03/05/2026
পাইলস বা অর্শরোগ মেডিকেল ভাষায় ‘হেমোরয়েড’ নামে পরিচিত।পাইলস হচ্ছে মলদ্বার এবং এর নিকটবর্তী শিরাগুলো ফুলে যায় এবং প্রসারিত হয়।
পাইলসের কারণঃ
পাইলস হওয়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম এবং প্রধান হলো খাদ্যাভ্যাসের কারণে। আঁশ জাতীয় খাবার পরিমাণে কম খেলে পাইলস হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। এছাড়া বার্ধক্যজনিত কারণে ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, পায়ুপথ সহবাস, , টয়লেট সিটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা,স্থূলতা, গর্ভাবস্থা, বারবার ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া, মলত্যাগে সবসময় চাপ দেয়া, অনেকক্ষণ ধরে মলত্যাগ করা, অনিয়মিত মলত্যাগে বা মলত্যাগের বেগ আটকে রাখার কারণেও পাইলস হয়ে থাকে। অনেকক্ষেত্রে এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পাইলস হয়ে থাকে।
পাইলসের লক্ষণঃ
মলদ্বার থেকে রক্ত পড়া, মলদ্বারে চুলকানি, মলদ্বার ফোলা ও ব্যথা, মলদ্বার ও আশপাশে যন্ত্রণাদায়ক পিণ্ড, মলত্যাগ করার সময় ও পরে অস্বস্তি হতে থাকলে বুঝতে হবে ধীরে ধীরে পাইলসের সমস্যা হওয়ার লক্ষণ এটি। এছাড়া মলদ্বার ফুলে যাওয়ার জন্য পরিষ্কার রাখতে সমস্যা হওয়া পাইলের অন্যতম লক্ষণ।
পাইলসের সমস্যায় যেসব খাবার খাওয়া নিষেধঃ
পাইলসের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কিছু খাবার পরিহার করতে হয়। এসব খাবারের কারণে পাইলসের সমস্যা বেশি হয়। সেজন্য এসব খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে। এ খাবারগুলোর মধ্যে রয়েছে— লাল গোশত, দুগ্ধজাত খাবার, তেলে ভাজা খাবার,মশলাদার খাবার, কফি ও চা।
পাইলসের ঘরোয়া প্রতিকারঃ
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: প্রচুর পানি পান করতে হবে। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বা আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে বেশি করে। এতে মল নরম হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ হয়।
পাইলসের চিকিৎসাঃ
উপরের কাজগুলো করার পরও যদি পাইলসের সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে রোগীকে
হোমিওপ্যাথি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
প্রতিরোধ ঃ
কোষ্ঠকাঠিন্য পরিহার করা, মলত্যাগে অতিরিক্ত চাপ না দেয়া, বেশিক্ষণ ধরে মলত্যাগ না করলে রক্তপাত ও মলদ্বার বের হয়ে আসা প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
ডা.মুহাম্মাদ শামীম হোসাইন
এম.বি.এ,ডি.এইচ.এম.এস,এ.এইচ.সি (ভারত)
হোমিওপ্যাথিক কনসালটেন্ট
সেবা হোমিও সেন্টার,চাঁদপুর।