22/06/2026
ইতিহাসের সাক্ষী এক মুহূর্ত: কুয়ালালামপুরের লালগালিচায় বাংলাদেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপস্থিতি
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, দীর্ঘ সংগ্রামের পর, অবশেষে সেই দৃশ্য আমরা দেখলাম, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান বিদেশের মাটিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থিত হচ্ছেন। কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনাল বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে যখন তিনি পা রাখলেন, তখন শুধু একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেই নন, যেন বাংলাদেশের আঠারো কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলন হয়ে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে গেলেন।
লাল গালিচার দুপাশে সুসজ্জিত মালয়েশীয় গার্ড অব অনার। ধবধবে সাদা পোশাকে, বেয়নেট তাক করে দাঁড়িয়ে থাকা সেই সারি যেন এক নীরব ঘোষণা দিচ্ছিল "তিনি কোনো সাধারণ অতিথি নন" । বুকে হাত রেখে তারেক রহমানের সেই অভ্যর্থনার অভিবাদন পূর্ব জবাব দিচ্ছেন। এটা নিছক প্রটোকলের আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; এটি ছিল একজন নেতার আত্মবিশ্বাস, যিনি জানেন তার কাঁধে কী দায়িত্ব, এবং যিনি উপলব্ধি করেন, দেশের সম্মানজনক কেমন প্রতিনিধিত্ব তিনি করছেন। আর পাশে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, গাঢ় মেরুন রঙের শালীন পোশাকে যেন সম্মোহনী শক্তি আর শালীনতার মেলবন্ধনে এক সম্ভ্রান্ত প্রদর্শনী।
বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো মালয়শিয়ার ধর্মমন্ত্রীর অভ্যর্থনা
এই অভ্যর্থনায় সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি অনেকের চোখ এড়িয়ে গেছে। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে এসেছিলেন স্বয়ং মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান ও তার সহধর্মিণী হানানি হারুন। এটি কাকতালীয় নয়, এটি একটি সুক্ষ্ম বার্তা।
সাধারণ কূটনৈতিক সফরে রাষ্ট্রদূত বা প্রটোকল কর্মকর্তারাই অভ্যর্থনা জানান; কিন্তু এখানে মালয়েশিয়া সরকার বেছে নিয়েছে তাদের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিকে। মুসলিম বিশ্বে ইসলামি নীতিনির্ধারণ, হালাল অর্থনীতি ও উম্মাহভিত্তিক সংহতির ক্ষেত্রে যে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব অপরিসীম, সেই মন্ত্রণালয়কে সামনে রেখে তারেক রহমানকে বরণ করা প্রমাণ করে যে, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বকে কেবল একটি রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে নয়, বরং মুসলিম বিশ্বের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবেও দেখছে।
.........
দায়িত্ব নেওয়ার চার মাসের মাথায় প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া, এটি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়। আট লাখেরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক যে দেশে কর্মরত, যে শ্রমবাজার দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে আছে লাখো প্রবাসী পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় ফেলে, সেই বাস্তবতাকে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়াই প্রমাণ করে, তারেক রহমানের অগ্রাধিকার তালিকায় সবার ওপরে আছে সাধারণ মানুষের রুটি-রুজি। মাত্র ত্রিশের কোটায় সফরসঙ্গী নিয়ে, জাঁকজমকপূর্ণ বহরের রেওয়াজ ভেঙে যে সাদাসিধে অথচ কার্যকর কূটনীতির বার্তা তিনি দিলেন, তা একজন বাস্তববাদী, দায়িত্বশীল নেতার পরিচয় বহন করে।
ইতিহাস সাক্ষী থাকবে, ২০২৬ সালের ২১ জুন, যেদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে পা রাখলেন, সেদিন থেকেই শুরু হলো এক নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়ের। লালগালিচা, গার্ড অব অনার, ধর্মমন্ত্রীর সম্মানজনক অভ্যর্থনা, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, প্রতিটি দৃশ্যই যেন একটি বার্তা বহন করছে বিশ্বের কাছে: বাংলাদেশ আবার তার আপন নেতৃত্বের মর্যাদা নিয়ে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েছে।