18/04/2025
তাওয়াক্কুল (ইসলামিক গল্প)
========
বহুদিন আগে ইরানের এক বাদশাহ কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। অনেক চিকিৎসা হলো রোগ আরোগ্য হচ্ছেনা। অবশেষে শাহী দরবারে প্রধান হেকিম ব্যবস্থা দিলেন যে, একটি বালকের পিত্তকোষ দিয়ে ওষুধ তৈরি করে খাওয়ালে বাদশা আরোগ্য লাভ করবেন। কিন্তু সেই বালকের গায়ের রং চুলের রং সোনালী হতে হবে। দু'চোখের তারা গাঢ় কৃষ্ণবর্ণ হতে হবে। বাদশাহর লোকজন বহু চেষ্টার পর এরূপ একটি বালকের সন্ধান পেয়ে তাকে বাদশার দরবারে নিয়ে আসলেন। সে ছিল একজন কৃষকের ছেলে। বাদশাহ তার পিতা-মাতাকে টাকা পয়সা দিয়ে ছেলেটিকে ক্রয় করে নিয়ে আসলেন। বাদশাহর প্রধান কাজী ফতুয়া দিলেন যে বাদশাহর পান রক্ষার জন্য একজন প্রজার প্রাণনাশ করা যেতে পারে। বাদশাহ ছেলেটিকে বধ করার জন্য জল্লাদকে হুকুম দিলেন। ছেলেটি আকাশ পানে তাকিয়ে রইল। বাদশাহ জিজ্ঞেস করলেন, তুুমি আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলে কেন? ছেলেটি উত্তর দিল, বাবা-মা মনেপ্রাণে সন্তানকে স্নেহ মমতা করে, বিচারক সকলের প্রতি ন্যায়বিচার করে, বাদশা প্রাণপণে প্রজাকে রক্ষা করে, কিন্তু আমার পিতা-মাতা সামান্য টাকার লোভে আমাকে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন। বিচারক বিনা অপরাধে আমার প্রাণনাশের ফতোয়া দিয়েছেন এবং স্বয়ং বাদশাহ আমার প্রাণবধের হুকুম দিয়েছেন। এখন আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ায় আমার আশ্রয়স্থল রইল না। তাঁর উপর নির্ভর করলাম, দেখি তিনি কী করেন। এই বলে হাত উঠিয়ে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করল--
" পেশে কেহ্ রব আওয়ায জে'দস্তাত ফরিয়াদ্
হাম পেশে তি আজ দস্তে তুগার খাহাম দাদ্।"
অর্থঃ "এটাই বিধান যদি খোদা তোমার,
তোমার কাছেই চাই তোমার বিচার।"
বালকের কথা শুনে বাদশাহর চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে লাগলো। তিনি আবেগীকণ্ঠে বলে উঠলেন--- এ নির্দোষ বালককে জীবনের বিনিময়ে আমার জীবন রক্ষা করতে চাই না। আল্লাহ যা করেন তাই হোক। বাদশাহস মূল্যবান পোশাক পরিয়ে প্রচুর অর্থ দিয়ে বালকটিকে ছেড়ে দিলেন। আল্লাহর রহমতে সেদিন বিনা চিকিৎসায় বাদশা আরোগ্য লাভ করেন।
সুত্র: কবি শেখ সাদী'র বিখ্যাতগ্রন্থ 'গুলিস্তাঁ'।
#তাওয়াক্কুল #গল্প