ে একটি পরিবার, একটি সমাজ, একটি জাতি গড়ে ওঠে।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, নুরজাহান বেগম কোনো অসহায়, নিঃসন্তান বা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন মানুষ ছিলেন না। তাঁর সন্তানরা সমাজের চোখে প্রতিষ্ঠিত। একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, আরেকজন দেশের অন্যতম সেরা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আরেকজন বিদেশে বসবাস করেন। সমাজের প্রচলিত মানদণ্ডে এটি একটি সফল পরিবারের গল্প। এমন পরিবারকে আমরা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরি। এমন সন্তানদের নিয়ে গর্ব করি। আত্মীয়স্বজনদের আড্ডায় তাঁদের সাফল্যের গল্প বলা হয়।

কিন্তু আজ একটি প্রশ্ন আমাদের বিবেককে তাড়া করে ফিরছে—
যে সন্তান জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেও নিজের মায়ের নিঃসঙ্গতা দেখতে পায় না, সে কি সত্যিই সফল?

আমরা সন্তানদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কত কিছুই না করি। ছোটবেলা থেকে কোচিং, প্রাইভেট টিউটর, ভালো স্কুল, ভালো কলেজ, ভালো বিশ্ববিদ্যালয়—সবকিছুর পেছনে ছুটি। আমরা চাই আমাদের সন্তান ডাক্তার হোক, ইঞ্জিনিয়ার হোক, সচিব হোক, অধ্যাপক হোক, বিদেশে যাক, বড় চাকরি করুক। কিন্তু এই দৌড়ের মধ্যে আমরা একটি বিষয় ক্রমাগত ভুলে যাচ্ছি—মানুষ হওয়ার শিক্ষা।
আমরা পেশাজীবী তৈরি করছি, কিন্তু মানুষ তৈরি করতে পারছি না।
আমরা মেধাবী তৈরি করছি, কিন্তু হৃদয়বান মানুষ তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছি।

যে মা একদিন নিজের ঘুম বিসর্জন দিয়ে সন্তানের জ্বরের রাতে মাথায় পানি ঢেলেছেন, যে মা নিজের নতুন কাপড় না কিনে সন্তানের বই কিনে দিয়েছেন, যে মা নিজের ক্ষুধা লুকিয়ে সন্তানের প্লেটে খাবার তুলে দিয়েছেন, সেই মা যদি জীবনের শেষ সময়ে একটি ঘরের ভেতরে একা পড়ে থাকেন, তাহলে আমাদের সব অর্জন, সব শিক্ষা, সব উন্নয়ন আসলে কীসের জন্য?
জানা গেছে, নুরজাহান বেগম তাঁর মেয়ের বাসায় থাকতেন। একই ছাদের নিচে মা ও মেয়ে বাস করতেন, কিন্তু আলাদা ঘরে। একজন মানুষ কীভাবে একই বাড়িতে থেকেও এতটা একা হয়ে যেতে পারেন? কীভাবে একজন মা এমন এক অবস্থায় পৌঁছান, যেখানে সপ্তাহের পর সপ্তাহ তাঁর ঘরে কেউ ঢোকে না? কীভাবে সম্ভব, পাশের ঘরে মানুষ রয়েছে অথচ একজন বৃদ্ধার মৃত্যু এবং মৃত্যুর পরের পচন কারও নজরে আসে না?
এ প্রশ্ন শুধু একটি পরিবারের নয়।
এ প্রশ্ন আমাদের পুরো সমাজের।

আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে যোগাযোগের প্রযুক্তি সবচেয়ে উন্নত, কিন্তু মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক সবচেয়ে দুর্বল। আমরা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে সেকেন্ডে কথা বলতে পারি, কিন্তু একই বাড়ির একটি ঘরে থাকা বৃদ্ধ মায়ের খোঁজ নিতে পারি না। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজার মানুষের সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গে মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন। আমরা প্রতিদিন অসংখ্য ছবি পোস্ট করি, অসংখ্য স্ট্যাটাস দিই, কিন্তু বৃদ্ধ মা-বাবার পাশে বসে দশ মিনিট সময় কাটানোর ফুরসত পাই না।
আর যখন নুরজাহান বেগমের সেই শেষ ছবিটির দিকে তাকাই, তখন বুকের ভেতরটা আরও ভারী হয়ে আসে।
সেখানে দেখা যায় এক বৃদ্ধা নারী নিথর হয়ে শুয়ে আছেন। মুখে আর কোনো অভিযোগ নেই। কোনো অভিমান নেই। কোনো প্রত্যাশাও নেই। যেন জীবনের সমস্ত অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটেছে। একসময় যে মুখ সন্তানদের নিয়ে উদ্বেগে ভরে থাকত, যে চোখ সন্তানের পথ চেয়ে জানালার পাশে বসে থাকত, আজ সেই চোখ চিরতরে বন্ধ।
ছবিটি দেখে মনে হয় না এটি শুধু একজন মৃত মানুষের ছবি।
এটি যেন আমাদের সমাজের বিবেকের ছবি।
এই মুখে আমি হাজারো অবহেলিত মায়ের মুখ দেখতে পাই। দেখতে পাই সেইসব নারীদের, যারা সারাজীবন সন্তানদের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, অথচ শেষ বয়সে এসে নিঃসঙ্গতার কাছে পরাজিত হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগে এই ভেবে যে, মৃত্যুর আগে হয়তো এই মানুষটিও কারও পদধ্বনি শুনতে চেয়েছিলেন। হয়তো দরজার দিকে তাকিয়ে ভেবেছিলেন, কেউ আসবে। হয়তো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস করেছিলেন, তাঁর সন্তানরা তাঁকে ভুলে যায়নি। হয়তো তিনি অপেক্ষা করেছিলেন।
কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষ হয়েছে এক নিঃসঙ্গ মৃত্যুতে।
পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় দৃশ্য সম্ভবত সেটিই—যখন একজন মা অপেক্ষা করেন, আর কেউ আসে না।
ছবিটির দিকে যতবার তাকাই, ততবার মনে হয় এটি একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের ব্যর্থতার দলিল। এটি আমাদের শেখায়, মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় দারিদ্র্য অর্থের অভাব নয়; সবচেয়ে বড় দারিদ্র্য হলো ভালোবাসার অভাব। সবচেয়ে বড় নিঃস্বতা হলো আপনজনদের উপস্থিতি না থাকা।
এই ছবিটি তাই শুধু একটি মৃত্যুর ছবি নয়।
এটি একটি প্রশ্নচিহ্ন।
একটি নীরব আর্তনাদ।
একটি অব্যক্ত অভিযোগ।
এটি যেন আমাদের প্রত্যেককে জিজ্ঞেস করছে—“তোমাদের এত ব্যস্ততার পৃথিবীতে, একজন মায়ের জন্য কি সত্যিই একটু সময় ছিল না?”
আজ বাংলাদেশের শহরগুলোতে হাজার হাজার নুরজাহান বেগম রয়েছেন। তাঁরা হয়তো অর্থকষ্টে নেই। তাঁদের জন্য ওষুধ কেনা হয়, বাজার করা হয়, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু মানুষ কি শুধু ওষুধ আর খাবার দিয়ে বাঁচে?
একজন বৃদ্ধ মানুষের সবচেয়ে বড় চাহিদা হলো সঙ্গ, কথা, ভালোবাসা এবং আপনজনের উপস্থিতি।
যে মা সারাজীবন সন্তানদের নিয়ে বেঁচেছেন, তিনি বৃদ্ধ বয়সে সবচেয়ে বেশি অপেক্ষা করেন সন্তানের কণ্ঠ শোনার জন্য, সন্তানের মুখ দেখার জন্য।
অথচ আমরা সেই মানুষগুলোকেই জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সবচেয়ে বেশি একা করে দিচ্ছি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত হবে, আইনি প্রশ্ন উঠবে, বিভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে আসবে। কিন্তু আইনের বাইরেও একটি নৈতিক প্রশ্ন থেকে যায়। আমরা কি সত্যিই এমন সমাজে পরিণত হচ্ছি, যেখানে বৃদ্ধ বাবা-মা কেবল দায়িত্বের একটি অংশ? যেখানে তাঁদের জন্য একটি আলাদা ঘর, কিছু টাকা এবং একজন কাজের মানুষ রাখলেই দায়িত্ব শেষ বলে মনে করা হয়? যেখানে ভালোবাসার জায়গা দখল করে নিচ্ছে আনুষ্ঠানিকতা?
আমরা আজকাল সন্তানদের ইংরেজি শেখাই, কম্পিউটার শেখাই, প্রযুক্তি শেখাই, বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখাই। কিন্তু আমরা কি শেখাই বৃদ্ধ মানুষকে সম্মান করতে? আমরা কি শেখাই মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে? আমরা কি শেখাই বাবার নীরব কষ্ট বুঝতে?
আমরা কি শেখাই যে জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন কোনো পদবি নয়, বরং এমন একজন মানুষ হওয়া, যার উপস্থিতিতে বাবা-মা নিরাপদ বোধ করেন?
সত্যি বলতে, নুরজাহান বেগমের মৃত্যু আমাদের সামনে একটি নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরেছে। এই মৃত্যু কেবল একজন মানুষের মৃত্যু নয়; এটি আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতীক। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কিংবা সামাজিক মর্যাদা কখনোই মানবিকতার বিকল্প হতে পারে না।
একটি সমাজ তখনই সত্যিকার অর্থে উন্নত হয়, যখন সেই সমাজের বৃদ্ধ মানুষগুলো সম্মান, যত্ন এবং ভালোবাসা নিয়ে বাঁচতে পারেন।
আজ যারা নিজেদের বাবা-মায়ের খোঁজ নেওয়ার সময় পান না, তাঁদেরও মনে রাখা উচিত—জীবন একটি চক্র। আজ আপনি সন্তান, কাল আপনি বাবা-মা হবেন। আজ যেভাবে আপনি আপনার বাবা-মায়ের সঙ্গে আচরণ করছেন, আপনার সন্তানরাও একদিন সেই আচরণ থেকেই শিক্ষা নেবে। আপনি যদি আপনার সন্তানকে দেখান যে বৃদ্ধ বাবা-মা গুরুত্বপূর্ণ নন, তাহলে একদিন সেই সন্তানও আপনাকে গুরুত্বহীন মনে করবে।
কারণ মানবিকতা যেমন উত্তরাধিকারসূত্রে যায়, অবহেলাও তেমনি উত্তরাধিকারসূত্রে যায়।
নুরজাহান বেগম আর ফিরে আসবেন না। তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলো কেমন কেটেছে, শেষ মুহূর্তে তিনি কাকে মনে করেছিলেন, কাকে ডাকতে চেয়েছিলেন, সেই উত্তর আমরা কোনোদিন জানব না। কিন্তু তাঁর মৃত্যু আমাদের সামনে একটি আয়না ধরে গেছে।
সেই আয়নায় আমরা নিজেদেরই মুখ দেখতে পাচ্ছি।
তাই মিরপুরের সেই ফ্ল্যাটের ঘটনা যেন কেবল একটি সংবাদ হয়ে না থাকে। এটি যেন আমাদের বিবেককে জাগিয়ে তোলে। এটি যেন আমাদের বাধ্য করে নিজেদের দিকে তাকাতে।
আজ যদি আপনার মা বেঁচে থাকেন, তাঁর ঘরে যান। তাঁর পাশে কিছুক্ষণ বসুন। তাঁর হাতটা ধরুন। জিজ্ঞেস করুন তিনি কেমন আছেন।
আজ যদি আপনার বাবা বেঁচে থাকেন, তাঁকে একটি ফোন করুন। তাঁর কণ্ঠটা শুনুন।
কারণ পৃথিবীর সব সাফল্য, সব পদমর্যাদা, সব অর্থবিত্ত একদিন অর্থহীন হয়ে যাবে। কিন্তু বাবা-মায়ের জন্য দেওয়া সময়, তাঁদের মুখে ফোটানো একটি হাসি, তাঁদের মনে দেওয়া নিরাপত্তা—সেটিই শেষ পর্যন্ত আপনার সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে থাকবে।
সচিব হওয়া, অধ্যাপক হওয়া কিংবা বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়া নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। কিন্তু একজন মায়ের শেষ জীবনে তাঁকে একা না রাখা—তার চেয়েও বড় মানবিক অর্জন আর কিছু নেই।
কারণ পৃথিবীর ইতিহাসে অসংখ্য সফল মানুষের নাম হারিয়ে গেছে, কিন্তু একজন মায়ের চোখের জল কখনো হারায় না।
আর একজন মায়ের দীর্ঘশ্বাস—সেটি নীরব হলেও, তার প্রতিধ্বনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলে।

--------------------
জাহিদ ইকবাল
জামতলা,নিকুঞ্জ-০২
খিলক্ষেত, ঢাকা।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন
01/06/2026

প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন

স্ট্রোক করা মাকে নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, আর পথে থামানো হলো অ্যাম্বুলেন্স! মানবতা কোথায়?😢 মাকে বাঁচাতে ছুটছিলেন ছেলে,...
30/05/2026

স্ট্রোক করা মাকে নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, আর পথে থামানো হলো অ্যাম্বুলেন্স! মানবতা কোথায়?

😢 মাকে বাঁচাতে ছুটছিলেন ছেলে, তল্লাশিতে আ*ট*কে রইল অ্যাম্বুলেন্স!

টঙ্গীর হাসপাতাল থেকে উত্তরা হয়ে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের উদ্দেশ্যে ছুটছিল একটি অ্যাম্বুলেন্স। ভেতরে ছিলেন স্ট্রোকে আক্রান্ত মুমূর্ষু এক মা। অভিযোগ উঠেছে, উত্তরা উত্তর সেন্টার এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের তল্লাশির কারণে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয় অ্যাম্বুলেন্সটি।

পরিবারের দাবি, ড্রাইভার বারবার অনুরোধ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি ছাড়া হয়নি। এ সময় মুমূর্ষু রোগীর স্বজন শান্ত তালুকদার কান্নায় ভেঙে পড়ে মাকে বাঁচানোর আকুতি জানান। স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে পরে অ্যাম্বুলেন্সটি ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

❝একজন মৃত্যুপথযাত্রী রোগীকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স কি এভাবে আটকে রাখা উচিত ছিল?❞

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

27/05/2026

বরিশালে রহমানিয়া প্রোপার্টিজের
ম্যানেজারের ওপর সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলা.......

26/05/2026

ঢাকা বরিশাল মহাসড়কে বাটাজোড় স্টেশনে বাসের চাপায় মোটরসাইকেলে স্বামী স্ত্রী শিশু সহ তিনজন নিহত।

Address

Barisal Khabar
Barishal
8200

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Barisal Khabar posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Barisal Khabar:

Share