কাব্যকথা

কাব্যকথা life is short.. so enjoy your life in your own way....��

01/04/2026

সোডিয়ামের দীপ্ত প্রতিক্রিয়া আর নিয়নের নির্বাক জ্যোৎস্না
রসায়নের প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে কতবার যে গুলিয়ে ফেলেছি তাদের সত্তা,
কতবার যে মৌল আর যৌগের ভিড়ে নিজেকেই ভুল উপাদান ভেবেছি...
তার কোনো নির্ভুল সূত্র আজও আবিষ্কৃত হয়নি। সমতার সূত্র মেলাতে গিয়ে, পদার্থের জগতে নিজেকেই অপদার্থের মত সাজিয়েছি বহুবার, যেন ভর আছে, অথচ মাধ্যাকর্ষণহীন এক অনির্দিষ্ট কণা।
অংকের সরল সমীকরণগুলোও আজও জীবনের খাতায় অসীম অজানার মত ঝুলে আছে, যেন কোনো অদৃশ্য চলকের মান খুঁজে পাওয়া যায় না কখনো। জীববিজ্ঞানের অধ্যায়ে,,,,,নিজের মেরুদণ্ডকে হারিয়ে ফেলেছি অস্তিত্বের বিবর্তনে, হাড়গুলো ধীরে ধীরে নিঃশেষিত ক্যালসিয়ামের ধূসর স্মৃতি, আর কলিজা সময়ের নির্মম বিচ্ছেদ-ছুরিতে ছিন্নভিন্ন এক জৈব উপাখ্যান। পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রে দেখেছি... প্রতিটি ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে, তবু আমার সমস্ত নীরব বিস্ফোরণের কোনো প্রতিধ্বনি আর ফিরে আসে না। দর্শনের পাতায় নিজেকেই প্রশ্ন করেছি বহুবার...আমি কি কেবল অস্তিত্বের এক অনির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য, নাকি মহাবিশ্বের অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া এক ক্ষুদ্র উপপাদ্য? শিল্পের ক্যানভাসে নিজেকে আঁকতে গিয়ে দেখেছি...রঙগুলো শুকিয়ে গেছে অনেক আগেই, শুধু ফাঁকা ক্যানভাসে রয়ে গেছে এক অপূর্ণ রেখাচিত্র। আর এই কংক্রিটের নগরে, ইট, লোহা আর ধোঁয়ার জ্যামিতিক জটিলতায় আমি কেবল বৃত্তের পরিধিতে অযত্নে পড়ে থাকা এক বিন্দু যার উপস্থিতি আছে বটে, তবু না থাকলেও সমীকরণ ভাঙত না খুব একটা।আছি তো বটে...তবু কখনো মনে হয়.....অস্তিত্ব নামের এই ক্ষীণ উপপাদ্যটিও সময়ের বিশাল গ্রন্থাগারে একদিন নীরবে মুছে যাবে.....যেন কোনো ভুলে লেখা সূত্র....যাকে কেউ আর সংশোধন করার প্রয়োজনও বোধ করে না। 🙂😅
writer :Umme Hafsa Lamiya

29/03/2026

অথচ রাত্রির শেষ প্রহরের নিঃশব্দ অন্ধকারে,
সব শব্দ স্তব্ধ হয়ে গেলে....
আমার অন্তরালের গহীনতম প্রদেশে
তাহারই অনুচ্চারিত নাম প্রতিধ্বনিত হয়।
ঘুমহীন নক্ষত্রেরা যখন আকাশে ক্লান্ত আলো ছড়ায়,
আমার স্মৃতিরা তখন নিঃশব্দে তার দোরগোড়ায় বসে থাকে.....
অপ্রকাশিত আকাঙ্ক্ষার শিউলি হয়ে ঝরে পড়ে একে একে,
আর আমি, এক অব্যক্ত ব্যাকুলতায়, তাহারেই খুঁজি বারবার।
সময়ের ক্ষয়িষ্ণু স্রোতও মুছে দিতে পারে না
এই অনির্বচনীয় অনুরাগের অক্ষয় দাগ......
কারণ, সকল বিস্মৃতির অতলে ডুবে গিয়েও
আমার হৃদয় এখনো তাহারই অবিনশ্বর প্রতিচ্ছবি বহন করে।😅❤️‍🩹
Writer : Umme Hafsa Lamiya

এই রক্তিম-কমলা বিকেলের আকাশটা যেন হঠাৎই এক অদ্ভুত নিস্তব্ধ স্মৃতির আয়না হয়ে দাঁড়ায়....যেখানে সূর্যের শেষ আলো গলে পড়ে, আর...
26/03/2026

এই রক্তিম-কমলা বিকেলের আকাশটা যেন হঠাৎই এক অদ্ভুত নিস্তব্ধ স্মৃতির আয়না হয়ে দাঁড়ায়....
যেখানে সূর্যের শেষ আলো গলে পড়ে, আর তার সাথে ভেসে ওঠে তোমার অনুচ্চারিত নাম।
মেঘবালিকারা আজ কেমন যেন বিষণ্ন সুরে ভেসে যাচ্ছে।
মনে হয় তারা-ও জানে
এই বিকেলটা শুধু আলো ফুরোনোর নয়,
এটা এক অপ্রকাশিত অভিমান আর নীরব অপেক্ষার সময়।
হঠাৎ বাতাসে ভেসে আসে তোমার গন্ধ,
যেন কোনো অচেনা নস্টালজিয়ার অণু ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে....
আর আমি দাঁড়িয়ে থাকি, এই রঙিন আকাশের নিচে,
নিজের ভেতরের শূন্যতাকে জড়িয়ে,
তোমায় না পাওয়ার অলিখিত কবিতা হয়ে… 🧡
writer : Hafsa Lamiya

কলমের কালি যখন নিঃশেষে ঝরে পড়ে,তখন সে আর শব্দের জন্মদাত্রী নয়......নিস্তব্ধতার এক ক্লান্ত অবশেষ,ড্রয়ারের অন্ধকারে নির্বা...
24/03/2026

কলমের কালি যখন নিঃশেষে ঝরে পড়ে,
তখন সে আর শব্দের জন্মদাত্রী নয়......
নিস্তব্ধতার এক ক্লান্ত অবশেষ,
ড্রয়ারের অন্ধকারে নির্বাসিত এক বিস্মৃত ইতিহাস।
তেমনি মানুষও....
প্রয়োজনের ঋতুচক্র থেমে গেলে
তার চারপাশে জমে ওঠে অবহেলার শীতল কুয়াশা,
চেনা মুখগুলোও হয়ে যায় অচেনা ছায়াপথ।
ব্যবহারের শেষ প্রহরে দাঁড়িয়ে
সে পরিণত হয় এক পরিত্যক্ত উপকথায়।
যেখানে একদিন স্বপ্নেরা আলো ছড়াত,
আজ সেখানে শুধু ক্ষয়ের নীরব সিম্ফনি দেখা যায়......
আর দীর্ঘশ্বাসে লেখা থাকে তার অস্তিত্বের শেষ কবিতা। 🖤😅
Writer : Umme Hafsa Lamiya

23/03/2026

মানুষ হারায়.....
নির্জনতার নীলাভ গহ্বরে একে একে ঝরে পড়ে নৈকট্যের নক্ষত্রেরা,
অতঃপর স্মৃতির শুষ্ক পত্রপুটে লুকিয়ে থাকে প্রিয়জনের ক্ষীণ প্রতিধ্বনি।
ভালোবাসা বিলীন হয় অনির্বচনীয় শূন্যতার অতলে,
আর এক সময়......
নিজেরই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে ওঠে অচেনা,
নিজেকেই হারিয়ে ফেলে মানুষ, নিজেরই নিঃসঙ্গ মহাকাশে।😅💔
Writer : Umme Hafsa Lamiya

23/03/2026

অনুভূতির শিরা-উপশিরা শুকিয়ে গেলে
শব্দ কি আর স্পন্দনের জন্ম দেয়?
নিঃশ্বাসে জমাট বাঁধা নৈঃশব্দ্য নিয়ে
কবিতা কি আর প্রাণ পায় কখনো?
অন্তর্গত আকাশে যদি কেবল ধূসর বিষাদ জমে,
তবে রঙ কি কেবল স্মৃতির অবশেষ হয়ে থাকে না?
বৈরাগ্যের দহন বুকে বহন করে
উল্লাসের ঋতু কি আর ফিরে আসে?
অমাবস্যার অতল অন্ধকারে ডুবে থাকা মন
তারার ক্ষীণ আলোয় বাঁচতে শিখে ঠিকই,
তবু পূর্ণতার চাঁদ, সে কি আর স্পর্শযোগ্য থাকে?
নিজেকে নৈবেদ্য করে অন্যের অস্তিত্বে বিলীন হলে,
নিজস্বতার সীমানা কোথায় টিকে থাকে?
নিলামের মতো বিকিয়ে গেলে অনুভূতিরা.....
সুখ কি আর নিজের নামে ফিরে আসে কখনো?
তোমায় খুব বলতে ইচ্ছে করে,
"অন্তর্গত শূন্যতার গহ্বরেও একফোঁটা দীপ্তি সযত্নে রক্ষা করো,
কারণ নিঃশেষ অন্ধকারের অতলে
সৃজনের কোনো অঙ্কুরই আর জন্ম নিতে পারে না।"
writer : Umme Hafsa Lamiya

18/03/2026

অস্তিত্বের নীরব অতলে ডুবে থাকা এক অদৃশ্য প্রতিধ্বনি তুমি,
আর আমি সময়ের বিস্মৃত প্রান্তে হারিয়ে যাওয়া এক নক্ষত্রের ছাই।
আমাদের মাঝখানে যে দূরত্ব,
তা কোনো পথের নয়...
তা এক অনন্ত শূন্যতার গোপন জ্যামিতি।
তুমি যদি হও নীরবতার গহ্বর,
আমি সেই অব্যক্ত দীর্ঘশ্বাস
যা অন্ধকারের বুক চিরে
অস্তিত্বের ক্ষয়িষ্ণু আলো হয়ে জ্বলে থাকে।
শেষ পর্যন্ত...
আমরা কেউই কারো নয়,
শুধু দু’টি ক্লান্ত আত্মা
সময়ের নির্জন মরুভূমিতে
একই নিঃসঙ্গতার ছায়া হয়ে হাঁটি।
Writer : Umme Hafsa Lamiya

এই পৃথিবী এক বিস্ময়কর স্বার্থলোকের মহাকাব্য,যেখানে সম্পর্কেরা জন্মায়,কিন্তু আত্মার গভীরে তাদের কোনো শিকড় জন্মায় না।মানুষ...
13/03/2026

এই পৃথিবী এক বিস্ময়কর স্বার্থলোকের মহাকাব্য,
যেখানে সম্পর্কেরা জন্মায়,
কিন্তু আত্মার গভীরে তাদের কোনো শিকড় জন্মায় না।
মানুষের মুখে মায়ার অলংকার ঝুলে থাকে,
তবু হৃদয়ের অন্তঃপুরে বাস করে
এক অদ্ভুত নির্মম স্বার্থান্ধতা।
একটা বৃক্ষ যতদিন সবুজ ছায়া বিলায়,
ততদিন পথিকেরা তার ডালে ডালে
কৃতজ্ঞতার ভান ঝুলিয়ে রাখে।
কিন্তু ঝড়ে যদি সেই বৃক্ষ ভেঙে পড়ে,
তখন তার গুঁড়ির উপর বসে
মানুষ আগুন জ্বালায় উষ্ণতা পাওয়ার জন্য।
বৃক্ষ তখন বোঝে....
তার ছায়া ছিল ভালোবাসা নয়,
ছিল মানুষের ক্ষণিক স্বার্থের আশ্রয়।
মৌমাছিরা ফুলের চারপাশে
গুঞ্জনের সুরে প্রেমের গান গায়।
দেখতে মনে হয়
ওরা বুঝি ফুলকে খুব ভালোবাসে।
কিন্তু মধু শেষ হয়ে গেলে
সেই ফুলই পড়ে থাকে নিঃসঙ্গ,
ঝরে যাওয়া পাপড়ির মতো
এক অবহেলিত অস্তিত্বের পরিত্যক্ত স্মৃতি।
মানুষের সম্পর্কও ঠিক তেমন.....
যতদিন হৃদয়ে আলো,
ততদিন চারপাশে মানুষের ভিড়।
কিন্তু যখন জীবনের আকাশে
দুঃখের মেঘ জমে,
তখন সবাই অদ্ভুত তাড়নায়
নিজেকে সরিয়ে নেয়.....
যেন দুঃখও সংক্রামক কোনো ব্যাধি।
দেখো নদীকে......
বর্ষায় তার বুক ভরা জলে
নৌকার মিছিল নামে।
তীর ভরে ওঠে কোলাহলে।
কিন্তু খরার দিনে
ফাটা নদীর বুকে পড়ে থাকে
নিঃশব্দ ধুলোর স্তব্ধতা।
কেউ আসে না,
কারণ শুকনো নদী
কাউকে আর কিছু দিতে পারে না।
এইভাবেই বুঝি.....
পৃথিবীর অধিকাংশ সম্পর্ক
আসলে স্বার্থের ক্ষণস্থায়ী নক্ষত্রপুঞ্জ।
যতক্ষণ আলো দেয়,
ততক্ষণ মানুষ তাকিয়ে থাকে;
আলো নিভলেই
তারা হারিয়ে যায় বিস্মৃতির গহ্বরে।
তবু মানুষের হৃদয়
অদ্ভুত এক সরলতায় বেঁচে থাকে.....
ভাঙা বিশ্বাসের ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে
সে এখনো খুঁজে ফেরে
একটা নির্মল আত্মা,
যে ভালোবাসবে
স্বার্থের হিসাব ছাড়া...
যেমন আকাশ ভালোবাসে পৃথিবীকে,
দূরে থেকেও
নিঃস্বার্থ নক্ষত্রের আলো হয়ে।

12/03/2026

শৈশব জীবনের এক স্বর্ণাভ স্বপ্নলোক, এক অলৌকিক নির্মলতার প্রান্তর, যেখানে সময় যেন ধীর পায়ে হাঁটে আর পৃথিবীটা মনে হয় এক বিস্ময়ভরা নীলাভ উপাখ্যান। তখন আকাশ ছিল অসীম কল্পনার নক্ষত্রমণ্ডল, আর ছোট্ট উঠানটাই ছিল আমাদের অনন্ত রাজ্য।
সেই দিনগুলো ছিল অকলুষ আনন্দের দীপ্তিময় ঋতু। মাটির খেলনা, কাগজের নৌকা, আর বৃষ্টিভেজা দুপুর, সব মিলিয়ে তৈরি হতো এক মায়াময় স্মৃতির অলিন্দ। প্রতিটি হাসি ছিল নিস্পাপ, প্রতিটি স্বপ্ন ছিল অসীম সম্ভাবনার স্বর্ণরেখা। তখন জীবনের অভিধানে ক্লান্তি ছিল না, ছিল না কোনো জটিলতার ছায়া, ছিল কেবল নির্ভার সরলতার অনির্বচনীয় সৌন্দর্য।
কিন্তু সময় এক অদৃশ্য নদীর মতো, নিঃশব্দে সবকিছু বয়ে নিয়ে যায়। আজ জীবনের ব্যস্ত নগরে দাঁড়িয়ে যখন স্মৃতির জানালা খুলে দেখি, তখন মনে হয় শৈশব আসলে এক দূর নক্ষত্রের মতো দীপ্ত স্বপ্নদ্বীপ, যার আলো এখনো হৃদয়ের গভীরে নিভৃতভাবে জ্বলতে থাকে।
মানুষ যত দূরেই চলে যাক, তার অন্তরের গভীরে শৈশব রয়ে যায়।
এক অমলিন স্মৃতিসুধা,
এক অমর মায়ার কাব্য হয়ে,
যেখানে ফিরে যাওয়া যায় না, তবু যার স্নিগ্ধ আলো সারাজীবন পথ দেখায়।❤️‍🩹🖤

08/03/2026

‎শহর জুড়ে আজ নিস্তব্ধতার রাজত্ব, অথচ
‎হৃদয়ের অন্দরে এক অবিরাম যুদ্ধ।
‎কেউ বলে আমি ফুরিয়ে যাচ্ছি, কেউ বলে
‎আমি মৃতবৎ।

‎কিন্তু তারা কি জানে?
‎ওই এক জোড়া চোখের নেশায় পুড়তে
‎পুড়তেই তো আমি প্রতি মূহূর্তে পুনর্জন্ম নিই।
‎​গালিব বলেছিলেন, প্রেমে বাঁচা আর মরার মাঝে
‎কোনো সীমারেখা নেই।

‎আজ বুঝতে পারি—
‎​তোমাকে পাওয়ার হাহাকার যদি 'মৃত্যু' হয়, তবে
‎তোমার স্মৃতিটুকু আগলে রাখাই আমার 'জীবন'।
‎অপেক্ষাটা বিষের মতো নীল হলেও, ওই পথের
‎দিকে চেয়ে থাকাটুকুই তো আমার একমাত্র
‎আরাধনা।

‎যাকে ভালোবেসে নিজেকে হারিয়েছি,
‎তাকে দেখার লোভেই তো আজো এই জীর্ণ
‎শরীরটা বয়ে চলা। মৃত্যু তো সেদিনই হবে, যেদিন
‎তোমার ওই অবয়বটুকু দেখার সাধও মিটে যাবে।
—🥀— অচিহ্ন্য 🌸

08/03/2026

জীবন একটি চমৎকার রঙ্গমঞ্চ—
নাটকীয়তার অনন্য নিখুঁত উপমা।
কুড়ি বছরের এই ক্ষুদ্র পরিসরে
আমি যা পেয়েছি আর দেখেছি—
একশত কুড়ি বছরের ভীমরতি জীবনেও
কখনো এসবের দর্শন মিলেনি। কী পাইনি ;
পরিবারের আকাশ-ছোঁয়া স্বপ্নীল চাওয়া,
দারিদ্র্য ও অনটনের করুণ বিধুর আর্তনাদ,
দুঃখ—শোক, উপশমের অযোগ্য অনারোগ্য ব্যাধি, প্রেমিকার অবাধ্যতায় নিদারুণ হাপিত্যেশ, দুই যুগের অবিচ্ছেদ্য বন্ধুত্বে নিগূঢ় মনোমালিন্য—
অতীত-স্মৃতি অনিবার রোমন্থনের অবসাদ, লক্ষ্য-পথে ভয়ানক বিরাট সরোবর—
অগাধ ব্যর্থতা ইত্যাদি সব আছে এই জীবনে। ..
সবচে' বড় কথা ; এই কুটিল জীবনের সৃজন
মধ্যবিত্ত ঘরের পার্থিব অভিশাপে।
তাই মৌন সাধনে সাধের স্তোত্র অহর্নিশ পড়ি ;
কিন্তু ঘুমের ঘোরেও সাধ্যের কাব্যিকতা
বরাবরই ম্লান থাকে।
শখ আছে, শৌখিন মন আছে—
কিন্তু সব ঠুনকো কল্পলোকের আবহে বন্দি। ..
মাঝে মধ্যে অনটনের ব্যাপক ক্লান্তির সময়
নীলিমায় তাকিয়ে ছলছল আঁখিতে বলি—
❝স্রষ্টা আমাকে সৃষ্টির পর
এমন অসাধ্য সাধ শৌখিন মনোভাব দিয়ে—
ধরিত্রীর কোলে আমার অধম্য ধূসর
অস্তিত্বের সৃজন না করলে বোধহয় বেশ হতো!
আমি থাকতাম না এই অনটনের
রঙিন নান্দনিক ভূপৃষ্ঠে!
না থাকতো আমার শৌখিনতা পূরণের
অগাধ আক্ষেপ!❞ ..
তবু যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে—
এই ধূলি-ধূসরিতের জীবন থেকে
পরিত্রাণ চাই কি না?
আমি দশজনের মত ভেবে বলবো না পরিত্রাণ চাই! আমি না ভেবেই বলবো—
বাঁচতে চাই আরো কুড়ি যুগ।
বাঁচতে চাই স্বচ্চ আকাশের মত।
শান্ত মৌন গাম্ভীর্য লেপ্টানো সমুদ্রের মত;
যার মরমী মৃদু ঢেউ আছে কিন্তু—
ভাটা পড়ার কোনো আয়োজন নেই। ..
আমি সদা মানুষদের বলি জীবন থেকে পালিয়ে মোক্ষের পথে হাঁটা—আত্মবিসর্জনে
পরিত্রাণ নেওয়া, অযাচিত সমূহ সমস্যার
কদাচ সমাধান না ;
আমি মনে প্রাণে এ ব্যাপারে অগাধ বিশ্বাসী। ..
আমি এখন জীবনের প্রতিটা পরত,
প্রতিটা সাদাকালো অধ্যায় থেকে রোজ-ই
নিছক জ্ঞান অন্বেষণে ব্যস্ত থাকি।
কারো কোনো কথা বা কাজে—
আজকাল আর দুঃখ পাইনা।
ঢের ব্যথায় ব্যথিতও হই না।
একটা প্রবাদ আছে না!—
❝অল্প শোকে কাতর—অধিক শোকে পাথর❞!..
•—বাঁচতে চাই
•—চৌচির হৃদয়

04/03/2026

এই যে আমি বড্ড এলোমেলো, এই যে আমি ঘিরে আছি বিষন্নতায় - ডুবে আছি অন্ধকারে। হাতড়ে বেড়াই কোনো দিশাহীন সমুদ্রে, যার নেই কোনো কূল কিনারা, নেই কোনো আদি অন্ত।
এই যে আমি রোজ একটু একটু করে হারিয়ে যাচ্ছি, বরবাদ হচ্ছি নিজে নিজেই। বিলীন হয়ে যাচ্ছি মুহূর্তে কত শত বার। নিজেকে নিলামে তুলে আবার খুঁজে বেড়াচ্ছি হাজারবার। ডুবে যাওয়া সূর্যের মত একটু একটু করে রোজ হারাচ্ছি দিগন্ত।
এই যে আমি চুপচাপ, কত শত মন খারাপ। কত শত পথ পারী দিয়ে তবেই থেমেছি এই পথে। ফেরার উপায় নেই - বন্দী হয়েছি কোনো বিশ্রী ফাঁদে। যে শিকল ভাঙার ক্ষমতা নেই। ক্ষমতা নেই দূরে ছুটে যাই।
এই যে আমি নেই আমার মাঝে! বাঁক হারানো খরস্রোতা নদীর মতই বয়ে বেড়াচ্ছি স্রোতের বিপরীতে। আশ্রয়হীন খড়কুটোর মতই খুঁজে বেড়াচ্ছি ঠাঁই।
এই যে আমি ডানা কাটা পাখির মতো ছটফট করি রোজ। আহত বাজপাখি যেমন ছুঁতে চায় অসীম আকাশ। উচ্চতায় নিজেকে আবিষ্কার করতে চায় তবু সে অক্ষম, যন্ত্রণায় কাতর।
জানি জানবেনা কেউ। এই দায়ভার শুধুই আমার। হারিয়ে যাওয়ার জিনিসের হিসেব রাখে না কেউ। হিসেব রাখে না মরা নদীতে কত জমেছে ঢেউ।
পরিত্যক্ত পথটাতে জমেছে কত ধূলো , ধুয়ে গেছে কত মাটি। কেউ জানেনা তালাবদ্ধ ডাকবক্সটায় জমে আছে কত চিঠি।
জানি আমায় খুঁজবে না কেউ - রাখবে না কেউ মনে। কালের স্রোতে হারিয়ে গেলে - সময় পেরোলে থাকবে না কোনো চিহ্ন।
থাকবো না আমি পৃথিবীর কোনো কোণে - জানবেনা কেউ দিন কেটেছে কতটা বিষন্ন।
জানি কেউ নেবে না দায়ভার তার - আমার ভালো থাকা হারিয়েছে কোন বাঁকে।
অলিতে গলিতে হারিয়েছে সুখ কার টানে - কার মায়াতে দিন বিষন্ন করে রাখে।
দায়টুকু শুধুই আমারই - কাকে বলব তবু আমি ভালো নেই।
জ্যোৎস্না আমার হারিয়েছে বহু আগেই - অমাবস্যার একটি আকাশ রয়ে গেলেও , কোথাও তার ছিটেফোঁটা আলো নেই।
কাকে বলি - নাহ্ , আমি ভালো নেই।

Address

Dhaka
Chandpur
2317

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when কাব্যকথা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share