23/05/2026
ব্রজধামের এক ছোট্ট কিশোরী ছিল—নাম তার কীর্তিদা।
সে প্রতিদিন রাধারানীর নাম জপ করত। তার ঘরের দেওয়ালে ছিল এক অপূর্ব ছবি—অসীম ব্রহ্মাণ্ডের মাঝে রত্নখচিত ঘাঘরা পরে দাঁড়িয়ে আছেন শ্রীরাধা, আর চারদিকে দেবতারা মাথা নত করে তাঁর দর্শন করছেন।
একদিন গভীর রাতে কীর্তিদা সেই ছবির সামনে বসে কাঁদতে কাঁদতে বলল
“হে রাধারাণী… সবাই তো আপনাকে ‘রাধে মা’ বলে ডাকে না। কিন্তু আমার মন চায় আপনাকে মা বলে ডাকতে… কেন আপনাকে মা বলে সম্বোধন করা হয় না?”
সেই রাতেই অলৌকিক ঘটনা ঘটল।
ঘরের চারদিকে অপূর্ব জ্যোতি ছড়িয়ে পড়ল। মনে হলো যেন আকাশের সব নক্ষত্র নেমে এসেছে। ছবির মধ্য থেকে ধীরে ধীরে জীবন্ত হয়ে বেরিয়ে এলেন শ্রীরাধা। তাঁর রত্নখচিত নীল-গোলাপি ঘাঘরা আলো ছড়াচ্ছে, আর অসংখ্য দেবতা তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে আছে।
রাধারাণী মৃদু হেসে বললেন—
“বৎস… আমি কেবল মা নই। আমি হলাম প্রেমের সর্বোচ্চ রূপ।
যখন কেউ আমাকে ডাকে, সে ভক্ত হয়ে ডাকে, সখী হয়ে ডাকে, দাসী হয়ে ডাকে, প্রিয়জন হয়ে ডাকে। ব্রজের ভক্তরা আমাকে ‘শ্রীমতী’, ‘রাধে’, ‘কিশোরী জি’ বলে ডাকে—কারণ তারা আমার সাথে মধুর প্রেমের সম্পর্ক অনুভব করে।”
কীর্তিদা জিজ্ঞেস করল
“তাহলে রুক্মিণী মাতাকে মা বলে কেন ডাকি?”
রাধারাণী বললেন
“রুক্মিণী দেবী হলেন দ্বারকার মহারাণী। তিনি জগতের জননী রূপে প্রকাশিত হন—সংসারের কল্যাণ, আশ্রয় আর মাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে। তাই বহু ভক্ত তাঁকে ‘মা রুক্মিণী’ বলে ডাকে।
কিন্তু আমি বৃন্দাবনের প্রেমময়ী শক্তি। আমি সেই অনুভূতি, যেখানে ভক্ত নিজের সব ভুলে কেবল কৃষ্ণপ্রেমে ডুবে যায়। তাই আমার সাথে সম্পর্কটা মাতৃত্বের চেয়ে বেশি—এটা আত্মার চিরন্তন প্রেমের সম্পর্ক।”
এরপর রাধারাণী কীর্তিদার মাথায় হাত রাখলেন।
মুহূর্তের মধ্যে সে দেখল—সমস্ত গ্রহ, নক্ষত্র, দেবতা, ব্রহ্মাণ্ড—সবকিছু রাধারাণীর চরণ থেকে আলো পেয়ে জ্বলছে।
রাধারাণী বললেন
“তবে মনে রেখো বৎস…
যে ভক্ত সত্যিকারের ভালোবাসা দিয়ে আমাকে মা বলে ডাকে, আমি তার ডাকও শুনি। কারণ ভক্তির ভাষায় কোনো বাধা নেই। প্রেমই আমার আসল পরিচয়।”
সেই দিন থেকে কীর্তিদা আর কোনো তর্ক করত না।
সে শুধু চোখ বন্ধ করে বলত
“রাধে রাধে…
তুমি প্রেম, তুমি করুণা, তুমি আমার হৃদয়ের আশ্রয়…
রাধে রাধে 🙏
゚viralシalシ