Jahid Robin

Jahid Robin “I'm passionate about business growth” SEO Expert | Facebook & Google Ads Expert |

কেন আমার ব্যবসা Grow করছে না?কয়েক সপ্তাহ আগে একজন উদ্যোক্তার সঙ্গে আমার দীর্ঘ সময় ধরে কথা হয়েছিল। কথার শুরুতেই তিনি এ...
21/07/2026

কেন আমার ব্যবসা Grow করছে না?

কয়েক সপ্তাহ আগে একজন উদ্যোক্তার সঙ্গে আমার দীর্ঘ সময় ধরে কথা হয়েছিল। কথার শুরুতেই তিনি একটা প্রশ্ন করেছিলেন, যেটা সম্ভবত হাজারো উদ্যোক্তার মনের প্রশ্ন। তিনি বললেন, "ভাই, আমি সত্যিই বুঝতে পারছি না। নিয়মিত Facebook Ads চালাচ্ছি, নতুন নতুন Content বানাচ্ছি, মাসে ভালো একটা Marketing Budget খরচ করছি, তবুও ব্যবসাটা যেন আর সামনে এগোচ্ছে না।"

আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, "আপনি কি নিশ্চিত আপনার ব্যবসার সমস্যা Marketing?" তিনি এক মুহূর্তও না ভেবে বললেন, "অবশ্যই।

যদি Marketing আরও ভালো হতো, তাহলে Sales অনেক বেশি হতো।" তার উত্তর শুনে আমি আর Ads নিয়ে কোনো কথা বললাম না। কারণ আমার অভিজ্ঞতা বলছে, বেশিরভাগ সময় উদ্যোক্তারা যে সমস্যাটাকে আসল সমস্যা মনে করেন, সেটাই আসলে মূল সমস্যা হয় না।

আমি তাকে শুধু কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন করলাম। একজন নতুন Customer আনতে আপনার মোট খরচ কত? গত তিন মাসে কোন Marketing Channel সবচেয়ে বেশি Profit এনে দিয়েছে? Website-এ ১০০ জন Visitor এলে কতজন Purchase করে? যারা একবার কিনেছে, তাদের মধ্যে কতজন দ্বিতীয়বার ফিরে আসে? আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনি কোনো প্রশ্নেরই পরিষ্কার উত্তর দিতে পারলেন না।

তখন আমি তাকে বললাম, "আপনার ব্যবসার সমস্যা Marketing নয়। আপনার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, আপনি এখনও জানেন না আপনার ব্যবসা কোথায় আটকে আছে।" আমরা অনেক সময় Sales কমলেই Ads-এর Budget বাড়িয়ে দিই, Reach কমলেই আরও বেশি Content বানাই, Order কমলেই নতুন Offer দিই। কিন্তু খুব কম মানুষ থেমে আসল কারণটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করে।

আমার কাছে Business Growth অনেকটা একজন ডাক্তারের চিকিৎসার মতো। একজন ভালো ডাক্তার কখনও রোগীকে দেখেই ওষুধ লিখে দেন না। তিনি আগে পরীক্ষা করেন, রিপোর্ট দেখেন, সমস্যার মূল কারণ বের করেন, তারপর চিকিৎসা শুরু করেন। ব্যবসার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। যদি আপনার Website মানুষকে Customer-এ রূপান্তর করতে না পারে, তাহলে Ads বাড়িয়ে কোনো লাভ নেই।

যদি আপনার Offer-এ মানুষ আকৃষ্ট না হয়, তাহলে নতুন Creative বানিয়ে লাভ নেই। যদি একজন Customer থেকে পর্যাপ্ত Profit না থাকে, তাহলে Sales বাড়লেও ব্যবসা শক্তিশালী হবে না। আর যদি পুরনো Customer আবার ফিরে না আসে, তাহলে প্রতিমাসে নতুন Customer কিনতেই আপনার Marketing Budget শেষ হয়ে যাবে।

আমি যখন কোনো ব্যবসা নিয়ে কাজ শুরু করি, তখন Facebook Ads Manager আমার প্রথম গন্তব্য হয় না। আমি প্রথমে দেখতে চাই ব্যবসায় মানুষ কীভাবে আসছে, কেন কিনছে, কেন কিনছে না, প্রতিটি বিক্রিতে কত লাভ থাকছে এবং একজন Customer আবার ফিরে আসছে কি না।

কারণ আমি জানি, এই পাঁচটি জায়গার যেকোনো একটি দুর্বল হলে পুরো Business Growth ধীর হয়ে যাবে। তখন অনেকেই ভাবেন Ads কাজ করছে না, অথচ বাস্তবে Ads শুধু সেই সমস্যাটাকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরছে। Marketing খুব কম ক্ষেত্রেই ব্যবসার মূল সমস্যা হয়; Marketing শুধু ব্যবসার ভেতরে থাকা সমস্যাগুলোকে বড় করে দেখায়।

তাই যদি আপনারও মনে হয় অনেক পরিশ্রম করার পরও ব্যবসাটা আগের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে, তাহলে নতুন Campaign Launch করার আগে বা Marketing Budget বাড়ানোর আগে নিজেকে একটা প্রশ্ন করুন—আমি কি সত্যিই জানি আমার ব্যবসার আসল Bottleneck কোথায়?

কারণ ভুল সমস্যার সমাধান করতে করতে বছরের পর বছর কেটে যেতে পারে, কিন্তু সঠিক সমস্যাটা একবার খুঁজে বের করতে পারলে ব্যবসার পুরো দিকটাই বদলে যেতে পারে। যদি আপনার ব্যবসায়ও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে কমেন্টে **AUDIT** লিখুন। আমি আপনাকে বলব, আপনার ব্যবসার প্রথম কোন জায়গাটা পরীক্ষা করা উচিত।

সমুদ্রের পাশে বসে থাকলে একটা জিনিস খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায়...ঢেউগুলো কখনো তাড়াহুড়া করে না।একটার পর একটা আসে। চুপচাপ তীরে...
03/06/2026

সমুদ্রের পাশে বসে থাকলে একটা জিনিস খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায়...

ঢেউগুলো কখনো তাড়াহুড়া করে না।
একটার পর একটা আসে। চুপচাপ তীরে আঘাত করে। আবার ফিরে যায়।

দেখতে হয়তো মনে হয় কিছুই বদলাচ্ছে না।
কিন্তু মাসের পর মাস, বছরের পর বছর... এই ধীর, নীরব ঢেউই শক্ত পাথরের আকৃতি বদলে দেয়।

Marketing-ও ঠিক এমনই।

অনেকেই ভাবেন, একটা বিজ্ঞাপন দিলেই বিক্রি শুরু হবে। কয়েকটা পোস্ট করলেই মানুষ ব্র্যান্ড চিনে ফেলবে। এক মাস কাজ করলেই হাজার হাজার ফলোয়ার চলে আসবে।

কিন্তু বাস্তবতা একটু অন্যরকম।

মানুষ প্রথম দিন আপনাকে দেখে। দ্বিতীয় দিন হয়তো স্ক্রল করে চলে যায়। তৃতীয় দিন আপনার একটা ভিডিও দেখে। চতুর্থ দিন একটা পোস্টে লাইক দেয়।

আর তারপর...

একদিন সে বুঝতে শুরু করে, আপনি শুধু কিছু বিক্রি করতে আসেননি। আপনি সমস্যার সমাধান দিতে এসেছেন। আপনি কথা রাখেন। আপনার কথার মধ্যে সত্যতা আছে।

সেখান থেকেই জন্ম নেয় বিশ্বাস।

আর বিশ্বাসই এমন একটা জিনিস, যেটা টাকা দিয়ে কেনা যায় না, কিন্তু ধারাবাহিকতা দিয়ে অর্জন করা যায়।

প্রতিদিনের ভালো Content, মানুষের জন্য সত্যিকারের Value, সৎ Communication, আর নিজের কাজের প্রতি বিশ্বাস...

এই ছোট ছোট জিনিসগুলোই একদিন বড় স্বপ্নের ভিত্তি তৈরি করে।হয়তো আজ আপনার পোস্টে ১০টা লাইক। হয়তো আজ কেউ মেসেজ করছে না।

তবুও থেমে যাবেন না।

কারণ সমুদ্র যেমন একদিনে পাথর বদলায় না, তেমনি Marketing-ও একদিনে Brand তৈরি করে না।
ধৈর্য রাখুন। কাজ করে যান। মানুষকে সাহায্য করতে থাকুন।

একদিন দেখবেন, যে মানুষগুলো একসময় আপনাকে চিনত না, তারাই আপনাকে খুঁজে নিচ্ছে।

কারণ Marketing কোনো দৌড় না, যেখানে আগে পৌঁছানোই সবকিছু।

Marketing হলো একটা দীর্ঘ যাত্রা, যেখানে জিতে যায় সেই মানুষটা, যে শেষ পর্যন্ত নিজের স্বপ্ন, নিজের কাজ আর নিজের দর্শকদের প্রতি বিশ্বাস ধরে রাখতে পারে।

Marketing Sprint না। Marketing হলো Marathon

24/12/2025

একই শাড়ি অন্য দোকানে কম দামে – এখন কী করবেন?

আপনি কনফিডেন্স নিয়ে পোস্ট দিলেন। সুন্দর ছবি। ক্যাপশনে যত্ন। ইনবক্সে মেসেজ এলো, আপু এই শাড়িটা খুব পছন্দ হয়েছে। আপনি দাম বললেন। দুই মিনিট পর রিপ্লাই এলো, অমুক পেজে এইটাই ৫০০ টাকা কম।

এই জায়গায় বুকের ভেতরটা হালকা খালি হয়ে যায়। মনে হয়, আমি কি বেশি নিচ্ছি? নাকি কাস্টমারটাই বুঝতে চায় না?

এখানে সত্যিটা বলি। সমস্যা দাম না। সমস্যা আপনি কীভাবে নিজের দামটা জাস্টিফাই করছেন।

বাংলাদেশে অনলাইন শপিং করা ৭০ শতাংশ মানুষ প্রথমে দাম দেখে, কিন্তু ফাইনাল ডিসিশন নেয় বিশ্বাস বা গ্রহণযোগ্যতা দেখে। Facebook নিজেই বলেছে, মানুষ যেখান থেকে ক্রয় করে সেখানে তারা আগে গল্প, রিভিউ আর রেসপন্স দেখেছে। তাই একই শাড়ি হলেও সবাই একই জায়গা থেকে কেনে না।

একটু কল্পনা করুন। আপনি দুইটা দোকানে ঢুকলেন। একটাতে শুধু শাড়ি ঝুলানো। অন্যটাতে দোকানদার বলছে, এই শাড়িটা বিয়ের পরে প্রথম ঈদে অনেকেই নেয়। কালারটা আলোতে আলাদা লাগে। ধোয়ার পরেও নরম থাকে। দাম কি তখন একই মনে হয়?

এখন কাস্টমার বলে, অমুকে তো কমে দিচ্ছে। আপনি যদি বলেন, আচ্ছা আপনি ওখান থেকেই নেন। এখানেই গেম ওভার। কিন্তু যদি বলেন, আপনি চাইলে ওখান থেকে নিতে পারেন। তবে আমি যেটা দিচ্ছি সেটা আপনি পরে বুঝবেন। তখন মাথার ভেতরে ক্লিক হয়।

Harvard এর একটা স্টাডিতে দেখা গেছে, মানুষ একই জিনিসের জন্য ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ বেশি দাম দিতে রাজি থাকে যদি সে মনে করে সার্ভিস আর অভিজ্ঞতা আলাদা। Zara এই জন্যই Zara। দাম কম না, কিন্তু মানুষ কিনে।

আপনার কাজ শাড়ি বিক্রি না। আপনার কাজ ফিলিংস বিক্রি করা। কাস্টমার যেন মনে করে, এই পেজ থেকে নিলে ঝামেলা হবে না। রিপ্লাই পাবে। ভুল হলে সলিউশন পাবে। রঙ উঠলে দায় নেবে।

কিন্তু সমস্যা হলো, আপনার কনটেন্ট যদি শুধু প্রোডাক্ট দেখায়, কাস্টমার আপনাকে প্রোডাক্টের সাথে তুলনা করবে। তখন যে কম দামে দেবে, সে জিতবে। আপনি হারবেন।

এখানেই বেশিরভাগ শাড়ির পেজ আটকে যায়। ভালো জিনিস আছে। কিন্তু গল্প নেই। পজিশনিং নেই। বিশ্বাস তৈরি হয়নি।

দেশি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে Aarong এটা খুব ভালো বোঝে। তারা শুধু শাড়ি দেখায় না। তারা কারিগরের গল্প দেখায়। সময় দেখায়। ভ্যালু দেখায়। তাই একই কাপড় হলেও মানুষ তুলনা করে না।

এখন আসল প্রশ্ন। আপনি কি সারাজীবন দাম কমিয়ে টিকে থাকতে চান? নাকি এমন একটা ব্র্যান্ড বানাতে চান, যেখানে দাম প্রশ্ন না,

সিদ্ধান্ত?

এই জায়গাতেই Flicktive কাজ করে। আমরা শাড়ির ছবি সুন্দর করি না শুধু। আমরা আপনার ব্র্যান্ডের গল্প, কনটেন্ট আর পজিশনিং এমনভাবে সেট করি, যাতে কাস্টমার অন্য দোকানের দামের কথা বলার আগেই আপনার ভ্যালু বুঝে যায়।

এই সার্ভিস না নিলে কী হবে জানেন? আজ সে বলবে অন্য দোকানে কম। কাল আর মেসেজই দেবে না। তখন আপনি ভাববেন, মার্কেট খারাপ।

মার্কেট খারাপ না। আপনি শুধু আলাদা করে বলতে পারছেন না।

আপনি চাইলে আজ থেকেই এই গল্পটা বদলানো যায়। Flicktive এর ব্র্যান্ডিং আর কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজি নিয়ে কাজ করলে, একই শাড়িও আর কখনো একই মনে হবে না।

Send a message to learn more

03/11/2025

আপনি হয়তো ভাবছেন, “Ad ঠিক আছে, Reach আসছে, Comment চলছে, Inbox-ও ভরছে... তাহলে বিক্রি হচ্ছে না কেন?” এখানে ব্যাপারটা একটু জটিল, কিন্তু বুঝতে পারলে সহজ। এটাকে বলে cheap engagement, weak intent। মানে মানুষ আগ্রহ দেখাচ্ছে, কিন্তু কেনার ইচ্ছা নেই। এখন গল্পটা খুলে বলি।

ধরুন আপনি একটা বিজ্ঞাপন দিলেন। Visual চমৎকার, Copy-তে লেখা “Premium Quality at Lowest Price!” মানুষ দেখল, আগ্রহী হলো, ইনবক্স করল। কিন্তু দাম শুনে বলল “ও আচ্ছা... পরে জানাব।” এই জায়গাতেই conversion ভেঙে যায়। কারণ Ad টা যা প্রমিস করছে, প্রোডাক্ট বা দাম সেটা রাখতে পারছে না। অডিয়েন্সের চোখে এটা হয়ে যায় ‘too good to be true’।

অন্য দিকেও সমস্যা থাকে। অনেক সময় টার্গেটিং ভুল। আপনি এমন মানুষদের দেখাচ্ছেন যাদের ইন্টারেস্ট আছে, কিন্তু ইন্টেন্ট নেই। তারা কিনতে আসেনি, শুধু দেখতে এসেছে। Facebook এর ডেটা অনুযায়ী, এমন অডিয়েন্সে ad চালালে click বেশি হয়, কিন্তু conversion রেট গড়ে ৬০% কমে যায়। তাই audience select করার সময় শুধু interest না, purchase behavior ও দেখতে হয়। যারা recent buyer বা engaged shopper, তারা কম আসে কিন্তু বেশি কনভার্ট করে।

আরেকটা জায়গায় মানুষ হারে দাম নিয়ে। অনেক ব্র্যান্ড messenger এ দাম বলেই চুপ করে যায়। কিন্তু মানুষ দাম শুনে ভাবে, “এত টাকায় কেন কিনব?” আপনি যদি তাকে বুঝিয়ে বলতে না পারেন value কোথায়, সে চলে যায়। দাম জানানো মানেই বিক্রি না। বিক্রি হয় যখন আপনি তাকে বোঝান এই প্রোডাক্ট তার জন্য কীভাবে কাজ করবে। ধরুন, আপনি বললেন “এই টি-শার্টটা নিচ্ছে যারা গরমে ঘাম সমস্যা নিয়ে ভুগছে, আর পাচ্ছে মাত্র ৪৯০ টাকায়।” এখন সেটা দাম না, একটা solution।

আরেকটা বড় ভুল হয় CTA তে। আপনি লিখলেন “ইনবক্স করুন” – মানুষ ইনবক্স করে, কিন্তু এরপর? কোনো গাইডলাইন নেই, কোনো interaction নেই। তখন conversation হ্যাং হয়ে যায়। CTA হওয়া উচিত যেন curiosity জাগে, personalization তৈরি হয়। যেমন “ইনবক্স করুন – আমি দেখে বলব কোন কালারটা আপনার জন্য পারফেক্ট।” এটা ছোট একটা লাইন, কিন্তু এখানে কেয়ার, attention, personalization—তিনটাই আছে।

সবশেষে আসে trust issue। এটা সবচেয়ে সাইলেন্ট কিলার। আপনি নতুন ব্র্যান্ড, দাম একটু বেশি, ওয়েবসাইট নাই, রিভিউ নাই—মানুষ তখন আপনাকে সন্দেহের চোখে দেখে। তাই ad বা ইনবক্সে social proof দেখান। কাস্টমারের ফটো, রিভিউ, before-after, যেকোনো রিয়েল কনটেন্ট ট্রাস্ট বাড়ায়। আপনি যদি বলেন “আমাদের ৫০০+ গ্রাহক ইতিমধ্যে ইউজ করছে,” মানুষ ভাবে, “ওরা পারলে আমিও পারব।”

এক কথায়, আপনি reach ঠিক করেছেন, এখন দরকার relevance আর relationship। মানুষ দাম দিয়ে কেনে না, তারা কিনে বিশ্বাস দিয়ে। আপনি যতক্ষণ না অডিয়েন্সকে বোঝাচ্ছেন আপনি তাকে বুঝেন, ততক্ষণ দাম শুনে তারা হারিয়ে যাবে।

তাই এখন প্রশ্নটা হলো, আপনি কি শুধু লিড চান, নাকি কাস্টমার?

02/11/2025

আপনি Facebook স্ক্রল করছেন। হঠাৎ সামনে আসে একটা পোস্ট। সুন্দর মডেল, নিখুঁত আলো, ক্যাপশন লেখা “New Arrival Just Dropped! Order Now.” আপনি হয়তো একটু থামেন, তারপর স্ক্রল করেন। কারণ একই জিনিস আপনি আগের তিনটা ব্র্যান্ডের কাছেও দেখেছেন। একই টোন, একই ভিজ্যুয়াল, এমনকি একই রকম হ্যাশট্যাগ। তখন মনে হয়, “সবাই একই কথা বলছে, শুধু নামটা আলাদা।”

এটাই এখন বাংলাদেশের ক্লথিং ব্র্যান্ড মার্কেটের সবচেয়ে বড় সমস্যা। কনটেন্টের রঙ বদলায়, কিন্তু গল্প বদলায় না। আর অডিয়েন্স এখন ভিজ্যুয়াল না, ভাইব খোঁজে। তারা চায় এমন কনটেন্ট যা তাকে একটু হাসায়, একটু টানে, একটু ভাবায়।

একটা সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়া ইউজাররা দিনে গড়ে ৫,০০০ এরও বেশি ব্র্যান্ড কনটেন্ট দেখে। এর মধ্যে ৮০% কনটেন্ট স্ক্রল না করেই চলে যায়, কারণ সেটা তাদের কাছে নতুন কিছু বলে না। McKinsey-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, এখন ক্রেতারা পণ্যের থেকে বেশি মূল্য দেয় “কীভাবে ব্র্যান্ড তাদের সঙ্গে কথা বলে” তাতে।

ক্লথিং ব্র্যান্ডগুলোর বড় ভুল এখানেই। তারা ভাবে ভালো প্রোডাক্ট ইমেজই সব। অথচ বাস্তবে কনটেন্ট এখন স্টাইল না, স্টোরির খেলা। একজন মানুষ যদি একটা টি-শার্ট দেখেই বুঝতে পারে “এই ব্র্যান্ডটা আমার মতো লোকের জন্য,” তখনই সে মনোযোগ দেয়। কিন্তু যদি দেখে, “সবাই কেবল ডিসকাউন্ট, অফার, আর নিউ কালেকশন বলছে,” তাহলে তার মনে হয়, “এই তো আগেও দেখেছি।”

Zara বা H&M কেবল কাপড় বিক্রি করে না, তারা lifestyle বিক্রি করে। Nike কেবল জুতা না, মানসিকতা বিক্রি করে। তাদের প্রতিটি ক্যাম্পেইন এমনভাবে লেখা যেন আপনি তাদের গল্পের অংশ। এই জন্যই একটা লাইন, একটা ভিডিও, একটা ভিজ্যুয়ালেই তারা মানুষকে থামিয়ে দেয়।

বাংলাদেশে যদি লক্ষ্য করেন, কিছু ব্র্যান্ড এখন একটু আলাদা করছে। কেউ মিম দিয়ে ফ্যাশনের গল্প বলছে, কেউ গ্রাহকের অনুভব নিয়ে রিল বানাচ্ছে, কেউ বা behind the scene দেখাচ্ছে। এই ব্র্যান্ডগুলোই এখন audience-এর মনের জায়গা নিচ্ছে। কারণ ওরা বুঝেছে, আজকের গ্রাহক আর কনটেন্ট খুঁজে না, কানেকশন খোঁজে।

মজার বিষয় হলো, এই একই ক্লথিং ব্র্যান্ডগুলো যদি storytelling শিখে ফেলে, তাহলে সাধারণ “New Collection” পোস্টও ভাইরাল হতে পারে। ধরুন, একটা ব্র্যান্ড লিখল, “এই শার্টটা বানাতে আমরা তিনজন স্থানীয় কারিগরের হাসি ধরে রেখেছি।” ছোট একটা লাইন, কিন্তু এর পেছনে আছে অনুভব, বাস্তবতা, মানবিকতা। এমন কনটেন্ট কেউ স্ক্রল করে যেতে পারে না।

Seth Godin বলেছিলেন, “People do not buy goods and services. They buy relations, stories, and magic.” এখন প্রশ্ন হলো, আপনি কি এখনও শুধু পণ্যের ছবি পোস্ট করছেন, নাকি আপনার ব্র্যান্ডের গল্প বলছেন?

আপনি যদি চান আপনার ক্লথিং ব্র্যান্ড এমন হোক যা মানুষ কেবল দেখে না, মনে রাখে, তাহলে কনটেন্ট দিয়ে শুরু করুন। এমনভাবে লিখুন যাতে কেউ পড়ে ভাবে, “এই ব্র্যান্ডটা আমার মতো।”

আপনি যদি চান আপনার ব্র্যান্ডও সেই ১০ শতাংশের মধ্যে থাকুক যাদের কনটেন্ট আলাদা মনে হয়, তাহলে এখনই সময় ভাবার।

01/11/2025

খোদা যেন দেখে তোমায়,
রাখে তোমারে।।

হয় যেন সব ইচ্ছা পূরণ,
তোমার অন্তরে...।

01/11/2025

আপনি কখনো খেয়াল করেছেন, কোনো একটা প্রোডাক্ট একবার সার্চ করার পর Facebook, Instagram এমনকি YouTube পর্যন্ত আপনাকে সেই পণ্যের মতো আরও অফার দেখাতে শুরু করে? তখন মনে হয়, তারা যেন জানে আপনি কী খুঁজছেন। আসলে সেটাই হচ্ছে Hyper-Personalization।

Hyper-Personalization মানে শুধু নাম ধরে ইমেল পাঠানো না। এটা অনেক গভীর একটা বিষয়। এটা হলো আপনার কাস্টমারের প্রতিটা আচরণ, আগ্রহ, সময় আর আবেগ বুঝে তার মতো কনটেন্ট দেখানো। মানে, আপনি সকাল ৮টায় নিউজ পড়েন, দুপুরে ফুড ভিডিও দেখেন, রাতে স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট Search দেন, তাহলে সেই প্যাটার্ন অনুযায়ী ব্র্যান্ড আপনার সামনে সেই প্রোডাক্ট হাজির করবে যেটা আপনি তখনই দেখতে চাইছেন।

Accenture-এর এক রিপোর্ট বলছে, ৯১ শতাংশ কনজিউমার এমন ব্র্যান্ডকে পছন্দ করে যারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী রিকমেন্ডেশন দেয়। আর McKinsey বলেছে, যারা Hyper-Personalization ব্যবহার করে, তাদের কনভারশন রেট ৪০% পর্যন্ত বেড়ে যায়। এখন চিন্তা করুন, শুধু একটু স্মার্ট ডেটা আর গল্প মিশিয়ে দিলে বিক্রি নিজের মতো বেড়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশে এখনো বেশিরভাগ ব্র্যান্ড ভাবে, সবাইকে একই বিজ্ঞাপন দেখানোই মার্কেটিং। কিন্তু বাস্তবে মানুষ এখন চায় নিজের মতো করে ব্র্যান্ড তাকে দেখুক। আপনি যদি কাউকে ২০ বার একই “ডিসকাউন্ট চলছে” পোস্ট দেখান, সে বিরক্ত হবে। কিন্তু যদি একদিন আপনি এমন একটা ভিডিও দেখান যেখানে বলা হচ্ছে “আপনি গতবার স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট দেখেছিলেন, এবার আপনার জন্য নতুন সিরাম এনেছি”, তখন সে অবাক হবে।

Netflix, Spotify, Amazon, Starbucks সহ প্রায় সবাই এই Hyper-Personalization এর জাদু ব্যবহার করছে। Netflix জানে আপনি কোন রাতে কোন ধরণের কনটেন্ট দেখেন, সেই অনুযায়ী থাম্বনেইল পর্যন্ত বদলে দেয়। Starbucks তাদের লয়াল কাস্টমারদের প্রতিদিন আলাদা অফার দেয় তাদের আগের কেনাকাটার ডেটা অনুযায়ী। আপনি যত বেশি ব্যবহার করেন, তারা তত ভালোভাবে আপনাকে বোঝে।

Bangladesh মার্কেটে এর বিশাল সম্ভাবনা আছে। ধরুন, আপনি একটা অনলাইন পোশাক ব্র্যান্ড চালান। আপনি যদি প্রতিটা কাস্টমারের জন্য আলাদা ল্যান্ডিং পেজ বানাতে পারেন যেখানে তার পছন্দের রঙ, ডিজাইন আর সাইজের প্রোডাক্ট আগে আসে, তাহলে সেই কাস্টমার ৩ গুণ বেশি সম্ভাবনা রাখে কেনার। এটা শুধু কনটেন্ট না, এটা একধরনের কাস্টমার রেসপেক্ট।

Forrester বলেছে, ৭৭% কনজিউমার বেশি টাকা দিতে রাজি, যদি তাদের ব্র্যান্ডের সাথে এক্সপেরিয়েন্স পার্সোনাল লাগে। মানুষ প্রোডাক্ট না, সেই অনুভবটাই কিনে যেটা বলে, “এই ব্র্যান্ড আমাকে জানে, বোঝে।”

Gary Vaynerchuk একবার বলেছিলেন, “If content is king, then context is God.” মানে আপনি যদি সঠিক কনটেন্ট সঠিক মানুষের সামনে সঠিক সময়ে দিতে পারেন, তবেই সেটা Hyper-Personalization।

এখন প্রশ্ন হলো, কিভাবে এটা শুরু করবেন? প্রথমে আপনার অডিয়েন্সকে বুঝুন। তারা কখন অনলাইনে থাকে, কী সার্চ করে, কীতে রিয়্যাক্ট করে। তারপর ডেটা দিয়ে গল্প তৈরি করুন। প্রতিটা পোস্টে যেন মনে হয়, এই কথাটা শুধু তার জন্যই লেখা হয়েছে। এটা করলে আপনি শুধু এনগেজমেন্ট না, ব্র্যান্ড লয়ালটি পাবেন।

আজকের মার্কেটে কেউ সবার ব্র্যান্ড হতে পারে না। এখন সময় এসেছে, আপনার ব্র্যান্ড যেন হয়ে ওঠে “তার” ব্র্যান্ড। যে ব্র্যান্ডকে সে নিজের মতো অনুভব করে।

আপন যদি চান, তাহলে নেক্সট পোস্টে আমি ব্র্যান্ডের জন্য এমন Hyper-Personalized কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা নিয়ে লিখব, যেখানে মানুষ শুধু কনটেন্ট দেখে না, feels করে? তাহলে কমেন্টে Interested লিখুন।

28/10/2025

আপনি নিশ্চয়ই এমন পোস্ট দেখেছেন যেখানে লেখা থাকে “আজই কিনুন”, “লাস্ট অফার”, “মাত্র আজকের জন্য”। কিছু সময় কাজ করে, কিন্তু বেশিরভাগ সময় স্ক্রল করে চলে যায়। কারণ মানুষ এখন বিক্রি হতে চায় না, তারা অনুভব করতে চায়। আর এখানেই Storytelling জিতে যায়।

HubSpot-এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মানুষ কোনো পণ্য বা ব্র্যান্ডের তথ্যের চেয়ে তার গল্প ২২ গুণ বেশি মনে রাখে। মানে আপনি যতই বলেন আপনার প্রোডাক্ট ভালো, দাম কম, কোয়ালিটি দারুণ, মানুষ ততই দূরে সরে যায়। কিন্তু আপনি যদি বলেন, “আমরা এই ব্র্যান্ডটা শুরু করেছিলাম কারণ একদিন নিজেই এমন পণ্যের খোঁজে ব্যর্থ হয়েছিলাম”, তখন মানুষ শোনে, থামে, ভাবে।

ধরুন আপনি একটা স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড চালাচ্ছেন। আপনি যদি বলেন “আমাদের ক্রিম ১০ দিনে ফর্সা করে”, সেটা Hard Sell। কিন্তু আপনি যদি বলেন “আমার নিজের মুখে দাগ ছিল, আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলাম, তারপর আমি এমন একটা ফর্মুলা খুঁজলাম যেটা কাজ করল”, সেটা গল্প। আর মানুষ গল্পের সাথেই কানেক্ট করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ৭৮ শতাংশ কনজিউমার সেই ব্র্যান্ড থেকে কেনে যাদের গল্পে তারা নিজেদের খুঁজে পায়। বাংলাদেশেও এখন এই ট্রেন্ড খুব পরিষ্কার। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন, যত ব্র্যান্ড গল্প বলে, তত তারা টিকে যায়। আর যারা প্রতিদিন “অফার শেষ আজ” লিখে চেঁচায়, তাদের পোস্টে লাইক বাড়ে, কিন্তু কাস্টমার আসে না।

Neil Patel বলেছিলেন, “People don’t buy products, they buy emotions attached to those products.” মানে আপনার কনটেন্ট যত বেশি আবেগ ছোঁবে, বিক্রি তত সহজ হবে। Facebook এখন এমন জায়গা যেখানে প্রতিদিন লক্ষ কনটেন্ট পোস্ট হয়, কিন্তু থেমে পড়ে সেই কনটেন্ট যেটা মানুষকে কিছু অনুভব করায়।

Hard Sell কনটেন্ট কাজ করে দ্রুত বিক্রির জন্য, কিন্তু Storytelling কাজ করে দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বাসের জন্য। আপনি আজ কাউকে অফার দিয়ে কিনিয়ে ফেললেন, কিন্তু বিশ্বাস তৈরি না হলে সে আর ফিরবে না। অথচ আপনি যদি গল্পের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়েন, সে শুধু ফিরে আসবে না, অন্যকেও আনবে।
Forbes-এর এক রিপোর্টে বলা আছে, যেসব ব্র্যান্ড Storytelling কনটেন্টে ফোকাস করে, তাদের কাস্টমার রিটেনশন রেট গড়ে ৩০ শতাংশ বেশি। মানে যারা গল্পে বিনিয়োগ করে, তারা শুধু বিক্রিতেই নয়, সম্পর্কেও জেতে।

এখন একটা বাস্তব কথা বলি। বাংলাদেশের মার্কেটে মানুষ আবেগে কেনে, যুক্তিতে নয়। আপনি যদি তাদের মনের জায়গায় জায়গা করে নিতে পারেন, বিক্রি নিজে থেকেই হবে। একজন মানুষ হয়তো দাম দেখবে, কিন্তু কিনবে তখনই যখন মনে হবে, এই ব্র্যান্ডটা আমাকে বোঝে।

Gary Vee একবার বলেছিলেন, “Stop trying to close sales. Start opening stories.” আজকের মার্কেটে এই কথাটাই সবচেয়ে সত্য। মানুষ এখন বিজ্ঞাপন নয়, অনুভব খোঁজে।

তাহলে সমাধান কী? আপনার কনটেন্টে বিক্রি থাকবে, কিন্তু সেটা গল্পের মধ্যে ঢেকে যাবে। আপনি সমস্যা দেখাবেন, সমাধান দেখাবেন, কিন্তু সরাসরি বলবেন না “এটা কিনুন।” বরং বলবেন “এই জিনিসটা আমার জীবন বদলে দিয়েছে।” আপনি যদি এটা পারেন, অ্যালগরিদম নয়, অডিয়েন্সই আপনার কনটেন্ট গিলতে থাকবে।

একটা ভালো গল্প স্ক্রল থামায়, একটা সত্যি গল্প মনে দাগ কাটে, আর একটা নিজের মতো গল্প বিক্রি করায়।

27/10/2025

আপনি কি খেয়াল করেছেন, আগে যেখানে একটা পোস্টে শত শত কমেন্ট পড়ত, এখন সেই একই পোস্টে দুইটা লাইক আর একটা “nice” কমেন্ট পড়ে থাকে? Group-এ মানুষ আছে, কিন্তু অংশ নিচ্ছে না। সবাই শুধু দেখছে, কেউ আর বলছে না। মনে হয় Facebook Group এখন একরকম নীরব শহর, যেখানে সবাই অনলাইনে থেকেও অফলাইন।

Meta-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, বাংলাদেশের ইউজাররা প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চারটা Group ভিজিট করে, কিন্তু ৭২ শতাংশ মানুষ কোনো কনটেন্টে অংশ নেয় না। মানে তারা দেখে, পড়ে, কিন্তু কিছু বলে না। কারণ? কনটেন্টের ফর্মুলা এখনো পুরনো, কিন্তু অডিয়েন্সের আচরণ পাল্টে গেছে। এখন তারা রিলেট করতে চায়, অংশ নিতে চায়, নিজেদের দেখা শুনা কনটেন্টের মধ্যে দেখতে চায়।

এখন একটু ভেবে দেখুন, কেন কেউ কোনো Group-এ কমেন্ট করে? কারণ সে অনুভব করে এই কথাটা তার, এই প্রশ্নটা তার মাথায়ও আসে। Facebook Group এখন এমন জায়গা যেখানে কনটেন্ট নয়, কথোপকথন বেঁচে থাকে। তাই আপনি যদি চান মানুষ অংশ নিক, তাহলে আপনাকে কথোপকথনের সূচনা করতে হবে, পোস্টের সমাপ্তি নয়।

ধরুন আপনি একটা পোস্ট দিলেন “ব্যবসা বাড়াতে চান? এই ৫টা টিপস ট্রাই করুন।” কেউ আগ্রহী হলো না, কারণ সবাই জানে এটা টিপস পোস্ট। কিন্তু যদি বলেন “আপনার প্রথম ব্যবসা শুরুর সময় কোন ভুলটা করলে এখন মনে হয়, ওটা না করলেই ভালো হতো?” মানুষ থেমে যাবে। ভাববে, হুম, এই প্রশ্নটা আমিও শুনতে চাই। এটা আর কনটেন্ট না, এটা কথোপকথন।

Facebook-এর Data Insights বলছে, প্রশ্ন-ভিত্তিক পোস্টের এনগেজমেন্ট সাধারণ পোস্টের তুলনায় ৩ গুণ বেশি। এর কারণ মানুষ উত্তর দিতে ভালোবাসে, বিশেষ করে যদি প্রশ্নটা তাদের অভিজ্ঞতার সাথে মেলে।
আরেকটা জিনিস আছে যেটা এখন কাজ করছে, সেটি হলো Personal Story Format।

আপনি যখন নিজের গল্প বলেন, মানুষ তাতে নিজেদের খুঁজে পায়। যেমন, “গতবছর গ্রুপে প্রথম পোস্ট দিয়েছিলাম, কেউ রিপ্লাই দেয়নি। আজ আমার সেই টিপস দিয়েই দশজন নতুন ব্যবসা শুরু করেছে।” এই লাইনেই আছে গল্প, বাস্তবতা আর অনুপ্রেরণা।

HubSpot-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, Story-Based Post-এর এনগেজমেন্ট রেট Facts-Based পোস্টের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি। কারণ মানুষ তথ্য মনে রাখে না, কিন্তু গল্প মনে রাখে।

এখন আসি আরেকটা কৌশলে, যেটা অনেকেই বোঝে না। সেটা হলো Micro-Poll। বড় বড় সার্ভে না, বরং ছোট দুই লাইনের ভোট টাইপ পোস্ট। যেমন “আপনি মনে করেন ২০২৫ সালে Facebook Ads বেশি কাজ করবে, না Influencer Marketing?” এই পোস্টে মানুষ শুধু ভোট দেয় না, নিজের মতামতও দেয়। এই ছোট ইন্টারঅ্যাকশনই Group-কে বাঁচিয়ে রাখে।

এছাড়া এখন ট্রেন্ডিং কনটেন্টের সাথে কানেক্ট করাও জরুরি। উদাহরণ হিসেবে ধরুন, বাংলাদেশের কোনো ভাইরাল রিল বা নিউজের সাথে আপনি যদি নিজের নিস টপিক মেলান, যেমন “যেভাবে আফজাল ভাইয়ের নতুন ভিডিওটা ভাইরাল হলো, সেভাবেই আপনার Group পোস্ট ভাইরাল হতে পারে এইভাবে।” এতে মানুষ মজা পায়, আগ্রহী হয়, এবং রিলেট করে।

Gary Vee একবার বলেছিলেন, “Stop posting content. Start conversations.” মানে এখন Engagement আসে তখনই, যখন আপনি মানুষকে কথা বলার একটা কারণ দেন।
সবশেষে একটা জিনিস মনে রাখবেন, Facebook Group হলো একটা কমিউনিটি, কোনো মার্কেটিং চ্যানেল না। এখানে মানুষ চায় শেখা, সংযোগ আর অনুভূতি। তাই আপনি যদি শুধু পণ্য বিক্রি করতে আসেন, তারা দূরে সরে যাবে। কিন্তু যদি আপনি এমন কনটেন্ট দেন যেখানে তারা নিজেদের দেখতে পায়, তারা বারবার ফিরে আসবে।

Meta-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, যেসব Group-এ নিয়মিত আলোচনা, প্রশ্ন, অভিজ্ঞতা শেয়ার হয়, সেগুলোর Active Member Rate ৬ গুণ বেশি। তাই কনটেন্ট পোস্ট নয়, সম্পর্ক গড়ার মাধ্যম ভাবুন।
আপনি যদি চান আপনার Facebook Group আবার বেঁচে উঠুক, মানুষ কমেন্ট করুক, কথা বলুক, শেয়ার করুক, তাহলে আজই এই কৌশলগুলো ট্রাই করে দেখুন।

26/10/2025

আপনি হয়তো খেয়াল করেছেন, মানুষ এখন কনটেন্ট দেখে না, স্ক্রল করে। এক সেকেন্ডে চোখ ফেসবুক থেকে ইনস্টাগ্রামে, ইনস্টাগ্রাম থেকে টিকটকে। একটা রিল দেখে শেষ না করতেই , পরেরটাই মুভ করে ফেলছে। আসলে মানুষ বদলায়নি, তাদের মনোযোগ কমে গেছে।

Microsoft-এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে মানুষের Attention Span এখন মাত্র ৮ সেকেন্ড, মানে একটা গোল্ডফিশের থেকেও কম। ভাবুন, আপনার কনটেন্টকে এখন একটা গোল্ডফিশের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে।

কিন্তু ব্যাপারটা এতটা হতাশাজনক নয়। কারণ মনোযোগ কমে গেলেও মানুষের কৌতূহল কিন্তু বেড়েছে। মানুষ এমন কনটেন্টই ধরে রাখে যেটা প্রথম কয়েক সেকেন্ডেই তাদের মনে করে তোলে এইটা আমার জন্য। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে সেটা করবেন।

একটা সিনারিও কল্পনা করুন। আপনি নিউজ ফিড স্ক্রল করছেন, হঠাৎ চোখে পড়ল একটা লাইন “আপনার ব্যবসা কেন মানুষ ৩ সেকেন্ড দেখেই স্ক্রল করে চলে যায়?” আপনি থামলেন। কেন? কারণ ওই বাক্যটা আপনাকে নিজের কথা মনে করিয়ে দিল। এটাকেই বলে Pattern Interrupt। মনোযোগ ভাঙার জায়গাতেই মনোযোগ টানা। ভালো কনটেন্ট শুরু হয় না কোনো বড় আইডিয়া দিয়ে, শুরু হয় একটা হঠাৎ করে থামিয়ে দেওয়া বাক্য দিয়ে।

HubSpot-এর ডেটা অনুযায়ী প্রথম ৩ সেকেন্ডে যদি কেউ আপনার ভিডিও না থামে, তাহলে সে পুরোটা দেখবে না। তাই প্রথম কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কৌতূহল, টুইস্ট আর রিলেট করার সুযোগ দিতে হবে। যেমন ধরুন আপনি যদি বলেন “বাংলাদেশে এখন কেউ ভিডিও দেখে না, সবাই মুড চেক করে।” এই লাইনটা সরাসরি বলে না আপনি কী বিক্রি করছেন, কিন্তু বলে আপনি কী বুঝছেন। কনটেন্ট এখন আর শুধু “বলা” নয়, এটা “বোঝানো”র খেলা।

এখানেই আসল ভুলটা করে অনেক ব্র্যান্ড। তারা ভাবেন ভালো কনটেন্ট মানে ঝকঝকে ভিডিও, দামী ক্যামেরা আর ইংরেজি ভয়েসওভার। কিন্তু মানুষের মনোযোগ ধরে রাখে না প্রোডাকশন, ধরে রাখে রিলেটেবল আবেগ। Nielsen-এর এক স্টাডি বলছে মানুষ এমন কনটেন্টে ৪ গুণ বেশি সময় ব্যয় করে যেগুলো তাদের নিজের জীবনের মতো মনে হয়। মানে আপনি যত বেশি নিজের অডিয়েন্সের ভাষায় কথা বলবেন, তত বেশি তারা স্ক্রল থামাবে।

এখন একটু ভাবুন, আপনি যদি কোনো কনটেন্ট শুরু করেন এইভাবে “আপনার পণ্য দারুণ, কিন্তু কাস্টমার কেন দেখছে না জানেন?” আপনি একদিকে কৌতূহল তৈরি করলেন, অন্যদিকে সমস্যা টেনে আনলেন। এরপর যদি আপনি দেখান কিভাবে মানুষ ৮ সেকেন্ডে সিদ্ধান্ত নেয়—প্রথমে চোখ পড়ে ভিজ্যুয়ালে, তারপর টেক্সটে, তারপর মুডে—তাহলে কনটেন্টের ভেতর গল্প তৈরি হয়। আপনি শেখাচ্ছেনও, মুগ্ধও করছেন।

Gary Vee একবার বলেছিলেন Don’t create content, document emotion. কারণ মানুষ কনটেন্ট মনে রাখে না, সেই কেমন অনুভব করেছিল সেটা মনে রাখে। তাই আপনি যখন কনটেন্ট বানাবেন, এটা চিন্তা করার দরকান নেই কী বলবেন, জাস্ট চিন্তা করুন কেউ সেটা দেখার সময় কী অনুভব করবে।

ধরুন আপনার ভিডিওতে কেউ হেসেছে, নিজের গল্প চিনেছে, একটু থেমে ভেবেছে, বা কমেন্ট করেছে “এইটা একদম আমার মতো।” এখানেই জিত। এই জায়গায় পৌঁছানো যায় তখনই যখন আপনি কনটেন্ট বানান মানুষের সময়কে সম্মান করে, তাদের মনোযোগকে নয়।

তাহলে কীভাবে সাজাবেন কনটেন্ট যাতে ৮ সেকেন্ডে ধরা যায়? সহজ। প্রথমে একটা হুক দিন যেটা কৌতূহল জাগাবে। তারপর একটা ভিজ্যুয়াল বা গল্প দিন যেটা রিলেটেবল। এরপর ছোট করে মূল মেসেজ দিন। শেষে এমন একটা লাইন রাখুন যেটা মনে দাগ কাটে বা Action নিতে উৎসাহ দেয়। মানুষ কনটেন্টের লম্বা দেখে ভয় পায় না, তারা ভয় পায় বোরিং কনটেন্টকে।

আপনি যদি চান আপনার ব্র্যান্ডের কনটেন্ট এমন হোক যা মানুষ স্ক্রল না করে মনে রাখে, তাহলে আজই আপনার কনটেন্ট স্টাইল পাল্টে ফেলুন। আপনি চাইলে আমি আপনার ব্র্যান্ডের জন্য একটা ৮ সেকেন্ড ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করে দিতে পারি যেখানে থাকবে Attention Psychology, Hook Strategy আর Emotional Trigger Map।

Send a message to learn more

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jahid Robin posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share