29/08/2026
গর্ভাবস্থার একেবারে শেষ পর্যায়ে প্রতিটি হবু মায়ের শরীরই নতুন অতিথিকে পৃথিবীতে আনার জোর প্রস্তুতি শুরু করে। এই স্পর্শকাতর সময়ে নিজের শরীরের ভাষা বুঝতে পারাটা মা এবং শিশু উভয়ের জন্যই অত্যন্ত জরুরি।
তলপেটে শিশুর অবস্থান পরিবর্তন: গর্ভস্থ শিশু ধীরে ধীরে পেলভিস বা তলপেটের দিকে নেমে আসে। এর ফলে ফুসফুসের ওপর চাপ কমে যাওয়ায় শ্বাস-প্রশ্বাস আগের চেয়ে স্বাভাবিক মনে হয়, তবে তলপেটে ও মূত্রথলিতে চাপ বেড়ে যায়।
কোমর ও পিঠে একটানা অস্বস্তি: জরায়ু ধীরে ধীরে প্রসারিত হওয়ার কারণে কোমর, পিঠের নিচের অংশ এবং তলপেটে এক ধরনের ভারি ভাব বা তীব্র চাপ অনুভব হতে পারে।
মিউকাস প্লাগ নির্গত হওয়া (শো): জরায়ুমুখ খুলতে শুরু করলে হালকা গোলাপি বা লালচে রক্তমিশ্রিত আঠালো স্রাব বের হতে পারে, যা প্রসবের সময় ঘনিয়ে আসার একটি বড় লক্ষণ।
প্রস্তুতিমূলক সংকোচন (ব্র্যাক্সটন হিকস): তলপেট হঠাৎ শক্ত হয়ে যাওয়া বা থেকে থেকে হালকা ব্যথা হতে পারে। এগুলো মূলত শরীরকে আসল প্রসব বেদনার জন্য প্রস্তুত করার এক ধরনের মহড়া।
হজমে গোলমাল বা পেট খারাপ: প্রসবের আগের হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে শরীরের পেশি শিথিল হতে থাকে, যার প্রভাব পড়ে পরিপাকতন্ত্রেও। এ সময় বমি বমি ভাব, অরুচি বা পাতলা পায়খানা হওয়াটা বেশ স্বাভাবিক।
অস্থিরতা ও ঘুমের ব্যাঘাত: পেটের বাড়তি আকার, তলপেটে ক্রমাগত চাপ এবং ঘন ঘন প্রস্রাবের কারণে রাতের ঘুম বারবার ভেঙে যায়। পাশাপাশি এক ধরনের মানসিক ও শারীরিক অস্থিরতা কাজ করে।
জরুরি সতর্কতা
যদি ব্যথা নির্দিষ্ট সময় পরপর নিয়মিত ও তীব্রভাবে আসতে থাকে, অথবা হঠাৎ করে পানি ভেঙে যায়, তবে বিন্দুমাত্র দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।