08/08/2026
রাত ৩টা। বগুড়ার নওয়াব বাড়ি।
ঝাড়বাতি জ্বলে, কিন্তু কারেন্ট নাই ৫০ বছর।
বর আসে পালকিতে... মুখের জায়গায় কালো ধোঁয়া।
সুন্দর, কিন্তু ভয়ংকর সুন্দর।
#নওয়াববাড়িরভূত #বগুড়ারভূত #পূর্ণিমাররাত৩টা #বাংলাভূতেরগল্প #রাতেরগল্প #ভয়ংকরসুন্দর
**গল্প: বগুড়ার নওয়াব বাড়ির রাত ৩টার পূর্ণিমার আলো**
বগুড়া শহরের পাশে নওয়াব বাড়ি। ২০০ বছরের পুরান। জমিদার বাড়ি। এখন ভাঙা। কেউ থাকে না।
কিন্তু প্রতি পূর্ণিমার রাত ৩টায় বাড়ির সব জানালায় মোমবাতির আলো জ্বলে। আর সানাইয়ের সুর ভাসে।
আমার খালা ছোটবেলায় দেখছিল। কৌতূহল করে রাত ২:৫৫ তে বাড়ির গেটের সামনে গেল।
গেট নিজে নিজে খুলে গেল। "ক্যাচ" শব্দ।
ভিতরে উঠান। উঠানে ঝাড়বাতি জ্বলতেছে। কিন্তু কারেন্ট নাই ৫০ বছর 😨
দোতলার বারান্দায় একটা মেয়ে দাঁড়ানো। লাল বেনারসি, গায়ে গয়না। চুলে বেলী ফুল।
মুখে হাসি। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর হাসি।
মেয়েটা হাত নেড়ে বললো "আপু, আসেন। আজকে আমার বিয়ে। বর আসবে ৩টায়"
খালা ভয়ে ভয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠলো। বাড়ির ভিতরটা ঝকঝক করতেছে। পুরান আসবাব, আয়না, পালঙ্ক।
সবাই সেজেগুজে বসা। দাদী, চাচী, নানি। কিন্তু কেউ কথা বলে না। শুধু হাসে।
ঘড়িতে ৩টা বাজলো। "ঢং ঢং"
হঠাৎ সব লাইট নিভে গেল। শুধু মেয়েটার গায়ের গয়না জ্বলতেছে।
বাইরে ঘোড়ার খুরের শব্দ। "খট খট খট"
মেয়েটা জানালা দিয়ে তাকায় বললো "বর আসছে... কিন্তু ওর মুখ নাই আপু" 😱
খালা জানালা দিয়ে নিচে তাকালো...
উঠানে একটা পালকি। পালকির ভিতর কালো ধোঁয়া। আর ধোঁয়ার মাঝে ২টা লাল চোখ।
মেয়েটা ফিসফিস করে বললো "ও প্রতি পূর্ণিমায় আসে... আমাকে নিয়ে যাইতে। ২০০ বছর ধরে নিয়ে যায়... আবার পরের পূর্ণিমায় দিয়ে যায়"
তারপর মেয়েটা খালার দিকে তাকায় হাসলো। "আপনি থাকবেন? আমার সই হবেন? এখানে অনেক মজা... শুধু দিনের বেলা আমরা মরে থাকি"
বলেই মেয়েটা পালকিতে উঠে গেল। সানাই বাজলো। আর সবাই একসাথে হাততালি দিল।
খালা দৌড়ে বের হয়ে আসছিল। পিছনে শুনতেছে মেয়েটার গলা "আবার আসবেন আপু... পূর্ণিমায়। একা লাগে"
সকালে গিয়ে দেখে বাড়ি অন্ধকার। ভাঙা। ঝুল।
শুধু বারান্দায় একটা বেলী ফুলের মালা। আর মাটিতে ভিজা পায়ের ছাপ... ছোট ছোট।
এখনো পূর্ণিমার রাত ৩টায় নওয়াব বাড়িতে সানাই বাজে।
লোকজন বলে "ওই মেয়েটা সুন্দর... কিন্তু ওর বিয়ের কোনো শেষ নাই"
---