26/01/2026
লম্বা সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বক্তব্য এবং এ্যক্টিভিটি লক্ষ করে, তাদের ব্যাপারে ১০টি বিষয় বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছি৷
০১➡️
আমি বিশ্বাস করি: জামায়াত 'ইসলাম' প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করে না৷ তারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে ক্ষমতার রাজনীতি করে৷ (যেটা তাদের কয়েকজন প্রার্থীর বক্তব্য থেকেও ইতি মধ্যেই স্পষ্ট প্রামাণিত হয়েছে)
০২➡️
তাদের নেতাগণ হাজারো অন্যায় এবং শরীয়ত বিরোধী বয়ান দিলেও কর্মীরা সেটার ন্যূণতম ভাষায় প্রতিবাদ কিংবা সমালোচনা করবে না৷
অন্য কেউ ইনসাফের সাথে সমালোচনা করলেও তাকে ইবাদত ও দায়িত্ব মনে করে গালী গালাজ করবে৷
তাদের এই চরিত্রটা এই জন্য জঘন্য, তারা চাপে পড়লে বলতে বাধ্য হয় যে "কেউ তো ভুলের উর্ধ্বে না" কিন্তু নিজেরা প্রতিবাদ করবে না৷ তাদের আচরণ দ্বারা প্রমাণ হয়: তাদের মুখ থেকে সাহাবীদের সমালোচনা বের হবে, কিন্তু তাদের ফাসেক নেতাদের সমালোচনা বা প্রতিবাদ বের হবে না৷
০৩➡️
আমার কাছে ডা. শফিক সাহেবকে যতটুকু ভদ্র, নায়েবে আমীর ডা. আবু তাহের ততটুকুই কুটকৌশলী এবং মুনাফিক মনে হয়৷
ভবিষ্যতে জামায়াত যদি অপূরণীয় কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হয় তাহলে এই নায়েবে আমীরের হাত ধরেই সেটা হবে৷
০৪➡️
আল্লাহর নামের কসম খেয়ে বলতে পারি, এবং আমি বিশ্বাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে একথা লালন করি যে,
"জামায়াত কোনো ইসলামী দল না, কখনোই না"
যেই দলের আমীর একজন ডাক্তার, নায়েবে আমীর একজন ডাক্তার, অধিকাংশ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উকিল ও ব্যরিষ্টার, তাদের দ্বারা হাসপাতাল আর কোর্ট-কাচারি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, তবে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে না৷
০৫➡️
সারা দেশে জামাতের মহিলা নেতৃরা কোরআন শরিফ সাথে নিয়ে গ্রামের সহজ সরল মহিলাদেরকে কোরআনে হাত রেখে শপথ পড়ায় "বলুন যে, আমি মুসলমান হিসেবে কোরআনের পক্ষে, ইসলামের পক্ষে ভোট দিবো" শপথ শেষে বলে যে, কোরআন শরিফে হাত রেখে বলার পরও যদি দাড়িপাল্লায় ভোট না দেন তাহলে আল্লাহর আদালতে আপনাকে দাঁড়াতে হবে৷
বাস্তবতা হলো: বাংলাদেশে জামায়াত ক্ষমতার জন্য যে পরিমাণ ইসলামকে ব্যবহার করেছে আমি আপনি তা কল্পনাও করতে পারবো না৷
০৬➡️
জামায়াত যতটুকু আল্লাহর কাছে সাহায্য চায় তার চেয়ে বেশি এমেরিকার কাছে সাহায্য চায়৷
অতএব, যে দলের ভরসা এমেরিকার উপর তাদের দ্বারা এমেরিকান ইসলাম প্রতিষ্ঠা হবে, মদিনার ইসলাম প্রতিষ্ঠা হবে না৷
০৭➡️
জামায়াতের প্রত্যেক নেতা মুখে যে পরিমাণ মধু রাখে তাদের অন্তরে এরচেয়ে হাজার গুণ বেশি বিষ তারা চাষাবাদ করে৷
মিডিয়া ও টকশোতে তাদের চরিত্র একরকম, বাস্তবতায় তাদের চরিত্র সম্পন্ন ভিন্ন রকম৷ সম্ভবত এজন্যই তাদেরকে সবাই মুনাফিক দল আখ্যায়িত করে৷
০৮➡️
কথাটা শুনে কষ্ট দায়ক মনে হলেও এটা সত্য যে,'জামায়াত' ক্ষমতায় গেলে দেশের ইসলামী কালচার নষ্ট হবে৷ সমকামিতাসহ সমস্ত অশ্লীলতাকে মানবাধিকারের নামে নীরবে সমর্থন দিয়ে যাবে৷ নিজেরা আন্দোলন করিয়ে সব অপকর্মের বৈধতা দিয়ে বিদেশী সমর্থন আদায় করে নিজেদের ক্ষমতার মসনদকে শক্তিশালি করবে৷
০৯➡️
আমি একথা দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করি: যেই দলের নেতা কর্মীরা তাদের তিন হাত বোডিতে ইসলাম কায়েম করতে পারেনি, তারাই আবার সারা দেশে ইসলাম কায়েম করবে? এই কথা শয়তানও বিশ্বাস করবে না৷
১০➡️
যদি কেউ প্রশ্ন করে: সমস্ত ইসলামী রাজনৈতিক দল আর জামায়াতের মধ্যে পার্থক্য কী?
জবাব হলো: সমস্ত ইসলামী দল ইসলামের জন্য ক্ষমতাকে বিসর্জন দিতে পরোয়া করবে না৷
কিন্তু জামায়াত ক্ষমতার জন্য পুরো ইসলামকে বিসর্জন দিতে পরোয়া করবে না৷
ক্ষমতাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য উদ্দেশ্য৷ 'ইসলাম' এটা তো কেবল সাইনবোর্ড মাত্র…