07/02/2026
আমি ছেলের জন্মদিনে কেক কাটিনি… কারণ সেদিনই আমি ওর মৃত্যুর তারিখ জেনে গিয়েছিলাম
সবাই আমাকে আজও অদ্ভুত মা বলে।
কারণ নিজের ছেলের জন্মদিনে আমি কেক কাটি না, আলো জ্বালাই না, কোনো শুভেচ্ছাও জানাই না।
হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়ছেন।
যেদিন আমার ছেলে অয়ন জন্মেছিল, ঠিক সেই তারিখটাই আমি ক্যালেন্ডার থেকে কেটে ফেলেছি।
আমার নাম মেহরিন।
আমার ছেলে অয়নের বয়স এখন দশ।
কিন্তু আমি জানি— ও আর মাত্র তিন বছর বাঁচবে।
কীভাবে জানি?
কারণ আমি নিজেই দেখেছি ওর মৃত্যুর নথি।
ঘটনাটা তিন বছর আগের।
অয়ন তখন সাত বছরের। একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে ও হঠাৎ রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে। লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমায় ফোন আসে।
ডাক্তাররা বলে— “মৃদু স্ট্রোকের মতো হয়েছে, চিন্তার কিছু নেই।”
কিন্তু সেদিন হাসপাতালের রেকর্ড রুমে আমি একটা অদ্ভুত জিনিস দেখি।
নার্স ভুল করে আমাকে অন্য একটা ফাইল দিয়ে দেয়।
ফাইলের ওপরে লেখা—
Patient Name: Ayon Rahman
Date of Death: 17 July 2029
আমার মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে।
আমি নার্সকে বলি— “এটা কী?”
সে অবাক হয়ে বলে— “ম্যাডাম, এটা তো আপনার ছেলেরই ফাইল!”
আমি বলি— “আমার ছেলে তো বেঁচে আছে!”
নার্সের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
সে ফাইলটা নিয়ে ভেতরে যায়।
পাঁচ মিনিট পরে ফিরে এসে বলে—
“দুঃখিত ম্যাডাম, সিস্টেমে ভুল ছিল।”
কিন্তু আমি দেখেছিলাম।
সেখানে ডাক্তারের সিল, সাইন, এমনকি মৃত্যুর কারণও লেখা ছিল—
Cause: Internal trauma
সেদিনের পর থেকে আমি অয়নের প্রতিটা দিন গুনছি।
আজ অয়নের দশম জন্মদিন।
ও কেক নিয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে বলছে—
“মা, তুমি কেক কাটছো না কেন?”
আমি শুধু ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিই।
কারণ আমি জানি—
আর মাত্র তিনটা জন্মদিন…
কিন্তু আজ সকালে অয়নের স্কুল ব্যাগে আমি একটা কাগজ পাই।
ওর হাতের লেখা।
লেখা আছে—
“মা, তুমি জানো আমি কবে মারা যাবো।
কারণ আমি প্রতিদিন দেখি তুমি রাতে সেই ফাইলটা খুলে কাঁদো।
কিন্তু মা…
আমি সেই দিনটা আগেই দেখে ফেলেছি।”
নিচে একটা তারিখ লেখা—
আজকের তারিখ।
আমার হাত থেকে কাগজটা পড়ে যায়।
আর ঠিক তখনই দরজার বাইরে একটা জোর আওয়াজ হয়…
চলবে…
---
পরের পর্ব পড়তে চান? কমেন্টে লিখুন — “পর্ব ২ চাই”
লেখা: Sakuntala Mandal