20/06/2026
মিরসরাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ'তের ১৩ দফা দাবির সাথে নুরুল আমিন এমপি'র একাত্মতা ঘোষণা
মিরসরাইয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’য়াত উপজেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে “ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন-২০২৬”। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নুরুল আমিন এমপি। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে তার কাছে ১৩ দফা দাবি পেশ করা হয়। ১৩ দফা দাবির সাথে নুরুল আমিন এমপি একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।
মিরসরাই লতিফিয়া কামিল মাদ্রাসা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’য়াতের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ্ব আল্লামা শাহ মুহাম্মদ ছালাহ উদ্দিন লতিফী।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কামরুল হাসান পারভেজ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল আমিন এমপি বলেন, এই উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারে পীর-আউলিয়াদের অবদান অপরিসীম। তাদের অনুসৃত পথ ধরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’য়াতের নেতাকর্মী ও ওলামায়ে কেরাম দীর্ঘদিন ধরে ত্যাগ ও কোরবানি দিয়ে আসছেন। ইসলামে চারটি মাজহাব রয়েছে, আমরা কোনো মাজহাবকে অস্বীকার করি না। একইভাবে ইসলামী দল ও সংগঠনগুলোর মধ্যেও পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার না করে মানুষকে ইসলামের সৌন্দর্য ও আদর্শের দিকে আহ্বান জানাতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’য়াত ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে আমাকে নির্বাচিত করেছে। এজন্য আমি ওলামা-মাশায়েখদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও মাজার, খানকা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে নির্বিঘ্নে তাদের দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
ওলামা মাশায়েখ সম্মেলনের ১৩ দফা দাবীসমূহ-
১) রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী যেকোনো গুজব বা উস্কানিদাতাদের দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে মোকাবিলা করতে হবে।
২) উপজেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে স্থানীয় আলেম প্রতিনিধি রাখতে হবে এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে সুন্নি ওলামাদের মতামত যেন প্রশাসন সরাসরি পায় সে ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৩) মসজিদ, মাজার-খানকা সংলগ্ন জায়গা দখল-উচ্ছেদ বন্ধ করা এবং ওয়াকফকৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করা।
৪) মসজিদ, মাদরাসা, মাজার, খানাকাহ দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা রক্ষা। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে কোনো দলের রাজনৈতিক কার্যালয় বা অফিস হিসেবে ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা।
৫) মসজিদের খতিব, ইমাম, শিক্ষক লাঞ্চিতকারিদের বিচার নিশ্চিত করা এবং পদচ্যুতদের স্বপদ পিরিয়ে দেওয়া।
৫) ধর্মীয় অনুষ্ঠান ওয়াজ-মাহফিল, ওরস, তরিকত চর্চা, ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ মাহফিলসহ সকল ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠান এর শান্তিপূর্ণ আয়োজনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। স্থানীয় ওয়াজ-মাহফিলের অনুমতি প্রক্রিয়া সহজ ও হয়রানিমুক্ত করা।
৬) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ইউনিয়নভিত্তিক শান্তি/ নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা এবং ওলামা-মাশায়েখ জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সকল মতের মানুষ কমিটিতে থাকবে।
৭) মসজিদ, খানকা ও মাজার বা দরবার শরীফ হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করা।
৮) ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা ও সম্মানজনক ভাতা চালু করা এবং তাঁদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করার ব্যাপারে সরকারকে সচেতন রাখা।
৯) মাদক, জুয়া ও বখাটেপনা বা কিশোরগ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন ও ওলামা-মাশায়েখদের যৌথ উদ্যোগ নেওয়া।
১০) প্রাকৃতিক দুর্যোগে মসজিদ-মাদ্রাসা-খানকাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি, প্রস্তুত নিশ্চিত করা। মিরসরাই উপকূলীয় এলাকা, তাই এটা জরুরি।
১১) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সব ধর্মের মানুষের সাথে ওলামাদের সংলাপের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।
১২) ওলামা-মাশায়েখদের উপর মিথ্যা মামলা, হয়রানি, গ্রেপ্তার বন্ধ করা। কেউ অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী বিচার হবে, কিন্তু গণহারে হয়রানি নয়।
১৩) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, হাক্কানী আলেমসহ ধর্মীয় নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে এসব দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য তার কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণ হাট ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ফারুক হোসাইন, চন্দ্র ঘোনা তৈয়্যবিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জাফরুল আলম নেজামী, খাজা কালু শাহ সুন্নিয়া মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা মহিউদ্দিন নেছারী। মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর, চট্টগ্রাম উত্তরজেলা বিএনপির সদস্য লায়ন আবু তাহের, মিরসরাই প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক নুরুল আলম, মিরসরাই পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব জাহিদ হোসাইন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহ মুহাম্মদ ফোরকান, পৌরসভা যুবদলের আহবায়ক কামরুল হোসেন।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, মির্জা মহসিন, মাওলানা আতিকুল ইসলাম, সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, মাওলানা আলাউদ্দিন, মাওলানা জিয়াউল হালিম, মুর্শেদ, মাওলানা মুহাম্মদ আলী, মাওলানা পারভেজ হোসাইন, ইকবাল হোসাইন, ফজলুল হক দিদার, মোঃ নুরুল আফসার, মাও. আবদুল মান্নান, মাওলানা ফারুক মিয়া, জহুরুল ইসলাম,মাওলানা আবদুর রহমান, শেখ জাহেদ, নুরুন্নবী, মীরাজ, আবদুর রহিমসহ উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওলামা-মাশায়েখগণ।
শেষে নুরুল আমিন এমপি বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ইসলাম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও আলেম-ওলামাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মিরসরাইয়ে সকল ইসলামী সংগঠন যেন নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সরকার তা নিশ্চিত করবে। তবে যারা জান্নাতের বিনিময়ে ভোট কিনতে চায়, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
সম্মেলন শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।