Sazid Information Updates

Sazid Information Updates Stay tuned for all kinds of informative updates. Hope all book lovers will enjoy.

For those who love to read and gain knowledge here various stories, essays, history and various known unknown topics and information are written with references.

20/06/2026

❝ সুশীলদের দেশে এক হরিদাস চন্দ্র - যার গল্পের আড়ালে ভয়ংকর চক্রান্ত! ❞ ✍️

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে - 'তুমি কোন হরিদাস পাল?' অর্থ: তুমি আসলে কে, তোমার দাম কতটুকু? কিন্তু আজকের এই হরিদাস সেই প্রবাদকে অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছে। কারণ এই লোকের একটা পরিচয় নয়, দুটো। একটা মঞ্চ নয়, দুটো। এবং দুটো মঞ্চের পেছনে, অবাক করার মতো, একটাই হাত।

২০২২ সালের ৭ নভেম্বর রাতে বনানী থেকে র‍্যাব-৩ ও এনএসআই যাকে গ্রেফতার করে, তার পরিচয়পত্রে নাম লেখা 'তাওহীদ ইসলাম'।[১][২] আসল নাম: হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস। বগুড়ার শিবগঞ্জের সন্তান, পড়াশোনা ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত।
ষষ্ঠ শ্রেণির পর সে পাড়ি দেয় ভারতে। সেখানে পঞ্চায়েত প্রধানের কাছ থেকে 'এতিম সার্টিফিকেট' জোগাড় করে উচ্চমাধ্যমিক পাস এবং ইলেকট্রনিক বিষয়ে দুই বছরের প্রশিক্ষণ।[৩] দেশে ফেরে এসি মেকানিক হিসেবে। ২০১৮ সালে সে উত্তরায় একজন সবজি বিক্রেতার সাথে সাবলেট বাসায় থাকত।[৬] মাত্র এক বছরের ভেতর সে ধর্ম পরিবর্তন করে, নাম নেয় তাওহীদ ইসলাম এবং শুরু হয় তার আসল কর্মকাণ্ড!

প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সাথে এডিট করা ভুয়া ছবি, তাদের নামে জাল নম্বর সেভ করে কল এবং নকল ডিও লেটার - এই তিনটি দিয়ে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে চাকরি-বদলি-টেন্ডারের নামে আত্মসাৎ করে নেয় প্রায় ৫ কোটি টাকা।[১][৩] স্বর্ণ চোরাচালানেও তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। জালিয়াতির সেই টাকাতেই ২০১৯ সালে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় দাঁড়িয়ে যায় ৩ কোটি টাকার 'প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট রিসোর্ট'।[৬]
একজন সাধারণ মেকানিক ভারতে গিয়ে 'বিশেষ প্রশিক্ষণ' নিল, দেশে ফিরে ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম মেয়ে বিয়ে করে নিল, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাকেন্দ্রের নাম ভাঙিয়ে কোটি টাকা লুটটে শুরু করল, এই সমস্ত পরিকল্পনা কি স্বতঃস্ফূর্ত ছিল, নাকি অন্য কারও প্ররোচনায় ঘটেছে, পেছন থেকে অন্য কারও হাত ছিল?

গ্রেফতারের পর হরিদাস আবার ফিরে আসে। এবার নতুন মঞ্চ: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী। নতুন পরিচয়: 'হরিদাস বাবু', মন্দির কমিটির সভাপতি। রামচন্দ্রপুর গ্রামে দেবোত্তর সম্পত্তির ৭৬ শতাংশ জমিতে গড়ে উঠেছে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কমপ্লেক্স। ২৮ ফুট উচ্চতার, তিন টন ওজনের শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ - বলা হচ্ছে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। পরিকল্পনায় ১৪৪টি দেব-দেবীর প্রতিমা।[৭] মোট ব্যয়ের দাবি সূত্রভেদে ২২ কোটি থেকে ৪০ কোটি টাকার মধ্যে।[৭][৮]

এই টাকা কোথা থেকে এলো? এখানেই গল্পটা আলাদা মোড় নেয়।
ইউটিউব সাক্ষাৎকারে হরিদাস বাবু নিজেই বলেছে: 'এই প্রতিষ্ঠানের সকল ব্যয় আমার, একটি টাকাও কেউ দেয়নি।'[৪] কিন্তু Somoy TV’র রিপোর্টে ঠিক সেই একই মানুষ বলছে ভিন্ন কথা, এসব নাকি ভক্ত ও অনুরাগীদের দান![৫] একটি বিবৃতি সত্য হলে আরেকটি মিথ্যা - এই দুটো একসাথে সত্য হওয়ার কোনো উপায় নেই। আওয়ামী আমলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাবার বিতরণ করে ১০০ কোটি টাকা আয়ের দাবিও তার নিজের মুখের।[৪] সেই হিসাবের কোনো অডিট নেই, কোনো প্রশ্নও করা হয়নি।

স্থানীয় শিক্ষক নাইম ইসলাম সরাসরি বলেছেন, এই টাকা আসছে ভারত থেকে, গোপনে।[৮] গাইবান্ধা ইমাম উলামা পরিষদ ও হেফাজতে ইসলাম জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে ৮ দফা স্মারকলিপি দিয়ে অর্থের উৎস তদন্তের দাবি জানিয়েছে। চাপের মুখে মন্দির কমিটি রামমূর্তি নির্মাণ সাময়িক স্থগিতও করেছে।[৮]
এই পুরো ঘটনায় সবচেয়ে বিরক্তিকর প্রশ্নটি উঠেছে মিডিয়ার ভূমিকাকে কেন্দ্র করে। ২০২২ সালে র‍্যাবের গ্রেফতার ও প্রতারণার সংবাদ বহু মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। তথ্যটা মিডিয়ার কাছে নতুন নয়।

কিন্তু ২০২৫ সালে অর্থাৎ গ্রেফতার পরবর্তী সময়ে একই ব্যক্তিকে নিয়ে কী ধরনের সংবাদ হলো দেখুন:

Somoy TV - 'হরিদাস বাবু যেন রূপান্তরের জাদুকর!' - এই শিরোনামে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট। প্রতারণার ইতিহাস উল্লেখ নেই। টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন নেই। পুরোটাই ইতিবাচক আলোয় উপস্থাপন। [৫]

Morning Post BD (সেপ্টেম্বর ২০২৫)- 'গাইবান্ধায় তীর্থস্থানের নতুন ঠিকানা' - শিরোনামে গুণগ্রাহী রিপোর্ট। হরিদাস বাবুর স্বপ্নের বর্ণনা, মন্দিরের মহিমা, দর্শনার্থীর সংখ্যা। কোনো সমালোচনা নেই, কোনো প্রশ্ন নেই। [৯]

Dainik Alokito News (জুন ২০২৫) - 'গ্রামের কৃতি সন্তান, সমাজসেবক হরিদাস বাবু' - এই বিশেষণে রিপোর্ট। মন্দিরের বিস্তারের পরিকল্পনার সুরেলা বর্ণনা।

একজন প্রতারক, যার গ্রেফতারের খবর এই মিডিয়াগুলোর কাছে রয়েছে তাকে কোন স্বার্থে 'রূপান্তরের জাদুকর' বলা হচ্ছে? বিজ্ঞাপনের টাকা, নাকি অন্য কোনো চাপ?
সাংবাদিকতার মূলনীতি হলো তথ্য যাচাই করা। কিন্তু এই রিপোর্টগুলোতে সেই যাচাই নেই। প্রশ্ন হলো - এটা অজ্ঞতা, নাকি উদ্দেশ্যমূলক?

একই সাথে সে সমস্ত কথিত সুশীল শ্রেনীও মুখে তালা দিয়ে বসে আছে যারা তাদের জীবনে একবার আস সুন্নাহ’র অডিট নিয়ে একটি পোস্ট করতে পারলে নিজের জীবন ধন্য মনে করে! তাদের কোথাও দেখতে পাচ্ছেন? পাবেন না।
২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর। রাজশাহীর ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার সশরীরে উপস্থিত হন পলাশবাড়ীর এই মন্দিরে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বিগ্রহটি।[১১] কূটনৈতিক প্রোটোকলে একজন বিদেশি সহকারী হাই কমিশনার প্রত্যন্ত গ্রামের বেসরকারি মন্দির উদ্বোধনে যান না - বিশেষত যার প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা রয়েছে। তবু গেলেন। এটা কি ব্যক্তিগত আগ্রহ, নাকি দিল্লির নির্দেশ?

এই একটি উপস্থিতি পুরো ছবিটা বদলে দেয়।
এই বির্তকের মাঝেই গত ১৭ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কার্যের সামনে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ হিন্দু নেতা পলাশ কান্তি দে প্রকাশ্য বক্তব্যে রামমন্দির নির্মাণে কঠোর হুশিয়ারী প্রদান করে, যা শুনে মনে হবে না সে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম রাষ্ট্রে না বরং হিন্দু অধ্যুষিত ভারতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছে - "তোরা যদি রাম মন্দিরকে ভয় পাস, তোরা প্রয়োজনে পলাশবাড়িতে যাস না। তোরা প্রয়োজনে গাইবান্ধা থেকে অন্য জেলায় চলে যা। রাম মন্দির পলাশ বাড়িতেই হবে... বাংলাদেশে এমন কোনো শক্তি নাই যে রামমন্দির প্রতিষ্ঠা ঠেকায়।"

সে আরও দাবি করে, মন্দির কমিটিকে 'প্রয়োজনে ঢাকা অচল করে দিয়ে' রক্ষা করার আশ্বাস দিয়েছে এবং অভিযোগ করে - তত্ত্বাবধায়ক সরকার সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মুক্ত করেছে।

একজন বিতর্কিত প্রতারকের গড়া মন্দিরের পক্ষে এমন প্রকাশ্য রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি প্রশ্ন তোলে - এই প্রকল্পকে রক্ষা করতে কারা এত সরব, এবং কেন?
Somoy TV হরিদাস বাবুকে ডেকেছে 'রূপান্তরের জাদুকর', Morning Post BD লিখেছে 'তীর্থস্থানের নতুন ঠিকানা'।[৫][৯] একটি রিপোর্টেও তার গ্রেফতারের ইতিহাস নেই, অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন নেই। এই মিডিয়াগুলোর কাছে সেই তথ্য ছিল, তবু নেই। That's not journalism. That's a press release with a byline.

Meaningless dots create a line. Meaningless lines create a pattern. Unattended patterns become strategy.
হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস একজন প্রতারক - এটা প্রমাণিত।[১][২][৩] কিন্তু প্রশ্নটা শুধু তাকে নিয়ে নয়। প্রশ্নটা হলো - ভারতে 'প্রশিক্ষণ', রাষ্ট্রের নাম ভাঙিয়ে অর্থ সংগ্রহ, কারামুক্তির পর বৃহৎ ধর্মীয় স্থাপনা, ভারতীয় কূটনীতিকের উপস্থিতি, অনুগত মিডিয়া - এই পুরো কাঠামো কি একজন ষষ্ঠ শ্রেণি পাস মেকানিকের একার পরিকল্পনা? নাকি এর চেয়েও বড় কিছু?

What do you see here - dots, lines, or the pattern?
-
_____ সংগ্রহীত ( Reality check BD page থেকে ) এবং এটা আমার খুবই পছন্দের একটি পেইজ। আপনারা ঘুরে আসবেন এই পেইজটি থেকে।

🎯 ইসলামের যে কোনো বিষয় সুন্দরভাবে জানতে, বুঝতে এবং অত্যন্ত জরুরী মাসয়ালাগুলো (রেফারেন্স সহ) সহজে পেতে আমাদের পেইজটিকে কে ফলো দিয়ে রাখুন এবং সবসময় আমাদের পাশে থাকুন।
❝ শুধুমাত্র আল্লাহ তা' আলার সন্তুষ্টির আশায় এবং সাওয়াবের নিয়তে সকলেই সবার নিকট শেয়ার করে দিন ❞

———————————————————

বিঃদ্রঃ ইসলাম প্রচার করা রাসুলুল্লাহ সাঃ এর হুকুম। আমাদের সবাইকেই পার্টটাইম ইসলামের দায়ী হতে হবে। এর জন্য আপনাকে আলেম বা বিজ্ঞ হতে হবে ব্যাপারটা তা মোটেও নয়। তবে শর্ত হলো ইসলামের যাই আপনি প্রচার করেন না কেনো, সহীহ্ নিয়তে একমাএ আল্লাহর রাজিখুশির জন্য করবেন।

ইসলাম প্রচার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ-

(১) কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে, প্রত্যেকে তার সমান সাওয়াবের অধিকারী হবে। তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সাওয়াবেও কোন কমতি হবে না।
📚 সহীহ্ মুসলিমঃ ২৬৭৪

(২) হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "অবশ্যই প্রচার করো,যদি একটি মাএ আয়াতও হয়।আর যে করে,কে হতে পারে তার হতে উওম আল্লাহর নিকট"।
📚 সহীহ্ বুখারীঃ ৩৪৬১

ইসলাম প্রচারে সয়ং আল্লাহ সোবহানাহ্ তা’আলা পবিত্র কোরআনে বলেনঃ

وَ مَنۡ اَحۡسَنُ قَوۡلًا مِّمَّنۡ دَعَاۤ اِلَی اللّٰہِ وَ عَمِلَ صَالِحًا وَّ قَالَ اِنَّنِیۡ مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ﴿۳۳﴾

উচ্চারণঃ- ওয়া মান আহছানুকাওলাম মিম্মান দা‘আইলাল্লা-হি ওয়া‘আমিলা সা-লিহাওঁ ওয়াকা-লা ইন্নানী মিনাল মুছলিমীন।

অর্থঃ- ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা কথায় কে উত্তম যে আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহবান করে, সৎ কাজ করে এবং বলেঃ আমিতো আত্মসমর্পনকারীদের অন্তর্ভুক্ত (মুসলমান) ।

[ And who is better in speech than he who [says: My Lord is Allah (believes in His Oneness), and then stands straight (acts upon His Order), and] invites (men) to Allah's (Islamic Monotheism), and does righteous deeds, and says: I am one of the Muslims. ]
📖 সূরাহ হা'মীম সেজদাহ্ঃ (৪১) :- ৩৩

তাই আমাদের সকলের উচিত উত্তম কথা বলা মানুষকে সদ উপদেশ দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ডাকা এবং আল্লাহর কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সহীহ্ হাদীস অনুযায়ী আমল এবং বুক ফুলিয়ে বিশ্বকে বলা হ্যা আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর উম্মত, আমার ধর্ম ইসলাম, আমার পরিচয় আমি মুসলিম, আমার ইলাহ্ একমাএ আল্লাহ সোবহানাহ্ তাআ'লা।

ব্যাক্তিগত মন্তব্যঃ
উপরোক্ত আমার কোন উক্তি যদি কোর ও সহীহ্ হাদিসে বিপরীতে যায় তবে তা ছুড়ে ফেলে দিন এবং যতটুকু সহীহ্ তা যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করুন ও আমল করুন। জ্ঞান বিহীন আমল এবং আমল বিহীন জ্ঞান উভয়ই জাহান্নামের কারন হবার জন্য যথেষ্ট। আমিও মানুষ তাই ভুলের উর্ধে নই।
জাজাকাল্লাহ খাইরান।

আল্লাহু আকবার ( اللّٰهُ أَكْبَرُ )☝️🕋

#ইসলাম #ইসলামিক_পোস্ট #কুরআন #হাদিস #আল্লাহ #হরিদাস #চক্রান্ত #ইসলামেরআলো #ইসলামিক #ইসলামেরপথ #উম্মত #আমল #আকিদা #উম্মাহ #আল্লাহু #আল্লাহুআকবার

19/06/2026

সূরা ইনশিরাহ — ৮ আয়াত ✍️

কিন্তু এই সূরা প্রতিদিন পড়লে আপনার রিজিক বদলে যেতে পারে।

৮ আয়াত।
পড়তে ৩০ সেকেন্ড।

কিন্তু এই সূরায় আল্লাহ এমন একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন — যা শুনলে আপনার রিজিকের চিন্তা, ব্যবসার মন্দা, চাকরির অনিশ্চয়তা — সব কষ্টের ভেতর আশার আলো ঢুকে যাবে।

আর আল্লাহ একই কথা দুবার বলেছেন। কারণ তিনি জানতেন — আপনি একবার শুনলে বিশ্বাস করবেন না।

কিন্তু একটা কথা আছে —

আমরা এই সূরা পড়ি। হয়তো নামাজেও পড়ি। কিন্তু আল্লাহ এতে কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন — সেটা আমরা ধরতে পারি না। আর সেই কারণেই রিজিকের একটু ঝাঁকুনি এলেই আমরা ভেঙে পড়ি।

আজকের পোস্টে সূরা ইনশিরাহের ৪টি শিক্ষা — যেগুলো বুঝলে রিজিকের চিন্তায় আর কখনো হতাশ হবেন না।

---

সূরা ইনশিরাহ সম্পর্কে সংক্ষেপে

সূরা ইনশিরাহ মক্কী সূরা। এর আরেক নাম "সূরা শারহ"। আয়াত সংখ্যা ৮।

এই সূরা নাযিল হয়েছিল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে। তখন মক্কায় তাঁকে নির্যাতন করা হচ্ছিল, সাথীরা সংখ্যায় হাতে গোনা, পরিবার থেকে বিরোধিতা, ব্যবসা থেকে বিচ্ছিন্ন — চারদিকে অন্ধকার।

ঠিক সেই মুহূর্তে আল্লাহ এই সূরা পাঠালেন। যেন বলে দিলেন — হে নবী, একটু থামো। আমাকে দেখো।

আর এই সান্ত্বনা শুধু রাসূল ﷺ-এর জন্য না — কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত পথনির্দেশ। তাই এই ৮ আয়াত আজকের আপনার জন্যও — যখন রিজিকের চিন্তায় বুক চাপা হয়ে আসে, যখন মনে হয় আর পারছি না।

পুরো সূরাটি পড়ুন —

أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ ○ وَوَضَعْنَا عَنكَ وِزْرَكَ ○ الَّذِي أَنقَضَ ظَهْرَكَ ○ وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ ○ فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ○ إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ○ فَإِذَا فَرَغْتَ فَانصَبْ ○ وَإِلَىٰ رَبِّكَ فَارْغَب

উচ্চারণ: আলাম নাশরাহ লাকা সাদরাক। ওয়া ওয়াদা'না আনকা বিযরাক। আল্লাযী আনকাদা যাহরাক। ওয়া রাফা'না লাকা যিকরাক। ফাইন্না মাআল উসরি ইউসরা। ইন্না মাআল উসরি ইউসরা। ফা ইযা ফারাগতা ফানসাব। ওয়া ইলা রাব্বিকা ফারগাব।

"আমি কি আপনার বক্ষ আপনার জন্য উন্মুক্ত করে দিইনি? আর আমি আপনার থেকে আপনার সেই ভার নামিয়ে দিয়েছি, যা আপনার পিঠকে নুইয়ে ফেলেছিল। আর আমি আপনার জন্য আপনার মর্যাদা উঁচু করেছি। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে। কাজেই যখন অবসর হবেন, তখন কঠোর পরিশ্রম করুন। আর আপনার রবের প্রতি আগ্রহী হন।"
📖 (সূরা ইনশিরাহ: ১–৮)

এবার একটি একটি করে দেখুন — এই ৮ আয়াতে আল্লাহ আমাদের কী কী শেখাতে চান।

শিক্ষা ১: "আলাম নাশরাহ" — আল্লাহ প্রশ্ন করে মনে করিয়ে দিচ্ছেন

أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ

উচ্চারণ: আলাম নাশরাহ লাকা সাদরাক।

"আমি কি আপনার বক্ষ উন্মুক্ত করে দিইনি?"

খেয়াল করুন — আল্লাহ এখানে সরাসরি বলেননি "আমি তোমার বক্ষ উন্মুক্ত করেছি।" বরং তিনি প্রশ্ন করছেন — "আমি কি করিনি?"

এই প্রশ্নের ভঙ্গিটাই গভীর। আল্লাহ যেন বলছেন — তুমি কি ভুলে গেছ? পেছনের দিকে তাকাও।

আজকের জীবনে এটা ভেবে দেখুন।

আপনি যখন রিজিকের চিন্তায় দিশেহারা হয়ে যান — চাকরি যাওয়ার ভয়, ব্যবসায় লোকসান, ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ, মাস শেষে বাড়িভাড়ার টাকা — তখন আল্লাহ ঠিক এই প্রশ্নটাই আপনাকে করছেন।

"তুমি কি ভুলে গেছ — গত বছর যখন একই রকম সংকট ছিল, তখন আমি কীভাবে সরিয়ে দিয়েছিলাম?"

"তুমি কি ভুলে গেছ — যখন চাকরিটা চলে যাচ্ছিল, তখন আমি কোথা থেকে একটা নতুন পথ খুলে দিয়েছিলাম?"

"তুমি কি ভুলে গেছ — যখন পকেটে এক টাকাও ছিল না, তখন কে অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকে রিজিক পাঠাল?"

সূরা ইনশিরাহ বলছে — পেছনের দিকে তাকাও। আল্লাহ এর আগেও তোমাকে কষ্ট থেকে বের করে এনেছেন। এবারো আনবেন। অতীত সাক্ষী, ভবিষ্যৎ আশ্বাস।

শিক্ষা ২: "বিযরাক" — আল্লাহ অদৃশ্য বোঝাও নামিয়ে দেন

وَوَضَعْنَا عَنكَ وِزْرَكَ ○ الَّذِي أَنقَضَ ظَهْرَكَ

উচ্চারণ: ওয়া ওয়াদা'না আনকা বিযরাক। আল্লাযী আনকাদা যাহরাক।

"আর আমি আপনার থেকে সেই ভার নামিয়ে দিয়েছি, যা আপনার পিঠকে নুইয়ে ফেলেছিল।"

"বিযর" মানে এমন বোঝা যা মানুষের পিঠ নুইয়ে ফেলে। আল্লাহ বলছেন — তোমার সেই বোঝা আমি নামিয়ে দিয়েছি।

কিন্তু খেয়াল করুন — এই বোঝা মানুষের চোখে দেখা যায় না।

আজকের জীবনে এটা কেমন?

রাতে যখন একা শুয়ে থাকেন, স্ত্রী পাশে ঘুমিয়ে গেছে, ছেলেমেয়ে ঘুমিয়ে গেছে — তখন বুকের ভেতর যে চাপটা থাকে: "আগামীকাল ভাড়ার টাকা দেব কীভাবে," "ছেলের স্কুলের ফি কীভাবে আসবে," "ব্যবসায় এই মাসে লস হলো, পরের মাসে কী করব" — এই বোঝা কেউ দেখে না।

কিন্তু আল্লাহ দেখেন।

আর এই সূরা বলছে — আমি জানি তোমার পিঠ এই বোঝায় নুইয়ে গেছে। আমি নামাব। আমি ইতিমধ্যে নামাচ্ছি।

আপনি যখন তাহাজ্জুদে দাঁড়ান, যখন সিজদায় মাথা রাখেন, যখন এই সূরা পড়েন — আল্লাহ আপনার বুকের ভার কমিয়ে দেন। শুধু রিজিকের পথ খুলে যাওয়া না, ভেতরের চাপটাও কমে যায়। দুটোই রিজিক — বাইরের রিজিক ও মনের রিজিক।

আর মনের রিজিক ছাড়া বাইরের রিজিক কোনো কাজে আসে না।

শিক্ষা ৩: "মাআল উসরি ইউসরা" — দুবার বলা কথাটাই সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি

فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ○ إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا

উচ্চারণ: ফাইন্না মাআল উসরি ইউসরা। ইন্না মাআল উসরি ইউসরা।

"নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে।"

এই দুই আয়াতে কুরআনের সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা লুকিয়ে আছে।

প্রথম রহস্য — আল্লাহ বলেননি "কষ্টের পরে স্বস্তি আসবে।" তিনি বলেছেন "কষ্টের সাথে।" মানে স্বস্তি অপেক্ষা করে নেই, এটা ইতিমধ্যে কষ্টের সাথেই আছে। বাইরে থেকে দেখলে শুধু কষ্ট, কিন্তু ভেতরে স্বস্তির বীজ এখনই বপন হয়ে গেছে।

দ্বিতীয় রহস্য — আল্লাহ একই কথা দুবার বলেছেন। আরবিতে এর একটি গভীর তাৎপর্য আছে।

ইবনে আব্বাস (রা.) এই আয়াত নিয়ে এক চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন — "একটি কষ্ট কখনো দুটি স্বস্তিকে পরাজিত করতে পারে না।"

কীভাবে? কারণ আরবিতে "উসর" (কষ্ট) শব্দটি الْعُسْرِ — definite, দুই জায়গায়ই একই কষ্ট। কিন্তু "ইউসর" (স্বস্তি) শব্দটি يُسْرًا — indefinite, মানে আলাদা আলাদা স্বস্তি। তাই কষ্ট একটাই থাকে, কিন্তু স্বস্তি দুটি।

(তাফসীর ইবনে কাসীর, সূরা ইনশিরাহ)

আজকের জীবনে এটা কীভাবে কাজ করে?

আপনি যে রিজিকের কষ্টে আছেন এই মুহূর্তে — এটা একটাই কষ্ট। কিন্তু আল্লাহ এই কষ্টের সাথে কমপক্ষে দুটি স্বস্তি লুকিয়ে রেখেছেন।

একটা স্বস্তি বাহ্যিক — হঠাৎ একটা কাজ আসে, কেউ অপ্রত্যাশিত সাহায্য পাঠায়, একটা সুযোগ খুলে যায়, পাওনা টাকা ফেরত আসে।

আরেকটা স্বস্তি ভেতরের — এই কষ্ট আপনাকে আল্লাহর কাছে নিয়ে আসছে, নামাজ গভীর হচ্ছে, দোয়ায় কান্না আসছে, দুনিয়ার মোহ কমছে।

একটি কষ্ট — দুটি স্বস্তি। এটাই আল্লাহর হিসাব। আপনার বুক দিয়ে যতটুকু চাপ যাচ্ছে, তার চেয়ে দ্বিগুণ আশীর্বাদ আল্লাহ ইতিমধ্যে প্রস্তুত করে রেখেছেন।

শিক্ষা ৪: "ফারাগতা ফানসাব" — রিজিকের পূর্ণ সূত্র এই দুই আয়াতে

فَإِذَا فَرَغْتَ فَانصَبْ ○ وَإِلَىٰ رَبِّكَ فَارْغَب

উচ্চারণ: ফা ইযা ফারাগতা ফানসাব। ওয়া ইলা রাব্বিকা ফারগাব।

"কাজেই যখন অবসর হবেন, তখন কঠোর পরিশ্রম করুন। আর আপনার রবের প্রতি আগ্রহী হন।"

এই দুই আয়াতে রিজিকের পূর্ণ সূত্র দেওয়া হয়েছে।

"ফারাগতা" মানে — যখন তুমি একটা কাজ থেকে অবসর হবে। অর্থাৎ এক কাজ শেষ হলেই বসে থেকো না। "ফানসাব" — সাথে সাথে নতুন কাজে লেগে যাও, কঠোর পরিশ্রম করো।

আর "ওয়া ইলা রাব্বিকা ফারগাব" — কাজ করার পরও মনে রেখো, রিজিক আসে আল্লাহর কাছ থেকে। তাই তাঁরই দিকে আগ্রহী হও।

এটাই ইসলামের রিজিক-ফর্মুলা। আসবাব আর তাওয়াক্কুল। চেষ্টা আর আল্লাহর ওপর ভরসা।

আজকের জীবনে এটা কেমন দেখায়?

সকালে উঠে চাকরিতে বা ব্যবসায় যান — এটা আসবাব। সারাদিন সৎভাবে পরিশ্রম করেন — এটা চেষ্টা। দিন শেষে বাড়ি ফিরে নামাজে দাঁড়ান, কুরআন পড়েন, দোয়া করেন — এটা তাওয়াক্কুল। আল্লাহর দিকে আগ্রহ।

অনেকে ভুল করেন দুই দিকেই।

কেউ শুধু কাজ করেন, আল্লাহকে ভুলে যান — তখন সফলতা এলেও বরকত আসে না। বেতন বাড়ে, কিন্তু খরচও বাড়ে। আয় বাড়ে, কিন্তু শান্তি কমে।

কেউ শুধু দোয়া করেন, কাজ করেন না — বলেন "আল্লাহ চাইলে দেবেন।" কিন্তু আল্লাহ তো সূত্র বলেই দিয়েছেন — কাজ + ভরসা। একটা বাদ দিলে formula অসম্পূর্ণ।

সূরা ইনশিরাহ বলছে — দুটোই করো। একসাথে। তখন রিজিকে বরকত আসবে, এবং মনে প্রশান্তিও থাকবে।

৪টি শিক্ষা — এক নজরে:💬
শিক্ষা ১ — আল্লাহ আগেও আপনাকে কষ্ট থেকে বের করেছেন। পেছনে তাকান, ভরসা পান।

শিক্ষা ২ — আল্লাহ অদৃশ্য বোঝা নামান। বুকের ভার আর বাইরের সংকট — দুটোই।

শিক্ষা ৩ — এক কষ্টের সাথে দুটি স্বস্তি। কষ্ট কখনো একা আসে না।

শিক্ষা ৪ — কাজ + তাওয়াক্কুল = রিজিকের পূর্ণ সূত্র। দুটোই লাগবে।

আমল পদ্ধতি:—
প্রতিদিন ফজরের পর সূরা ইনশিরাহ পড়ুন। মাত্র ৩০ সেকেন্ড লাগে। পড়ার সময় বিশেষভাবে "ফাইন্না মাআল উসরি ইউসরা" আয়াতটায় থামুন।

মনে মনে আজকের যে কষ্টটা আপনাকে চাপে রেখেছে — সেটা ভাবুন।

তারপর বলুন:
"ইয়া রব, এই কষ্টের সাথেই দুটি স্বস্তি লুকিয়ে রেখেছ। আমি অপেক্ষায় আছি।"

এই ছোট্ট অভ্যাস আপনার পুরো দিনের মানসিক চাপ অর্ধেক করে দিতে পারে।

শুধু সূরা ইনশিরাহ না — কুরআনের ১১৪টি সূরার প্রতিটায় এরকম জীবন বদলানোর শিক্ষা, আমল ও ফজিলত লুকিয়ে আছে। কোন সূরা কখন পড়বেন, কোন আয়াত কীভাবে আমল করবেন, কোন সূরায় কোন দোয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।

মনে রাখবেন!
আমরা সবাই একটা না একটা কষ্টে আছি।

কেউ চাকরি হারিয়েছেন। কেউ ব্যবসায় লস খেয়েছেন। কেউ মাস শেষে টাকার হিসাব মেলাতে পারছেন না। কেউ বিয়ের যোগ্য মেয়ের জন্য জোগাড় করতে পারছেন না। কেউ ঋণে ডুবে আছেন।

এই কষ্ট সত্যি। এই চিন্তা সত্যি। আল্লাহ এটাকে অস্বীকার করেন না।

কিন্তু সূরা ইনশিরাহ বলছে — এই কষ্ট চিরস্থায়ী না। এর সাথেই দুটি স্বস্তি লুকিয়ে আছে। আল্লাহ আপনার বুকের ভার দেখছেন। তিনি ইতিমধ্যে কাজ করছেন।

আপনার দায়িত্ব শুধু — কাজ চালিয়ে যাওয়া, আল্লাহর দিকে মুখ ফেরানো, আর প্রতিশ্রুতিতে ভরসা রাখা।

আজ থেকে প্রতিদিন ফজরের পর সূরা ইনশিরাহ পড়ুন। মাত্র ৩০ সেকেন্ড। কিন্তু এই ৩০ সেকেন্ড আপনার রিজিকের পথে — এবং মনের গভীরে — একটা নতুন আলো জ্বালিয়ে দিতে পারে।

হয়তো এই ছোট্ট সূরাটিই আপনাকে রিজিকের হতাশা থেকে জাগিয়ে দেবে — আর আল্লাহর প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসায় ফিরিয়ে আনবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রিজিকের কষ্ট থেকে মুক্তি দিন, তাঁর প্রতিশ্রুতিতে ভরসা রাখার তাওফিক দিন, কাজ ও তাওয়াক্কুল — দুটোই একসাথে আমল করার সামর্থ্য দিন, আর প্রতিটি কষ্টের সাথে যে দুটি স্বস্তি তিনি রেখেছেন — তা আমাদের জীবনে প্রকাশ করুন।
আমিন।

আপনার জীবনের কোন কষ্টে আল্লাহ অপ্রত্যাশিতভাবে স্বস্তি পাঠিয়েছিলেন?

রেফারেন্স:
— সূরা ইনশিরাহ: ১–৮
— তাফসীর ইবনে কাসীর, সূরা ইনশিরাহ (ইবনে আব্বাস রা.-এর উক্তি প্রসঙ্গে)

🎯 ইসলামের যে কোনো বিষয় সুন্দরভাবে জানতে, বুঝতে এবং অত্যন্ত জরুরী মাসয়ালাগুলো (রেফারেন্স সহ) সহজে পেতে আমাদের পেইজটিকে কে ফলো দিয়ে রাখুন এবং সবসময় আমাদের পাশে থাকুন।
❝ শুধুমাত্র আল্লাহ তা' আলার সন্তুষ্টির আশায় এবং সাওয়াবের নিয়তে সকলেই সবার নিকট শেয়ার করে দিন ❞

———————————————————

বিঃদ্রঃ ইসলাম প্রচার করা রাসুলুল্লাহ সাঃ এর হুকুম। আমাদের সবাইকেই পার্টটাইম ইসলামের দায়ী হতে হবে। এর জন্য আপনাকে আলেম বা বিজ্ঞ হতে হবে ব্যাপারটা তা মোটেও নয়। তবে শর্ত হলো ইসলামের যাই আপনি প্রচার করেন না কেনো, সহীহ্ নিয়তে একমাএ আল্লাহর রাজিখুশির জন্য করবেন।

ইসলাম প্রচার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ-

(১) কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে, প্রত্যেকে তার সমান সাওয়াবের অধিকারী হবে। তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সাওয়াবেও কোন কমতি হবে না।
📚 সহীহ্ মুসলিমঃ ২৬৭৪

(২) হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "অবশ্যই প্রচার করো,যদি একটি মাএ আয়াতও হয়।আর যে করে,কে হতে পারে তার হতে উওম আল্লাহর নিকট"।
📚 সহীহ্ বুখারীঃ ৩৪৬১

ইসলাম প্রচারে সয়ং আল্লাহ সোবহানাহ্ তা’আলা পবিত্র কোরআনে বলেনঃ

وَ مَنۡ اَحۡسَنُ قَوۡلًا مِّمَّنۡ دَعَاۤ اِلَی اللّٰہِ وَ عَمِلَ صَالِحًا وَّ قَالَ اِنَّنِیۡ مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ﴿۳۳﴾

উচ্চারণঃ- ওয়া মান আহছানুকাওলাম মিম্মান দা‘আইলাল্লা-হি ওয়া‘আমিলা সা-লিহাওঁ ওয়াকা-লা ইন্নানী মিনাল মুছলিমীন।

অর্থঃ- ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা কথায় কে উত্তম যে আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহবান করে, সৎ কাজ করে এবং বলেঃ আমিতো আত্মসমর্পনকারীদের অন্তর্ভুক্ত (মুসলমান) ।

[ And who is better in speech than he who [says: My Lord is Allah (believes in His Oneness), and then stands straight (acts upon His Order), and] invites (men) to Allah's (Islamic Monotheism), and does righteous deeds, and says: I am one of the Muslims. ]
📖 সূরাহ হা'মীম সেজদাহ্ঃ (৪১) :- ৩৩

তাই আমাদের সকলের উচিত উত্তম কথা বলা মানুষকে সদ উপদেশ দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ডাকা এবং আল্লাহর কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সহীহ্ হাদীস অনুযায়ী আমল এবং বুক ফুলিয়ে বিশ্বকে বলা হ্যা আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর উম্মত, আমার ধর্ম ইসলাম, আমার পরিচয় আমি মুসলিম, আমার ইলাহ্ একমাএ আল্লাহ সোবহানাহ্ তাআ'লা।

ব্যাক্তিগত মন্তব্যঃ
উপরোক্ত আমার কোন উক্তি যদি কোর ও সহীহ্ হাদিসে বিপরীতে যায় তবে তা ছুড়ে ফেলে দিন এবং যতটুকু সহীহ্ তা যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করুন ও আমল করুন। জ্ঞান বিহীন আমল এবং আমল বিহীন জ্ঞান উভয়ই জাহান্নামের কারন হবার জন্য যথেষ্ট। আমিও মানুষ তাই ভুলের উর্ধে নই।
জাজাকাল্লাহ খাইরান।

আল্লাহু আকবার ( اللّٰهُ أَكْبَرُ )☝️🕋

#দোয়া #রুকাইয়্যা #ইসলাম #ইসলামিক_পোস্ট #কুরআন #হাদিস #আল্লাহ #ইসলামেরআলো #ইসলামিক #ইসলামেরপথ #উম্মত #আমল #আকিদা #উম্মাহ #আল্লাহু #আল্লাহুআকবার

19/06/2026

ইসলামে ‘দৃষ্টির হেফাজত’ বা দৃষ্টি সংযত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। চোখের অসৎ ব্যবহার থেকে বাঁচতে পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।দৃষ্টির হেফাজত সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত:-⤵️

১. সূরা আন-নূর, আয়াত ৩০ (পুরুষদের দৃষ্টি ও লজ্জাস্থান হেফাজত):"মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে, আল্লাহ তা অবহিত আছেন।"

২. সূরা আন-নূর, আয়াত ৩১ (নারীদের দৃষ্টি ও লজ্জাস্থান হেফাজত):"আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে, তবে যা সাধারণত প্রকাশমান।

১. হঠাৎ অনিচ্ছাকৃত দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ:—
জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে হঠাৎ (অনিচ্ছাকৃতভাবে) কারো দিকে দৃষ্টি পড়ে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন, "তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নাও।"
📚 (সহীহ মুসলিম: ২১৫৯)

২. প্রথম দৃষ্টি ক্ষমারযোগ্য, কিন্তু দ্বিতীয় দৃষ্টি নয়:—
বুরাইদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আলী (রাঃ)-কে বলেছিলেন, "হে আলী! তুমি এক নজরের উপর আরেক নজর নিক্ষেপ করবে না। কেননা, প্রথম দৃষ্টি তোমার জন্য ক্ষমারযোগ্য (বা জায়েজ, হঠাৎ পড়লে), কিন্তু দ্বিতীয় দৃষ্টি তোমার জন্য নয় (হারাম)।"
📚 (সুনান আত-তিরমিজী: ২৭৭৭; হাদিসটি হাসান)

৩. দৃষ্টি শয়তানের বিষাক্ত তীর:—
আবদুল্লাহ ইবনে মাস‘উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, "দৃষ্টি হলো শয়তানের বিষাক্ত তীরগুলোর মধ্যে একটি তীর। যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে তা পরিত্যাগ করবে, আল্লাহ তাকে এমন ঈমান দান করবেন, যার মিষ্টতা সে তার অন্তরে উপলব্ধি করবে।" (মুসতাদরাক আল-হাকিম; হাদিসটি হাসান হিসেবে গণ্য)৪. রাস্তার হক আদায় ও দৃষ্টি অবনত রাখা:আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, "তোমরা রাস্তার উপর বসা থেকে বিরত থাকো।" সাহাবারা বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! রাস্তা ছাড়া আমাদের উপায় নেই, সেখানে আমরা বসে আলোচনা করি।" তিনি বললেন, "যদি বসতেই হয়, তাহলে রাস্তার হক আদায় করবে।" সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, "রাস্তার হক কী?" তিনি বললেন, "দৃষ্টি অবনত রাখা, কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা..."
📚 (সহীহ বুখারী: ২৪৬৫; সহীহ মুসলিম: ২১২১)

৫. জান্নাতের নিশ্চয়তা:—
উবাদা ইবনে সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা আমার জন্য তোমাদের পক্ষ থেকে ছয়টি বিষয়ের জিম্মাদার হও, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হব... তোমরা তোমাদের দৃষ্টি অবনত রাখবে..."
📚 (সহীহ ইবনে হিব্বান; হাদিসটি হাসান)

৬. জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত তিন ধরণের চোখ:—
মুয়াবিয়া ইবনে জায়দাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তিন ধরণের চোখের ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম: আল্লাহর রাস্তায় পাহারাদার চোখ, আল্লাহর ভয়ে কাঁদা চোখ এবং আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা থেকে দৃষ্টি অবনত রাখা চোখ।"
📚(মু'জাম আল-কাবীর, আল-তিবরানী; মিশকাতুল মাসাবীহ)

৭. বিবাহের গুরুত্ব:উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে। কারণ, বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে।"
📚 (সহীহ বুখারী: ৫০৬৫; সহীহ মুসলিম: ১৪০০)

দৃষ্টির হেফাজতের ক্ষেত্রে কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো হারাম দৃশ্য দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে নজর ফিরিয়ে নেওয়া এবং আল্লাহর সর্বব্যাপী উপস্থিতি স্মরণ করা সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

🎯 ইসলামের যে কোনো বিষয় সুন্দরভাবে জানতে, বুঝতে এবং অত্যন্ত জরুরী মাসয়ালাগুলো (রেফারেন্স সহ) সহজে পেতে আমাদের পেইজটিকে কে ফলো দিয়ে রাখুন এবং সবসময় আমাদের পাশে থাকুন।
❝ শুধুমাত্র আল্লাহ তা' আলার সন্তুষ্টির আশায় এবং সাওয়াবের নিয়তে সকলেই সবার নিকট শেয়ার করে দিন ❞

———————————————————

বিঃদ্রঃ ইসলাম প্রচার করা রাসুলুল্লাহ সাঃ এর হুকুম। আমাদের সবাইকেই পার্টটাইম ইসলামের দায়ী হতে হবে। এর জন্য আপনাকে আলেম বা বিজ্ঞ হতে হবে ব্যাপারটা তা মোটেও নয়। তবে শর্ত হলো ইসলামের যাই আপনি প্রচার করেন না কেনো, সহীহ্ নিয়তে একমাএ আল্লাহর রাজিখুশির জন্য করবেন।

ইসলাম প্রচার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ-

(১) কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে, প্রত্যেকে তার সমান সাওয়াবের অধিকারী হবে। তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সাওয়াবেও কোন কমতি হবে না।
📚 সহীহ্ মুসলিমঃ ২৬৭৪

(২) হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "অবশ্যই প্রচার করো,যদি একটি মাএ আয়াতও হয়।আর যে করে,কে হতে পারে তার হতে উওম আল্লাহর নিকট"।
📚 সহীহ্ বুখারীঃ ৩৪৬১

ইসলাম প্রচারে সয়ং আল্লাহ সোবহানাহ্ তা’আলা পবিত্র কোরআনে বলেনঃ

وَ مَنۡ اَحۡسَنُ قَوۡلًا مِّمَّنۡ دَعَاۤ اِلَی اللّٰہِ وَ عَمِلَ صَالِحًا وَّ قَالَ اِنَّنِیۡ مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ﴿۳۳﴾

উচ্চারণঃ- ওয়া মান আহছানুকাওলাম মিম্মান দা‘আইলাল্লা-হি ওয়া‘আমিলা সা-লিহাওঁ ওয়াকা-লা ইন্নানী মিনাল মুছলিমীন।

অর্থঃ- ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা কথায় কে উত্তম যে আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহবান করে, সৎ কাজ করে এবং বলেঃ আমিতো আত্মসমর্পনকারীদের অন্তর্ভুক্ত (মুসলমান) ।

[ And who is better in speech than he who [says: My Lord is Allah (believes in His Oneness), and then stands straight (acts upon His Order), and] invites (men) to Allah's (Islamic Monotheism), and does righteous deeds, and says: I am one of the Muslims. ]
📖 সূরাহ হা'মীম সেজদাহ্ঃ (৪১) :- ৩৩

তাই আমাদের সকলের উচিত উত্তম কথা বলা মানুষকে সদ উপদেশ দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ডাকা এবং আল্লাহর কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সহীহ্ হাদীস অনুযায়ী আমল এবং বুক ফুলিয়ে বিশ্বকে বলা হ্যা আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর উম্মত, আমার ধর্ম ইসলাম, আমার পরিচয় আমি মুসলিম, আমার ইলাহ্ একমাএ আল্লাহ সোবহানাহ্ তাআ'লা।

ব্যাক্তিগত মন্তব্যঃ
উপরোক্ত আমার কোন উক্তি যদি কোর ও সহীহ্ হাদিসে বিপরীতে যায় তবে তা ছুড়ে ফেলে দিন এবং যতটুকু সহীহ্ তা যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করুন ও আমল করুন। জ্ঞান বিহীন আমল এবং আমল বিহীন জ্ঞান উভয়ই জাহান্নামের কারন হবার জন্য যথেষ্ট। আমিও মানুষ তাই ভুলের উর্ধে নই।
জাজাকাল্লাহ খাইরান।

আল্লাহু আকবার ( اللّٰهُ أَكْبَرُ )☝️🕋

#ইসলাম #ইসলামিক_পোস্ট #কুরআন #হাদিস #আল্লাহ #ইসলামেরআলো #ইসলামিক #ইসলামেরপথ #উম্মত #আমল #আকিদা #উম্মাহ #আল্লাহু #আল্লাহুআকবার

19/06/2026

ফরজ ইবাদাতের পর কয়েকটা আমল ছাড়বেন না কখনো। ইনশাআল্লাহ জীবনে বারাকাহ্ আসবে।

১) সবসময় জবানে ইস্তেগফার রাখবেন। এক দুই হাজার যত পারেন ইস্তেগফার করবেন। ইস্তেগফারে রত থাকলে আপনার উপর আযাব, মুসিবত আসবে না ইনশাআল্লাহ। রিজিকে বারাকাহ্ আসবে৷ দু'আ কবুল হবে।

২) ইস্তেগফারের ফাঁকে ফাঁকে দুরুদ পাঠ করবেন। দুরুদ পাঠে আল্লাহর রহমত নাযিল হয়৷ ফেরেশতাদের দু'আ পাওয়া যায়।

৩) ঘরের মানুষজনকে সালাম দিবেন প্রতিদিন। সালামে পরস্পরের মধ্যে মোহাব্বত বাড়ে, ঘর থেকে শয়তান বিতাড়িত হয়।

৪) ছোট কাজ হোক, তবুও তা বাসমালাহ (বিসমিল্লাহ) পাঠ ছাড়া শুরু করবেন না। আল্লাহর নামে বরকত লাভ হয়৷

৫) প্রতিদিন সূরা বাকারাহ তিলওয়াত করার চেষ্টা করবেন। সব দায়িত্ব সামলে পুরোটা তিলওয়াত কঠিন। তাই যতটুকু সম্ভব তিলওয়াত করবেন। এটি বরকতময় সূরা। হায়েজ থাকলে অডিও শুনবেন।

৬) প্রতিদিন এক টাকা হলেও সদকাহ্ করবেন। তা না পারলে কুকুর-বিড়ালদের খাবার, পানি দিবেন। সদকাহ্ বিপদ মুক্তির উসিলা।

৭) সকাল-সন্ধ্যার যিকর ভুলেও বাদ দেওয়া যাবে না। সকাল, সন্ধ্যা, ঘুমানোর আগে তিন কুল পড়ে শরীর বন্ধ করা বাধ্যতামূলক। এই আমলের কারণে আল্লাহ আপনাকে হেফাজতে রাখবেন।

৮) টাকা-পয়সা, সম্পদ, ঘরের আসবাব, জিনিসপত্র, চাল-ডাল বারবার গণনা করবেন না। এতে বারাকাহ্ নষ্ট হয়। লোভ করবেন না। দুনিয়াকে অন্তরে নয়, মস্তিষ্কে ঠাঁই দিবেন। ফলে দুনিয়ার কিছু হারিয়ে গেলেও আফসোস হবে না। আবার হারানোর ভয়ও থাকবে না৷

৯) মাগরিবের আগেই "বিসমিল্লাহ" পড়ে দরজা, জানালা বন্ধ করে দিবেন। মাগরিবের নামাজের পর আবার খুলে দিতে পারেন, সমস্যা নেই। হাদিসে এই ব্যাপারে সতর্কতা আছে।

১০) সব বিষয়ে আল্লাহর কাছে চাইবেন। আল্লাহকে বলবেন৷ যা প্রয়োজন, আল্লাহকে আগে বলবেন; পরে অন্য কাউকে। ঘরের জিনিস ফুরিয়ে গেলে কর্তাকে বলার আগেও আল্লাহকে বলবেন৷ দু'আর মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি আপনার মুখাপেক্ষিতা বাড়বে। মানুষের অমুখাপেক্ষী হতে সাহায্য করবে।

১১) "আমার নাই, আমি পাই নাই, তুমি দাও নাই, কেউ দেয় নাই" টাইপের আফসোস করবেন না৷ হা-হুতাশ করবেন না। হিংসা ঝেড়ে ফেলে দু'আ করবেন অন্যের জন্য। নিজের অবস্থান নিয়ে বেশি বেশি কৃতজ্ঞ হবেন আল্লাহর প্রতি। শুকরিয়া করলে আল্লাহ বাড়িয়ে দেন।

এই ক'টা আমল নিজের জন্য লাযিম করে নিবেন ইনশাআল্লাহ।

🎯 ইসলামের যে কোনো বিষয় সুন্দরভাবে জানতে, বুঝতে এবং অত্যন্ত জরুরী মাসয়ালাগুলো (রেফারেন্স সহ) সহজে পেতে আমাদের পেইজটিকে কে ফলো দিয়ে রাখুন এবং সবসময় আমাদের পাশে থাকুন।
❝ শুধুমাত্র আল্লাহ তা' আলার সন্তুষ্টির আশায় এবং সাওয়াবের নিয়তে সকলেই সবার নিকট শেয়ার করে দিন ❞

———————————————————

বিঃদ্রঃ ইসলাম প্রচার করা রাসুলুল্লাহ সাঃ এর হুকুম। আমাদের সবাইকেই পার্টটাইম ইসলামের দায়ী হতে হবে। এর জন্য আপনাকে আলেম বা বিজ্ঞ হতে হবে ব্যাপারটা তা মোটেও নয়। তবে শর্ত হলো ইসলামের যাই আপনি প্রচার করেন না কেনো, সহীহ্ নিয়তে একমাএ আল্লাহর রাজিখুশির জন্য করবেন।

ইসলাম প্রচার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ-

(১) কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে, প্রত্যেকে তার সমান সাওয়াবের অধিকারী হবে। তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সাওয়াবেও কোন কমতি হবে না।
📚 সহীহ্ মুসলিমঃ ২৬৭৪

(২) হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "অবশ্যই প্রচার করো,যদি একটি মাএ আয়াতও হয়।আর যে করে,কে হতে পারে তার হতে উওম আল্লাহর নিকট"।
📚 সহীহ্ বুখারীঃ ৩৪৬১

ইসলাম প্রচারে সয়ং আল্লাহ সোবহানাহ্ তা’আলা পবিত্র কোরআনে বলেনঃ

وَ مَنۡ اَحۡسَنُ قَوۡلًا مِّمَّنۡ دَعَاۤ اِلَی اللّٰہِ وَ عَمِلَ صَالِحًا وَّ قَالَ اِنَّنِیۡ مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ﴿۳۳﴾

উচ্চারণঃ- ওয়া মান আহছানুকাওলাম মিম্মান দা‘আইলাল্লা-হি ওয়া‘আমিলা সা-লিহাওঁ ওয়াকা-লা ইন্নানী মিনাল মুছলিমীন।

অর্থঃ- ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা কথায় কে উত্তম যে আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহবান করে, সৎ কাজ করে এবং বলেঃ আমিতো আত্মসমর্পনকারীদের অন্তর্ভুক্ত (মুসলমান) ।

[ And who is better in speech than he who [says: My Lord is Allah (believes in His Oneness), and then stands straight (acts upon His Order), and] invites (men) to Allah's (Islamic Monotheism), and does righteous deeds, and says: I am one of the Muslims. ]
📖 সূরাহ হা'মীম সেজদাহ্ঃ (৪১) :- ৩৩

তাই আমাদের সকলের উচিত উত্তম কথা বলা মানুষকে সদ উপদেশ দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ডাকা এবং আল্লাহর কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সহীহ্ হাদীস অনুযায়ী আমল এবং বুক ফুলিয়ে বিশ্বকে বলা হ্যা আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর উম্মত, আমার ধর্ম ইসলাম, আমার পরিচয় আমি মুসলিম, আমার ইলাহ্ একমাএ আল্লাহ সোবহানাহ্ তাআ'লা।

ব্যাক্তিগত মন্তব্যঃ
উপরোক্ত আমার কোন উক্তি যদি কোর ও সহীহ্ হাদিসে বিপরীতে যায় তবে তা ছুড়ে ফেলে দিন এবং যতটুকু সহীহ্ তা যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করুন ও আমল করুন। জ্ঞান বিহীন আমল এবং আমল বিহীন জ্ঞান উভয়ই জাহান্নামের কারন হবার জন্য যথেষ্ট। আমিও মানুষ তাই ভুলের উর্ধে নই।
জাজাকাল্লাহ খাইরান।

আল্লাহু আকবার ( اللّٰهُ أَكْبَرُ )☝️🕋

#ইসলাম #ইসলামিক_পোস্ট #কুরআন #হাদিস #আল্লাহ #ইসলামেরআলো #ইসলামিক #ইসলামেরপথ #উম্মত #আমল #আকিদা #উম্মাহ #আল্লাহু #আল্লাহুআকবার

Address

Dhaka Cantonment
Cantonment
1206

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sazid Information Updates posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share