17/07/2026
#অসমাপ্ত প্রেম
পর্ব–৩
বৃষ্টির সেই দিনের পর থেকে আহিয়ান আর অবনির মধ্যে দূরত্বটা আগের মতো রইল না। এখন প্রায় প্রতিদিনই ক্লাসে দেখা হলে এক চিলতে হাসি বিনিময় হয়। কখনও নোটের অজুহাতে, কখনও লাইব্রেরিতে বই খুঁজতে গিয়ে—তাদের কথা একটু একটু করে বাড়তে লাগল।
একদিন বাংলা বিভাগের শিক্ষক একটি গ্রুপ প্রেজেন্টেশনের ঘোষণা দিলেন। কাকতালীয়ভাবে আহিয়ান আর অবনি একই দলে পড়ল।
"তাহলে আজ বিকেলে লাইব্রেরিতে বসে কাজ শুরু করব?" আহিয়ান একটু দ্বিধা নিয়ে জিজ্ঞেস করল।
অবনি মুচকি হেসে বলল, "ঠিক আছে, তবে দেরি করবেন না।"
সেদিন বিকেলে দুজনেই সময়মতো লাইব্রেরিতে পৌঁছে গেল। পড়াশোনার ফাঁকে গল্পও চলতে লাগল। আহিয়ান জানতে পারল, অবনি ছোটবেলা থেকেই গল্পের বই পড়তে ভালোবাসে। আর অবনি জানল, আহিয়ানের স্বপ্ন একদিন নিজের পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়া।
হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। পুরো লাইব্রেরি নীরব হয়ে গেল। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে অবনি বলল,
"জানো, আমার মনে হয় মানুষ যত বড়ই হোক, তার জীবনে এমন একজন দরকার, যার কাছে সব কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।"
আহিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে উত্তর দিল, "হয়তো আমি সেই মানুষটা হতে চাই... যদি তুমি অনুমতি দাও।"
অবনি লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলল। ঠোঁটের কোণে ছোট্ট একটি হাসি ফুটে উঠল, কিন্তু কোনো উত্তর দিল না।
সেদিন বাড়ি ফেরার পথে দুজনের মনেই একই প্রশ্ন ঘুরছিল—এ কি শুধু বন্ধুত্ব, নাকি ভালোবাসার শুরু?
কিন্তু ঠিক সেই সময় কলেজের গেটে একটি কালো গাড়ি এসে থামল। গাড়ি থেকে নেমে এক তরুণ সরাসরি অবনির দিকে এগিয়ে এল।
আহিয়ান দূর থেকে সব দেখছিল। অবনির মুখের হাসিটা মুহূর্তেই ম্লান হয়ে গেল।
ছেলেটি বলল, "অবনি, তোমার সঙ্গে জরুরি কথা আছে।"
আহিয়ানের বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠল। সে জানত না, এই অচেনা মানুষটির আগমন তাদের জীবনের গল্পকে সম্পূর্ণ অন্যদিকে নিয়ে যাবে।