11/08/2026
জ্বালানি সংকটে সারা দেশের মতো বগুড়ার ধুনট উপজেলাতেও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তীব্র গরমে দিনে-রাতে মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং সইতে হচ্ছে এলাকার মানুষকে। এতে বিপন্ন হয়ে পড়েছে জনজীবন, বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ এবং ধস নামছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ধুনটের ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯৪ হাজার ১০ জন গ্রাহকের জন্য দৈনিক ২০ থেকে ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। তবে সরবরাহ মিলছে চাহিদার অর্ধেকেরও কম। সম্প্রতি দুপুরে ১৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া গেছে মাত্র ৮ মেগাওয়াট। সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি না থাকায় এবং জরুরি সেবায় ফোন করে সাড়া না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সরাসরি অফিসে গিয়ে ভিড় করছেন।
বিকল্প ব্যবস্থা (আইপিএস বা জেনারেটর) না থাকায় গ্রামের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মাত্রাতিরিক্ত গরমে পোলট্রি খামারগুলোতে মুরগি মারা যাচ্ছে। এছাড়া চালকল, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্থানীয় দোকানে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
চৌকিবাড়ী, মথুরাপুর ও গোপালনগর ইউনিয়নে দিনে দুই ঘণ্টা পরপর ২০-৩০ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ মিললেও রাতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা। চিকাশী, কালেরপাড়া, ভান্ডারবাড়ী ও গোসাইবাড়ী এলাকার অবস্থাও একই।
সার্বিক বিষয়ে ধুনট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. কামাল পাশা জানান, জ্বালানি সংকটে দেশের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ কিংবা উৎপাদন ক্ষমতাহীন হয়ে পড়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। জাতীয়ভাবে বিদ্যুতের উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ে পরিস্থিতি সমাধানের সুযোগ নেই।