04/09/2026
১৮০০ টাকার ফি, আর চেম্বারে পুরুষ প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ—প্রশ্নটা তাহলে রোগীর নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিয়ে!
ডাঃ জি কে চক্রবর্তী, এমবিবিএস, এফসিপিএস, স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ। বরিশালের একটি নামিদামি ডায়াগনষ্টিকে তার চেম্বারে প্রথমবার রোগী দেখানোর ফি ১ হাজার ৮০০ টাকা, দ্বিতীয়বার ১ হাজার ২০০ টাকা। তিন মাস পর আবার নতুন রোগী হিসেবে ফি নেওয়া হয়।
ফি এর বিষয়টি নিয়ে কারও আপত্তি থাকতেই পারে। তবে এরা নিসন্দেহে বলতে পারি তার কাছে গরীব রোগী প্রযোজ্য নহে। আর যারা একান্ত নিরুপায় হয়ে দেখাতে চাইবে তাদের বাড়ীর সব বড় বড় গাছগুলো বিক্রি করতে হবে, বাড়ীতে বড় কোন গাছ না থাকলে অন্তত দুই শতাংশ জমি বিক্রি করা নিশ্চিত। ভাবছেন, ১৮০০ টাকা ফি এর জন্য এত কিছু লাগবে। না সেটা কেহ ভেবে থাকলে ভুল করবেন। আমার কথাগুলো একটি যুক্তি দিয়ে বলছি, যে ডাক্তারের প্রথম সাক্ষাতে এত ফি, তাহলে তার লেখা টেষ্টগুলো হবে বিশাল ব্যায়বহুল। তারপরও ফি নিয়ে আমার কথা নয়। তবে, তার নির্ধারিত ফিতে বিশেষ করে নিম্নআয়ের একজন রোগীর জন্য এমন চিকিৎসা ব্যয় বহন করা কতটা সম্ভব, সেটিও ভাবার বিষয়। তবে আমার কৌতূহল তৈরি হয়েছে অন্য একটি জায়গায়।
চেম্বারের সামনে লেখা রয়েছে “চেম্বারের ভিতরে পুরুষ লোক প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। তবে অভিভাবক প্রয়োজনে ডাকা হবে।" গাইনি চিকিৎসায় রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন নারী রোগী যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চিকিৎসকের কাছে নিজের সমস্যার কথা বলতে পারেন, সেটিও জরুরি। একই সঙ্গে রোগীর নিরাপত্তা, মানসিক স্বস্তি এবং প্রয়োজনে তার পছন্দের সহযোগীর উপস্থিতির সুযোগ থাকাও কি সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়?
বিশেষ করে একজন নারী রোগী যদি স্বামী, মা, বোন কিংবা অন্য কোনো বিশ্বস্ত নারী/অভিভাবককে সঙ্গে রাখতে চান, তাহলে তাকে সেই সুযোগ দেওয়া উচিত কি না এ প্রশ্ন থেকেই যায়। কারণ, চিকিৎসকের প্রতি আস্থা যেমন প্রয়োজন, তেমনি রোগীর নিজের নিরাপত্তাবোধও প্রয়োজন। একজন রোগী চিকিৎসকের কাছে যাবেন ভয় বা সংকোচ নিয়ে নয়, বরং পূর্ণ আস্থা ও স্বস্তি নিয়ে। এখানে আমি কোনো চিকিৎসককে ব্যক্তিগতভাবে অভিযুক্ত করা উদ্দেশ্য নয়। বরং প্রশ্নটি একটি নীতিগত।
একজন নারী রোগীর গোপনীয়তা রক্ষার পাশাপাশি তার পছন্দের সহযোগীকে চেম্বারে থাকার সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা কি আরও যুক্তিসঙ্গত নয়?
“পুরুষ সম্পূর্ণ নিষেধ” এমন ঢালাও নিয়মের পরিবর্তে রোগীর সম্মতি, প্রয়োজন ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, সেটিই ভাবার বিষয়।
আর চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত রোগীর নিরাপত্তা, সম্মান, গোপনীয়তা এবং স্বস্তি। জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন, চেম্বারে রোগীর সঙ্গে কে থাকবেন, সেই সিদ্ধান্তে রোগীর নিজের মতামতের গুরুত্ব কতটুকু?
Copy : Habibulla Methu