11/07/2026
বৃষ্টির দিনে যেই মুহুর্তে আমরা কাঁথামুড়ি দিয়ে আরাম করে ঘুমাচ্ছি ঠিক সেই মুহুর্তে চট্টগ্রামের বেশিরভাগ অঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে।
এখন পর্যন্ত ৬ লক্ষেরও বেশি ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। আই রিপিট ৬ লক্ষের বেশি!
অসংখ্য গবাদিপশু হারিয়ে গেছে, বাচ্চারা তলিয়ে গেছে।
মাত্র ৪ দিনেই ৩৫ জনের মতো মানুষ মারা গেছে, ৩ জন হারিয়ে গেছে। বাকিদের অবস্থাও প্রচন্ড শোচনীয়।
পানি বাড়ায় এই মানুষগুলো প্রথমে খাটে ছিল, খাটে পানি আসায় ঘরের চালে গিয়ে উঠেছিল কিন্তু সবশেষে সেই ঘরটাও ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
এই অসহায় মানুষগুলো এখন উদ্বাস্তুর মতো পানিতেই পড়ে আছে।
কারেন্ট নাই, গ্যাস নাই, খাবার নাই। এক এলাকা থেকে যে অন্য এলাকায় যাবে সেই ব্যবস্থাও নাই।
এক বাবা বন্যা থেকে বাঁচতে বহু কষ্টে ৩ মেয়েকে নিয়ে আরেক এলাকায় যেতে চেয়েছিল কিন্তু পারে নাই। ২ টা মেয়েই পানিতে তলিয়ে গেছে। এখনো খুঁজে পান নাই।
বাবা'টা বন্যা থেকে বাঁচতে চেয়েছিল অথচ এখন মেয়ে হারানোর শোকে জমে পাথর হয়ে আছে।
দুধের বাচ্চারা প্রচন্ড ভয়ে, ক্ষুধায় কাঁদতেছে। মা দুধ খাওয়াবে কিভাবে? ৩ টা দিন ধরে মায়ের পেটেই তো খাবার নাই।
খাবার না পেয়ে এই বাচ্চাগুলো আরও বেশি কাঁদতেছে। ওদেরকে কোনমতে পাতিলে করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একটু এদিক সেদিক হলেই বাচ্চাগুলোও ডুবে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে।
গবাদিপশুগুলো ভেসে যাচ্ছে। মানুষ কথা বলতে পারে কিন্তু ওরা পারে না। তাই ওরাও যে বন্যা থেকে বাঁচতে চায় সেটা আর বলতে পারছে না। তাই শয়ে শয়ে গবাদিপশু পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
পানির স্রোত এতটাই বেশি যে দেয়াল করা পাকা কবর পর্যন্ত ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
একটা লোক পানিতে ভেসে ভেসেই বলছিল- আমাকে বাঁচান, একটু খেতে দেন। ৩ টা দিন ধরে খাই নাই।
লোকটার অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে পানিতে ডুবে মরার আগে প্রচন্ড ক্ষুধাতেই হয়তো মারা যাবে।
এত এত মানুষ মারা যাচ্ছে , ডুবে যাচ্ছে অথচ মিডিয়ার কোন আওয়াজ নাই, সরকারের কোন পদক্ষেপ নাই। যথাযথ ত্রাণ পর্যন্ত পাচ্ছে না কেউ।
৯১ এর ঘূর্ণিঝড়ে শুধুমাত্র বাঁশখালীতেই ৪০ হাজারের উপর মানুষ মারা গিয়েছিল। আগে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করলে এবারেও হয়তো শতশত মানুষ মারা যাবে, বন্যার গহীন পানিতে তলিয়ে যাবে।
আমরা শুকনাতে আছি বলে হয়তো টের পাচ্ছি না, বেশ আনন্দেই আছি। বৃষ্টির দিনটাকে উপভোগ করতে করতে খিচুড়ি খাচ্ছি।
অথচ এই মানুষগুলো ৩ টা দিন ধরে খায় নাই।
আগে থেকে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও বেশি ঘোলাটে হবে। মানুষ মরবে, বাচ্চা মরবে, পশু মরবে। তখন কিন্তু শতশত লা*শ কাঁধে নেয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না
Ibrahim Khalil Shawon