01/06/2026
জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা গাউসে জামান আল্লামা সৈয়্যদ আহমদ শাহ্ সিরিকোটি (রহ.)’র সুযোগ্য শাহ্জাদা আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রহ.) পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশস্থ হাজারা জেলার দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া সিরিকোট শরীফে ১৯১৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। আব্বা-আম্মা উভয় দিক থেকেই তিনি ইমাম হোসাইন (রা.)’র বংশধর। তিনি ছিলেন মাতৃগর্ভের অলী। বাংলাদেশে তাঁর প্রথম শুভাগমন হয় ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে, শা’বান মাসে এবং চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লাহ শাহী জামে মসজিদে রমজান মাসের খতমে তারাবীতে ইমামতি করেন।
১৯৫৮ ছিল বাংলাদেশে সিরিকোটি (রহ)’র শেষ সফর হয়। এ বছরই চট্টগ্রামের রেয়াজুদ্দিন বাজার শেখ সৈয়্যদ ক্লথ স্টোরে চলমান খতমে গাউসিয়া মাহফিলে তাঁকে আব্বা হুযূর কর্তৃক খেলাফত দেয়া হয় আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া’র সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে তাঁকে প্রধান করা হয় এবং আনজুমান’র জিম্মাদারীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষিক্ত করা হয়। সে থেকে সিরিকোটি হুজুরের ওফাত পরবর্তীকাল থেকে শুরু করে ১৯৮৬ পর্যন্ত তিনি এ বাংলাদেশ সফর করেন (মাঝখানে ক’বছর ছাড়া)। শরিয়ত-ত্বরিক্বতের যে আন্দোলনের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে ১৯৩৭ থেকে শুরু হয়েছিল- তা এক মহাস্রোতে রূপ লাভ করেছিল তাঁর নেতৃত্বে।
মুর্শিদে বরহক, গাউসে জামান, আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রহ.) ইন্তেকাল করেন ১৫ জিলহজ্ব ১৪১৩ হিজরি সোমবার সকালে (৭ জুন ১৯৯৩) দরবারে আলীয়া কাদেরিয়া সিরিকোট শরীফে। তাঁকে সেখানেই দাফন করা হয় পরদিন মঙ্গলবার। তাঁর ঐতিহাসিক জানাজায় উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী গওহর আইয়ুবসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী বিশেষতঃ খ্যাতনামা ওলামা-মাশায়েখগণ।
তথ্যঃ এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার