14/06/2026
সূরা সাজদাহ আমার কাছে একটা সিন্দুকের মত, যেই সিন্ধুক এমন কল্যাণে ভরপুর, এমন ফুল দ্বারা পরিপূর্ণ ঝুড়ির মত যেই ঝুঁড়িতে কি ফুল আছে তা তো দেখা যায় না, কিন্তু এর সুবাস আমাদের বলে দেয়, ক্ষতি নেই ফুলগুলো পাবার জন্য যদি হাজার কষ্টও করতে হয়।
হয়ত ভাবছেন, সূরা সাজদাহ এর কোন ফজীলত তো উল্লেখিত নেই, তাহলে এতকিছু কিভাবে ভাবছি! আসলে, এর ফজীলত উল্লেখিত না থাকাই এত সুন্দর ভাবনাটার পিছনের মূল কারণ। বিষয়টা খুলে বলছি,
আমাদের বেশিরভাগ আমলের ফজীলত কিন্তু নবী করীম ﷺ আমাদের জানিয়ে দিয়ে গেছেন, দুয়েকটা বাদে, তাইনা? যেমন, সাওম। সাওমের প্রতিদান কি দেবেন তা আল্লাহ তা'আলা নিজ অবধিই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। এতটাই পছন্দের এ আমল তার কাছে যে তিনি প্রতিদান দিবসেই কেবল তা বান্দাদের সামনে হাজির করবেন। আবার সূরা সাজদাহ এর আমলটাও কিন্তু এমনই এক আমল। আমরা কিছু জানিনা এর ফজীলত সম্পর্কে, নবীজী ﷺ কিছু জানিয়ে যাননি, জানামতে । কেমন হয় যদি আখিরাতে গিয়ে দেখতে পাই যে এর প্রতিদান এমন সুন্দর কিছু যা আমাদের কল্পনায়ও আসেনি?? এমন কিছু যা আমাদের চাওয়া পাওয়ারও অনেক উপরে! আল্লাহ তা'আলাই ভালো জানেন, হতেই পারে এই আমলের প্রতিদান না জানানোটাও আল্লাহ তা'আলার এক পরীক্ষা যে, না জেনেই কারা এ আমলটা ধরে রাখে এটা দেখা!
আবার, এইযে আমরা এর ফজীলত সম্পর্কে কিছুই জানিনা, আমরা যদি এটা নিয়মিত আমল করি তবে আমরা এমন একটি সুন্নাহ পালন করলাম যার পুরষ্কার অজানা, যা আসবে নবী ﷺ এর সুন্নাহ এর প্রতি নিখাঁদ ভালোবাসা থেকে। আখিরাতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ এর সময় আমরা হাসিমুখে বলতে পারব,
হে আল্লাহর রাসুল ﷺ, আমরা এ আমলের ফজীলত সম্পর্কে ছিলাম বেখবর, কেবল আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের ভালোবাসায় প্রতিরাতে এ আমল করে এসেছি, আলহামদুলিল্লাহ, আমরা আপনার সুন্নাহকে ভালোবেসে আঁকড়ে ধরেছি। না পড়ার সুযোগ আছে বলে বাদ দিয়ে দেইনি বরং আপনি তা করতে ভালোবাসতেন বলে আমরাও ভালোবেসে এসেছি।
কত সুন্দর হবে সেই সময়টা একবার চিন্তা করুন, ভাবলেই কি আজ থেকেই এ আমলের সাথে নিজেকে জুড়ে দিতে ইচ্ছে করে না? আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলের জন্য উত্তম আমলকে সহজ করে দিন, নিচের আয়াতটা নিয়ে কতশত জল্পনা কল্পনা করা যায় তাইনা?
فَلَا تَعۡلَمُ نَفۡسٌ مَّاۤ اُخۡفِیَ لَہُمۡ مِّنۡ قُرَّۃِ اَعۡیُنٍ ۚ جَزَآءًۢ بِمَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ
কেউ জানে না তার জন্যে কৃতকর্মের কি কি নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুক্কায়িত আছে।