24/08/2026
যেভাবে সোনালী ব্যাংক থেকে চু'রি হলো ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা
#ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
সোনালী ব্যাংকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া করপোরেট শাখায় ক্যাশ কাউন্টারের সামনে রাখা গ্রাহকের ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চারজনের একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এ চুরিতে অংশ নেয়।
ঘটনার শুরু হয় সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে। ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দিতে ব্যাংকে আসেন এক গ্রাহক। কিন্তু ক্যাশ কাউন্টারে টাকা জমা দেওয়ার আগে তিনি টাকার ব্যাগটি কাউন্টারের সামনে রেখে পাশের টেবিলে বসে ভাউচার লিখতে শুরু করেন। কয়েক মিনিটের জন্য টাকার ব্যাগের ওপর থেকে নজর সরে যেতেই ঘটে যায় চুরি।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গ্রাহকের এই অসাবধানতার সুযোগ নেয় চক্রটি। তাদের একজন কৌশলে ক্যাশ কাউন্টারের সামনে থেকে টাকার ব্যাগটি তুলে নেয়। এরপর দ্রুত ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যায় সে। পুরো ঘটনাটি ঘটলেও আশপাশে থাকা অন্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে পারেননি।
সিসিটিভিতে মিলেছে চক্রের গতিবিধি
ঘটনার পর ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ব্যাংক কর্মকর্তারা দেখতে পান, ঘটনার সঙ্গে চারজনের একটি চক্র জড়িত থাকতে পারে। তাদের কয়েকজন গ্রাহকের বেশে ব্যাংকে প্রবেশ করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
একজন সুযোগ বুঝে টাকার ব্যাগটি নিয়ে বেরিয়ে গেলেও বাকিরা তাকে সহায়তা করেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চক্রটি ব্যাংকের ভেতরে কতক্ষণ অবস্থান করেছিল এবং তারা আগে থেকেই গ্রাহককে অনুসরণ করছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অসাবধানতার সুযোগ, নাকি আগে থেকেই নজরদারি?
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, গ্রাহকের অসাবধানতার কারণেই মূলত চুরির সুযোগ তৈরি হয়। তবে সিসিটিভিতে চারজনের একটি চক্রের উপস্থিতি ধরা পড়ায় প্রশ্ন উঠছে—এটি কি শুধুই আকস্মিক সুযোগ, নাকি গ্রাহকের টাকা সম্পর্কে আগে থেকেই নজর রাখছিল চক্রটি?
কারা ওই চারজন, তারা কোথা থেকে ব্যাংকে ঢুকেছিল, চুরির পর কোন পথে পালিয়েছে এবং ব্যাংকের বাইরে তাদের আরও কেউ অপেক্ষায় ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তেই বেরিয়ে আসার অপেক্ষা।
সোনালী ব্যাংকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া করপোরেট শাখার প্রধান মো. শরীফুল হক জানান, গ্রাহক টাকার ব্যাগটি কাউন্টারের সামনে রেখে ভাউচার লিখছিলেন। এ সময় তার অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে ব্যাগটি নিয়ে যায় চোর চক্র। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চারজনের একটি চক্র এ ঘটনায় জড়িত বলে মনে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ব্যাংকে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে। এখন মূল লক্ষ্য—ফুটেজে দেখা চারজনকে শনাক্ত করা এবং তাদের গতিবিধি অনুসরণ করে চুরি যাওয়া ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা।
তদন্তের অগ্রগতিতেই স্পষ্ট হবে—চক্রটি কি হঠাৎ সুযোগ পেয়েছিল, নাকি ব্যাংকে ঢোকার আগেই গ্রাহকের টাকাকে টার্গেট করেছিল।