01/04/2026
সোডিয়ামের দীপ্ত প্রতিক্রিয়া আর নিয়নের নির্বাক জ্যোৎস্না
রসায়নের প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে কতবার যে গুলিয়ে ফেলেছি তাদের সত্তা,
কতবার যে মৌল আর যৌগের ভিড়ে নিজেকেই ভুল উপাদান ভেবেছি...
তার কোনো নির্ভুল সূত্র আজও আবিষ্কৃত হয়নি। সমতার সূত্র মেলাতে গিয়ে, পদার্থের জগতে নিজেকেই অপদার্থের মত সাজিয়েছি বহুবার, যেন ভর আছে, অথচ মাধ্যাকর্ষণহীন এক অনির্দিষ্ট কণা।
অংকের সরল সমীকরণগুলোও আজও জীবনের খাতায় অসীম অজানার মত ঝুলে আছে, যেন কোনো অদৃশ্য চলকের মান খুঁজে পাওয়া যায় না কখনো। জীববিজ্ঞানের অধ্যায়ে,,,,,নিজের মেরুদণ্ডকে হারিয়ে ফেলেছি অস্তিত্বের বিবর্তনে, হাড়গুলো ধীরে ধীরে নিঃশেষিত ক্যালসিয়ামের ধূসর স্মৃতি, আর কলিজা সময়ের নির্মম বিচ্ছেদ-ছুরিতে ছিন্নভিন্ন এক জৈব উপাখ্যান। পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রে দেখেছি... প্রতিটি ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে, তবু আমার সমস্ত নীরব বিস্ফোরণের কোনো প্রতিধ্বনি আর ফিরে আসে না। দর্শনের পাতায় নিজেকেই প্রশ্ন করেছি বহুবার...আমি কি কেবল অস্তিত্বের এক অনির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য, নাকি মহাবিশ্বের অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া এক ক্ষুদ্র উপপাদ্য? শিল্পের ক্যানভাসে নিজেকে আঁকতে গিয়ে দেখেছি...রঙগুলো শুকিয়ে গেছে অনেক আগেই, শুধু ফাঁকা ক্যানভাসে রয়ে গেছে এক অপূর্ণ রেখাচিত্র। আর এই কংক্রিটের নগরে, ইট, লোহা আর ধোঁয়ার জ্যামিতিক জটিলতায় আমি কেবল বৃত্তের পরিধিতে অযত্নে পড়ে থাকা এক বিন্দু যার উপস্থিতি আছে বটে, তবু না থাকলেও সমীকরণ ভাঙত না খুব একটা।আছি তো বটে...তবু কখনো মনে হয়.....অস্তিত্ব নামের এই ক্ষীণ উপপাদ্যটিও সময়ের বিশাল গ্রন্থাগারে একদিন নীরবে মুছে যাবে.....যেন কোনো ভুলে লেখা সূত্র....যাকে কেউ আর সংশোধন করার প্রয়োজনও বোধ করে না। 🙂😅
writer :Umme Hafsa Lamiya