06/07/2026
__চারপাশে সুশীলতার কী নিখুঁত মহড়া.!
টাই-কোট পরা আর দামি পারফিউম মাখা তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত মানুষে সমাজটা আজ ছেয়ে গেছে।
অথচ এই সভ্যতার সবচেয়ে বড় পরিহাসের নাম—বৃদ্ধাশ্রম।
একটু নিভৃতে বসে নিজের অস্তিত্বকে প্রশ্ন করলে আজ আয়নার সামনে দাঁড়ানোর সাহস থাকে না।
ভুল সমীকরণে বাঁচবেন না-বৃদ্ধাশ্রম কোনো পুনর্বাসন কেন্দ্র নয়।
এটি আসলে সুশীল সমাজের এক চরম ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি, যেখানে মানুষ তার সামাজিক স্ট্যাটাস আর অহংকার বাঁচানোর জন্য নিজের জ্যান্ত বিবেককে বিসর্জন দিয়ে আসে,
এটি আমাদের আত্মিক দেউলিয়াত্বের এক একটা জীবন্ত স্মৃতিস্তম্ভ।
আমরা আসলে কী শিখলাম-যে শিক্ষা মানুষকে কোটি টাকার ক্যারিয়ার গড়তে শেখায় কিন্তু জন্মদাতার জন্য চার ফুটের একটা বিছানা দিতে শেখায় না—সেটি প্রকৃত শিক্ষা নয়,সেটি হলো সুবেশধারী আত্মকেন্দ্রিক হওয়ার এক অদৃশ্য সনদ।বাস্তবতা হলো—সার্টিফিকেট অর্জন স্রেফ জীবিকা নির্বাহ করার জন্য,ওটা দিয়ে কখনো মানুষ সুশিক্ষিত হয় না,আমরা কাগজের টুকরো গিলেছি,মানুষ হওয়ার মন্ত্র নয়। জীবিকা নির্বাহের অন্ধ প্রতিযোগিতায় আমরা এতটাই দক্ষ হয়েছি যে,জীবনের সবচেয়ে বড় ঋণদাতাকেই আজ 'ভারী বোঝা' বলে জীবন থেকে নির্বাসন দিয়ে দিয়েছি।
কোটি টাকার ফ্ল্যাটের ড্রয়িংরুম সাজাতে যারা লাখ টাকার শো-পিস কেনে,অথচ মা-বাবার জন্য ঘরের এক কোণে সামান্য জায়গা পায় না—তাদের রুচি আসলে আভিজাত্য নয়,তা হলো অন্তরের এক গভীর দৈন্যতা।
এই সুশীল সমাজের চেয়ে প্রকৃতির অন্য প্রাণীরাও অনেক সময় দায়িত্বশীল-কারণ তারা অন্তত বুড়ো হয়ে গেলে নিজের জন্মদাতাকে এভাবে সমাজচ্যুত করে আসে না।
মনে রাখবেন,শিকড় কেটে কখনো আকাশের দিকে মহীরুহ হওয়া যায় না-যে সন্তান মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে নিজেকে সফল দাবি করে,সে আসলে এক জীবন্ত পতন,যার ধ্বংস কেবল সময়ের অপেক্ষা।
মহাকালের একটা নির্মম সত্য ভুলে যাবেন না—সময় কোনো ঋণ বাকি রাখে না।
প্রকৃতির বিচার বড় নিখুঁত,আজ আপনি বৈষয়িক সুখের গরমে মা-বাবাকে যে বৃদ্ধাশ্রমের একাকীত্বের বৃত্তে বন্দি করছেন,মনে রাখবেন—আপনার সন্তান কিন্তু আপনার হাত ধরেই সেই পথের দূরত্ব খুব নিখুঁতভাবে মেপে রাখছে,চাকা ঘুরবেই।প্রকৃতির এই বৃত্তাকার চাবুক যখন একদিন আপনার নিজের ওপর আছড়ে পড়বে,তখন অনুশোচনা করার মতো শব্দও খুঁজে পাবেন না।
সমাজ আপনাকে সফল বলতে পারে,কিন্তু যে সফলতার নিচে জন্মদাত্রীর দীর্ঘশ্বাস চাপা পড়ে থাকে,আল্লাহ আদালতে সেই সফলতার কোনো ক্ষমা নেই।মনে রাখবেন, কবরের মাটি আপনার সামাজিক স্ট্যাটাস চেনে না।যেদিন সব কোলাহল থেমে যাবে,সেদিন ওই অহংকারের সার্টিফিকেটগুলো আপনার অকৃতজ্ঞতার জ্বলন্ত প্রমাণ ছাড়া আর কিছুই হবে না।এখনই সময় এই ভদ্র মুখোশটা খোলার। মা-বাবা কোনো বোঝা নন,তারা আমাদের অস্তিত্বের মূল শিকড়।শিকড় কাটার এই নোংরা মানসিকতা বর্জন করুন।
__M.R.F__