09/06/2025
🔥আমেরিকা এখন ভয়াবহ এক অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি-
গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন লস অ্যাঞ্জেলেসে অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড়ের জন্য ICE-কে নির্দেশ দেয়। পুলিশ ও ফেডারেল বাহিনী হঠাৎ করে সশস্ত্র গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামে, দোকান, রেস্টুরেন্ট ও কর্মস্থলে হানা দিয়ে শতাধিক অভিবাসীকে ধরে নিয়ে যায়। এই ধরপাকড়ের ধরন ছিল এতটাই ভয়াবহ ও নাটকীয়, যেন হলিউড সিনেমার দৃশ্য। এতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
🔵 লস অ্যাঞ্জেলেসের অধিকাংশ বাসিন্দাই মেক্সিকো ও ল্যাটিন আমেরিকা থেকে আগত অভিবাসী। তাই এই অভিযান জনসংখ্যার এক বিশাল অংশকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হওয়ায় ব্যাপক জনরোষ সৃষ্টি হয়। শহর জুড়ে শুরু হয় বিশাল বিক্ষোভ, যা দ্রুতই সহিংস রূপ নেয়- মলোটভ বোমা, আগুনে পুড়া গাড়ি, রকেট ইত্যাদি দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে।
🟠 ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে আরো উসকে দেন- তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরের অনুমতি ছাড়াই পুরনো “Title 10” আইন ব্যবহার করে ২০০০ জন ন্যাশনাল গার্ড পাঠান। এরপর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ঘোষণা করেন যে প্রয়োজন হলে মেরিন সেনাও নামানো হবে, যারা মূলত যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য প্রশিক্ষিত। এর ফলে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সাংবিধানিক দ্বন্দ্ব প্রকট হয়।
🟣 ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র এই সামরিক হস্তক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেন, একে "রাজনৈতিক স্টান্ট" ও "অপ্রয়োজনীয় উস্কানি" বলে অভিহিত করেন। তারা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সংঘর্ষ এবং জনগণের বিশ্বাসের অবক্ষয়ে রূপ নিতে পারে, যা সত্যিকারের গৃহযুদ্ধে গড়াতে পারে।
🔵 প্রসঙ্গত, ক্যালিফোর্নিয়া শুধুমাত্র একটি রাজ্য নয়- এটি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি, যার জিডিপি $4.1 ট্রিলিয়ন (২০২৪)। এটি প্রযুক্তি, কৃষি, ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে রয়েছে গুগল, অ্যাপল, মেটা, এনভিডিয়া ও ওপেনএআই-এর মত বিশ্বখ্যাত কোম্পানির সদর দপ্তর।
🔴এমন একটি শক্তিশালী রাজ্যে সামরিক হস্তক্ষেপ শুধু অভিবাসন ইস্যু নয়, বরং এটি আমেরিকার ফেডারেল কাঠামো, গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্রের ঐক্যের উপর সরাসরি আঘাত। এই সংকট প্রমাণ করছে, ট্রাম্প প্রশাসন আইনের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করছে, এবং এতে আমেরিকার ভবিষ্যৎ ঐক্য হুমকির মুখে পড়েছে।