09/10/2025
💔 বাঁচার শেষ চেষ্টা — আমার লিউকেমিয়ার সাথে যুদ্ধ, দোয়ায় রাখবেন।
আসসালামু আলাইকুম।
এই কথাগুলো লিখতে গিয়ে হাত কাঁপছে।
জানেন, কখনো ভাবিনি আমি এমন অবস্থায় এসে পৌঁছাবো, যেখানে নিজের জীবনের গল্প নিজেকেই লিখতে হবে।
আমি আশরাফ মাহমুদ।
আমার শরীরে ধরা পড়েছে Acute Myeloid Leukemia (AML) — এক মারাত্মক রক্তের ক্যান্সার।
এই রোগের গতি এমন যে, আজ যদি চিকিৎসা থেমে যায়, কালকেই হয়তো দেরি হয়ে যাবে।
২০১৭ সালে আমি আমার মাকে হারিয়েছি — তিনি ছয় বছর লড়েছিলেন ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার-এর সঙ্গে।
দু’বছর পর বাবাও চলে গেলেন, হঠাৎ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে।
সেই থেকে চার বোনের একমাত্র ভাই হিসেবে চেষ্টা করেছি সবার ভরসা হতে।
আজ আমি নিজেই কারো ভরসা খুঁজছি।
কিছুদিন আগে, ৫ সেপ্টেম্বর, ভর্তি হই চীনের Lu Daopei Hospital-এ — লিউকেমিয়ার চিকিৎসায় পৃথিবীর সেরা হাসপাতালগুলোর একটি।
৬–১০ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার পর ডাক্তাররা বললেন, আমার AML উচ্চ ঝুঁকির, শরীরে আছে NUP98::NSD1 fusion gene — যার মানে, কেমোথেরাপি যথেষ্ট নয়, বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টই একমাত্র পথ।
১১–১৭ সেপ্টেম্বর, প্রথম কেমোথেরাপি নিয়েছি — Cytarabine + Daunorubicin (“7+3”) এবং Venetoclax।
তারপর আরও Azacitidine 100mg টানা ৭ দিন।
Lu Daopei-র চিকিৎসা নিঃসন্দেহে অসাধারণ।
কিন্তু খরচ শুনে বুক কেঁপে উঠেছিল — 2.65 কোটিরও বেশি টাকা।
আমাদের পক্ষে সেই লড়াই চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব ছিল না।
তাই চিকিৎসার আগামী ধাপগুলো ভারত এ গিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা।
শরীরে দুর্বলতা, মনে একটাই চিন্তা, কীভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যাব।
প্রতিদিন রক্ত বদলানো, প্লেটলেট দেওয়া, অসংখ্য ইনজেকশন, জ্বর, ঘাম, আর আল্লাহর নাম— এই নিয়েই দিন কাটছে।
আমার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ — বোন ম্যারো বায়োপসি (BMB) — এখন ভারতে হবে।
এই পরীক্ষা নির্ধারণ করবে, আমি রেমিশনে গিয়েছি কিনা।
রেমিশন পাওয়া গেলে, আমি চিকিৎসা চালিয়ে যাব ভারতের BLK Max Hospital-এ, Dr. Dharma Choudhury-র তত্ত্বাবধানে।
সেখানে শুরু হবে কনসোলিডেশন থেরাপি, তারপর বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট, এবং তার পরের দীর্ঘ পোস্ট-ট্রান্সপ্লান্ট চিকিৎসা ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া।
যদি রেমিশন না আসে, তবে আমাকে আবার ইন্ডাকশন কেমোথেরাপি ও প্রয়োজনে ব্রিজিং থেরাপি (বা টোটাল ম্যারো ইরাডিয়েশন) নিতে হবে, তার পরই ট্রান্সপ্লান্টে যাওয়া সম্ভব হবে।
ভারতে পুরো চিকিৎসার আনুমানিক খরচ — সব কেমোথেরাপি, ট্রান্সপ্লান্ট, ওষুধ এবং পরবর্তী যত্নসহ — প্রায় ১.৫ কোটি টাকা (BDT)।
সত্যি বলতে, আমি জানি না আমার শরীর কতদিন এই যন্ত্রণা সহ্য করতে পারবে।
কিন্তু আমি জানি, আল্লাহ আছেন।
আর তাঁর রহমতই একমাত্র শক্তি, যা আমাকে এখনো ধরে রেখেছে।
প্রতিদিন সকালে ফজরের নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে বলি,
“আরেকটা দিন দাও, হে আল্লাহ।
আরেকটা সূর্যোদয় দেখতে দাও, যেখানে আমি আবার হাসতে পারব।”
আমি কারো কাছ থেকে কিছু দাবি করছি না, শুধু একটু দোয়া চাই।
আর যদি কেউ পারেন, সামান্য সাহায্য করবেন — আপনার দোয়া, আপনার ভালোবাসা হয়তো আমার জীবনটা ফিরিয়ে দিতে পারে।
দান করার উপায়:
🇧🇩 Bangladesh Bank Transfer:
• Ashraf Mahmud (Self) – Eastern Bank Ltd., Dhanmondi Branch | A/C: 1061440329588 | SWIFT: EBLDBDDH017 | Routing Number: 095261188
bKash: +880 1791-743057 (Ashraf Mahmud)
bKash: | +8801777993895
Nagad: +8801777993895
International ways:
Canada E-transfer: Afsana Mahmud Pollobi, [email protected], TD Canada Trust 6368151 | Transit 05660 |
আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহর কাছে কিছুই অসম্ভব নয়।
তাঁর রহমতই সবশেষ নির্ভরতা।
ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতায়,
আশরাফ মাহমুদ
#লিউকেমিয়া #ক্যান্সারসচেতনতা #একসাথে_আমরা_পারি