29/06/2026
আমরা যে ফেসবুক পোস্টটি দেখতে পাচ্ছি, সেখানে একজন কনের ছবির নিচে হাজার হাজার মানুষের "হা হা" রিঅ্যাক্ট এবং নেতিবাচক মন্তব্য করার মানসিকতা আসলেই আমাদের সমাজ ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের এক অন্ধকার দিককে ফুটিয়ে তোলে।
কারো কাজ ভালো না লাগলে গঠনমূলক সমালোচনা করা যায়, কিন্তু সেটা নিয়ে এভাবে গণহারে উপহাস করা কোনো সুস্থ মানসিকতার পরিচয় দেয় না।
(Online Toxicity)
স্ক্রিনের ওপাশে বসে একটা রিঅ্যাক্ট বা কমেন্ট করা খুব সহজ, কারণ সেখানে সরাসরি কাউকে জবাবদিহি করতে হয় না। এই "অ্যানোনিমিটি" বা আড়ালের সুযোগ নিয়ে মানুষ তাদের ভেতরের নিষ্ঠুরতা প্রকাশ করে। তারা ভুলে যায় যে, এই ছবির পেছনে একজন সত্যিকারের মানুষ আছেন, যার আত্মসম্মান ও অনুভূতি রয়েছে।
নেতিবাচকতার প্রতি আকর্ষণ (Negativity Bias)
সোশ্যাল মিডিয়ার একটা বড় সমস্যা হলো, এখানে মানুষ ভালো জিনিসের চেয়ে নেতিবাচক বা কোনো ত্রুটিযুক্ত জিনিসে বেশি মনোযোগ দেয়।
• কেউ যখন খুব কষ্ট করে একটা ভালো কাজ বা সুন্দর আর্ট উপহার দেয়, তখন মানুষ সেটাকে 'স্বাভাবিক' ধরে নিয়ে এড়িয়ে যায়।
• কিন্তু কোথাও সামান্য একটু খামতি বা ট্রল করার উপাদান পেলেই সবাই সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
মেকআপটি হয়তো নিখুঁত হয়নি বা সাধারণ মানুষের চোখে সুন্দর লাগেনি, কিন্তু তার জন্য একটি বিউটি পার্লার বা একজন কনেকে এভাবে ট্রল করার কোনো অধিকার কারো নেই। মানুষ হিসেবে আমাদের মধ্যে অন্যের প্রতি সহানুভূতি দিন দিন কমে যাচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার এই ট্রেন্ড বদলাতে আমাদের নিজেদের থেকেই শুরু করতে হবে। যখনই কোনো ভালো কাজ বা কারো চেষ্টা চোখে পড়বে, সেখানে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করে তাকে এপ্রিশিয়েট (Appreciate) করা উচিত। আর যেখানে এরকম ট্রল বা উপহাস চলে, সেখানে অংশ না নিয়ে বরং গঠনমূলক প্রতিবাদ জানানো বা এড়িয়ে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।