24/11/2025
**কেন হযরত মূসা(আঃ)আজরাইলকে থাপ্পর দিয়েছিলেন?
হযরত মূসা(আঃ) মালাকুল মউত তথা আজরাইল (আঃ) কে চড় মেরে কানা করে দিয়েছিলেন, এই কথাটি আমরা অনেকেই শুনেছি। কিন্তু কেন এমন ঘটেছিল ?
হযরত মূসা(আঃ) বয়স হয়েছিল অনেক শরীরের এইবার শেষ হয়ে আসছে। বয়স বাড়লে এমনি হয়। মূসা (আঃ) বসে বসে অতীতের কথা ভাবছিলেন। এমন সময় মালাকুল মউত এর কথা ভাবছিলেন। হয়তো সবাই জানেন যে হযরত মূসা কালিমুল্লাহ (আঃ) ছিলেন একজন গরম মেজাজের পয়গম্বর যার শরীরে ছিলো অনেক শক্তি যখন মূসা (আঃ) এর মৃত্যুকাল সন্নিকটে আসলো তখন হযরত আজরাইল (আঃ) মালাকুল মউত মানুষ রূপে যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে বিনা সালামে তার ঘরে প্রবেশ করেছিলেন । এবং বলেছিলেন হে মূসা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হই। এমনেতেই বিনা সালামে ঘরে প্রবেশ তার উপরে পয়গম্বরের নাম সম্বোধন এবং মানুষ আকৃতির "আজরাইল (আঃ) কে হযরত মূসা (আঃ) স্বভাবতো ক্ষেপে রক্তিম বর্ণ হয়ে যান। এবং প্রশ্ন করেন কিভাবে আমার জান কবজ করবা। আজরাইল (আঃ) বললেন, মুখ দিয়ে হযরত মূসা (আঃ) বললেন যে মুখ দিয়ে আমি আল্লাহর নাম নি তা দিয়ে তুমি কিভাবে আমার জান কবজ করবে। এবার আজরাইল (আঃ) বললেন, চোখ দি হযরত মূসা (আঃ) বললেন যে চোখ দিয়ে আমি আল্লাহর দিদার পেয়েছি সে চোখ দিয়ে কিভাবে তুমি আমার জান কবজ করবে। এবার আজরাইল (আঃ) বললেন নাক দিয়ে। তারপর হযরত মূসা (আঃ) বললেন যে নাক দিয়ে আমি জান্নাতের সুঘ্রাণ পেয়েছি সে নাক দিয়ে তুমি আমার জান কবজ করবে। এইবার আজরাইল (আঃ) পড়লেন বিপদে তিনি বললেন এত কিছু আমি জানি না। আমার কাজ হলো জান কবজ করা আপনি প্রস্তুত হন। এই কথা শুনার সাথে সাথে মূসা (আঃ) এর মেজাজ গরম হয়ে গেলো তিনি বেয়াদবি শাস্ত্রিস্বরূপ সাথে সাথে আজরাইল (আঃ) কে জোরে থাপ্পর মেরে বসলেন। তখন হজরত মুসা (আঃ) হজরত আজরাইলের (সাঃ) গালে এতো জোরে থাপ্পড় দেন যে আজরাইলের (সাঃ) একটা চোখ কানা হয়ে যায়। এবং জান কবজের কথা ভুলে গিয়ে চলে যান আল্লাহর কাছে এবং
আল্লাহকে বলেন যে আপনি আমাকে এমন এক বান্দার নিকট পাঠিয়েছেন, যিনি মরতে চান না। পরে আজরাইল (আঃ) আল্লাহর কাছে ফিরে যান এবং ঘটনা জানান। ইয়া রাব্বুল আলামিন আপনার ঐ রাগী বান্দা আমাকে চড়ের আঘাত করে এমন অবস্থা করে দিয়েছেন রাব্বুল আলামিন আজরাইল (আঃ) কে বললেন তুমি পুনরায় যাও ।এরপর আল্লাহ তাআলা আজরাইল (আঃ) কে বলেন যে মূসা (আঃ) জীবন পছন্দ করেন এবং তাকে অন্য কোনভাবে জান কবজের আদেশ দেন। ভদ্রতার শহিদ আমার সালাম আর সুসংবাদ প্রদান করে বলো মহান রব আপনার সাথে সাক্ষাত করার প্রয়াস করেছেন। মহান রবের - এইরূপ নির্দেশ পেয়ে হযরত আজরাইল (আঃ) পুনরায় মূসা (আঃ) নিকটে গিয়ে শিখানো, কৌশলে কথা বলার শুরু করলেন। আল্লাহপাকের এ ভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায় হযরত মূসা (আঃ)মালাকুল মউতকে বলেন মৃত্যুর আগে আমি আর একবার তুর পাহাড়ে যেতে চাই আপনার দিদার পেতে চাই। আল্লাহ তায়ালা তার আরজি কবুল করে তাকে সেখানে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। তিনি কালবিলম্ব না করে সেখানে রইনা দিলেন । সেখানে গিয়ে আল্লাহ নূরের জ্বলকানিতে আল্লাহর সাথে কথা বলেন। মূসা (আঃ) এর মৃত্যুর পর তুর পাহাড় থেকে সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে দেখতে পেলেন সাতজন লোক একটি কবর খনন করছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন কার জন্য, কবর খনন করা হচ্ছে। লোকগুলো বললেন একজন ঈমানদার লোকের মৃত্যু হবে তার জন্য মূসা (আঃ) কবর খনন করার জন্য তাদের সাথে যোগ দিলেন। তারা বললেন যে মারা যাবে সে দেখতে আপনার মত লম্বা আপনে যদি শুয়ে দেখতেন কবরের মাপটা ঠিক আছে কিনা এরপর মূসা (আঃ) সেখানে শুয়ে পড়লেন, সেখানে শুয়ে তিনি আল্লাহকে বললেন হে আল্লাহ এই জায়গাটা কত নির্জন আমার জন্য এই জায়গাটি কবুল করুন। এই কথা বলার সাথে সাথে একজন ফেরেশতা এতে তাকে একটি আপেল খেতে দিলেন। তিনি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" বলে আপেলটি কামড় দিলেন সাথে সাথে তার জান কবজ হয়ে গেলো। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন
। সেখানে উপস্থিতি ফেরেশতারা তাকে গোসল করিয়ে জানাজা দিয়ে সেখানে সমাধি করলেন। এজন্য আজও জানা যায়নি হযরত মূসা (আঃ) এর কবর কোথায়।