08/05/2026
খুবই হতাশাজনক একটি ছবি। মাদরাসার ছাত্রদের জন্য এভাবে দল বেধে স্টেডিয়ামে খেলা দেখা কিছুতেই শোভা পায় না।
তার চেয়েও বেশি হতাশাজনক এবং ভয়ংকর যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা হচ্ছে এই দেশের একটি বিশেষ মহলের সেই পুরনো বিষাক্ত মানসিকতা। ছবিটির কমেন্ট সেকশনে চোখ রাখলে দেখা যায়, মাদরাসা ছাত্রদের ঢালাওভাবে ‘পাকিস্তানি’ বা ‘রাজাকার’ বলার সেই পুরনো ও জঘন্য ন্যারেটিভ এখনো কতটা জীবন্ত! একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে অবলীলায় 'ডিহিউম্যানাইজ' করা বা না মানুষ হিসেবে তুলে ধরার এই প্রবণতা সেই তথাকথিত প্রগতিশীলদের মন ও মজ্জা থেকে এখনো বিদায় নেয়নি। তারা আজও মাদরাসা ছাত্রদের এদেশের নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করতে কুন্ঠাবোধ করে।
এই ছাত্ররাই তো সেই তরুণ, যারা গত জুলাইয়ের উত্তাল রাজপথে বুক পেতে দিয়েছিল। কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ বা প্রাপ্তির আশায় নয়, বরং খাঁটি দেশপ্রেম আর ইনসাফ প্রতিষ্ঠার তাগিদে তারা বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছিল। মাদরাসায় তাদের দেশদ্রোহিতা শেখানো হয় না, বরং দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ করা হয়।
আজ যারা তুচ্ছ অজুহাতে মাদরাসার কোমলমতি ছাত্রদের দিকে আঙুল তুলছেন, তাদের প্রতি আমাদের প্রশ্ন, যাদের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই নতুন বাংলাদেশ, তাদের গায়ে 'রাজাকার' তকমা সেঁটে দেওয়ার স্পর্ধা আপনারা কোথায় পান? এই যে চরিত্র হননের নোংরা খেলা, এটি আপনাদেরই আদর্শিক দেউলিয়াত্ব প্রমাণ করে। আপনাদের এই নোংরা ও সংকীর্ণ মানসিকতার প্রতি জানাচ্ছি তীব্র প্রতিবাদ ও চূড়ান্ত ঘৃণা।
মাদরাসার ছাত্রদের প্রতি আহ্বান থাকবে, এভাবে দল বেধে স্টেডিয়ামে বসে খেলা ইলমে দীনের ধারক-বাহক হিসেবে কখনোই আমাদের জন্য শোভা পায় না। আমাদের চালচলন ও আচার-আচরণ সাধারণ মানুষের কাছে এক একটি ‘দলিল’ বা উদাহরণ হিসেবে গণ্য হয়। তাই এমন কিছু করা থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিত, যা আমাদের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এমন কোনো কাজে আমাদের লিপ্ত হওয়া উচিত নয়, যা অন্যদের সমালোচনার সুযোগ করে দেয়।
আর বিদ্বেষীদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা—মাদরাসা ছাত্ররা এদেশের মাটির সন্তান; তারা এদেশকে ভালোবেসে লড়তে জানে, আর আপনাদের এই মিথ্যে ন্যারেটিভ ভেঙে চুরমার করার সাহসও তারা রাখে।