24/10/2025
একদিন, এক ছোট শহরে দুইজন আলেম ছিলেন। একজনের নাম মাওলানা আবদুল হক, তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আলেম। আরেকজনের নাম ওয়াহিদুল্লাহ, তিনি নিজেকে শুদ্ধ তাওহিদের অনুসারী বলে দাবি করতেন, কিন্তু বাস্তবে ছিলেন ওয়াবি মতাদর্শে প্রভাবিত।
একদিন, মসজিদের পাশে এক গরিব বৃদ্ধ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। মাওলানা আবদুল হক সাহেব নিজে গিয়ে তাঁকে পানি খাইয়ে দিলেন, ওষুধের ব্যবস্থা করলেন এবং বললেন, “এই মানুষটিও তো আল্লাহর সৃষ্টি, তার সেবা করাও ইবাদত।”
ওয়াহিদুল্লাহ এটা দেখে রাগ করে বলল, “হুজুর, আপনি এত কষ্ট করছেন কেন? এইসব দুনিয়াবি কাজ! এগুলো শিরক ও বিদআতের পথ খুলে দেয়। আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে ভালোবাসা দেখানো ঠিক না।”
মাওলানা শান্তভাবে হেসে বললেন, “ভাই, আল্লাহর রাসূল বলেছেন, তোমরা দুনিয়ার মানুষকে রহম করো, আসমানের মালিক তোমাদের প্রতি রহম করবেন। সুতরাং দুনিয়ার মানুষের প্রতি ভালোবাসা দেখানোই আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার পথ।”
কয়েকদিন পর, ওয়াহিদুল্লাহ নিজেই অসুস্থ হয়ে গেল। যাদের সে বিদআতকারী বলে দূরে রাখত, সেই মানুষরাই মাওলানা আবদুল হকের নেতৃত্বে গিয়ে তার সেবা করল, খাবার দিল, ওষুধ দিল, দোয়া করল।
চোখে জল নিয়ে ওয়াহিদুল্লাহ বলল, “আজ বুঝলাম, শুধু মুখে তাওহিদ বললেই আল্লাহ খুশি হন না। আল্লাহ খুশি হন সেই বান্দার প্রতি, যে তাঁর সৃষ্টির প্রতি মায়া রাখে, নবীর পথ অনুসরণ করে, আর ওলিয়াদের ভালোবাসে।”
এই ঘটনার পর, সে তওবা করল এবং মাওলানা আবদুল হকের শাগরিদ হয়ে গেল।
এই গল্প থেকে শিক্ষা হলো—সুন্নিরা শুধু মুখে কথা নয়, ভালোবাসা ও চরিত্র দিয়ে ইসলাম প্রচার করে। ওয়াবিদের কঠোরতা মানুষকে ইসলাম থেকে দূরে ঠেলে দেয়। আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে নবী ও ওলিয়াদের পথে চলতে হয়; বাহ্যিক তাওহিদ নয়, রুহানিয়াত ও আদবও জরুরি।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সত্য পথে রাখুন, নবীজির উম্মত হিসেবে ওলিয়াদের পথে চলার তাওফিক দিন।