JAHID

JAHID This is jahid.i am digital creator . Please follow my page and get my videos every time.

হাসিটা যার সবচেয়ে সুন্দর!🌸😊
31/07/2026

হাসিটা যার সবচেয়ে সুন্দর!🌸😊

আজ আমার পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় ছোট ভাইয়ের জন্মদিন! 🎂 তুই বড় হচ্ছিস, কিন্তু আমার জন্য সব সময় আমার পুচকে ভাইটাই থাকবি। ...
16/07/2026

আজ আমার পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় ছোট ভাইয়ের জন্মদিন! 🎂 তুই বড় হচ্ছিস, কিন্তু আমার জন্য সব সময় আমার পুচকে ভাইটাই থাকবি। তোর জীবনের সব চাওয়া পূর্ণ হোক। অনেক অনেক ভালোবাসা আর শুভকামনা তোর জন্য। শুভ জন্মদিন, ভাই! ❤️🎉

নতুন সুযোগের সন্ধান এবং সংযোগ তৈরির প্রত্যাশায়।
14/07/2026

নতুন সুযোগের সন্ধান এবং সংযোগ তৈরির প্রত্যাশায়।

16/06/2026

তর্কের খাতিরে ধরেই নিলাম জাহেদ উর রহমানের রাষ্ট্রীয় সফর নিয়ে দিল্লী বিমানবন্দর অবহিত ছিল না। ধরে নিলাম ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনা ফেইল করেছে। ধরে নিলাম দিল্লীস্থ বাঙলাদেশি দূতাবাস ব্যাপারটা প্রোপারলি হ্যান্ডেল করতে পারে নাই।
তবু জাহেদ উর রহমান তো আর সবুজ পাসপোর্টে যান নাই। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উনার পাসপোর্ট লাল। উনার ডিপ্লোম্যাটিক ইমিউনিটি আছে। উনি ইসরায়েলে প্রবেশ করতে চাইলেও ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী তেল আবিব উনাকে বাধা দিতে পারে না এবং দিতোও না।
দিল্লী এয়ারপোর্টের কাছে আগাম নোটিশ থাকুক আর না থাকুক, জাহেদ উর রহমানকে সসম্মানে বরণ করে নেওয়া তাদের কর্তব্য ছিল।
দিল্লীতে যেটা হইলো এটা পুরো ভারতীয় কালচারের বহিঃপ্রকাশ। কাতারের আমিরের উপদেষ্টা আসলে; বা কম্বোডিমার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দিল্লীতে আসলে উনাকে বসায়া রাখা হইতো?
হইতো না।
তখন ঠিকই কূটনৈতিক শিষ্টাচার পালিত হতো।
সারা পৃথিবীর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া নিজেদের মধ্যে সবচেয়ে কম ট্রেড করে। সারা পৃথিবীর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বর্ডারগুলোতে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে। সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে মিলিটারাইজড বর্ডার এই দক্ষিণ এশিয়াতে। এই ভারতের জন্য আমরা বাকি ৬টা দেশ নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারি না, ঘুরতে যাইতে পারি না, ট্রেড করতে পারি না, বিদ্যুৎ আমদানী করতে পারি না। পুরা সার্ক একটা সার্কাস বানায়া রাখছে ভারত। আর পাশের অঞ্চল আসিয়ান রীতিমতো ঐক্যের ভূস্বর্গ বানায়া ফেলছে।
মানুষের কত রকম প্রতিবেশী থাকে। ইসরায়েলের মতো হিংস্র প্রতিবেশী থাকে, আফগানিস্তানের মতো জম্বি প্রতিবেশী থাকে, বেলজিয়ামের মত ভদ্র প্রতিবেশী থাকে। আর আমাদের কপালে জুটেছে খাচ্চর।
তাবৎ পৃথিবী খুঁজে আপনি ভারতের মত আর একটা খাচ্চর আর ছোটলোক দেশ পাবেন না।

- Irfan Sheikh

১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির পরাজয়ের পর যুগোস্লাভিয়ার নামে নতুন এক রাষ্ট্রের জন্ম হয়, যদিও দেশটির নাম...
13/06/2026

১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির পরাজয়ের পর যুগোস্লাভিয়ার নামে নতুন এক রাষ্ট্রের জন্ম হয়, যদিও দেশটির নামকরণ হয় ১৯২৯ সালে। যার অর্থ দক্ষিণ স্লাভিয়া বা দক্ষিণে স্লাভিক জাতির দেশ।

সেই যুগোস্লাভিয়ার অংশ ছিল বসনিয়া। যেখানে জন্ম নিয়েছিলেন এমন এক মহান মুসলিম নেতা, যিনি ইউরোপে মুসলিম আইডেন্টিটি রক্ষার লড়াই করেছেন জীবনভর এবং তার দূরদর্শী চিন্তা আর কর্মের কারণেই আজ ইউরোপের বুকে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা নামে একটি মুসলিম রাষ্ট্র টিকে আছে। যদিও এই টিকে থাকার জন্য বহু মানুষের জীবন দিতে হয়েছে। বসনিয়ার সেই নেতার নাম আলিয়া ইজেতবেগোভিচ।
বসনিয়া এক সময় ছিল ইউরোপে উসমানী সাম্রাজ্যের শেষ সীমানা। প্রায় ৪০০ বছর ধরে বসনিয়া উসমানী সাম্রাজ্যের প্রদেশ। এরপর ছিল অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির শাসনে এবং পরবর্তীতে কমিউনিস্ট যুগোস্লাভিয়ার অংশ হয়।

যুগোস্লাভিয়ার লোকজনের এথনিসিটি মূলত স্লাভিক বা স্লাভ। কিন্তু তারা বিভক্ত হয়ে পড়েন ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে। পূর্বের সার্বিয়ানরা অর্থোডক্সে বিশ্বাসী আর পশ্চিমের ক্রোয়েশিয়ানরা ক্যাথলিকে। আর মাঝখানে ছিল বসনিয়াক মুসলিমরা। বসনিয়াক মুসলিমরা মূলত উসমানীদের হাত ধরে ইসলাম গ্রহণ করেন। অ*স্ত্রের জোরে নয়, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়।

এই তিন বিশ্বাসের লোকজনের এথনিসিটি, ভাষা, চেহারা সবই এক ছিল। কিন্তু তারা আলাদা হয়ে পড়েন শুধুমাত্র নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর কমিউনিস্ট শাসনের অধীনে যুগোস্লাভিয়ায় ধর্মের উপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। মার্শাল টিটো টানা ৪০ বছর ধরে কঠোরভাবে যুগোস্লাভিয়া শাসন করেন এবং পতনের আগ পর্যন্ত দেশটিতে ধর্মের উপর কড়াকড়ি ছিল। তবে আলবেনিয়ার মতো ছিল না।

আলবেনিয়াতে যেমন ধার্মিক মানুষদের জেলে ভরে রাখা হতো, সেখানে যুগোস্লাভিয়াতে নেমে আসতো নীরব সাজা। যারা মসজিদে নামাজ পড়তেন, তারা কোনো চাকরি-বাকরি পেতেন না। তরুণীদের হিজাব পরিধানে কড়াকড়ি ছিল। এছাড়া বসনিয়ার অসংখ্য শরীয়াহ আদালত, মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

ফলে কমিউনিজমের ভূত যখন বসনিয়ার মুসলিমদের আইডেন্টি মুছে ফেলছিল, ঠিক সেই সময়ে আলিয়া ইজেতবেগোভিচের মতো এক নেতা তৈরি হচ্ছিলেন। যার লড়াইই ছিল তার ধর্মীয় পরিচয়কে টিকিয়ে রাখা।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে আলিয়া 'ইয়ং মুসলিম পার্টি' নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। তাদের লক্ষ্য রাজনীতি ছিল না, বরং মুসলিম তরুণদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া এবং দাতব্য কাজ করা। কিন্তু কমিউনিস্ট সরকার এই সংগঠনকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে। যার ফলে আলিয়া ইজেতবেগোভিচকে জেলে যেতে হয়।

পরবর্তীতে আলিয়া ইজেতবেগোভিচ তার এই সাজাকে আল্লাহর রহমত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাকে জেলে পাঠিয়ে তার জীবনরক্ষা করেছিলেন। কারণ জেলে না গেলে তাকেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিতে হতো, যেখানে তার এলাকার অনেক পরিচিতদের মতো মৃত্যুবরণ করার সম্ভাবনা ছিল।

ইজেতবেগোভিচ পরবর্তীতে জেল থেকে বের হয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেন এবং একটি ল ফার্মে চাকরি নেন। কিন্তু তার চিন্তা জুড়ে ছিল কীভাবে তিনি নিজের এবং তার দেশের মুসলিমদের পরিচয়কে রক্ষা করবেন। কারণ কমিউনিস্ট শাসক মুসলিম পরিচয়কে মুছে ফেলার চেষ্টা করে যাচ্ছিল।

যার ফলশ্রুতিতে তিনি ১৯৭০ সালে, ইজেতবেগোভিচ "ইসলামিক ঘোষণা" শিরোনামে ৪০ পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন। যেখানে তিনি তুলে ধরেন তিনি এবং বসনিয়াক মুসলিমরা তাদের আত্মপরিচয় ও তাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ধারণ করেন। তারা এমন এক যুগোস্লাভিয়া গঠন করতে চান যেখানে এই পরিচয় সংরক্ষিত থাকবে এবং সকলে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের চর্চা করতে পারবেন।

এই বই প্রকাশের পর ১৯৮৩ সালে তাকে আবার আটক করা হয় এবং ১৪ বছর জেলবন্দী করে রাখা হয়। জেলের মধ্যে তাকে টানা রোদের ভেতর মাথায় পাথর দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হতো, যাতে তার মনোবল ভেঙে যায়। কিন্তু এসব করেও তার মনোবল ভাঙা যায়নি।

বরং তিনি বিচার চলাকালে কোর্টে দাঁড়িয়ে দৃপ্তকণ্ঠে বিচারককে বলেন, আমি নিজের মুসলিম পরিচয় নিয়ে গর্ব করা ছাড়া আর কিছুই করিনি। আমি একজন মুসলিম এবং স্লাভ। আমি তোমাদের জাতিগোষ্ঠীরই একজন। তুমি কীভাবে আমাকে অস্বীকার করতে পারো? আমি কোনো বেআইনি কাজ করছি না, কিন্তু তুমি আমাকে হুমকি হিসেবে দেখছো এবং যা কিছু অবৈধ মনে করছো তা সবই তোমার কল্পনা।

জেলে বসেই তিনি সবচেয়ে বিখ্যাত বই 'Islam Between East & West' লিখেছিলেন। ২১ বছর বয়সে প্রথম কারাবন্দী হওয়ার আগে থেকে লেখা শুরু করেছিলেন।
জেলে নিজের লোকের মাধ্যমে পাচার করা কাগজে তিনি লেখালেখি করতেন। পরে সেসব বাইরে পাচার করে দিতেন। ১৯৮৪ সালে আমেরিকায় তার এই বিখ্যাত বইটি প্রকাশ হয় এবং বেস্ট সেলার হয়।

ইজেতবেগোভিচ নিজেকে একজন "ইউরোপীয় মুসলিম" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "আমরা দুটি বিশ্বকে বিভক্তকারী বিশাল সীমান্তে অবস্থিত একটি আদর্শ দেশ। আমাদের ধর্ম প্রাচ্য থেকে এসেছে, এবং আমাদের শিক্ষা ইউরোপ থেকে। আমাদের হৃদয় এক বিশ্বের, আমাদের মন অন্য বিশ্বের। এর মধ্যেই এক ধরনের ক্ষমা ও উদারতা নিহিত আছে। আমরা যদি সৎ মানুষ হই, তবে আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে বসনীয়রা প্রতিনিয়ত নিজেদেরকে জিজ্ঞাসা করে তারা কারা এবং তারা কোন বিশ্বের অন্তর্ভুক্ত। সেই প্রশ্নের আমার উত্তর হলো: আমি একজন ইউরোপীয় মুসলিম। এবং আমি এই সংজ্ঞায় সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট।"

ইজেতবেগোভিচকে দুর্বল করার জন্য তার মেয়ের মাধ্যমে তাকে প্রস্তাব পাঠানো হয় তিনি যদি ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান তাহলে তাকে মুক্ত করে দেওয়া হবে। জবাবে তিনি বলেন, আমি কীসের জন্য ক্ষমা চাইব? আমি কোনো ভুল করিনি। আমি একজন মুসলিম, আমি একজন গর্বিত স্লাভ মুসলিম পরিচয়ের জন্য ক্ষমা চাইব?

তিনি ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করায় তাকে আরো কয়েক বছর জেলে কাটাতে হয়। কিন্তু তার সেই বই প্রকাশের পর জনমতের চাপে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় সরকার। ১৯৮৯ সালে তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। পরের বছর মার্শাল টিটো মৃত্যুবরণ করার মধ্য দিয়ে যুগোস্লাভিয়ার পতন শুরু হয়।

আলিয়া ইজেতবেগোভিচ ১৯৯০ সালে পার্টি অফ ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন’ (এসডিএ) প্রতিষ্ঠা করেন। দলটির উদ্দেশ্য ছিল সুস্পষ্ট। সেটা হলো বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মুসলিম জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করা এবং রাজনৈতিকভাবে সমন্বয় সাধন করা, কিন্তু একই সাথে এটি সমগ্র যুগোস্লাভিয়া জুড়ে সকল মুসলিমের দল হওয়ারও আকাঙ্ক্ষা পোষণ করত – অর্থাৎ, সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো, কসোভো এবং ম্যাসিডোনিয়ার মুসলিমদেরও।

১৯৯০ সালের নভেম্বরে এসডিএ নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে। এবং আলিয়া ইজেতবেগোভিচ দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সার্বিয়া আর বসনিয়া তখনও একসাথে। ক্রোয়েশিয়া আর স্লোভেনিয়া নামে দুটি আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র তৈরি হওয়ায় বসনিয়াও সেই পথে হাঁটে। আলিয়া ইজেতবেগোভিচ এমন যুগোস্লাভিয়া কিংবা বসনিয়া চাননি যেখানে ক্রোয়েশিয়া আর স্লোভেনিয়া থাকবে না। কারণ সেটি হবে বৃহত্তর সার্বিয়া। সে কারণ তারা স্বাধীনতার ঘোষণা করে এবং স্বাধীনতার পক্ষে গণভোটের আয়োজন করে। সার্বিয়া সেই গণভোট প্রত্যাখান করে এবং শুরু হয় বসনিয়া যুদ্ধ।

যুদ্ধ বললে অবশ্য ভুল হবে। কারণ এটি ছিল একটি গ ণ হ ত্যা। যুগোস্লাভিয়ার রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে সামরিক কর্মকর্তা, সবখানে সার্বদের আধিপত্য ছিল। মূলত ইজেতবেগোভিচ যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তখনই তাকে মেনে নেয়নি দেশটির আর্মি। কারণ তারা কোনো মুসলিম নেতার অধীনে যেতে ইচ্ছুক ছিল।

সেই সময় যুগোস্লাভিয়ার সেনাবাহিনী ছিল বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ সেনাবাহিনী। আর সেনাবাহিনীর অস্ত্রশস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ছিল সার্বদের হাতে। ফলে সার্বরা যখন বসনিয়ার মুসলিমদের উপর হামলা শুরু করে তখন সেটা কোনো যুদ্ধ ছিল না, বরং সেটা ছিল গ ণ হ ত্যা। ফলে বসনিয়া গ ণ হ ত্যার ছবিগুলো যদি দেখেন তাহলে দেখবেন বসনিয়ার মুসলিমরা লড়াই করছে সাধারণ পোশাকে, সাধারণ অস্ত্র দিয়ে। বিপরীতে সার্বরা লড়াই করছে একটি সুসজ্জিত বাহিনী হিসেবে।

আলিয়া ইজেতবেগোভিচ এই গ ণ হ ত্যা বন্ধ করার জন্য বিশ্বনেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন হয় আপনারা হস্তক্ষেপ করুন অথবা আমাদের অস্ত্র দিন। কিন্তু জাতিসংঘ ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভূমিকা ছিল লজ্জাজনক। তারা হস্তক্ষেপও করেনি, বরং উল্টো সেখানে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে নিরস্ত্র বসনিয়াক মুসলিমরা সার্বদের হাতে গ ণ হ ত্যার শিকার হয়।

এর মধ্যে সেব্রেনিকা গ ণ হ ত্যা ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। এটি ছিল জাতিসংঘ ঘোষিত নিরাপদ এরিয়া। কিন্তু সার্বিয়ান বাহিনী সেটি দখল করে ভয়াবহ গ ণ হ ত্যা চালায়। সার্বরা প্রচণ্ড মুসলিম বিদ্বেষী ছিল। সেই সময় এমনও হয়েছে যে প্রতিবেশী কিছুদিন আগেও কোনো বসনিয়াক মুসলিমের বাড়িতে দাওয়াত খেয়েছে, আনন্দ করেছে, তারাও সেই মুসলিম প্রতিবেশীকে হ ত্যা করতে কার্পণ্য করেনি। সেব্রেনিকায় ৪৮টি মসজিদের প্রতিটি তারা গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, একটি ইটও অবশিষ্ট রাখেনি।

সেই সাথে টানা চার বছর তারা বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভো অবরোধ করে রেখেছিল। সেখানে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, খাবার সবকিছুতে অবরোধ করা হয়েছিল। এরপরও সেখান থেকে পালিয়ে যাননি আলিয়া ইজেতবেগোভিচ। সেই সময় সারায়েভোতে ইতালিসহ আরো কিছু দেশ থেকে বন্দুক প্রেমীরা সপ্তাহের শেষে বিমানে চড়ে শহরের বাইরে আসতেন। যাকে বলা হতো স্নাইপার সাফারি।

সারায়েভোর বিভিন্ন অলিগলিতে নিঃশব্দে স্নাইপার দিয়ে গুলি করে হ ত্যা করা হতো। যেন বনে কেউ প শু শিকার করছে। তাদের কাছে সবচেয়ে মজার ছিল শি শু দে র হ ত্যা করা। শি শু দের হ ত্যা করার জন্য সবচেয়ে বেশি টাকা দিতে হতো, আর বৃদ্ধ মুসলিমরা ছিল ফ্রি।

১৯৯৫ সালের দিকে বসনিয়ার মুসলিমরা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। ঠিক সেই সময় জাতিসংঘ আর যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করে, যেন বসনিয়ার মুসলমানরা সার্বদের পরাজিত করে পুরো অঞ্চলে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করার মতো বিজয় অর্জন না করতে পারে। এবং তারা তাদের চিরাচরিত ডিভাইড অ্যান্ড রুল প্রয়োগ করে সার্বিয়া আর বসনিয়ার মধ্যে সীমানা টেনে দেয়।

যার ফলে বসনিয়া ছোট এক দেশে পরিণত হয়। তবে বসনিয়াক মুসলিমরা নিজেদের পরিচয় সমুন্নত রেখেছে। যা সম্ভব হয়েছে আলিয়া ইজেতবেগোভিচের মতো এক মহান নেতার কারণে। যিনি জেলে টানা ১৪ ঘণ্টাও মাথায় পাথর বহন করেছেন, সেখান থেকে তিনি স্বাধীন দেশের রাজা হয়েছিলেন।

© Zahid Hasan Mithu

05/06/2026

নোয়াখালীতে ১৯৪৬ সালে একটি দাঙ্গা হয়েছিল। সেটি ছিলো ভয়াবহ দাঙ্গা।

হিন্দুরা এটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একতরফা অপপ্রচার করে আসছিলো।

অথচ বর্তমানে অনেক মুসলিম, এমনকি নোয়াখালীর বহু মানুষও সেই দাঙ্গার প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জানেনই না।

এর কারণ হলো বর্তমানের নামধারী মুসলিমরা নিজেদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস চর্চা করেই না।

নোয়াখালী দাঙ্গার সূত্রপাত নোয়াখালীতে হয়নি, হয়েছিলো কোলকাতায়।

হিন্দুত্ববাদীদের নেতৃত্বে হিন্দুরা কলকাতায় দাঙ্গা শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় বিহারেও দাঙ্গা শুরু করে।

কলকাতায় হিন্দু ও মুসলিমের সংখ্যা প্রায় সমান সমান হওয়ায় পরিস্থিতি অতটা একতরফা হয়নি, কিন্তু বিহারে মুসলিমদের অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ।

সেই সময়ে নোয়াখালীর মুসলিমরা ছিলেন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন। কারণ সেখানে ওহাবী আন্দোলন এবং হাজী শরীয়ত উল্লাহর ফরায়েজী আন্দোলনের শক্তিশালী প্রভাব ছিল।

সমগ্র ভারতজুড়ে যখন মুসলিম গণহত্যা শুরু হয়, তখন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার শামপুরের পীর গোলাম সারোয়ার হুসেইনী এর প্রতিবাদ করেন।

তিনি গান্ধীসহ ভারতীয় কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ নেতাদের কাছে এর প্রতিকার চেয়ে চিঠি লিখেন।

কিন্তু কেউই তাঁর কথায় কর্ণপাত করেনি।

সেই সময়ে বিহার থেকে বিতাড়িত মুসলিমরা দলে দলে নোয়াখালিতে প্রবেশ করছিল।

কিন্তু কংগ্রেস নেতা ও জমিদার চিত্তরঞ্জন রায় চৌধুরী নোয়াখালী থেকে সকল বহিরাগত মুসলিমকে উচ্ছেদের অভিযানে নেমেছিল।

পীর সাহেব এবারও গান্ধীসহ কংগ্রেস নেতাদের অনুরোধ করেন, যাতে তারা চিত্তরঞ্জনকে থামায়। কিন্তু তাঁরা তাঁকে কোনো গুরুত্বই দেয়নি।

বাধ্য হয়ে পীর সাহেব ‘মিয়া ফৌজ’ নামে একটি বাহিনী গঠন করেন এবং নোয়াখালীতে পাল্টা হিন্দু দমন শুরু করেন।

একই সঙ্গে তিনি চিত্তরঞ্জন রায় চৌধুরীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দেন।

এক পর্যায়ে চিত্তরঞ্জনকে অবরোধ করা হয়।

বৃটিশ পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র, নিজস্ব বাহিনী এবং কংগ্রেস কর্মীদের নিয়েও সেদিন মুসলিমদের প্রতিরোধ করতে পারেনি।

ভীতু ও জালেম চিত্তরঞ্জন রায় স্বয়ং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে এবং পরে নিজেও আত্মহত্যা করে।

চিত্তরঞ্জনের পতনের পর তারা পুরো নোয়াখালীকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে হিন্দু উচ্ছেদ অভিযানে নেমে পড়ে।

মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এবার নোয়াখালী থেকে কলকাতামুখী হিন্দু শরণার্থীদের ঢল নামে।

এতক্ষণে টনক নড়ে গান্ধীর।

সে মুসলিম নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে এবং সরোয়ার হুসেইনীকে থামানোর অনুরোধ জানায়।

কিন্তু কোনো মুসলিম নেতার কথা—এমনকি তাঁর দলের প্রধান বরিশালের এ কে ফজলুল হকের কথাও—শোনেননি সরোয়ার সাহেব।

কারণ এতদিন কেউ তাঁকে কোনো সহায়তাই করেনি।

গান্ধী এবার নিজেই নোয়াখালী আসতে বাধ্য হন। সঙ্গে ছিল তার একটি দুগ্ধজাত ছাগল এবং বেশ কিছু চামচার বাচ্চা।

ইতোমধ্যে সরোয়ার হুসেইনী ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি পুরো বাংলা থেকেই হিন্দুদের উচ্ছেদ করবেন।

গান্ধী তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে প্রথমে তিনি অস্বীকৃতি জানান, পরে রাজি হন।

গান্ধী প্রথমে তাঁকে হুমকি-ধমকি দেয়, পরে বুঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু হুসেইনী সাহেব তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন।

তার সাফ কথা, ভারতে মুসলিম গণহত্যা বন্ধ না হলে তিনিও থামবেন না।

সরোয়ার সাহেবের আস্তানায় প্রবেশ করা মাত্রই গান্ধীর ছাগল হস্তগত করে মিয়া ফৌজের সদস্যরা।

এবং কথোপকথন চলাকালীন সময়েই রান্না করা সেই ছাগলের মাংস গান্ধীর সামনে পরিবেশন করা হয়।

এটি ছিল সরোয়ার সাহেবের একটি সুস্পষ্ট থ্রেট। গান্ধী তখনই উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়, নোয়াখাইল্লারা কী জিনিস।

সরোয়ার সাহেব গান্ধীকে বলেন, "আপনি ভুল জায়গায় এসেছেন।

দাঙ্গার সূত্রপাত এখানে নয়। আমি আপনাকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছিলাম বিহার ও কলকাতায় অথচ আপনি এসেছেন নোয়াখালীতে।

যেদিন কলকাতা ও বিহারে সংঘর্ষ বন্ধ হবে, সেদিন নোয়াখালীও ঠান্ডা হয়ে যাবে।"

গান্ধী অনুরোধ করে বলেন, সে চেষ্টা চালাবে। তবে এই সময়ের মধ্যে নোয়াখালীতে যেন হিন্দু উচ্ছেদ বন্ধ থাকে।

সরোয়ার সাহেব পাল্টা প্রশ্ন করেন, আপনি কি নিশ্চয়তা দিতে পারবেন যে, “আমি বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই বিহার ও কলকাতায়ও দাঙ্গা বন্ধ হবে ?”

গান্ধী সেই নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়।

তখন সারোয়ার হুসেইনী বলেন, “তাহলে আমাকে কোনো অনুরোধ করার যোগ্যতা আপনি রাখেন না।

আমি আপনার নিরাপত্তা দিতেও প্রস্তুত নই। আমি আপনাকে নোয়াখালীতে আহ্বান করিনি।”

সারোয়ার সাহেবের হুমকির পর গান্ধী কাজ শুরু করে দেন। তিন দিনের মধ্যেই পুরো ভারতে দাঙ্গা বন্ধ হয়ে যায়।

পীর সারোয়ার সাহেব স্পষ্ট জানতেন, গান্ধীই সকল দাঙ্গা লাগাচ্ছে এবং মুসলিমদের হত্যা করছে।

দাঙ্গা বন্ধ হলে গান্ধী নোয়াখালীতে নিজের নিরাপত্তা চায় এবং হিন্দুদের কল্যাণে একটি আশ্রম স্থাপনের অনুমতি প্রার্থনা করে।

সরোয়ার সাহেব তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে একটি হিন্দু আশ্রম স্থাপনের অনুমতি দেন।

সেখানকার হিন্দু নেতা হেমন্তের জায়গাতেই আশ্রমটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

আল্লাহ তায়ালা এই মহানায়ক সারোয়ার হোসাইনিকে জান্নাত দান করুন।

পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ পাঠক থেকে শুরু করে শিক্ষিত মহলেও এত ভুল তথ্য প্রচল...
05/06/2026

পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ পাঠক থেকে শুরু করে শিক্ষিত মহলেও এত ভুল তথ্য প্রচলিত আছে যে, সত্যিটা যেন ইতিহাসের আড়ালে হারিয়ে গেছে। আপনি কি জানেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম কিভাবে পাকিস্তানের অংশ হলো? অথবা কেন খুলনা-সাতক্ষীরা বাংলাদেশে থাকলেও মুর্শিদাবাদ যায়নি? চলুন, ইতিহাসের সূত্র ধরে জেনে নেওয়া যাক ৭টি প্রচলিত অপপ্রচারের সঠিক জবাব।

অপপ্রচার-১: জিন্নাহর পূর্ব বাংলা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা ছিল না, তাই কলকাতা ভারতের অংশ হয়ে যায়।
জবাব: তাহলে কি করে ৯৯% অমুসলিম পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি) পাকিস্তানের অংশ হলো? দেশভাগের র্যাডক্লিফ লাইনের মূল প্রস্তাব অনুযায়ী এই তিন জেলা ছিল ভারতের ভাগে — চাকমা রাজপ্রাসাদে ভারতের পতাকাও ওড়ে। কিন্তু জিন্নাহ বুঝেছিলেন, এই তিন জেলা ভারতের হাতে গেলে চট্টগ্রাম বন্দর অরক্ষিত হয়ে পড়বে। তাই তিনি পাঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলা ভারতকে ছেড়ে দেন এবং বিনিময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে নেন। আজ সাজেক ভ্যালিতে ঘুরতে গেলে ফিরোজপুরের পাঞ্জাবি মুসলিমদের ত্যাগের কথা স্মরণ রাখবেন। উৎস: The Partition of India (Cyril Radcliffe Award, 1947) ও Jinnah: India-Partition-Independence (Jaswant Singh)।

অপপ্রচার-২: জিন্নাহ ইচ্ছাকৃতভাবে কলকাতাকে ভারতের হাতে ছেড়ে দেন যাতে লাহোর পাকিস্তানের অংশ হয়।
জবাব: কলকাতার তৎকালীন জনসংখ্যার ৭০% ছিল হিন্দু। ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ১৭ জন মেয়রের মধ্যে মাত্র ৪ জন মুসলিম ছিলেন — সেটাও হিন্দু ভোট বিভক্ত হওয়ার সুবাদে। অন্যদিকে লাহোর ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। দেশভাগের মূলনীতি ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল পাকিস্তানে যাবে। তাই কলকাতা ভারতেই পড়ার কথা ছিল। জিন্নাহ নিজে গুজরাটি হলে, তার কাছে করাচি বা কলকাতা — উভয়ই সমান। তিনি কোনো ‘লাহোর প্রেমী’ ছিলেন না। উৎস: The Great Divide (H.V. Hodson) ও Bengal: The Partition of a Province (Joy Chatterjee)।

অপপ্রচার-৩: বাংলা বঞ্চিত হয়েছে — মুর্শিদাবাদ, মালদাহ পাইনি, এটা জিন্নাহর উদাসীনতার ফল।
জবাব: শুধু বাংলা নয়, পাঞ্জাবের অর্ধেকের বেশি যায় ভারতের দখলে। জিন্নাহ চেয়েছিলেন সম্পূর্ণ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ পাকিস্তানে যাক, কিন্তু কংগ্রেস ও ইংরেজরা বাংলা-পাঞ্জাব ভাগ করতে বাধ্য করে। জিন্নাহর হাতে সেনাবাহিনী ছিল না — তিনি আইনি পথে লড়েছেন। আর জানেন কি? খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট প্রথমে ভারতের ভাগে পড়েছিল। জিন্নাহ মুর্শিদাবাদের বদলে এই তিন জেলা নিয়ে নেন। এতে বাংলাদেশ বিশাল সমুদ্রসীমা ও বন্দর হারাতো না। মালদাহ ভাগ হয়ে যায় — চাঁপাই নবাবগঞ্জ পায় পাকিস্তান। উৎস: The Transfer of Power in India (V.P. Menon) ও Partition of Bengal (A.K. Gupta)।

অপপ্রচার-৪: জিন্নাহ রোহিঙ্গা সমস্যার জন্য দায়ী — তাকে আরাকান পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করতে হয়েছিল।
জবাব: জিন্নাহ ছিলেন ব্রিটিশ সংবিধানের অধীনে কাজ করা গণতান্ত্রিক নেতা, কোনো সশস্ত্র বিপ্লবী নন। আরাকান ছিল ব্রিটিশ বার্মার অংশ, ভারতের নয়। দেশভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত লর্ড মাউন্টব্যাটেন শুধু ভারতীয় উপমহাদেশের ভাগ করতে পারতেন — বার্মা তাঁর এখতিয়ারের বাইরে। অর্থাৎ আজকের ঢাকার ডিসি যেমন মানিকগঞ্জে মসজিদ করার অনুমতি দিতে পারেন না, তেমনি জিন্নাহর পক্ষে বার্মার ভুখণ্ড দাবি করা অসম্ভব ছিল। উৎস: The Burma-Bengal Border (Willem van Schendel) ও Jinnah: A Life (Stanley Wolpert)।

অপপ্রচার-৫: জিন্নাহ জোর করে উর্দু চাপিয়ে দিয়েছিলেন।
জবাব: জিন্নাহর পুরো ভাষণ পড়লে বা শুনলে বুঝবেন — তিনি বলেছিলেন, প্রতিটি প্রদেশের প্রাদেশিক ভাষা ঐ প্রদেশের জনপ্রতিনিধিরা ঠিক করবেন, কিন্তু কেন্দ্রের অফিসিয়াল ভাষা হবে উর্দু। ঠিক যেমন ভারতের কেন্দ্রে হিন্দি-ইংরেজি, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বাংলা, তামিলনাড়ুতে তামিল। বাংলা, পাঞ্জাবি, সিন্ধি — সব প্রাদেশিক ভাষার মর্যাদা তিনি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। উর্দু বা ইংরেজি নিরপেক্ষ সেতুবাক্য হিসেবে প্রস্তাব করেন — একজাতির ওপর আরেকজাতির আধিপত্য এড়াতে। আর একই প্রস্তাব আপনার ‘প্রিয় রাঠও’ দিয়েছিলেন ভারতের জন্য। উৎস: Jinnah’s Speech to the Constituent Assembly of Pakistan, 11 August 1947।

অপপ্রচার-৬: জিন্নাহ নিজে উর্দু বলতেন, তাই তিনি উর্দু চাপিয়েছিলেন।
জবাব: জিন্নাহর মাতৃভাষা ছিল গুজরাটি। তিনি উর্দু তেমন পারতেন না — তাঁর সরকারি ভাষা ছিল ইংরেজি। তাঁর প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান (পাঞ্জাবি), শিক্ষামন্ত্রী ফজলুল হক (বাঙালি, আদি ঢাকাইয়া), ধর্মমন্ত্রী আবুল আসাদ (জার্মান ইহুদি) — কেউই উর্দুভাষী ছিলেন না। অর্থাৎ জিন্নাহ ‘উর্দু সাম্রাজ্যবাদী’ হওয়ার বদলে বরং বহুভাষিক ও সংখ্যালঘু-বান্ধব একটি কেন্দ্রীয় ভাষার পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন। উৎস: Freedom at Midnight (Larry Collins & Dominique Lapierre) ও Jinnah: A Political Study (M.H. Sayeed)।

অপপ্রচার-৭: জিন্নাহ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে গুলি চালিয়েছিল।
জবাব: এটি ইতিহাসের সবচেয়ে অযৌক্তিক অপপ্রচার। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ মৃত্যুবরণ করেন ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ সালে। তিনি তিন বছর আগেই মারা গেছেন — ভাষা আন্দোলন ও ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে তিনি কীভাবে গুলি চালাবেন? এই ভুল তথ্য কেবল ইতিহাস বিকৃতির সামিল, যা হয় নাসির উদ্দিন পাটোয়ারির মতো ‘ডার্বি খান’রা প্রচার করেন, অথবা কেউ বাংলাদেশের ইতিহাস খুলে দেখেননি। উৎস: The Death Certificate of M.A. Jinnah, 11 September 1948, ও The History of Bangladesh (Sirajul Islam)।

আপনার মতামত ও সূত্র
এই লেখার মূল উদ্দেশ্য তথ্যভিত্তিক ইতিহাস চর্চা। প্রতিটি তথ্য নিচের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ও দলিল থেকে সংগৃহীত:

Radcliffe Award, 1947 (Original Boundary Documents)

The Partition of India — Cyril Radcliffe

Jinnah: India-Partition-Independence — Jaswant Singh

The Great Divide — H.V. Hodson

Transfer of Power in India — V.P. Menon

Jinnah’s 11 August 1947 Speech (Constituent Assembly of Pakistan)

Freedom at Midnight — Collins & Lapierre

The History of Bangladesh (Vol. 1-2) — Sirajul Islam

M.A. Jinnah’s Death Certificate (11 September 1948, Karachi)

ইতিহাস একতরফা নয়। সত্য যত কঠিন হোক, তাকে মুখোমুখি হওয়াই মুক্তবুদ্ধির পরিচয়। আপনি কী মনে করেন? মন্তব্যে জানাতে পারেন।
copy post

17/04/2026

যখন তোমার বিড়াল ডিস্কোতে তোমার চেয়ে ভালো নাচে 😼🕺

শেখ হাসিনার চেয়ে মাত্র  এক বছর বেশি??photo courtesy :Daily Amar Desh
10/03/2026

শেখ হাসিনার চেয়ে মাত্র এক বছর বেশি??

photo courtesy :Daily Amar Desh

Address

Belkuchi

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when JAHID posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share