Hozo borolo

Hozo borolo i am active in page,please follow me
(1)

12/06/2026

cele manush banaica

12/06/2026

Shuvo ratri

12/06/2026

Sobai shudhu post dey, Facebook a ki hoicilo na Jana ami

25/05/2026

শুভ রাত্রি

25/05/2026

Phoolan Devi জন্মেছিলেন ১৯৬৩ সালে, উত্তর প্রদেশের এক ছোট্ট দরিদ্র গ্রামে।
একটি মল্লাহ পরিবারে—যাদের পরিচয় ছিল “নিচু জাত”, “গরিব”, “অগুরুত্বপূর্ণ মানুষ” হিসেবে।
সেই সমাজে জন্মের পর থেকেই কিছু মানুষকে শেখানো হতো মাথা নিচু করে বাঁচতে।
ফুলনও ছিল তেমনই এক শিশু।

কিন্তু সে অন্যরকম ছিল।

ছোটবেলাতেই সে বুঝে গিয়েছিল, পৃথিবী সব মানুষের জন্য সমান না।
কেউ জন্মায় সম্মান নিয়ে।
আর কেউ জন্মায় অপমান সহ্য করার জন্য।

খুব অল্প বয়সে তাকে বিয়ে দেওয়া হয় এক অনেক বয়স্ক পুরুষের সঙ্গে।
তখন সে ঠিকমতো শৈশবও বুঝে উঠতে পারেনি।
পুতুল নিয়ে খেলার বয়সে তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এক অপরিচিত মানুষের ঘরে।

সেই ঘর কখনও তার “বাড়ি” হয়ে ওঠেনি।

সেখানে ছিল মারধর।
ছিল ক্ষুধা।
ছিল রাতের পর রাত নির্যাতন।
ছিল এমন এক ভয়, যা কাউকে বলা যায় না।

সে তখনও শিশু।
কিন্তু কেউ সেটা মনে রাখেনি।

তার কান্না কারও ঘুম ভাঙায়নি।
তার শরীরের ক্ষত কারও বিবেক নাড়ায়নি।

একসময় সে সেই বাড়ি থেকে ফিরে আসে।
কিন্তু গ্রাম তাকে আশ্রয় দেয়নি।
বরং “অবাধ্য মেয়ে” বলে অপমান করেছে।
পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধে গ্রামের প্রভাবশালী লোকেরা তাকে আরও হেনস্থা করে।
কারণ সে চুপ করে অন্যায় মেনে নিতে রাজি ছিল না।

আর সমাজ কখনও প্রতিবাদী গরিব মেয়েদের ক্ষমা করে না।

এরপর শুরু হয় তার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়।

একদিন তাকে অপহরণ করা হয় দস্যুদের দ্বারা।
বন্দুকধারী পুরুষদের ভেতরে আটকে পড়ে এক তরুণী, যার জীবনে আগে থেকেই নিরাপত্তা বলে কিছু ছিল না।

ডাকাতদলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের পর সে উচ্চবর্ণের ঠাকুর গোষ্ঠীর কয়েকজনের হাতে বন্দি হয়।
তারপর যা ঘটে, তা শুধু “নির্যাতন” শব্দ দিয়ে বোঝানো যায় না।

বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, ২৩ দিন ধরে তাকে গণধর্ষণ করা হয়।
অনেক বিবরণে বলা হয়, ২২ জন উচ্চবর্ণের ঠাকুর পুরুষ তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছিল।

২৩ দিন।

ভাবা যায়?

একটা মানুষকে ২৩ দিন ধরে ভেঙে ফেলার চেষ্টা।

তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হতো।
মারধর করা হতো।
জনসমক্ষে অপমান করা হতো।
এমনভাবে তার আত্মসম্মানকে চূর্ণ করা হচ্ছিল, যেন সে আর কখনও মানুষ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় ছিল—
এই পৃথিবীতে তখনও কেউ তার পাশে দাঁড়ায়নি।

না পুলিশ।
না প্রশাসন।
না আদালত।
না সমাজ।

একটা মেয়ে প্রতিদিন মরছিল।
আর পৃথিবী চুপচাপ দেখছিল।

সেই ২৩ দিনের পর ফুলন দেবী আর আগের মানুষ ছিলেন না।

কিছু মানুষ নির্যাতনের পর ভেঙে পড়ে।
কিছু মানুষ নীরব হয়ে যায়।
আর কিছু মানুষ একসময় ভয়ের ওপারে চলে যায়।

ফুলন ছিলেন তৃতীয় ধরনের মানুষ।

তিনি আবার ডাকাতদলে যোগ দেন।
ধীরে ধীরে বন্দুক চালানো শেখেন।
নেতৃত্ব নিতে শেখেন।
যে মেয়েটাকে সবাই দুর্বল ভাবত, একসময় সেই মেয়ের নাম শুনেই মানুষ কাঁপতে শুরু করে।

তার চারপাশে তৈরি হয় এক কিংবদন্তি—
“ব্যান্ডিট কুইন”।

১৯৮১ সালে ঘটে বেহমাই হত্যাকাণ্ড।

ফুলন দেবী ও তার সহযোগীরা বেহমাই গ্রামে ফিরে আসে।
সেখানে ২২ জন ঠাকুর পুরুষকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ভারত কেঁপে ওঠে।

কেউ তাকে খুনি বলল।
কেউ বলল প্রতিশোধের আগুন।
আবার অসংখ্য দরিদ্র, নিম্নবর্ণ ও নির্যাতিত মানুষের কাছে সে হয়ে ওঠে প্রতিবাদের প্রতীক।

কারণ তারা প্রথমবার দেখেছিল—
একজন গরিব নারীও ভয় হতে পারে।

এরপর বছরের পর বছর পুলিশ তাকে খুঁজতে থাকে।
সংবাদপত্রে তার ছবি ছাপা হয়।
তার গল্প ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশে।

অবশেষে ১৯৮৩ সালে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
হাজার হাজার মানুষের সামনে।

তখনও তিনি খুব তরুণী।

তিনি দীর্ঘ ১১ বছর কারাগারে ছিলেন।
বিচার ঝুলে ছিল।
জীবন থেমে ছিল।
কিন্তু গল্প শেষ হয়নি।

১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন।
এবং একসময় ভারতের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এটাই সম্ভবত তার জীবনের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য অংশ।

যে সমাজ একদিন তাকে “অপবিত্র”, “অপরাধী”, “অবাঞ্ছিত” বলেছিল—
সেই দেশের মানুষই পরে তাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠায়।

তিনি গরিব নারী, দলিত ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলতেন।
কারণ তিনি জানতেন অপমান কাকে বলে।
তিনি জানতেন অসহায় হওয়া কাকে বলে।
তিনি জানতেন সাহায্যের জন্য চিৎকার করেও কেউ না আসার অনুভূতি কেমন।

কিন্তু তার জীবন শান্ত সমাপ্তি পায়নি।

২০০১ সালে দিল্লিতে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
অনেকের ধারণা, বেহমাই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবেই এই হত্যা করা হয়েছিল।

ফুলন দেবীর জীবন আজও বিতর্কিত।

কারও কাছে তিনি অপরাধী।
কারও কাছে প্রতিরোধের প্রতীক।
কারও কাছে রাষ্ট্র ও সমাজের ব্যর্থতার জীবন্ত প্রমাণ।

কিন্তু তার গল্প একটা প্রশ্ন রেখে যায়—

একটা মেয়েকে যদি বারবার অপমান করা হয়,
ধর্ষণ করা হয়,
ভেঙে ফেলা হয়,
আর পুরো সমাজ যদি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে—

তাহলে শুধু সেই মেয়েটাই কি দোষী,
যে একদিন আর ভয় পেতে চায়নি?

15/05/2026
14/05/2026

gd nght

Address

Barisal

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hozo borolo posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share