24/08/2026
অসুস্থ রোগীর জন্য দোয়া চাওয়ার সময় “ফি আমানিল্লাহ” (في أمان الله) বলা—এর অর্থ ও শরয়ী অবস্থান আলাদা করে বুঝতে হবে।
১. “ফি আমানিল্লাহ” অর্থ কী?
في أمان الله :
অর্থ “আল্লাহর নিরাপত্তায়/হেফাজতে থাকুন।”
এটি মূলত বিদায়ের সময় প্রচলিত একটি আরবি বাক্য। এর অর্থ ভালো; কিন্তু অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দোয়া হিসেবে রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে “ফি আমানিল্লাহ” বলা প্রমাণিত নয়।
অতএব, এটিকে সুন্নাহ হিসেবে নির্দিষ্ট করা ঠিক হবে না।
২. অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রাসূল ﷺ কী দোয়া শিখিয়েছেন?
রাসূলুল্লাহ ﷺ রোগীকে দেখতে গিয়ে বলতেন:
لَا بَأْسَ، طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
অর্থ: “কোনো অসুবিধা নেই; ইনশাআল্লাহ এটি (গুনাহ থেকে) পবিত্রকারী হবে।”
(—সহীহ বুখারী, ৫৬৫৬)
আর রোগীর জন্য এই দোয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ
অর্থ: “আমি মহান আল্লাহর কাছে, মহান আরশের রবের কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আপনাকে সুস্থ করে দেন।”
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কোনো অসুস্থ ব্যক্তির কাছে গিয়ে এটি সাতবার বললে আল্লাহ তাকে সুস্থ করবেন—যদি তার নির্ধারিত মৃত্যু না হয়ে থাকে।
(—সুনান আবু দাউদ, ৩১০৬ জামে‘ তিরমিযী, ২০৮৩)
আরেকটি মাসনূন দোয়া:
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ، أَذْهِبِ الْبَاسَ، اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
অর্থ: “হে আল্লাহ! মানুষের রব, কষ্ট দূর করে দিন। আপনি শিফাদানকারী। আপনার শিফা ছাড়া কোনো শিফা নেই। এমন শিফা দান করুন, যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।”
(—সহীহ বুখারী, ৫৬৭৫; সহীহ মুসলিম, ২১৯১)
৩. তাহলে “ফি আমানিল্লাহ” বলা কি হারাম?
না, শুধু “ফি আমানিল্লাহ” বলা হারাম বলা যাবে না। কারণ এর অর্থ আল্লাহর হেফাজতের কথা বলা, যা মূলত ভালো অর্থবোধক।
তবে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ:
“ফি আমানিল্লাহ” = বৈধ অর্থের সাধারণ বাক্য।
“এটি অসুস্থ রোগীর জন্য সুন্নাহর দোয়া” = এমন দাবি প্রমাণিত নয়।
রোগীর জন্য মাসনূন দোয়া করাই উত্তম ও অধিক সুন্নাহসম্মত।
অর্থাৎ কেউ রোগীর জন্য “ফি আমানিল্লাহ” বললে তাকে বিদআতী বা গুনাহগার বলা ঠিক হবে না, যতক্ষণ সে এটিকে শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত বিশেষ দোয়া মনে না করে।
৪. কুরআনের নির্দেশ:
আল্লাহ বলেন:
وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
“আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে সুস্থতা দান করেন।”
(—সূরা আশ-শু‘আরা ২৬:৮০)
সুতরাং রোগীর জন্য দোয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর কাছেই শিফা চাওয়া হচ্ছে মূল বিষয়।
সারকথা: রোগীর জন্য “ফি আমানিল্লাহ” বলা নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু এটিকে রোগীর জন্য মাসনূন/হাদীসে বর্ণিত বিশেষ দোয়া বলা যাবে না। এর পরিবর্তে উপরের সহীহ হাদীসে বর্ণিত দোয়াগুলো পড়া উত্তম।